কৃষি উন্নয়নে ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা

কৃষি অর্থনীতির উন্নয়ন ছাড়া কৃষিব্যবস্থা বা কৃষকের উন্নতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত—এর পেছনে কৃষিবিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মী আর কৃষকের ভূমিকা অগ্রগণ্য। এখনো এ দেশের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ মানুষের জীবন-জীবিকা কোনো না কোনো ভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ কম থাকায় কৃষি উপকরণের সঙ্গে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে পানি সেচ, বীজ, শ্রমিকের মজুরি। অন্যদিকে কৃষিপণ্যের দাম কম হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য কৃষি উৎপাদনে কৃষক দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এ অবস্থায় কৃষকদের সার্বিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে নগদ অর্থে ভর্তুকি প্রদান করা হবে যুক্তিসঙ্গত। এ অর্থ প্রদান করতে হবে সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে সরকার এমন উদ্যোগ নিয়ে খুবই প্রশংসিত হয়েছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে ৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়া হয়। সম্প্রতি হাওরে ক্ষতিগ্রস্তদের বিনামূল্যে ৩০ কেজি চাল এবং খোলা বাজারে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কারণে খাদ্যে বেড়েছে ভর্তুকির পরিমাণ। এ খাতে নতুন করে দেওয়া হচ্ছে ৯০১ কোটি টাকা। তাছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে দেশের হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার কৃষককে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে এখন থেকে হাওর এলাকার ১০ জেলার ৩৪ উপজেলার ৩৪৭ ইউনিয়নের কৃষক কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের মাত্র ৩০ শতাংশ পরিশোধ করেই নির্দিষ্ট কিছু কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে পারবে। কৃষি উৎপাদন ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে দারিদ্র্যের হার ০.৪১ শতাংশ হ্রাস পায়। আর কৃষি বহির্ভূত খাতে উৎপাদন ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে দারিদ্র্য হ্রাস পায় ০.২ শতাংশ হারে। অর্থাৎ কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি অন্যান্য খাতের প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণ হারে দারিদ্র্য কমায়। জাতীয় কৃষি বাজেটকে কৃষকবান্ধব করতে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্থায়িত্বশীল খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে মাটির স্থায়িত্বশীল উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধিসহ জলবায়ুসহিষ্ণু স্থায়িত্বশীল কৃষিচর্চাকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। তাছাড়া বন্যার হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য রেশনের ব্যবস্থাসহ শস্যবীমা চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জলবায়ুসহিষ্ণু স্থায়িত্বশীল কৃষিচর্চার কৌশল ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা যেতে পারে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “কৃষি উন্নয়নে ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + = 5