প্রধানমন্ত্রী কি তবে গাঁজাখোরদের আন্দোলনে যেতে চেয়েছিলেন ???!!!

কি কাণ্ড! আমাদের প্রধানমন্ত্রী গাঁজাখোরদের সাথে আন্দোলন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। তার মন শাহবাগে ছুটে যেতে চেয়েছিল। ইস! এই কথা কি মুমিন বান্দারা জানে। তারা যদি না জেনে থাকে তাহলে আরও একটু জানায় ২০১৩ সালের ফেব্রয়ারী মাসের ২য় রবিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, “আমি তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই, আমরাও তোমাদের সঙ্গে একমত। তোমাদের শপথ বাস্তবায়নে যা যা করা দরকার, আমরা করব। তরুণ প্রজন্ম জাতীয় সংসদে যে স্মারকলিপি দিয়েছে, তার প্রতিটি কথা যুক্তিসংগত।”

“আমার মনও শাহবাগের আন্দোলনে ছুটে যেতে চায়” – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। (সূত্রঃ প্রথম আলো, ১০-২-২০১৩)

কি কাণ্ড! আমাদের প্রধানমন্ত্রী গাঁজাখোরদের সাথে আন্দোলন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। তার মন শাহবাগে ছুটে যেতে চেয়েছিল। ইস! এই কথা কি মুমিন বান্দারা জানে। তারা যদি না জেনে থাকে তাহলে আরও একটু জানায় ২০১৩ সালের ফেব্রয়ারী মাসের ২য় রবিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, “আমি তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই, আমরাও তোমাদের সঙ্গে একমত। তোমাদের শপথ বাস্তবায়নে যা যা করা দরকার, আমরা করব। তরুণ প্রজন্ম জাতীয় সংসদে যে স্মারকলিপি দিয়েছে, তার প্রতিটি কথা যুক্তিসংগত।”

আমার তো ব্রেনই কাজ করছে না। মগজের মধ্যে চুলকাচ্ছে। কি যে করি। কারণ আওয়ামী এমপিও শাহবাগেকে গাঁজাখোরদের আড্ডা বলেই ডাকে। গণজাগরণের আন্দোলনকে গাঁজাখোরদের আন্দোলন বলে।

না বলে পারছি না যে, আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ মোটেও কাজের কাজ কিচ্চু করে নাই। প্রধানমন্ত্রীকে গোপন সংবাদ দেয় নাই যে ওখানের ছেলে মেয়েরা সব গাঁজাখোর, ওখানে দিনরাত গাঁজার আড্ডা চলে। কোন আন্দোলন ফান্দোলন চলে না। হাজার হাজার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ওখানে গাঁজায় দম দেয়। ইস কি কারবার বলূন তো দেখি। এইটা কিছু হইল।

চার বছর আগের ঘটনা অনেক রথী মহারথীরা ভুলে গেছেন মনে হয় তাই চলেন দেখি আমাদের প্রধানমন্ত্রী সে দিন আর কি কি বলেছিলেন।

ওররেবাবা সেদিন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে আশ্বস্ত করে বলেন, সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে। যত বাধাবিপত্তিই আসুক, জীবন দিয়ে হলেও তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। এইটুকু তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই।’

ওমা একই তারপর দেখি আরও মজার ঘটনা তা হলঃ

সংসদে তরুণ প্রজন্মের দেওয়া স্মারকলিপিকে যুক্তিসংগত অভিহিত করেন শেখ হাসিনা। তিনি তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

হায় আল্লাহ এরপর হইল আরও ভয়াবহ ঘটনা

শুধু প্রধানমন্ত্রী একা নন। জাতীয় সংসদে উপস্থিত সব সাংসদ তরুণ প্রজন্মের দাবির সঙ্গে একাত্ম বলে ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।
ও মোর খোদা! সেদিন কোথায় ছিল জনাবা বাপ্পী? আপনি কি একাত্নতা ঘোষণা করেননি? নাই করতে পারেন তা আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার।

ও মা তারপর দেখি,

মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার রায়ে এ দেশের তরুণসমাজ জেগে ওঠায় তাঁদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা যদি জেগে না উঠত, তাহলে সারা দেশের মানুষও সোচ্চার হতো না।

