রতন কামার;অসিত কুমার

রতন কামার হাতুড় যাহার সদা করে ঠংঠং
অসিত কুমার ছেলে যে তাহার, মনেতে নানান রং।
গরম লোহার রঙের বাহার হাতুড়িতে হয় সোজা
সে লোহার হায় লোহারই ঘায় হয় যে অস্ত্র সাজা।

জীবন শুধুই নামেই মধুই ‘নয়কো তাহা সঠিক!
অসিত-রতন করিয়া যতন, পায় না খুজে সে দিক।’
হাপড়-উনুন ঘাম ও আগুন জীবন যাদের ভাই
তাহাদের কাছে মূল্য আর আছে? জীবন যেথায় দায়!

বয়স তরুণ সোনার বরণ করলো অসিত ছাই
বুঝলে রতন তাহার মতোন কামার করতো নাই।
বুক ভরা তার ব্যথার পাহাড় খেটেই জীবন মাটি;
সুখের পরশ মনের হরষ, সোনার পাথর বাটি!

পাইতে আহার ‘এমন প্রহার’ সইতে যাদের হয়
পোলায় তাহার এমন বাহার, কেমনে ধইরে রয়।’
তরুণ বয়স মধুর সরস তাহারও তো ছিলো,-ঐ
অভাব তখন শনির মতোন করলো সবই জয়।

বয়সের ভার দিলো উপহার বাত ব্যথা আর ভয়
তবুও হাতুড় লোহার উপর ধপাস ধপাস বয়।
নইলে তাহার ভাতের যোগাড় করবে আবার কে যে?
তাইতো কামার বুকেরই হাড়; দেয়-রে ঘামেই ভিজে।

যায় চলে দিন বাজিয়ে তা’ ধিন সময় ঘোড়ার খুরে
কামার রতন ভাবছে এখন মরণ কতোই দূরে?
অসিত কুমার করিছে শুমার সুখ আর কতো দূর?
বাবায় তাহার ভাবেই না আর , আসুক নতুন ভোর।

প্রবীণ পিতায় ভাবেন হুদায় ‘জীবন ভারী জটিল’
তরুণ অসিত সদায় অভিত, নাই দুক এক তিল।
বয়স ‘ভীষণ ধূসর বরণ, ডানা ভাঙা এক পাখি;
থাকিয়া তরুণ করুন বরণ ; সুখ বাধনের রাখি।’

মাত্রা(৬+৬+৮=২০)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 − = 83