মুহাম্মদ কি বাইবেলের ভবিষ্যদ্বানীকৃত নবী ? ইসলামী পন্ডিতরা মুহাম্মদকে কি ভন্ড নবী প্রমান করে না ?

কথিত ইসলামী পন্ডিতরা প্রায়ই দাবী করে , বাইবেলে নাকি মুহাম্মদের ভবিষ্যদ্বানী করা আছে। তারা শুধু বাইবেল না , বরং হিন্দুদের বিভিন্ন কিতাবের মধ্যেও মুহাম্মদের নাম খুজে পায়। কিন্তু মুহাম্মদ নিজেকে দাবী করে আব্রাহামিক ধারার নবী। যদি সেটাই সত্য হয় , তাহলে ইসলামী পন্ডিতদের দাবীকৃত মুহাম্মদ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বানী বাইবেলে খুজে পাওয়া যাবে। এবার দেখা যাক , তাদের দাবী সত্য নাকি তারা মুলত: মুহাম্মদকে আব্রাহামিক ধারার নবী প্রমান করতে গিয়ে মুহাম্মদকে ভন্ড নবী প্রমান করে কি না।

কথিত ইসলামী পন্ডিতরা প্রায়ই দাবী করে , বাইবেলে নাকি মুহাম্মদের ভবিষ্যদ্বানী করা আছে। তারা যে বাক্য বাইবেল থেকে দেখায় , তা হলো –

দ্বিতীয় বিবরনী-১৮: ১৮ আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব। এই ভাববাদী তাদের লোকদের মধ্যেই একজন হবে। সে য়ে কথা অবশ্যই বলবে সেটা আমি তাকে বলে দেব। আমি যা আদেশ করি তার সমস্ত কিছু সে লোকদের বলবে।

উক্ত বানী ঈশ্বর মূসাকে বলেছিল সে যখন তার ইসরাইলি গোত্রকে মিশর থেকে উদ্ধার করে সিনাই উপত্যকায় এনেছিল। এবার দেখা যাক , উক্ত ভবিষ্যদ্বানী অনুযায়ী মুহাম্মদ সেই নবী কি না। প্রথমেই দেখা যাক , মুহাম্মদ , মুসা নবীর মত কেউ কি না।

১। মুসাকে জন্ম গ্রহন করান হয়েছিল ইসরাইলি গোত্রে , মুহাম্মদকে জন্ম গ্রহন করান হয়েছিল ইসমাইলি গো্ত্রে, যদিও সেটা মুহাম্মদের নিজের দাবী , বাইবেল সেটা বলে না।

২। মুসাকে জন্মের পরই নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয় , তার ভাগ্য সম্পূর্নই ঈশ্বরের হাতে সপে দেয়া হয়। কিন্তু মুহাম্মদ দিব্যি সাধারন শিশুর মত জন্ম গ্রহন করে বেড়ে ওঠে। তবে তাকে দুধ মাতা হালিমার কাছে পাঠান হয় , যা অবশ্যই শিশু মুসাকে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার সাথে তুলনীয় নয়।

৩। মুসা ফেরাউনের স্ত্রী বা কন্যা কর্তৃক গৃহিত হয়ে রাজপরিবারেই লালিত পালিত হয় ,মুহাম্মদ লালিত পালিত হয় এতিম হিসাবে প্রথমে হালিমার কাছে , পরে তার দাদা মুত্তালিবের কাছে , পরে তার চাচা আবু তালিবের কাছে।

৪। মুসা নবী তার জীবন জীবিকার জন্যে তার স্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল ছিল না , মুহাম্মদ তার স্ত্রী খাদিজার ওপরই জীবন নির্বাহ করত।

৫। মুসা তার গোত্র বনি ইসরাইলকে মিশর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে ইসরাইলে নিয়ে আসে। মুহাম্মদ নিজে মদিনায় নির্বাসিত হয়ে পরে মক্কায় ফিরে আসে , তার গোত্র কুরাইশদেরকে উদ্ধার করে কোথাও নিয়ে যায় নি।

৬। মুসা প্রায়ই হাজার হাজার লোকের সামনে নানা অলৌকিক ঘটনা ঘটাত , যেমন সাগর ভাগ করে পথ তৈরী , লাঠিকে সাপে পরিনত করা ,সবার সামনেই সে তুর পর্বতে ওঠে ঈশ্বরের সাথে কথা বলতে ইত্যাদি । মুহাম্মদ সারাজীবনে কারও সামনে কোন অলৌকিক ঘটনা দেখাতে পারে নি। যেসব অলৌকিক ঘটনার দাবীদার মুহাম্মদ যেমন আল্লাহর বানী , মেরাজ গমন , চাঁদ দ্বিখন্ডন ইত্যাদি , এসবের কোনই সাক্ষী নেই। এসবই মুহাম্মদের দাবী করেছিল , আর তারা সাহাবিদেরকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল।

