শিল্প-সাহিত্য ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশালী গড়াই পাড়ের কুষ্টিয়া।

?1474666849772″ width=”500″ />

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। রক্তের শিরা-উপশিরার মতোই বাংলাদেশের নদীগুলো ধাবমান। মানুষের জীবন, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, শিল্প-সভ্যতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সাথে বলিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে নদ-নদীর। শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক জেলা কুষ্টিয়া।অর্থনৈতিক দিক দিয়েও বেশ সমৃদ্ধশালী। আর এই সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পদ্মা-গড়াই।

গড়াই নদীর ইতিহাস, উৎপত্তি, প্রবাহ ও শাখা-প্রশাখাঃ
গড়াই অত্যন্ত প্রাচীন একটি নদী। অতীতে এর নাম ছিল গৌরী। গড়াই নদী গঙ্গা তথা পদ্মার একটি প্রধান শাখানদী হিসেবে পরিচিত। এতি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক মধুমতি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ২৪।

কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদী গঙ্গার বাংলাদেশের অংশ পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। নদীটি কুষ্টিয়া জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খোকসা উপজেলার গণেশপুর নামক স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে। অতঃপর ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়ে চাদট ও কাতলাগাড়ী নামক দুই গ্রামের মধ্য দিয়ে রাজবাড়ী জেলায় প্রবেশ করে ঝিনাইদহ-রাজবাড়ী ও মাগুরা-রাজবাড়ী এবং মাগুরা-ফরিদপুর জেলার সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়ে নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার মধ্য দিয়ে মধুমতি নামে প্রবাহিত হয়ে পরবর্তী সময়ে পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে বলেশ্বর ও হরিণঘাট নামে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। অর্থ্যাৎ পদ্মা থেকে গড়াই পরবর্তিতে বিভিন্ন নামে প্রবাহিত হয়ে পদ্মাকে বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত হয়েছে।

পদ্মা থেকে বঙ্গোপসাগরে পতিত হবার আগে গড়াই-মধুমতি বহু শাখা-প্রশাখার জন্ম দিয়েছে এবং অন্যান্য অনেক নদীর সংস্পর্শে এসেছে। কুমার, কালীগঙ্গা, ডাকুয়া, বুড়ি গড়াই প্রভৃতি গড়াইয়ের শাখা নদী। চন্দনা গড়াই-এর উপনদী। নবগঙ্গা, চিত্রা, কপোতাক্ষ, খুলনা-যমুনা, গলঘাসিয়া, এলেংখালী, আঠারোবাঁকী প্রভৃতি নদী কোনো না কোনো ভাবে গড়াই-মধুমতি নদীর সংস্পর্শে এসেছে।

ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গড়াই নদীঃ
বিস্তৃত অববাহিকা ও জীবন্ত বদ্বীপের দেশ বাংলাদেশ। নদী-এর ইতিহাস, নদী-এর ঐতিহ্য, নদী-এর সাংস্কৃতিক অলংকার। বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নদীসমূহ এদেশের ঐতিহ্য ও অহংকারের সচল ধারা। এদেশের নদীসমূহ লোকগাথা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আঞ্চলিকতা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিকশিত করেছে ঐতিহ্যকে। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তেমনি অলংকারিত করেছে গড়াই নদী। সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা। আর এই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানীর পেছনের প্রভাবক হিসেবে অনেকাংশে গড়াই নদীর ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশে নদীমাতৃক দেশ তেমনি রবীন্দ্রনাথের কবিত্বও নদীমাতৃক। তাঁর অধিকাংশ কবিতা, গান ও ছোট গল্পে নদীর কথা ছাড়াও উপমা ও চিত্রকল্প হিসেবে এসেছে নদীসম্পর্কিত বিষয়াবলি৷ যেমন খেয়া, ঘাট, মাঝি, শেষপারানির কড়ি, তরী, তরঙ্গ, তরনী আর জল৷

১৮৯১ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী পরিচালনার জন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে আসেন। এই কুঠিবাড়ি থেকে তিনি পতিসর ও শাহজাদপুরের জমিদারিও দেখাশুনা করতেন। এখানে আসার পর শিলাইদহ গ্রামের ছায়াঘেরা অপরূপ দৃশ্য এবং পদ্মা-গড়াই নদী কবিকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। শিলাইদহ গ্রামে কবি রবীন্দ্রনাথ, জমিদার রবীন্দ্রনাথ এবং কৃষিবিদ রবীন্দ্রনাথের অপূর্ব এক বিচিত্র সমন্বয় ঘটেছিল। তাঁর লেখায় বহুবার এ নদী দুটির প্রসঙ্গ এসেছে। গড়াই নদীকে কবি লিখতেন গৌরী নামে। আবার কখনো কখনো গোড়াই নামেও লিখেছেন তাঁর কবিতায়। গড়াই তীরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কথা অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটে তুলেছিলেন তাঁর কবিতায়। তিনি লিখেছেন,
‘গোড়াই নদীর চর
নূতন ধানের আঁচল জড়ায়ে ভাসিছে জলের পর
একখানা যেন সবুজ স্বপন একখানা যেন মেঘ
আকাশ হইতে ধরায় নামিয়া ভুলিয়াছে গতিবেগ
… … … …
দুপুরের রোদে আগুন জ্বালিয়া খেলায় নদীর চর
দমকা বাতাসে বালুর ধূম্র উড়িছে নিরন্তর
রাতের বেলায় আঁধারের কোলে ঘুমায় নদীর চর
জোনাকি মেয়েরা স্বপনের দীপ দোলায় বুকের পর।’
রবীন্দ্রনাথ নদীকে দেখেছিলেন নদীর তীরের মানুষের সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে৷ এই দেখার মধ্য দিয়ে তিনি পৌঁছেছিলেন মাটির কাছাকাছি৷

