নারীর ভাস্কর্য যদি ইসলাম ধর্ম বিরোধী হয়, তবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সহ অন্যান্য ভাস্কর্য ইসলাম বিরোধী হবে না কেন?

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সামনে স্হাপিত শাড়ী পরিহিত বাঙ্গালী নারীর ভাস্কর্য যদি ইসলাম ধর্ম বিরোধী হয়, তবে সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় স্হাপিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সহ অন্যান্য ভাস্কর্য ইসলাম বিরোধী হবে না কেন?



বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সামনে স্হাপিত শাড়ী পরিহিত বাঙ্গালী নারীর ভাস্কর্য যদি ইসলাম ধর্ম বিরোধী হয়, তবে সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় স্হাপিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সহ অন্যান্য ভাস্কর্য ইসলাম বিরোধী হবে না কেন?

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সামনে স্হাপিত শাড়ী পরিহিত নারী মূর্তিটি গত বৃহস্পতিবার রাতে সরানো হয়েছে। অবশ্য এর আগে বাংলাদেশ হেফাজত ই ইসলাম সহ অন্যান্য কিছু ইসলামী দল এটি সরানোর জন্য সরকারকে নানা ভাবে ছাপ দিযে এসেছে।

অতিসম্প্রতি যে নারী মূর্তিটি সরানো হল – এটাকে কেহ বলে এটি গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি, কেহ বলে নারীর ভাস্কর্য। আবার যিনি এটা নির্মাণ করেছে – তিনি (শিল্পী মৃনাল হক) বলেন এটি বাঙ্গালীর নারীর ভাস্কর্য। এটিযে গ্রীক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য নয় তা বুঝা যায় নির্মিত ভাস্কর্যটির পরিদেয় বস্ত্র দেখে। কারন গ্রীক দেবীর পরিদেয় বস্ত্র শাড়ি হতে পারে না। অন্যদিকে এটি হিন্দুদের মূর্তিও নয়। কারণ হিন্দু মূর্তি বা প্রতিমা গুলো বিশেষ বিশেষ দেবীর বিশেষ বিশেষ ভঙ্গিমায় স্হাপিত হয় এবং সকল দেবীর বাহন থাকে –কিন্তু আলোচল্য মূর্তিতে তা দেখা যায়নি। এছাড়াও হিন্দুরা তাদের আরাধ্য দেবতা বা দেবীর মূর্তি পূজো আচর্নার জন্য তৈরী করে, এভাবে খোলা জায়গায় প্রর্দশনীর রাখা হয় না। সুতরাং এটি কোনক্রমেই দেবীর মূর্তি নয়। যদিও হেফাজত সহ ইসলামী দলগুলোর বক্তর্বে এটিকে কখনো গ্রীক দেবী মূর্তি, আবার কখনো বা হিন্দুদেবী মূর্তি বলা হয়েছিল।

ভাস্কর্য বা মূর্তি – যেটাই হোক, ৯০ভাগ মুসুলমানের দেশে ধর্মীয় দৃষ্টিকোনে গ্রহনযোগ্য নয় – এটা ইসলাম প্রিয় ব্যক্তিদের মুখে অহরত শোনা যায়। আলোচন্য ভাস্কর্যটির বিষয়ে বির্তক উঠার পর বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হেফাজত-ই-ইসলাম এর নেতৃবৃন্দের সাথে গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি তাঁর অপছন্দের কথা জানিয়েছেন।

পরিশেষে সকল জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে আলোচন্য ভাস্কর্যটি অপসারন করা হয়েছে। তবে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। অবশ্য ইতোমধ্যে হেফাজতে ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ ছাড়াও দেশের সব মূর্তি অপসারনের দাবী জানিয়েছেন। এর বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন যে – মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কীত ভাস্কর্য অপসারণের কোন প্রশ্ন উঠতে পারে না।

ইসলাম প্রিয় ও ইসলাম ধর্মবোদ্ধা মানুষগুলোর বক্তব্য ও হেফাজত ই ইসলাম এর বক্তব্য অনুধাবন করলে এটি স্পষ্ঠ হয় যে, কোন ভাস্কর্য বা মূর্তি ইসলাম ধর্মে গ্রহনযোগ্য নয়, এবং সেটা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হোক বা মুক্তিযুদ্ধের স্মারক প্রতিকৃতি হোক। মূর্তি শুধু মূর্তিই। মূর্তি কিংবা ভাস্কর্য যাই বলা হোক এবং সেটা বঙ্গবন্ধুর বা মুক্তিযুদ্ধের প্রতিকৃতি – এর কোনটাই ইসলাম ধর্মীয় রীতি এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের নিকট ধর্মীয় রীতিতে গ্রহনযোগ্য নয়।

সুতরাং হাইকোর্টের সামনের নারী মূর্তি বা ভাস্কর্য যদি ইসলাম ধর্মীয় বিরোধী হয় এবং সেই মূর্তি যদি অপসারিত হতে পারে, তবে সারাদেশের মূর্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য কিংবা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইসলাম ধর্ম বিরোধী হবে না কেন – সে উত্তর সম্ভবতঃ ক্ষমতাশীন সরকারের কাছে আছে বলে মনে হয় না। (চিত্রগুপ্ত ২৭ জুন ২০১৭)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1