৭। মুসা নবীকে ঈশ্বর ১০টা আজ্ঞা দিয়েছিল , যা ছিল সভ্য সমাজ গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। মুহাম্মদকে ঈশ্বর তেমন কোন আজ্ঞা দেয় নি। বরং দেখা যায় , মুহাম্মদ উক্ত ১০ আজ্ঞার সব গুলোকেই ভঙ্গ করেছিল।

৮। মুসা নবীর সাথে আল্লাহ দরকারে সরাসরি কথা বলত, তার আশপাশের লোকজন সেটা প্রত্যক্ষ করত, মুহাম্মদের সাথে আল্লাহ কখনই সরাসরি কথা বলে নি। তবে মুহাম্মদ মিরাজের নামে দাবী করেছিল সে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলেছিল , যেটা আসলে তার কল্পিত কাহিনী। মেরাজে যাত্রার সময় কেউ সেটা দেখে নাই। মুহাম্মদ ছিল একা তার দর্শক ও শ্রোতা।

৯। মুসা নবী যখন তার গোত্রকে নিয়ে ইসরাইলে আসে , তখন ঈশ্বর কিছু সেই অঞ্চল দখলের জন্যে যুদ্ধের আদেশ দেয়, যদিও মুসা নবী সেই দখল সম্পূর্ন করতে পারে নি , করেছিল পরবর্তী নবী বা রাজারা। এই যুদ্ধকে কোনভাবেই ডাকাতি বলা যাবে না। কিন্তু সেই যুদ্ধের আদেশ ছিল সম্পূর্ন সাময়িক অর্থাৎ দখল হয়ে যাওয়ার পর যুদ্ধ করার মাধ্যমে ধর্ম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কোন বিধান ছিল না। পক্ষান্তরে , মুহাম্মদ মদিনার প্রাথমিক জীবনে মদিনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করত , যা ছিল আসলে ডাকাতি। এরপর একের পর এক বিভিন্ন বসতি আক্রমন , তাদের সম্পদ লুটপাট ইত্যাদি হয়ে দাড়ায় মুহাম্মদের জীবিকা। মক্কা বিজয়ের পরে মুহাম্মদ কোরানের বানীর নামে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ ঘোষনা করে যার কারনেই গত ১৪০০ বছর ধরে মুসলমানরা যেখানেই গেছে সেখানেই অশান্তি লেগে আছে। আর তারা দুনিয়ার শেষ দিন পর্যন্ত অশান্তি করে যাবে।

১০। মুসা নবীর মৃত্যু হয় স্বাভাবিক ভাবে , মুহাম্মদ খুব কঠিন যন্ত্রনাদায়ক মৃত্যু বরন করে। ইহুদি নারীর বিষমাখা গোস্ত খেয়ে কঠিন অসুখে পড়ে সে মারা যায়।

১১।মুসা নবী মারা যাবার পর সাথে সাথে রাজকীয় ভাবে তার অন্তেস্টিকক্রীয়া হয় , মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর আড়াই দিন তার লাশ অবহেলায় পড়ে থাকে , তার সাহাবিরা তখন ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় , তারপর তার লাশ দাফন করা হয় অনাড়ম্বরভাবে , অনেকটা দায়সারা গোছের।

তবে হ্যা , একটা বিষয়ে তাদের মিল আছে। মুসা যেমন ইসরাইলিদের জন্য একটা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যায়, মুহাম্মদও তেমনি মুসলমানদের জন্যে একটা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। শুধুমাত্র এ মিলটা ছাড়া আর কোন মিল নেই। এই একটা বৈশিষ্ট্যের মিল যদি ধরা হয় , দুনিয়ার বহু মানুষের সাথে অন্য মানুষের মিল পাওয়া যাবে। এমন কি মুসার সাথে বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিদের তুলনা করা যাবে কারন বঙ্গবন্ধুও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করে গেছেন।

এরপর যদি আমরা বাইবেলের পরের বানী গুলো পড়ি , দেখা যাবে , বাইবেল অনুযায়ী মুহাম্মদ ছিল আসলে ভন্ড নবি। যেমন —

১৯ এই ভাববাদী আমার জন্যই বলবে এবং যখন সে কথা বলবে, যদি কোন ব্যক্তি আমার আদেশ না শোনে তাহলে আমি সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেব।’
২০ “কিন্তু একজন ভাববাদী এমন কিছু বলতে পারে যা আমি তাকে বলার জন্য বলি নি। এবং সে লোকদের এও বলতে পারে য়ে সে আমার হয়েই তা বলছে। যদি এরকম ঘটনা ঘটে তাহলে সেই ভাববাদীকে অবশ্যই হত্যা করা উচিত্‌। এছাড়াও একজন ভাববাদী আসতে পারে য়ে অন্যান্য দেবতার হয়ে কথা বলে। সেই ভাববাদীকেও অবশ্যই হত্যা করা উচিত্‌।