আধুনিক যুগে মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যে সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক মীর মোশাররফ হোসেন এর জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া গ্রাম যা গড়াই নদী থেকে সামান্য দূরে। সাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেন এর কবিতাতেও গড়াই নদীর প্রসঙ্গ এসেছে। ১৮৭৩ (বাংলা ১২৭৯ সন) সালে তিনি ‘গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু’ কবিতা লিখেছেন। তারঁ বিভিন্ন লেখায় নদী প্রসঙ্গ এনেছেন।

এ নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একজনের স্মৃতি। তিনি হলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালী আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক, অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ফকির লালন সাঁই। ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়ার মাত্র চার কিলোমিটার দূরে গড়াই নদীর একটি ঘাট যার নাম ঘোড়াঘাট। প্রচলিত তথ্য মতে, এ ঘাটের সঙ্গে মিশে আছেন লালন সাঁইয়ের স্মৃতি। এই ঘাট দিয়ে সবচেয়ে বেশি চলাচল করতেন মহান এই সাধক। এখান দিয়ে কয়া গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে তিনি আসা-যাওয়া করতেন।

লালন সাঁইজির তিন পাগলের হলো মেলা গানের হয়তো এই তিন পাগল রবীন্দ্র, মীর মোশাররফ আর কাঙ্গাল হরিনাথ। লোকসংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক বাউল সঙ্গীতের অন্যতম পথিকৃৎ এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্রের জনক ও গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ প্রথম বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘গ্রামবার্ত্তা’ পত্রিকার সম্পাদক কাঙ্গাল হরিনাথের জন্মও গড়াই তীরবর্তী কুষ্টিয়ার কুমারখালী গ্রামে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা বিপ্লবী নেতা বাঘা যতিনের জন্মও গড়াই নদীর তীরবর্তী কুষ্টিয়ার মাতুলালয় কয়া গ্রামে।

পল্লী কবি জসীম উদ্ দীন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার তাম্মুলখানায় হলেও তার কবিতায় ফুটে উঠেছিল গড়াই নদীর কথা। তিনি তাঁর সোজন বাদিয়ার ঘাট কাব্যগ্রন্থের নীড় কবিতায় গড়াই নদীর প্রসঙ্গ তুলে এনেছিলেন।তিনি লিখেছিলেন, ‘গড়াই নদীর তীরে,
কুটিরখানিরে লতা-পাতা-ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে। বাতাসে হেলিয়া, আলোতে খেলিয়া সন্ধ্যা সকালে ফুটি, উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।……সে ঘরের মাঝে দুটি পা মেলিয়া বসিয়া একটি মেয়ে, পিছনে তাহার কালো চুলগুলি মাটিতে পড়েছে বেয়ে। দুটি হাতে ধরি রঙিন শিকায় রচনা করিছে ফুল,বাতাসে সরিয়া মুখে উড়িতেছে কভু দু একটি চুল।’

কুষ্টিয়ার নামকরণে গড়াই নদীর বেশ প্রভাব রয়েছে মত অনেকের। যদিও নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনী। কুষ্টিয়ায় একসময় কোষ্টার (পাট) চাষ হত বলে কোষ্টা শব্দ থেকে কুষ্টিয়া নামকরণ হয়েছে।গড়াই নদীর উপর ভিত্তি করেই এ অঞ্চলের পাট চাষ হয়ে থাকে। হেমিলটনের গেজেটিয়ারে উল্লেখ আছে যে স্থানীয় জনগণ একে কুষ্টি বলে ডাকত বলে এর নাম হয়েছে কুষ্টিয়া। অনেকের মতে ফরাসি শব্দ ‘কুশতহ’ যার অর্থ ছাই দ্বীপ থেকে কুষ্টিয়ার নামকরণ হয়েছে। সম্রাট শাহজাহানের সময় কুষ্টি বন্দরকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহরের উৎপত্তি ঘটেছে। সম্রাট শাহজাহানের আমলে এ স্থানটি গড়ে উঠেছিল নৌবন্দর হিসেবে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী নদীবন্দর হিসেবে খ্যাত ছিল। এজন্য প্রাচীন সভ্যতার অনেক নিদর্শন রয়েছে কুমারখালীতে।

