কোনটি মানুষের শত্রু—পাগলাকুকুর নাকি শান্তশিষ্ট ভাস্কর্য?

বেওয়ারিশ-কুকুরগুলোও তবুও সহ্য করা যায়। এরা তবুও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর বিশ্বস্ত। কিন্তু পাগলাকুকুরদের কখনও নয়—এরা মানবজাতির জন্য সবসময় বিপজ্জনক। বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে মানুষ-নামধারী আর ধর্মের ধ্বজাধারী একশ্রেণীর কুকুরের উদ্ভব হয়েছে। আর এই কুকুরগুলো ভয়াবহ পাগলা, হিংস্র, বেআদব, ধৃষ্ট আর সীমাহীন অবিশ্বস্ত। এই কুকুরগুলো বাংলাদেশের খেয়ে-পরে বাংলাদেশেরই সর্বনাশ করছে।

কোনটি মানুষের শত্রু—পাগলাকুকুর নাকি শান্তশিষ্ট ভাস্কর্য?
সাইয়িদ রফিকুল হক

ব্রিটিশ-আমল থেকে আমাদের দেশে একটি প্রচলিত-প্রথা ছিল বেওয়ারিশ-কুকুরসহ পাগলাকুকুরগুলো নিধন করবে মিউনিসিপিলিটি-কর্তৃপক্ষ। সেই সময় রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ-কুকুরের সংখ্যাবৃদ্ধি পেলে সরকারিভাবে তা নিধন করা হতো। আর এই নিধনপ্রক্রিয়া ছিল তড়িৎগতিতে। বিষাক্ত-ইনজেকশন ‘পুশ’ করে সেই সময় কুকুরনিধন করা হতো। আর এখন এগুলো নিধন করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে দেশের সমস্ত পৌরসভার উপর। কিন্তু বর্তমানে একশ্রেণীর কুকুরপ্রেমিকের কারণে এগুলো করা হচ্ছে না। তাইতো রাস্তাঘাটে এখন কুকুরের সংখ্যাবৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষের চলাফেরা কষ্টসাধ্য হচ্ছে। আর পাগলাকুকুর কামড়াচ্ছে মানুষকে! আর তা দেখে অতীব আনন্দ পাচ্ছে দেশের অভিজাত-কুকুরপ্রেমিকরা!

বেওয়ারিশ-কুকুরগুলোও তবুও সহ্য করা যায়। এরা তবুও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর বিশ্বস্ত। কিন্তু পাগলাকুকুরদের কখনও নয়—এরা মানবজাতির জন্য সবসময় বিপজ্জনক। বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে মানুষ-নামধারী আর ধর্মের ধ্বজাধারী একশ্রেণীর কুকুরের উদ্ভব হয়েছে। আর এই কুকুরগুলো ভয়াবহ পাগলা, হিংস্র, বেআদব, ধৃষ্ট আর সীমাহীন অবিশ্বস্ত। এই কুকুরগুলো বাংলাদেশের খেয়ে-পরে বাংলাদেশেরই সর্বনাশ করছে। আবার এই কুকুরদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মদদও দেওয়া হচ্ছে! বাংলাদেশের মানুষ-নামধারী এই পাগলাকুকুরগুলো—

১. বাংলাদেশরাষ্ট্র মানে না;
২. বাংলাদেশের সংবিধান মানে না;
৩. বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মানে না;
৪. বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত মানে না;
৫. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা মানে না;
৬. বাংলাদেশের প্রচলিত সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে মানে না;
৭. গণতন্ত্র মানে না,
৮. ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ মানে না;
৯. মানবতাবাদ মানে না;
১০. অন্য ধর্মের মানুষদের সহ্য করতে পারে না;
১১. আর অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী নয়।

এভাবেই চলছে এদের রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতা। এরা দেশের মানুষকে কামড়াতে-কামড়াতে এখন রাষ্ট্রকে কামড়াতে শুরু করেছে! তবুও এই কুকুরগুলো বাংলাদেশে রাজনীতি করছে। আর বর্তমানে সরকারি-পৃষ্ঠপোষকতায় জামাইআদরে রয়েছে। আর এই কুকুরগুলো বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার জন্য ২০১৩ সালে—তাদের কথিত ১৩-দফা নামক তেরো-রকমের শয়তানী-বদমাইশী চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।
এই কুকুরদের নৈরাজ্য ২০১০ সাল থেকেই দেশে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এরা মানুষের জাকাত, ফিতরা, সাদকাহ খাওয়া নরপশু। তবুও এদের বড়াই সীমাহীন। এই কুকুরগুলো সারা বাংলাদেশ থেকে আন্ডাবাচ্চা কুড়িয়ে এনে ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলাচত্বরে দেশধ্বংসের অভিপ্রায়ে এক নজিরবিহীন তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিলো। জাতি সেইসব বর্বরতা আজও ভোলেনি। এর আগেও তারা ২০১৩ সালের ৬ই এপ্রিল আন্দোলনের নামে সারা বাংলাদেশে সীমাহীন নৈরাজ্যসৃষ্টি করেছিলো। এদের পাগলামি দিনের-পর-দিন বাড়ছে। এরা ধীরে-ধীরে আরও ভয়াবহ আদিমতা ও পাশবিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর এরা নিজেদের আদিমতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশরাষ্ট্রের জাতীয় চার মূলনীতিসহ অন্যান্য আদর্শ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চাচ্ছে। এরা একেবারে পাগলাকুকুর। আজ এরা রাষ্ট্রের সবকিছু কামড়াতে শুরু করেছে।
মনে রাখবেন: এই পাগলাকুকুরগুলো কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীনবাংলাদেশরাষ্ট্র চায়নি। সেই সময় তারা পাকিস্তানের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে, বুকে বুক লাগিয়ে আর আত্মায় আত্মা বসিয়ে বাংলাদেশের মানুষজনকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। আর এরাই এখন দেশপ্রেমিক সাজতে চায়! পাগলাকুকুর আর কাকে বলে! মানুষ আর মানুষের রাষ্ট্র কামড়িয়ে দেশপ্রেম হয়?