দেখা যায়, মুহাম্মদের মৃত্যু হয়েছিল করুনভাবে। খায়বারে এক ইহুদি রমনীর দেয়া বিষ মাখা গোস্ত খেয়ে মুহাম্মদ প্রায় দুই বছর অসুস্থ থাকে , প্রচন্ড কষ্ট ভোগ করে ও কঠিন যন্ত্রনা দায়ক মৃত্যূ ঘটে। আর মুসা নবীর মৃত্যূ হয়েছিল স্বাভাবিক ভাবে।

সুতরাং তাহলে বাইবেলের দ্বিতীয় বিবরনীর ১৮: ১৮ নং বাক্য দ্বারা যদি ইসলামী পন্ডিতরা মুহাম্মদের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী দাবী করে থাকে , তাহলে আসলে তারা কি নিজেরাই আসলে মুহাম্মদকে ভন্ড নবী প্রমান করল না ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “মুহাম্মদ কি বাইবেলের ভবিষ্যদ্বানীকৃত নবী ? ইসলামী পন্ডিতরা মুহাম্মদকে কি ভন্ড নবী প্রমান করে না ?

  1. ৭। মুসা নবীকে ঈশ্বর ১০টা

    ৭। মুসা নবীকে ঈশ্বর ১০টা আজ্ঞা দিয়েছিল , যা ছিল সভ্য সমাজ গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। মুহাম্মদকে ঈশ্বর তেমন কোন আজ্ঞা দেয় নি। বরং দেখা যায় , মুহাম্মদ উক্ত ১০ আজ্ঞার সব গুলোকেই ভঙ্গ করেছিল


    সব গুলো বোধয় নয়, একটু বিস্তারিত আলাপ করবেন,কি??

    *stop*
    দশ আজ্ঞা
    ১। আমা বিনা আর কাহাকেও ঈশ্বর বলিয়া মানিও না।
    *dirol* এটা তিনি যথাযথ পালন করেছেন বলে মনে হয়..
    ২।প্রতিমা পূজা করিও না।
    *ok* প্রতিমা তিনি ধ্বংস করেছেন
    ৩।ঈশ্বর সদাপ্রভুর নাম অনথক লইও না।
    *fool*
    ৪।বিশ্রামদিন পবিত্র রূপে স্বরণ করিও।
    *blush*
    ৫।তোমার পিতাকে ও মাতাকে সমাদর করিও।
    *stop* এটা পালনের সু্যোগ উনি পাননি
    ৬। নরহত্যা করিও না।
    *yahoo*
    ৭। ব্যাভিচার করিও না।
    *man_in_love*
    ৮। চুরি করিও না।
    *clapping*
    ৯। তোমার প্রতিবেশির বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিও না।
    *mosking*
    ১০। তোমার প্রতিবেশির কোন বস্তুতে লোভ করিও না।
    *diablo*

    1. কোরানে বার বার বলেছে –
      কোরানে বার বার বলেছে – আল্লাহকে ও সেই সাথে মুহাম্মদকে অনুসরন করতে। এটার মাধ্যমে মুহাম্মদ নিজেকে প্রকারান্তরে আল্লাহর সমান গন্য করছে। ঠিক সেই কারনেই আল্লাহকে অপমান করলে মুমিনরা যতটা না ক্ষিপ্ত হয় , মুহাম্মদকে অপমান করলে তার চাইতে হাজার গুন ক্ষিপ্ত হয়। তাই ১ নং শর্ত মুহাম্মদ ভঙ্গ করেছে।

      কাবা ঘরে কাল পাথর স্থাপন করে , সেটাকে চুম্বন করলে পাপ মোচন হয় , এই বিশ্বাস ব্যক্ত করে , বস্তুত: মুহাম্মদ সেই কাল পাথরকে আল্লাহর সমতূল্য বানিয়েছে। সেই দিক থেকে মুহাম্মদ কাবা থেকে মুর্তি সরিয়ে বরং পাথর বসিয়ে আরও মারাত্মক অপরাধ করেছে , যা ২ নং আদেশের লংঘন।

      আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

  2. আপনার যুক্তি তো কুরআন মিথ্যে
    আপনার যুক্তি তো কুরআন মিথ্যে হয়।আর মুসা ও মোহাম্মদ দুজনই আল্লাহর নবী।মুসা একটা গোত্রের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছে।মুহাম্মদ সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য নবী ও রাসূল হয়ে এসেছে।””আপনি মুসাকে নবী আর আমার নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে ভন্ড বলার কোনো অধিকার নাই।আপনার যুক্তির কোন যথেষ্টে ভিত্তি নাই।এই সব যুক্তিতর্ক না গিয়ে যে যার ধর্মকে পালন করতে দিন।আপনার এইসব ভন্ডামী বন্ধ করুন।ধর্মকে কটুত্তি করে মুহাম্মদকে কটুত্তি করে কোন লেখা মুসলমান হিসেবে মেনে নেওয়া অসম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

57 − 49 =