একটা শয়তানপুত্র ও সাম্প্রদায়িকপশু কাজী ফিরোজ রশীদের দম্ভোক্তি

আজকাল ফিরোজ রশীদরা জাতীয় পার্টির যে ইসলামীমূল্যবোধের কথা বলেছে তা সম্পূর্ণ হাস্যকর। এরা সস্তা জনপ্রিয়তাঅর্জনের জন্য দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছে, শুক্রবার সরকারি-ছুটির দিন ধার্য করেছে, আর এরশাদের মতো একটা আপাদমস্তক-লম্পট প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করেছে। আর সঠিক ইতিহাস হচ্ছে—জাতীয় কুলাঙ্গার ফিরোজ রশীদরা ছিল চীনপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, আর মুসলিম-লীগারদের অনুসারী। দেশস্বাধীনের পর এরা নিজস্বার্থআদায়ে আজ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর এই দেশে এখন মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট সবচেয়ে সস্তা!

একটা শয়তানপুত্র ও সাম্প্রদায়িকপশু কাজী ফিরোজ রশীদের দম্ভোক্তি
সাইয়িদ রফিকুল হক

আমাদের দেশের রাজনীতিতে অনেক-অনেক বেশ্যার আগমন ঘটেছে। আর এখনও নিয়মিত ঘটছে। এরা শুধুই ক্ষমতালোভী আর সীমাহীন তোষামোদকারী। রাজনৈতিক ময়দানে এদের অনেকের জন্ম সামরিকজান্তা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এবং জিয়া-পরবর্তী আরেক সামরিকজান্তা ও স্বৈরাচার এরশাদের হাত-পা ধরে। আর এদের অনেকেই এখনও কুখ্যাত স্বৈরাচার এরশাদের মূত্রপান করে ‘জাতীয় পার্টি’র ধ্বজা উড়াতে গিয়ে পার্টির ধ্বজাভঙ্গে ব্যস্ত। এদেরই একটা হলো জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী ফিরোজ রশীদ। এইটা ভয়ানক সাম্প্রদায়িক আর দেশের সংখ্যালঘুবিরোধী কুলাঙ্গার। অতিসম্প্রতি তার কুকীর্তি ধীরে-ধীরে ফাঁস হয়েছে এবং হচ্ছে। বর্তমানে সে হেফাজতে শয়তানের একনিষ্ঠ অনুসারী। আর হেফাজতে শয়তানের আমির শফীর মূত্রপানে সদাব্যস্ত।

সে নিজেকে সবসময় প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক-বাহক মনে করলেও আসলে সে কিন্তু আপাদমস্তক ভণ্ড আর চরম সাম্প্রদায়িক। এর জীবনে কোনো নীতি ও আদর্শ নাই। যদি এর মধ্যে সামান্যতম আদর্শ ও মনুষ্যত্ব থাকতো—তাহলে, সে মনের আনন্দে এরশাদের মূত্রপান করে চিরস্থায়ীভাবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করতো না। আর হেফাজতে শয়তানের পদাঙ্কও অনুসরণ করতো না।

সম্প্রতি বিভিন্ন টক-শোতে ফিরোজ রশীদ দেশের সুপ্রীমকোর্টচত্বরের ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য নিয়ে যেভাবে ধৃষ্টতার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছে তাতে মনে হয়: এরা ব্যতীত দেশে বুঝি আর কোনো মানুষ নাই। আর জাতীয় পার্টি যে একটি চরম সাম্প্রদায়িক দল তাও এই কুলাঙ্গার পরিষ্কারভাবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরেছে। সামান্য কয়টি ভোটের লোভে এরা আজ বেশ্যার মতো উন্মত্ত হয়ে রাষ্ট্রের আইনকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলিপ্রদর্শন করছে। কথায়-কথায় এরা আজ ইসলামের কথা বলে। আর প্রচার করে থাকে জাতীয় পার্টি একটি ইসলামীভাবধারার দল! আর তাদের সময় ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে! এই বেআদব আরও বলেছে—দেশের ৯০ভাগ মানুষ নাকি সুপ্রীমকোর্টচত্বর থেকে ভাস্কর্য-অপসারণের পক্ষে! এর লাগামহীন কথাবার্তা আজ সাধারণ রাজাকারদেরও হার মানিয়েছে! তার অসংযত-আচরণে মনে হয় সে যেন হেফাজতে শয়তানের নতুন আমির!

