বছর দুয়েক আগের কথা

বছর দুয়েক আগের শীতকালের কথা ,
বড় ছেলেটার বয়স তখন তিনের মত, হয়েছে নিউমোনিয়া। দিন দশেক ভুগতে ভুগতে বেচারা খাওয়া দাওয়া সব ছেড়ে দিলো।

অগত্যা অনন্যোপায় হয়ে ভর্তি করলাম হাসপাতালে। চলতে থাকলো চিকিতসা, এন্টিবায়োটিক, ইঞ্জেকশন, স্যালাইন। কোন কিছুতেই উন্নতির লক্ষন দেখা যায় না। লাভের মাঝে লাভ হলো পোলায় এখন কথাও বলতে পারে না, কথা কয় না, শব্দ করেনা, মোটামোটি যখন তখন অবস্থা।

আত্মীয় স্বজনেরা সারাদিন একের পরে একজন এসে দেখে দেখে যাচ্ছেন। আমার মা, ওর মা কেউ আর ক্যাবিন ছেড়ে যায় না। আমিও বেশ অস্থির হয়ে গেলাম। কি করবো, কি করা যায়, কিছুতেই ঠিক করতে পারছিলাম না। কেউ কেউ পরামর্শ দিলেন আরো বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য, কেউ কেউ মানত করতে বললেন। আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ়।

হটাত মাথায় আসলো ইন্টারনেট ঘেটে দেখি কি পাওয়া যায়। তখন নোকিয়া ৬৩০০ মডেলের সেট ব্যবহার করি। গুগল সার্চ দিয়ে এক দুই করে বেশ কয়েকটা সাইট ঘেটে দেখলাম এমন অবস্থায় কমলা, আঙ্গুরের রস বেশ কাজ করবে। গেলাম বাজারে নিয়ে আসলাম কমলা,আঙ্গুর। দুইটা কোয়ার রস ঠোট ভিজিয়ে ভিজিয়ে অনেক কষ্টে তার ভেতরে প্রবেশ করানো গেলো।

জানি না আসলে, এন্টি বায়োটিক না কি কমলার কারনে আধা ঘন্টা পরেই ছেলে আমার ঘুরে গেলো, আস্তে আস্তে কথা বলার চেষ্টা করলো। ধীরে ধীরে ঘন্টা দুয়েক পরে উঠে বসলো। পরদিন হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি। ততদিনে ছেলে আমার ২০ দিনের ভোগান্তি পার করেছে।

( এই ঘটনায় একবারো আমি ঈশ্বরের স্মরনাপন্ন হইনি। আমি নিশ্চিত তার কোন ভূমিকা এখানে ছিল না, ছিলো প্রচন্ড ঠাণ্ডায় ছেলের যত্নে ক্রুটি, আর সুস্থতায় ছিলো চিকিতসা, হয়ত কমলা লেবুর রস।)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “বছর দুয়েক আগের কথা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 5 =