দ্যা তাবলীগ জামাত! ওপেন মিশন এন্ড হ্যাব দেয়ার সিক্রেট ভিশন? “ধর্মের নামে বে-আইনী কিছু করলেও, তা আইন দিয়ে সেটা হটানো যায় না”!

নামাজ, রোজ, ইবাদত, দান খায়রাত – ইত্যাদি ইসলামীয় ধর্ম চর্চ্চা ঘরে বসে করা যায়। তবুও কেন দলবদ্ধভাবে তাবলীগ জামাতের লোকজন ছুটে চলেন – এর প্রশ্ন অনেকের। কিছু মানুষ কিশের নেশায় ঘর, পরিবারের প্রিয় মানুষ কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ফেলে দিয়ে দিনের পর দিন কিংবা মাসের পর মাসে তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে চলেন?



দ্যা তাবলীগ জামাত! ওপেন মিশন এন্ড হ্যাব দেয়ার সিক্রেট ভিশন? “ধর্মের নামে বে-আইনী কিছু করলেও, তা আইন দিয়ে সেটা হটানো যায় না”!

প্রায় বছর খানেক আগে ভারতের বিজেপি সরকার ভারতে অবস্থানরত তাবলীগ জামায়াতের সকল বিদেশি মুবাল্লিগদের সে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করে রাজ্য সরকারগুলোর নিকটি পাঠিয়েছিল। পর্যটন ভিসায় ভারতে আসা তাবলীগ জামায়াতের মুসল্লিগনদের কার্যক্রমে দেশ মারাত্বক ঝুঁকিতে রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ নির্দেশনা দেন। মোদির এসংক্রান্ত নির্দেশনা দেশটির সকল রাজ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। গোয়েন্দাদের ঐ রিপোর্টে বলা হয়, তাবলীগ জামায়াতের কার্যক্রম চরমপন্থিদের মতো। তারা ভারতে পর্যটন ভিসায় এসে দেশ জুড়ে চরমপন্থি কার্যক্রম ছড়িয়ে দিচ্ছে। নোটিশে আরো বলা হয়, তাবলীগ জামায়াতের আন্দোলন এমন আন্দোলন যা সাধারণ মুসলমানকে মৌলবাদে রূপান্তরিত করে। এছাড়া কয়েকটি দেশে তাবলীগ জামাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাত, কাতার, ফ্রান্স, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারতে এধরনের কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে নোটিশে বলা হয়। তাই তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত দেশ থেকে বের করে দিতে রাজ্য সরকারকে জরুরিভাবে নির্দেশ দিয়েছে মোদির বিজেপি সরকার।“ সূত্র Source – http://www.northnews24.com/?p=16142 । ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হিন্দুত্ববাদি দলের নেতা এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। সুতরাং নরেন্দ্র মোদির মুখ দিয়ে এধরনের বক্তব্য মানায়। যদিও এজন্য ভারত কিংবা বাংলাদেশে এর জন্য তাঁকে গাল মন্দ খেতে হতে পারে। তবে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের কেহ এমন বক্তব্য দেয়ার সাহস করতে পারেন – চিন্তাও করা যায় না।

বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের স্বর্গ রাজ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে মুসলিম লোকজন বাংলাদেশে আসেন এবং বাংলাদেশের মুসলিম লোকজনও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারে যায়। এছাড়াও বাংলাদেশের মানুষ দেশীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন জেলায় তাবলীগ করে বেড়ায়। বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম নেই যে গ্রামের মানুষ তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে অন্য জেলায় বেড়াতে যায় নাই কিংবা তাদের সাথে দেশের অন্য জেলা কিংবা এলাকা থেকে আসা তাবলীগ জামাতের লোকজনের সাথে স্হাণীয় মসজিদে ইসলাম প্রচার প্রসার ও ধর্মীয় অন্যান্য বিষয় ও পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ আলোচনা হয় না। তাবলীগ জামাতের নিদ্ধির্ষ্ট কিছু নিয়ম থাকে এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ে কিছু দিন বিভিন্ন মসজিদের কাটাতে হয়। দলের লোকজনের মধ্যে একজন দলনেতা এবং বিভিন্ন সময়ের হয়ে থাকে। এগুলোকে চিল্লা বলে। স্বল্পকালীন, মধ্যকালীন ও দীর্ঘকালীন চিল্লায় যেয়ে থাকেন তাবলীগের লোকজন। বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের প্রধানকেন্দ্র স্হল হলো কাকরাইল মসজিদ। তাবলীগের বাৎসরিক গনজমায়েত অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার অদূরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খোলা জায়াগা, যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হতে লোকজন আসেন। এছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় পর্যায়ে তাবলীগ জামাতের জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজ, রোজ, ইবাদত, দান খায়রাত – ইত্যাদি ইসলামীয় ধর্ম চর্চ্চা ঘরে বসে করা যায়। তবুও কেন দলবদ্ধভাবে তাবলীগ জামাতের লোকজন ছুটে চলেন – এর প্রশ্ন অনেকের। কিছু মানুষ কিশের নেশায় ঘর, পরিবারের প্রিয় মানুষ কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ফেলে দিয়ে দিনের পর দিন কিংবা মাসের পর মাসে তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে চলেন – এর ব্যাখ্যা স্বয়ং তাবলীগ জামাতের অংশগ্রহনকারী অনেক মানুষই দিতে পারবে না – তাবলীগ জামাতের খুবই উচ্চপর্যারে গুটি কয়েকজন ব্যতীত। কেননা প্রাত্যহিক ধর্ম কর্ম করার জন্য নিজ আলয় কিংবা আবাসন বা কর্মস্হলের আশপাশের মসজিদ গুলোর অবস্হান আছে। অনেকের মনে এধরনের প্রশ্ন থাকলেও কেহই সাহস করেনা কেননা ধর্ম কর্ম বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। খুব বেশী দিন আগের কথা নয় বাংলাদেশের এক বর্ষীয়ান ও ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ তাবলীগ জামাতকে নিয়ে আড্ডাস্হলে অনির্ধারিত বক্তব্য দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়েছেন। এরকারণ হলো ধর্মের নামে বে-আইনী কিছু করলেও, তা আইন দিয়ে সেটা হটানো যায় না – এটা অনাধিকাল হতে চলে আসছে, এখনো চলছে, ভষ্যিতেও চলবে। কেননা এটা নরম মাটির দেশ – এখানে সবই সম্ভব।
========

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 − = 74