নারীরা বাজারের পণ্য

ছেলে পক্ষের অতিথি আসতেই উঠানে বসতে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রকার খাবার পরিবেশন করা হয়। অবশেষে মেয়েকে দেখানোর জন্য উঠানে নামানো হয়। মেয়ে পানের থালা হাতে ঘোমটা মাথায় সবার সামনে এসে সালাম দিয়ে পান নিবেদন করে। মুরুব্বিরা কেউ কেউ পান হাতে নিয়ে সালাম গ্রহন করে মেয়েকে বসতে বলে। মেয়ে চেয়ারে বসে ঘোমটা একটু বড় করে টেনে দেয়। যেন লজ্জাবর্তী গাছের পাতা।
মুরুব্বিরা মেয়েকে প্রশ্ন করে।

একটি মেয়ের যখন যৌবনে পা রাখে। তখন থেকেই ফ্যামিলির সবার নজরে পড়ে। মেয়ে বড় হয়েছে। বিয়ে দিতে হবে। কয়েকটা ফটো তুলে ঘটকের কাছে দেওয়া। এত্তসব কাজ করতে হয় মেয়ের বাবা-মার। অবিবাহিত মেয়ে মানেই ফ্যামিলির মাথার উপর দশ মন ওজনের ভার। মেয়ে বিয়ে দিতে ঘটকে ছেলে দেখতে বলায় ঘটকও ছেলে ঠিক করে। ঘটক দিনক্ষণ ঠিক করে ছেলের ফ্যামিলি নিয়ে মেয়েকে দেখতে আসে। একদল পুরুষ আসে মেয়ে দেখতে। মুরুব্বির সংখ্যাই বেশি থাকে। ছেলের বাবা-মা মেয়ে দেখতে দাড়ি-গোঁফ পাকা মুরব্বি ধরে ধরে পাঠায়। মুরুব্বিরা মেয়ে ভালো চিনে। জাত গোত্রও ভালো চিনতে পারে।

ছেলে পক্ষের অতিথি আসতেই উঠানে বসতে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রকার খাবার পরিবেশন করা হয়। অবশেষে মেয়েকে দেখানোর জন্য উঠানে নামানো হয়। মেয়ে পানের থালা হাতে ঘোমটা মাথায় সবার সামনে এসে সালাম দিয়ে পান নিবেদন করে। মুরুব্বিরা কেউ কেউ পান হাতে নিয়ে সালাম গ্রহন করে মেয়েকে বসতে বলে। মেয়ে চেয়ারে বসে ঘোমটা একটু বড় করে টেনে দেয়। যেন লজ্জাবর্তী গাছের পাতা।
মুরুব্বিরা মেয়েকে প্রশ্ন করে।

১. তোমার নাম কি?
২. তোমার বাবা-মার নাম কি?
৩. তুমি কোন ক্লাস পযন্ত পড়েছো?
৪. আরবি কতটুকু পড়েছো? কোরআন পড়েছো?
৫. কোরআনের দুটো সূরা পড়ো।
৬. ঘোমটা খুলো।
৭. একটু হাসি দাও। (মেয়ের দাঁত কি রকম সেটা দেখার জন্য হাসি দেওয়া।)
৮. চুলটা খুলে দেখাও। (চুলের সাইজ দেখার জন্য চুল খুলতে বলা)
৯. কি কি রান্না করতে পারো?
১০. হাতের আঙ্গুল দেখাও।
১১. একটু হেটে দেখাও। (হাটার সময় মেয়ের হাটার পথে পানি ফেলে দেওয়া হয়। যাতে করে মেয়েটি পানির উপর দিয়ে হাটার সময় কাপর পায়ের গিরার উপর উঠিয়ে হাটে। এতে করে মেয়ের পায়ের আঙ্গুল ও গোছা দেখতে পারে। গোছা ভারি মেয়েরা নাকি অলুক্ষনে হয়।)

উপরোক্ত প্রশ্ন গুলোতে 1,2,3,4,5 ও 9 নং ঠিক আছে। ছেলে পক্ষের লোকজন আগ থেকে জানলেও মেয়ের মুখ থেকে আবার শুনতেই পারে। কিন্তু 6,7,8,10 ও11 নং প্রশ্ন গুলো নিয়ে আমার যথেষ্ট ক্ষোভ আছে। ইসলাম নারীকে পর্দা দিয়েছে। পর্দা মানেই পর পুরুষ যে মেয়েকে না দেখতে পারে। তাহলে ভরা মজলিসে মেয়েকে কেন পর পুরুষদের সামনে দেখানো দরকার। কোন রীতিতে আছে সবাই মিলে মেয়ের হাত,পা,দাঁত দেখার। সবার সামনে কেন একটা মেয়ের চুল খুলে দেখাতে হবে? অপরিচিত লোকজনের মাঝে একটা মেয়েকে এই গুলো খুলে দেখানোর কোন অর্থ নাই। এতে একটা মেয়ের আনইজিফিল হওয়াটাই স্বাভাবিক। তখন মেয়েটা অসহায় হয়ে পড়ে। আর পায়ের গোছা ভারি না হালকা এইসব কুসংষ্কারের কোন মানেই হয় না। এ রীতিমত একটা মেয়ের প্রতি অবিচার।

তারপর আসে মেয়ের জাত গোত্র নিয়ে। মেয়ের মাতুল গোত্র কোন বংশ। সে বংশে কোন কলঙ্কিত ঘটনা আছে কিনা। যদি কলঙ্কিতা কেউ থাকে তবে সেই দায় ভার সব মেয়ের মাথায় উঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এইসব কারণে মেয়েটির সমন্ধ ভেঙ্গে যায়। মাতুল বংশ যদি ভালো হয় তবে মেয়েও ভালো হবে। আবার মেয়ের বংশে পরিচয়ে যদি কোন ক্ষুত থাকে সেখানেও ক্যারপা বাঁধায়।
এইসব অজ্ঞতার পরিচয় বৈকি অন্য কিছু না।

অবশেষে আসে দরদামের ব্যাপারে। মেয়েকে বিয়ে দিতে হলে বাবার মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। ছেলেকে সম্মানি হিসাবে লাখ লাখ টাকার সাথ খাট পালঙ্ক, ফ্রিজ, টিভি, স্যুটকেস সহ সংসারিক যাবতীয় দ্রব্যাদি। মনে হচ্ছে ছেলের জন্মই মেয়ের জন্য। আর না হলে সংসারের যাবতীয় দ্রব্যাদি কেন নিবে?

এ পর্যায় ছেলে পক্ষ দরদামে না বুনলে সমন্ধ ভেঙে যায়। মুরুব্বিরা বিভিন্ন কটুক্তি করে। মেয়ের বাবাকে জোর করে বাধ্য করা হয়। অবিবাহিত মেয়ে যে দশ মণ বোঝা।

-আচ্ছা একটা মেয়েকে নিয়ে কেন এত দর কষাকষি। এটা কি মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছে? নাকি কুরবানীর হাটে গরু বিক্রি করছে বুঝছি না। মেয়েরা কি সমাজের এতটাই তুচ্ছ, যে দর কষাকসি করে বিক্রি করতে হবে?
মেয়েরা মা জাতি। নারী মা, নারী বোন, নারী সহ-ধর্মিনী। সেই নারী বাজারের কোন পণ্য হতে পারে না। এইসব কুসংষ্কার থেকে আমাদের বের হতে হবে।

সমাজে নারী-পুরুষ সমান। কাজেই নারী কারও দাসী নয়। নয় কোন পণ্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

98 − 92 =