মানুষের পৃথিবী

“খারাপ সময়” বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। যখনই কারো জীবনে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে যায়; সেই সময়টাকে চিহ্নিত করা হয় “খারাপ সময়” হিসেবে।

ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খারাপ সময় বলে কিছু নেই। সময় সময়ই; সময় কখনো ভালো-খারাপ হতে পারেনা। অতীতের সম্মিলিত কোন কর্মের ফলাফল যখন সামনে আসে; ফলাফল যদি ভালো হয় তবে সেটা চিহ্নিত হয় “ভালো সময়” হিসেবে, ফলাফল খারাপ হলে তা চিহ্নিত হয় “খারাপ সময়” হিসেবে।

একজন মানুষের জীবনে উত্থান-পতন থাকবেই। একজন মানুষের যেমন ভালো দিক আছে, ঠিক তেমনি খারাপ দিকও আছে। দু’টি দিকেরই প্রকাশ ঘটে তার জীবনের কোন এক দশায়। খারাপ দিক প্রকাশ পেলেই সাথে সাথে তাকে খারাপ বলে বিচার করা যেমন উপযুক্ত না; ঠিক তেমনি ভালো দিক প্রকাশ পেলে তাকে ধোয়া তুলসি পাতা ভাবাও যথাযোগ্য না।

একজন মানুষ কিভাবে তার জীবন যাপন করবে তাতে প্রশ্ন তোলার আপনার কোন অধিকার নেই। তাকে প্রশ্ন তোলার আগে নিজের দিকে একটু আঙুলটা তাক করে দেখুন, আপনি পুরোপুরি পরিষ্কার আছেন তো!

কাওকে ভালো না লাগলে, তাকে এড়িয়ে চলুন। একসাথে কাজ করতে না পারলে তাকে জানিয়ে দিন। আপনার একার জন্য বাকী সবার ক্ষতি হলে, আপনার যেমন সেখানে থাকার অধিকার নেই; ঠিক তেমনি তার জন্য বাকী সবাই প্রশ্নবিদ্ধ হলে তাকে বের করে দিতেও কোন অসুবিধে নেই।

বিচার বিষয়টা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ আমার কাছে। তথাকথিত ভালো বলে আজ যা পরিচিত, তা দেখা যায় সময়ের সাথে সাথে খারাপে পরিনত হয়। একটি মানুষকে তার কোন কাজ দ্বারা খারাপ বলার পূর্বে আপনাকেও জানতে হবে সে কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজটা করেছে। আপনি তার দৃষ্টিভঙ্গি না জেনে বলে তাকে খারাপ বিচার করাটা সঠিক হয়না কখনোই।

জীবনের পথচলায় নিজেকে প্রতিক্ষেত্রে প্রশ্ন করুণ, প্রতিটা কাজের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করুণ এবং জ্ঞাণ আহরণ করুন প্রতিদিনই প্রকৃতি থেকে। তারপর আপনার উন্নত জটিল মস্তিষ্ককে ব্যবহার করুন। সঠিক-ভুল, সত্য-মিথ্যে সবই জানতে পারবেন।

পৃথিবীটা মানুষের। মানুষের মতো করে বাঁচুন। এমন কিছু কেন করছেন সম্মিলিতভাবে যা মানুষের বেঁচে থাকাটাকে কষ্ট সাধ্য করছে। প্রতিটা মানুষকে তার নিজস্ব সুখ অনুযায়ী মনের মতো করে বাঁচতে দিন। কেননা,
“পৃথিবীতে বলো বাঁচবে ক’দিন, সময়তো বড় অল্প…।”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 1