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের পাগলাকুকুর ‘হেফাজতে শয়তান’ নামক কুকুরসংঘটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আঘাত হানতে শুরু করেছে। আজ এরা পাগলা-অবস্থা থেকে ভয়াবহ উন্মত্ততায় নিজেদের প্রকাশ করেছে।
সাম্প্রতিককালে এদের রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতার কতিপয় নমুনা:

১. এরা দেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে সরাসরি নাস্তিক্যবাদী ও ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থা বলে ধৃষ্টতাপ্রদর্শন করেছে।
২. বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার সকল পর্যায়ে ভিন্নধর্মের কবি-লেখক-সাহিত্যিকদের রচনাসমূহ বাদ দেওয়ার জন্য এরা আন্দোলন করছে। এদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি-সিদ্ধান্তে বর্তমানে দেশের কিছু বিশিষ্ট লেখকের রচনা ইতোমধ্যে আমাদের সাধারণ শিক্ষাপাঠ্যসূচি থেকে বাদও দেওয়া হয়েছে।
৩. এরা সরকারের দালালি করে এদের আত্মস্বীকৃত ও নিম্নমানের কওমীমাদ্রাসার নিম্নমানের ‘দাওরা হাদিস’সহ কথিত-কামিল-ডিগ্রীর মান আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার মাস্টার-ডিগ্রীর সমমান করে নিয়েছে!
৪. এদের শয়তানী ১৩-দফার ৭-নম্বরে দেশের সকল ভাস্কর্য-অপসারণের যে কথা বলা হয়েছিলো তারই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টচত্বর থেকে ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য-অপসারণ করেছে তাদের অনুগত বর্তমান-সরকার।

এই দেশে হেফাজতে শয়তানগুলো সম্পূর্ণ পাগলাকুকুর। আর দিন-দিন এদের পাগলামি বেড়েই চলেছে। এরা দিনের-পর-দিন রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতাবৃদ্ধি করছে। এদের কামড়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষজন আজ অতিষ্ঠ। এরা দেশের মানুষকে কামড়াতে-কামড়াতে আজ দেশের সকল ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কামড়ানো শুরু করে দিয়েছে। এমনকি এরা বর্তমানে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে পর্যন্ত কামড়াতে শুরু করেছে। আর এদের কামড়াকামড়িতে মুগ্ধ হয়ে দেশের বর্তমান-সরকার সুপ্রীমকোর্টচত্বর থেকে রাতের আঁধারে ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য-অপসারণ করেছে।

যেকোনো ভাস্কর্য সাধারণভাবে শান্তশিষ্ট আর সৌন্দর্যবর্ধক। কিন্তু আসলে এগুলো সবসময় আমাদের অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস ও ন্যায়ের প্রতীক। এগুলোর দ্বারা মানুষের ক্ষতির কোনো সম্ভাবনাই নাই। আর এগুলো কখনও মূর্তি নয় (যদিও পশুগুলো এগুলোকে মূর্তি বলছে)। ভাস্কর্য আমাদের চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণার উৎস। আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় শহীদমিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু সবকিছুই একেকরকম ভাস্কর্য। আর একেকটি একেক প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছে। তবুও এগুলো অপসারণ করা হচ্ছে! আর অপসারণ করা হচ্ছে দেশবিরোধী-পাগলাকুকুরদের কথায়! পক্ষান্তরে, এখন দেশে যে-ভাবে রাষ্ট্রবিরোধী-পাগলাকুকুরের অপতৎপরতা বেড়ে চলেছে সে বিষয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নাই। আর কুকুর পাগল হয়ে গেলে যে তা ইনজেকশন ‘পুশ’ করে মেরে ফেলতে হয়—তাও অনেকের জানা নাই। দেশ, জাতি আর মানুষের স্বার্থভুলে অনেকেই এখন সৌখিন কুকুরপ্রেমিক! হায়রে কুকুরপ্রেম!

পৃথিবীটা মানুষের। আর মানুষের প্রয়োজনে এখানে ভাস্কর্য থাকবে। কিন্তু মানুষের শত্রু পাগলাকুকুর পোষা কেন? এসবকিছু দেখেশুনে আজ মনে প্রশ্ন জাগে: মানুষের শত্রু কোনটি—পাগলাকুকুর নাকি শান্তশিষ্ট ভাস্কর্য?

বুঝেশুনে জবাব দিবেন কুকুরপ্রেমিকরা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৯/০৫/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “কোনটি মানুষের শত্রু—পাগলাকুকুর নাকি শান্তশিষ্ট ভাস্কর্য?

    1. আপনার কথা সত্য। আসলে, এরাই
      আপনার কথা সত্য। আসলে, এরাই অধার্মিক। এরা নিজেদের ধার্মিক ঘোষণা করে মানুষ আর মানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে।
      কিন্তু প্রকৃত ধার্মিক কখনও এই অপকর্মটি করতে পারে না। দেশটা আজ ভণ্ডে ছেয়ে যাচ্ছে!

      আমি এই ভণ্ডদের বিরুদ্ধে।

      আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

95 − 86 =