ছিঃ ছিঃ আমাদের প্রধানমন্ত্রী গাঁজাখোরদের অভিনন্দন জানান,

শাহবাগের আন্দোলনকে অভূতপূর্ব জাগরণ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা অদ্ভুত ঘটনা ঘটিয়েছে। অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছে। জাগরণ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেছে। প্রতিটি জেলা, প্রতিটি উপজেলায় সব জায়গায় মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। আন্দোলনে সোচ্চার শিশু, নারী, বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণী সবাইকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

একই বছরের ১৭ই ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আসেন শাহবাগে “ রাজব হায়দারের জানাজায় অংশ নিতে। রাজীব হায়দার ছিল একজন শাহবাগের সৈনিক যাকে নাস্তিক উপাধি দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। প্রশ্ন হল জয় সাহেব ওখানে কেন গেল? একজন নাস্তিক গাঁজাখোরের জানাজায়? এর জবাব কি আছে আপনার কাছে সংরক্ষিত আসনে আসীন সাংসদ। ওই দিনগুলির পত্রিকা দেখলেই আমার লেখার সূত্র পেয়ে যাবেন।

আজকাল রাজনীতিতে কোন নীতি নাই। যার যা ইচ্ছে করছে বলছে। জন প্রতিনিধিরা আমাদের সাথে আচরণ করেন আমরা তাদের কেনা দাস। কিন্তু সংবিধান কি বলে? কেউ কি সংবিধান মানেন? জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবার কথা যাদের তারা সারাটিক্ষণ ছড়ি ঘুরিয়ে চলেছে। হুমকি ধামকি, মারধর হামলা মামলা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। আর যতটুকু সময় পায়। সামাজিক মিডিয়াতে নিজদের ভাবমূর্তি উন্নয়নে ব্যস্ত। ভার্চুয়াল দুনিয়াতে রঙ্গিন চশমা পরে ঘোরেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিন্তু রিয়েল লাইফে সমাজের উন্নয়নে তারা একদম জিরো ফিগার।

মাল্যেশিয়া-নিউ ইয়র্ক -লন্ডন-কানাডা-সিংগাপুর-ইন্ডিয়া সহ পৃথিবীর নানান দেশের তাদের সম্পদের পাহাড়। বিদেশী ব্যাংক গুলিতে উপচে পরা সম্পদ।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি একটু সময় করে এদের আগুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাবার কারণ তদন্ত করাতেন তাহলে দেখা যেত কে কি ছিল? আর কি হয়ে গেছে।

ধর্ষণ বিরোধী বক্তব্য দিয়ে, ধর্ষণ প্রতিরোধ কমিটির মেম্বার হয়ে, নারীনির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবী করে এসে এরাই আবার ধর্ষকদের সুবিধা দেয়। ধর্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নেয়। ধর্ষক সাফাত ও নাইমের মুখ থেকে অনেকের অনেক গুনের পরিচয় পাওয়া গেছে। কিন্তু একজন নারীরও যে ধর্ষকের প্রতিপালক তা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। ক্ষমতাবানদের অনেক বন্ধু থাকে সাংবাদিক থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষ এদের অনুগ্রহ পেতে চাই। এরা অন্যায় করলেও কেউ কিছু বলে না , কারণ সুবিধাগ্রাহী পেশাজীবীরা তখন চুপ করে, চোখ ঢেকে, কান চেপে রাখে। নিজেদের দাসত্বের শেকলে বেধে চুপ করে পায়ের কাছে বসে লেজ নাড়ায়।

আমরা আমাদের কষ্টের ইনকাম থেকে ট্রাক্স দেয়, আমাদের পাঠানো টাকার রেমিটেন্স পায় সরকার। হুন্ডি করলে ডলারে দু পাচ টাকা বেশি পাওয়া যায় কিন্তু সেই বেশির লোভ ছেড়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠায় প্রবাসীরা, যাতে রেমিটেন্স পায় সরকার, সেই টাকা লুঠ হয়, বছরে ১৭ হাজার টাকা পাচার হয় দেশ থেকে। আপনারা ফেসবুকে কে কি করল তা না দেখে, দেশের সর্বনাশ কারা করছে কি ভাবে করছে তা নিয়ে কাজ করেন, ফেসবুকে সময় দেবার মত সময় কি আপনাদের থাকা উচিত? মাঝে মধ্যে দিতেই পারেন অল্প কিছুক্ষণ। কিন্তু দেখি সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকেন সবাই ফেসবুকে বিবিধ জিনিস আপলোড করতে।

