কেমন যাচ্ছে ‘সমসাময়িক’?

কেমন আছে দেশের সমসাময়িক? ’মূর্তির’ (ভাস্কর্য) আলোচনা-সমালোচনা এখন দেশ ছাড়িয়ে সুদূর অ্যামেরিকাতে। নিউইয়র্ক টাইমস্ এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলার সুপ্রীম কোর্ট। বাদ যায়নি আল জাজিরাও। এত সহজে ভাস্কর্যটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র স্থাপন করার কথা ছিল কি? আন্তর্জাতিক কোন চাপে পড়েছে কি সরকার? হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ’উন্মাদনা’। ’মূর্তি’ আর ’ভাস্কর্য’ জটিলতায় দেশের ভাবমূর্তিটা এখন ঠিক কোন্ পর্যায়ে আছে কে জানে!

সমসাময়িক: ০১

মৃণাল হকের ভাস্কর্যটি ‍সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে সরিয়ে তা স্থাপন করা হয়েছে অ্যানেক্স ভবনের সামনে। এদিকে আহমদ শফীও নতুন ‘কিছু’ বলতে শুরু করেছেন। ১৩ দফা দাবির ৭ নম্বরটি ছিল যে কোনো টাইপের ভাস্কর্য অপসারণ। কিন্তু শফী সাহেব বোধহয় বুঝতে সমর্থ হয়েছেন, বাঙালির দুই টাইপের সেন্টিমেন্ট একসাথে কাজ করে। তাই তিনি মুক্তিযুদ্ধ রিলেটেড্ ভাস্কর্য নিয়ে আপত্তি করছেন না আপাতত (!), আপত্তি কেবল সুপ্রীম কোর্ট থেকে সরিয়ে নেয়া ’নারী ভাস্কর্যটির’ ব্যাপারে।

যেহেতু তিনি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার কথা বলছেন, অতএব পাবলিক সেন্টিমেন্ট ‍বুঝে ধর্ম চর্চার পাশাপাশি রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের সূক্ষ্ম অভিপ্রায় দেখতে পাচ্ছি।

সমসাময়িক: ০২

’আল্লাহ মেহেরবান’ দেখার লোভ সামলানো গেল না কিছুতেই, কিন্তু দেখার পর যথারীতি অনুভূতিতে আঘাত। তারপর উকিল নোটিশ। বাট্ পাবলিক প্লেসে তো কোনো ফাঁক ফোঁকর রাখা যায় না! তিনি ’ইসলামিক সংগীত’ মনে করে ভিডিওটি দেখে নিয়েছেন মন ভরে!

আমিও দেখেছি। ইউ টিউবে যতগুলি লিংক ছিল সবগুলির প্রিভিউ পিকচারে ’ফারিয়ার’ খোলামেলা ছবি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তা ইসলামিক সংগীত মনে করে প্লে করলেন ভদ্রলোক, তা এক কথায় বিস্ময়!

সমসাময়িক: ০৩

’বাংলা ট্রিবিউনের’ সংবাদ উপস্থাপন নিয়ে বিরক্ত অনুভব করছি। নিউজ হেডলাইন পড়ে কখনো মনে হচ্ছে সেক্যুলার মানুষদের ক্ষেপিয়ে তুলতে চাইছে, আবার কখনো মনে হচ্ছে ইসলামিক দলগুলিকে ক্ষেপিয়ে তুলতে চাইছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের মধ্যে ’ওপেনলি’ অকথ্য ভাষায় একে অপরকে উদ্ধার করে যাচ্ছে নিয়মিত। কী করল বাংলা ট্রিবিউন? একটা উদাহরণ দিই,

ভাস্কর্য অপসারণের সময় তাদের নিউজ হেডলাইন ছিল,
”সুপ্রীম কোর্টে ভাস্কর্য সরানোর কাজ চলছে” (বাংলা ট্রিবিউন: May 26 at 1:30 am)

এরপর, ভাস্কর্যটি অন্যত্র স্থাপন করার নিউজটি যখন তারা হেডলাইন করল প্রথমবার, তখন তারা লিখল:

”গ্রীক দেবীর ভাস্কর্য পুন:স্থাপন করা হচ্ছে” (বাংলা ট্রিবিউন: May 27 at 11:12 pm)

এরপর ঘণ্টাখানেক পরেই হেডলাইনটি চেঞ্জ হয়ে গেল: “ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের কাজ শেষের পথে”

(স্ক্রিনশট দিয়ে রেখেছি প্রতিটি নিউজের)

যা হোক এই ’’পুন:স্থাপনের’’ প্রথম হেডলাইনটি পড়ে পাবলিক সেন্টিমেন্টে প্রথম যে প্রাথমিক আঘাতটা আসবে তা হচ্ছে,

## সুপ্রীম কোর্টের আগের জায়গাটিতেই স্থাপিত হতে যাচ্ছে ভাস্কর্যটি(!) ( অথচ বাস্তবে ভাস্কর্যটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে অ্যানেক্স বিল্ডিং এর সামনে বসানো হয়েছে, যেখানে সাধারণের আসা যাওয়া খুবই কম, যদিও নিউজ বডিতে তারা বিষয়টি ঠিক করেই লিখেছে )

## মৃণাল হক নিজে যেখানে বলেছেন (বাংলা ট্রিবিউন: May 26 at 2:30 am) এখানে ’গ্রিক দেবীর’ কিছুই নেই, সেখানে দায়িত্বহীনভাবে যে হেড লাইনটি তারা করেছে, তা সাধারণের সেন্টিমেন্টে নতুন করে খোঁচা দেয়ার প্রয়াস হিসেবেই ’অনুভূত’ হল।

সমসাময়িক: ০৪

শত অসম্ভবের অপরিমেয় সম্ভবনার দেশটিতে প্রচণ্ড গরমে দিশেহারা হয়ে গেছে সব। নিউজ পড়লাম কিছুক্ষণ আগে। নিম্নচাপ দেখা দিয়েছে সাগরে। ঝড়-বৃষ্টি ধেয়ে আসছে শীঘ্রই। মন্দের ভালো বলতে নাগরিকের মাথায় যদি শুভ বুদ্ধির উদয় হয় স্নিগ্ধ বৃষ্টির আদরের শীতলতায়, আর তাতে একটু খানি শান্তিতে যদি কাটে নাগরিকের ঘাম ঝরানো আগামী জীবন, সেই সাথে অনুভূতিগুলি যদি অল্পতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পতন থেকে রক্ষা পায়, তাতেই গলা ছেড়ে গাইব- ’’সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।’’

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

82 + = 91