সুপ্রীমকোর্টচত্বরের ভাস্কর্য নিয়ে তার ধৃষ্টতাপূর্ণউক্তির ভিডিওলিংকটি এখানে তুলে ধরা হলো:
https://youtu.be/XcQ-VeLoxSo

এই বেআদব মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়েছে। আর এই মূর্খ ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে অভিহিত করেছে। এই কুলাঙ্গার কথা বলার আগে এরশাদের মূত্র খেয়ে এসেছিলো নিশ্চয়? আর সে কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। তবুও সে নিজেকে অতীতের একটা বড়সড় কিছু ভাবছে! আর সবচেয়ে বড় সত্য হলো: এই কুলাঙ্গার ফিরোজ রশীদ হেফাজতে শয়তানের আমির শফীর মূত্রপান করেছে। আর এই জানোয়ার মাদ্রাসার জঙ্গিকার্যক্রমকে আড়াল করে কোথাকার কোন এক ঐশীকে ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী বলে তার রেফারেন্স টেনে দেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। আসলে, এরা রাজনীতির বেশ্যা। তাই, এদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শুধু ভোট দরকার। আর এই ভোট-জোগারের জন্য এরা যেকোনোপন্থা অবলম্বন করতেও প্রস্তুত। এদের জীবনে ভোটই সবকিছু। তাই, এরা ভোটের রাজনীতি করছে দেশের ক্ষতি করে। জাতীয় পার্টি আজ দেশবিরোধী একটি ঘাতকসংগঠন।

আজকাল ফিরোজ রশীদরা জাতীয় পার্টির যে ইসলামীমূল্যবোধের কথা বলেছে তা সম্পূর্ণ হাস্যকর। এরা সস্তা জনপ্রিয়তাঅর্জনের জন্য দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছে, শুক্রবার সরকারি-ছুটির দিন ধার্য করেছে, আর এরশাদের মতো একটা আপাদমস্তক-লম্পট প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করেছে। আর সঠিক ইতিহাস হচ্ছে—জাতীয় কুলাঙ্গার ফিরোজ রশীদরা ছিল চীনপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, আর মুসলিম-লীগারদের অনুসারী। দেশস্বাধীনের পর এরা নিজস্বার্থআদায়ে আজ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর এই দেশে এখন মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট সবচেয়ে সস্তা!

এই ভণ্ড ১৯৮২ সালের ২৪-এ মার্চ থেকে (সামরিকজান্তা এরশাদের রাষ্ট্রক্ষমতাদখলের দিন থেকে) আজ পর্যন্ত সরকারে থেকে আর সরকারের বাইরে থেকেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটে ব্যস্ত। এদের কোনো চরিত্র নাই—আদর্শও নাই। এরা দেশের পুরুষ-বেশ্যা। আর রাজনীতির কুখ্যাত বেশ্যা। এরা সবসময় ক্ষমতালোভী। আর ক্ষমতার মোহে পাগল হয়ে এরা হেফাজত আর জামায়াত-এর ভাষায় কথা বলছে।

বাংলাদেশে ২০১০ সালে একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে জাতীয় পার্টি স্পষ্টতঃ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করে নীরব থাকে। আর এরা এখনও তা-ই করছে। কিন্তু কৌশলগতকারণে এরা মাঝে-মাঝে নিজস্বার্থের জন্য যুদ্ধাপরাধীবিষয়ে ইনিয়েবিনিয়ে দুই-চারটি সাধারণ কথা বলে বর্তমান মহাজোট-সরকারকে শান্ত রাখে। কিন্তু অদ্যাবধি জাতীয় পার্টি একাত্তরের নরঘাতকদের বিচারের দাবিতে বা শুরু হওয়া বিচারপ্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামান্যতম সমর্থনও করেনি। এরা এখনও সেই পথেই হাঁটছে। আর এরা দেশের সমস্ত সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অথচ, এই দেশে এদের জনসমর্থন খুবই সামান্য। কিন্তু এরা যখন কথা বলে তখন মনে হয়—এরাই যেন সবকিছু—আর দেশের সব মানুষ এদের পক্ষে!