জনগণকে সেবার বদলে জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করার জন্য তো জন প্রতিনিধি নির্বাচনকরা করা হয় না।

এই সরকারের আমলে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে চলেছে। দেশ তো ধর্ষণের ক্ষেত্রে রেকর্ড করবে বলেই মনে হচ্ছে অচিরে। এমন একটা দিন নেই যে, ধর্ষণের খবর নাই পত্রিকার পাতায়। বিচারহীনতার কারণে আজ এমন দুঃসাহস দেখাতে পারছে মানুষ এইদেশে। এখন তো আরও ভাল হয়েছে, আছে ফেসবুক। ভার্চুয়াল দুনিতে চলছে ধর্ষণ। কাউকে পছন্দ হল না, কারো সাথে বনিবনা হল না, কারো কথা পছন্দ হল না, শুরু করে দাও নোংরামি, পুরুষ হলে তার মা-বোন-বউ-মেয়ে কেউই রেহায় পায় না। আর মহিলা হলেতো কোথায় নাই। দলবল নিয়ে চলে তাকে ভার্চুয়াল ধর্ষণ। সংরক্ষিত আসনের সাংসদ জনাবা বাপ্পীকে জানায়, পৃথিবীর সব থেকে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের হরদম ট্রল হচ্ছে। কি মাত্রার ট্রল হয় তা একটু পরে দেখেন হয়। সামস শারমিনের ট্রল তো অশালীন কিছু ছিল না। আপনি তাকে আপনার সমর্থকদের দিয়ে যেভাবে তাকে গালাগালি ও নোংরাভাবে হেনস্তা করালেন তার কোন তুলনা হয় না। আপনি তা করতেই পারেন, অবশ্যই আপনার রুচি অনুযায়ী কাজ করবেন আমাদের বলার কিছু নাই। কিন্তু আপনি যখন একজন সাংসদ, হোন না কেন সংরক্ষিত আসনের, আপনি সাংসদ তো। আপনার তো জবাবদিহি করতে হবে এমন ন্যাকারজনক ঘটনা আপনি আপনার ফেসবুক ওয়ালে কেন হতে দেবেন। আপনি উপেক্ষা করতে পারেননি শারমিনের ট্রলকে তা আপনার দুর্বল মনের পরিচয়ক। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব-কর্তব্য আপনার ভাল করে জানা উচিত বলেই মনে হয়। আপনার পদের মর্যাদা ধরে রাখা আপনারই দায়িত্ব। আপনি যা করলেন তা হল সাইবার ক্রাইম।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অর্জনগুলি ম্লান হয়ে যায় তারই দলের কিছু মানুষের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি একবার ভেবে দেখবেন, দয়া করে।

বাংলাদেশে সব থেকে বেশি ট্রল হয় কেকা ফেরদৌসিকে নিয়ে। সারাবছর তাকে নিয়ে ট্রল চলে বিশেষ করে রমজান মাসে উনার তো নিস্তার নাই। আপনি জন প্রতিনিধি হলেও জনাবা কেকা আপনার থেকে শতগুণ পরিচিত ও জনপ্রিয়। দয়া করে দেখে নিবেন উনি কি উত্তর দিয়েছেন তার সাথে করা ট্রলের। এখানেই পার্থক্য মানুষে মানুষে। উনার ট্রলের উত্তরে পাওয়া যায় শিক্ষা, ধৈর্য, সংযম ও ফান। ট্রল ও স্যাটায়ার সম্পর্কে ধারনা আছে মনে করেছিলাম। যাক সে কথা আপনাকে বলার আমার কিছুই নাই। কারণ আপনার কাছে আমার কোন আশায় নাই। আপনার যে মনের পরিচয় আপনি তুলে ধরেছেন তাতে আপনার কাছে কিছু প্রত্যাশা করা হবে গাঁজা খাওয়ার শামিল।

তবে কখন থেকে শাহবাগ হয়ে গেল গাঁজাখোরদের আড্ডা……………… ভাবেন একটু সবাই যারা এখন শাহবাগকে গালি হিসাবে দিতে চান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “প্রধানমন্ত্রী কি তবে গাঁজাখোরদের আন্দোলনে যেতে চেয়েছিলেন ???!!!

  1. শাহবাগের আন্দোলন কে গালি
    শাহবাগের আন্দোলন কে গালি মানেই হেফাজতের নেক নজর সাথে বেহেস্তের টিকিট কনফার্ম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 32 = 33