মুসলমান সেটেলারদের দেয়া আগুনে জ্বলছে পাহাড়ী আদিবাসীদের আবাসস্থল লংদুত!

রাঙামাটির লংদুতে বাঙালী সেটালারদের দেয়া আগুনে জ্বলছে এখন পাহাড়ী আদিবাসীদের শত শত বাড়ি-ঘর। দাউ দাউ করে জ্বলছে আদিবাসীদের মাথা গোঁজার একমাত্র আবাসস্থলগুলো। নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আদিবাসী নারী, শিশুগুলো দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করছে। ৯০% মুসলমানের দেশে বাস করা এই যেন এক বিভীষিকাময় অভিশাপ! মুসলমান-বাঙালী সেটেলার কর্তৃক আদিবাসীদের উপর এই নির্মমতা দেখেও জাতিসংঘে শান্তির পায়রা নামে খ্যাত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীরা নিশ্চুপ, নির্বিকার। ৭১ আগেও এই পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী বাস করতো শতকরা ৮০% এর উপরে। আজ সেখানে ৪০% আদিবাসীও খুঁজে পাওয়া যাবে না। জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে রাষ্ট্রযন্ত্র ও তার সামরিক বাহিনী মিলে এই পাহাড়ে সেটেলারের নামে হাজার হাজার বাঙালী মুসলমান সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়ে দিয়েছে। যারা সব সময় পাহাড়িদের উপর ত্রাসের রাজত্ব চালায়। তাদের বাড়ি-ঘর দখল করে, লুটপাট করে, নির্বিচারে তাদের হত্যা-ধর্ষন করে। এরপর কোনো শাসকই আদিবাসীদের উপর করা দুর্দমন-নীতি পাল্টায়নি। কি এরশাদ, কি খালেদা জিয়া, কি শেখ হাসিনা, সব শাসকরাই অত্যাচারী মুসলমানদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখে বাহবা দিয়েছে। সাবাশ মুসলমান বলে গর্বিত হয়েছে।

—-৪৭-এর পর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক গৌষ্টি পাকিস্তানিরা এদেশের মানুষের উপর শোষন-নিপীড়ণ ও দুঃশাসন চালিয়েছিল ২৪ বছর। আর ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাঙালী শাসকরা এদেশের পাহাড়ী আদিবাসীদের উপর শোষণ-নিপীড়ন আর দুঃশাসন চালাচ্ছে ৪৭ বছর ধরে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা বাঙালীদের উপর অমানুষিক ধর্ষন আর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল ৭১ সালে যুদ্ধের বছর মাত্র ৯ মাস ধরে। আর বাঙালী সেনাবাহিনীরা স্বাধীনতার পর আদিবাসীদের উপর শয়ে শয়ে ধর্ষণ আর হত্যাকান্ড চালাচ্ছে ৪৭ বছর ধরে। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা বাঙালী মেয়েদের উঠিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যেতেন, তারপর রাতভর মেয়েটিকে গনধর্ষণ করতেন। ধর্ষণ শেষে কখনো কখনো যৌনিতে রড ঢুকিয়ে দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে প্রহার করে যন্ত্রনা দিয়ে দিয়ে মেরে ফেলতেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীরা তার ব্যতিক্রম নয়, তারাও মাঝে মাঝে পাহাড়ী আদিবাসি মেয়েদের জোর পুর্বক ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যায়। তারপর রাতভর ধর্ষণ করে। সেই কল্পনাকে চাকমাকে যে এদেশের সেনাবাহিনীরা ২০ বছর আগে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সেই আজো ফিরে আসেনি। তাকে আজো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীরা লুটপাট করে, বাঙালীদের গৃহহীন করার জন্য তাদের ঘর-বাড়িগুলো খুব আনন্দ-উৎসাহ নিয়ে জ্বালিয়ে দিত। যাতে বাঙালীরা নির্ঘুম অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন কাটায়। আজো এদেশের সেনাবাহিনী ও বাঙালী সেটেলাররা (অবশ্য মুসলমান) মিলে মাঝে মাঝে আদিবাসীদের ঘর-বাড়িতে আগুন দেই, তাদের গৃহহীন করে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়। ঐদিকে পাকিস্তানী শাসক ও হানাদার বাহিনী, এদিকে বাঙালী মুসলমান শাসক আর তার সেনাবাহিনীদের মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখিনা। মুসলমান তো! শেইম! শেইম!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − 6 =