অর্থনীতিতে গড়াই নদীঃ
গ্রীক ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকদের বিবরণ এবং বিখ্যাত ভৌগোলিক টলেমির মানচিত্রে গঙ্গা নদীর অববাহিকায় কয়েকটি ছোট ছোট দ্বীপ দেখা যায়। এই দ্বীপগুলোকে বৃহত্তর কুষ্টিয়া বলে মনে করা হয়। ভারত কোষ গ্রন্থে কুষ্টিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নদী বিধৌত গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এলাকাটি পলি গঠিত সমভূমি বলে এর মৃত্তিকা উর্বর ও কৃষির উপযোগী।’ আর এই নদীর পলি গঠিত সমভূমি কৃষির উপযোগী উর্বর মৃত্তিকার কারণে এখানকার জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। যা শতকরা ৫১.৭১ শতাংশ। ১৬৮২.২৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কুষ্টিয়াতে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত চাষবাদ করা হয় প্রধানত ধান, পাট, আখ, ডাল, তৈলবীজ ইত্যাদি়। তবে জেলাটিতে তামাক ও পানের চাষও লক্ষণীয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কুষ্টিয়া জেলায় সর্বমোট কৃষি আবাদি জমির পরিমাণ ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৭৮ হেক্টর। গড়াই নদীর অববাহিকার দরুন শুধু কৃষিই নয় এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শিল্পকলকারখানা। তন্মধ্যে, তামাকের কারখানার মধ্যে নাসির টোব্যাকো লিমিটেড ও ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো উল্লেখযোগ্য। ফ্রেব্রিকস শিল্প, এখানে উৎপাদিত ফ্রেব্রিকস সামগ্রী দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া কুষ্টিয়ায় অসংখ্য চালের মিল রয়েছে, রয়েছে বস্ত্র শিল্পও।

একসময় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও ক্রমশ অর্থনীতিতে এর ভূমিকা এক শতাংশের অনেক নিচে নেমে এসেছে। কারণ শুষ্ক মৌসুমী এ নদীতে শুধু বালুচর ছাড়া পানি দেখা যায় না। বর্ষা মৌসুমি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় প্রতি বছর কয়েকশত বসতভিটা ও আবাদি জমি।
শুষ্ক মৌসুমি নদী শুকিয়ে চর, বর্ষা মৌসুমী অতিরিক্ত পানির ফলে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের কারণে অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ অঞ্চলের অর্ধেকের বেশি কৃষি নির্ভর অর্থনীতির চাকা।

গড়াই নদীর এ পরিস্থিতির কারণ হচ্ছে গঙ্গা নদীতে বিতর্কিত ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণ। বাংলাদেশ থেকে ১৮ কিলোমিটার উজানে ভারতে গঙ্গা নদীতে বিতর্কিত ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর গত চার দশকে গঙ্গা অববাহিকায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ভারত গ্রীষ্ম মৌসুমে পানি আটকে রাখার ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমী পানির সাথে আসা অতিরিক্ত পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে।

নদী, ছোট্ট একটি নাম। অথচ কত গভীর, কত প্রশস্ত ব্যঞ্জনায় ছড়িয়ে আছে মানুষের জীবনে। মানুষের সঙ্গে এই নদ-নদীর কত সখ্যতা আবার কত বৈরিতাও দেখা যায়। নদ-নদীর প্রবহমান ধারা মানুষের গতিশীল জীবনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। নদীর অবস্থান, আচরণ, বিস্তৃতি, প্রথাগত ঐতিহ্য তাই এদেশকে শুধু নদীমাতৃক দেশে রূপান্তরিত করেনি, দিয়েছে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে সমৃদ্ধি। হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের শিকড় এভাবেই প্রোথিত হয়েছে গভীরে। নদী প্রকৃতির দান। নদী মানবসমাজ ও সভ্যতার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তাই এই নদীকে ধ্বংস করে, মরুকরণ প্রক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিলে সমাজ-সভ্যতা ও অর্থনীতি সবই হুমকির মুখে পড়বে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তিস্তাসহ অভিন্ন প্রধান নদীগুলোর ভারত থেকে পানির হিস্যা আদায় করতে পারলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পাবে। বেঁচে যাবে গড়াই, মধুমতী, রুপসা, আড়িয়াল খাঁ, কুমার, আত্রাই, কীর্তনখোলা, বিষখালীসহ জালের মত ছড়িয়ে ছিটে থাকা অসংখ্য নদী। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশের মানুষ বাঁচবে। তাই নদীকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতে হবে, সরকারকে নদী রক্ষায় জোড়ালো পদক্ষেপ নিতে হবে। গড়াই বাঁচাতে কুষ্টিয়াবাসীকেও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আল আমিন হোসেন মৃধা

লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 − = 77