সংযমের মাস রমজান ও কিছু বাস্তবতার চিত্র।

রমজান ইসলামি বর্ষপঞ্জীর নবম মাস। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেকগুণ বেশি। এই মাসের লাইলাতুলকদর এ কোরান নাজিল হয়েছিল। এ মাসের উপবাস সাওম(রোজা) ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের তৃতীয় স্তম্ভ হিসেবে গণ্য। রমজানের মূল বিষয়টি হচ্ছে সংযম।যা শুধুমাত্র রোজা রেখে আহারাদির সংযমের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন ব্যক্তির আচার-আচরণ,ব্যাবহার ইত্যাদি সকল বিষয়ের সংযম’ই রমজান।

কিন্তু বাস্তবে আমরা কি প্রত্যক্ষ করি? এই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের আগ্রাসনে কি সেই নৈতিকতা লক্ষ্য করা যায়? রোজাদারের দিকে দৃষ্টি আনলেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। তারা সারাদিন না খেয়ে রোজা রাখার যে সংযম দেখায় এবং সেহেরি ও ইফতারের সময় তারা যে ঢালাও খাবারের ব্যবস্থা করে তা দেখে সংযমের যদি প্রাণ থাকত তবে সেও লজ্জা পেত। খাবারের সংযম বাদ দিয়ে বরং আচার-আচরণের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। সারাদিন রোজা রাখার পর বিকেল বেলায় অনেক রোজাদারদেরই লক্ষ্য করা যায় তাদের খিটখিটে মেজাজ। তখন তাদের আচরণে আর কোন সংযম পাওয়া যায়না। মুদ্দা কথা হলো, খাবারের সংযম ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

রমজান মাসটি যদিও সকল মুসলিমদের জন্য এক আকাঙ্ক্ষিত মাস। যে মাসে একে অন্যের সাথে সুখদুঃখ ভাগ করে নেবে সেখানেও এর চিত্র ব্যতিক্রম। একজন ধনী ব্যক্তি যেখানে হরেক রকমের খাবারের সমাহারে ইফতার সাজিয়ে বসে, সেখানে একজন গরীব লোককে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির জন্য ভরসা রাখতে হয় শুধু মুড়ি আর ছোলার উপর। তার ভাগ্যে এর ব্যতিক্রম খুব বেশি লক্ষ্য করা যায়না। আবার বিভিন্ন সংগঠন কতৃক আয়োজিত ইফতার মাহফিল বা ইফতারপার্টিতেও গরীবলোকদের দেখা মেলা ভার।
দেখা যায় যারা প্রতিদিনই ক্ষুধার কষ্টে ভোগে তাদের রমজান মাসের দিনগুলো যায় আরো বেশি কষ্টে। আর ধনীর দুলালেরা বরাবরের মতই দিন কাটান।

এবার একটু ভিন্ন দিকে চোখ রাখা যাক।
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রাস্তাঘাটে বের হলেই দেখা পাই হরেক রকম হকারের। যারা বিভিন্ন জিনিস হাতে বা কাধে করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সেগুলো বিক্রীর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দ্বারা তাদের সংসার চালান। এদের একটা বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বিক্রেতা। অনেকে মৌসুমি ফল, কেউবা বিভিন্ন ধরনের চকলেট, বিস্কিট, চানাচুর, পান-সিগারেট ইত্যাদি বিক্রি করে থাকেন।রাস্তার পাশে ঝালমুড়ি, চটপটি, ফোসকা ও চানাচুরওয়ালাও রয়েছে চোখে পরার মত। তাছাড়া এই গরমে শরবত বিক্রেতাদের কথা না বললেই নয়। কিংবা গাড়িতে গাড়িতে ঘুরে ঘুরে ঠান্ডা পানীয় বিক্রেতা যারা আছে, তাদের জন্য এই রমজান মাস কতটা ভয়াবহ রূপ ধারন করে কখনও ভেবে দেখেছেন কি?

এত ভাববার সময় কোথায়। এই বলেই সব খালাস। আমি মনে করি যিনি রোজা রাখছেন, যদি সত্যিই তিনি সংযমী হন তাহলে তাদের সামনে হাতি-ঘোড়া, আর সন্দেশ মিষ্টি যাই থাকুক না কেন, সেদিকে তাদের দৃষ্টি যাবেনা। রোজাদারের এই সংযমী ভাব অটুট রাখতে অন্যদেরকে কেন হয়রানির শিকার হতে হবে? অন্যদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় তা কেন প্রভাব ফেলবে?

সর্বশেষে সকল রোজাদারদের উদ্দেশ্য একটা কথাই বলতে চাই, আপনারা নিজেকে সংযত রেখে সংযম করুন। আশেপাশের পরিবেশকে সংক্রামিত করে সংযমের ভাব দেখাবেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “সংযমের মাস রমজান ও কিছু বাস্তবতার চিত্র।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

95 − 90 =