মনে আছে, ২০১৩ সালে একাত্তরের নরঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মিরপুরের কসাইখ্যাত কাদের মোল্লাকে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর এতে ফুঁসে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ। আর তারা এই ষড়যন্ত্রমূলক রায়ের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদ জানাতে ঢাকার শাহবাগে সমবেত হয়। আর এভাবেই শাহবাগে গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক গণজাগরণমঞ্চ। কিন্তু এই মঞ্চ দেখে তখন অনেকেই একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা ভীষণভাবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়। আর তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে এই গণজাগরণমঞ্চের সরাসরি বিরোধিতা করতে থাকে। এদের মধ্যে গণজাগরণমঞ্চের বিরোধিতাকারী হিসাবে জাতীয় পার্টির অবস্থান সবার উপরে। এইসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদসহ কাজী ফিরোজ রশীদরা একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে দালালি করতে গিয়ে গণজাগরণমঞ্চের বিরোধিতাসহ নানাপ্রকার অশ্লীল সমালোচনা করতে থাকে। এই কুখ্যাত ফিরোজ রশীদ সেই সময় বিভিন্ন টক-শোতে নানাভাবে গণজাগরণমঞ্চকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা করেছিলো। এদের ধৃষ্টতা জাতি এখনও ভোলেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই দুর্বার আন্দোলনকে সেদিন ফিরোজ রশীদরা ‘নাস্তিকদের আন্দোলন’ বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিলো।

এখানে, ফিরোজ রশীদের সেই সময়কার দুইটি ভিডিওলিংক তুলে ধরা হলো:
https://youtu.be/3Zzx8crDxx4
https://youtu.be/q5Hs_lK0kkE

এই বেআদবের কথা শুনলে মনে হয় সে গোলাম আযমের পুত্র। আর ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের লোক ছিল। এই কুলাঙ্গার গণজাগরণমঞ্চসম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি করছে, আর হেফাজতে শয়তানের আমির শফীকে পূজা করেছ। সে মাদ্রাসার জঙ্গিদের বারবার আড়াল করে সাধারণ শিক্ষা ও ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলকে আক্রমণ করছে। আসলে, এই ফিরোজ রশীদরা বাংলাদেশের জঙ্গিদের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

আজকে ফিরোজ রশীদরা সবখানে ইসলামের দোহাই দিচ্ছে, জাতীয় পার্টিকে ইসলামীমূল্যবোধের দল বলছে, আর নিজেদের একেকটা সাচ্চা মুসলমান ভাবছে! কিন্তু আসলে কি তাই?

এদের মধ্যে ইসলামের সামান্যতম নিদর্শন নাই। এরা সবসময় ভণ্ড, জোচ্চোর, ধড়িবাজ, ফেরেববাজ, চালবাজ, ধাপ্পাবাজ, অসৎ, চোর, ভোটডাকাত, আর রাষ্ট্রীয় তহবিল তসরুফকারী। ইসলামে কি এগুলো জায়েজ? এরশাদের আমলে এরশাদ নিজেসহ তার দলের লোকেরা নিয়মিত মদ্যপান, ব্যভিচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, চোরাকারবারি, হেরোইনপাচার আর যাবতীয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করেছে মনের আনন্দে। তখন এদের ইসলাম কোথায় ছিল? নাকি ইসলামে এসব জায়েজ? এই ফিরোজ রশীদরা—একটা সামরিকজান্তা, নারীলোলুপ ও স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গে থেকে এরশাদের পা-চেটে ৯টি বছর বাংলাদেশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলো। আর দেশে গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছিলো। তখন বুঝি এই চরিত্রহীন-ভণ্ডদের ইসলামের কথা একবারও মনে হয়নি! আর আজ সামান্য একটা ভাস্কর্য নিয়ে এরা দেশবিরোধী ও একাত্তরের ঘাতকসংগঠন হেফাজতে শয়তানের সঙ্গে আঁতাত করে তাদের ভাষায় এই ভাস্কর্যকে ‘মূর্তি’ ও ‘অনৈসলামিক’ বলছে! ১৯৭১ সালে, এদের অবস্থান কী ছিল তা আজ সহজেই অনুমেয়।

জীবনে বহু ভণ্ড দেখেছি, কিন্তু ফিরোজ রশীদের মতো আপাদমস্তক ও বর্ণচোরা ভণ্ড খুব কমই দেখেছি। এরা মুসলমানের পরিচয়ে, ইসলামের নামে আর ধর্মের লেবাসে আসলে জীবন্ত শয়তান। আর বাংলাদেশে রাজনীতির ইতিহাসে আজন্ম-আমৃত্যু শয়তানী করার জন্য ফিরোজ রশীদরা হচ্ছে স্বয়ং ইবলিশ শয়তানের মনোনীত পুত্র। আর এরা এই স্বাধীনবাংলাদেশে শয়তানীবৃদ্ধির জন্য সদাজাগ্রত শয়তানপুত্র। দেশ ও জাতির স্বার্থে আজ এই নরপশুদের নির্মূল করতে হবে। নইলে, এরা জাতির ইতিহাস ও চরিত্রহননে ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু জাতি সেই সুযোগ এদের দিতে পারে না।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
৩১/০৫/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 − 62 =