বৃত্তাল্পনা

ওভারব্রিজটার পাশে তারের জটলার উপরে তিন-চারটা কাক একসাথে বসে কা-কা করছে । কাকগুলোর মধ্যে একটা বেশ অসুস্থ, ওটার পালক উষ্কখুষ্ক । এতো দূর থেকেও বেশ বোঝা যাচ্ছে । পেছন থেকে তাড়াহুড়ো করে একজন পথচারী আমাকে সরে দাঁড়াতে বললেন । আমি সরে দাঁড়াই । ভদ্রলোকটি পানের পিক ফেলেন ওভারব্রিজের সিঁড়িতে । আমি সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি । কি চমৎকার লাল নকশা ! আবার দৃষ্টি ফেরাই নিচের দিকে । কর্মব্যস্ত শহরটার কোন অসংগতি খুঁজে পাওয়া যায় কিনা, দেখতে হবে । কারণ, আজ একটা বিশেষ দিন ।

******************************************************

ছেলেবেলায় ‘সুখী মানুষের গল্প’ পড়ে খুব অবাক হয়েছিলাম । সুখী মানুষদের নাকি গায়ে দেয়ার চাদর থাকে না, খাবার খাওয়ার থালা থাকে না, কাঁথা-কম্বলও থাকে না । আর তারচেয়েও মজার ব্যাপার, সে কারণেই নাকি তারা সুখী ।

সেসময় এই সুখী মানুষের গল্পের কনসেপ্টটাই আমার মাথায় ঢুকে গিয়েছিল । তাই পরপর চার ঈদেও বাবা যখন জানালেন নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতে পারবেন না, তখন অখুশি হই নি । ভেবেছিলাম সুখী মানুষের ট্রেনিং নিচ্ছি, ভবিষ্যতে কাজে দিবে এ অভিজ্ঞতা ।

এখন বড় হয়েছি । ঠিক যতটা বড় হলে, বাবা-মা’র সাথে সম্পর্কটা স্নেহ-ভালোবাসার না থেকে, কেবল সম্পর্ক রক্ষার মত হয়ে যায়, ততটা । সুখী মানুষ হওয়ার বাসনা নিয়ে বড় হতে থাকা আমি, এখনো কেন যেন সুখী হতে পারিনি । গায়ের পাঞ্জাবীটা মলিন হয়ে যায়, পায়ের জুতোজোড়া শতচ্ছিন্ন হয়ে যায়, পেটের সাথে তার পটুতার সামঞ্জস্য ক্ষীণ হতে হতে প্রায় ‘নেই’ হয়ে যায়, তবুও আমার সুখী মানুষ হয়ে ওঠা হয় না । চিৎকার করে সুনীলের মতো বলতে ইচ্ছে হয়, ‘কেউ কথা রাখে নি।’

যদিও আমি জানিনা আমার এই আক্ষেপটা কার কাছে । কে কথা রাখে নি ? আমার চিরন্তন দুঃখ-শোকগুলো তো সব আমাকে ঘিরেই । বড্ড বেশী আমি,আমি করছি আজকাল । স্বার্থপরতাকে আলিঙ্গন করে ভুলে থাকি গৃহপালিত কষ্টগুলোকে । সেকারণেই আমার ছোটবোনটা যখন মাস তিনেক ধরে বেতন দিতে না পারার লজ্জায়,অপমানে বাড়ি ফেরে কাঁদতে কাঁদতে, আমি তখন নাম না জানা কোন যুবতীর পিছন পিছন ঘুরে বেড়াই ‘ভালোবাসি’ বলবো বলে । ছোট ভাইটি যখন একটা ফুটবলের আবদার জানিয়ে মার খায় বাবার হাতে, আমি তখন এক টিকিটে দুই ছবি দেখতে ব্যস্ত থাকি বন্ধুদের সাথে, অভদ্রদের সিনেমা হলে, ভদ্রতার মুখোশ পরে । মা ছিলেন দিনের পর দিন অসুস্থ, আমি ছিলাম অবশেষে পাওয়া প্রেমিকার গায়ে ঠেশ দিয়ে পার্কে বসে প্রেম নিবেদনে ব্যস্ত ।

বেশী কিছু নিয়ে ভাবলেই বিপদ । আমি আমাকে নিয়ে ভেবেই খুশী, স্বার্থপরতা তাই আমার কাছে মহৎ গুণ । সুখী মানুষদের ‘প্রেমিকা’ থাকে কিনা, তা ঐ গল্পে লেখা ছিল না । আমিও জানি না । সুখী মানুষেরা বুঝি নিঃসঙ্গ হয় ? কিশোর বয়সে আবার কোথায় যেন পড়েছিলাম, জীবনের অতি ক্ষুদ্র, কিন্তু তীব্র আনন্দের সময়ের স্মৃতি ঘেঁটে বারবার কল্পনা করে, সে সময়গুলোকে বিস্তৃত করে দেয়া যায় । আরও ভালো করে বললে বলতে হয়, জীবনের তীব্র আনন্দের সময়গুলো যদি স্থিরচিত্রের মত করে সংরক্ষণ করে রাখা যেত, স্থির-সময়ের মত, তাহলে সে আনন্দের সময়টুকু বাকিটা জীবন বেশ সুখে রাখে । কথাটা শুনতে হয়তো বেশ কঠিন শোনাচ্ছে, কিন্তু অনেকটাই সহজ একটা কাজ । আমি সুখী মানুষ হতে চাই, তাই আমার কাছে এই তথ্য তো অমূল্য ! আমি এখন সময় পেলেই আমার প্রেমিকার সাথে কাটানো সময়গুলোর কথা ভাবি । তিথি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে আবার যায়নিও । দ্বিধায় ছিল ও । আমি ওকে মুক্ত করে দিয়েছি ।

তিথি, আমার হারিয়ে যাওয়া প্রেয়সীর নাম । আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বাপ্নিক হতাম । আমাদের ছেলে-মেয়েদের নাম কী রাখব তাই নিয়ে খুনসুটি চলত ঘণ্টার পর ঘণ্টা, বেডরুমের দেয়ালের রং-পর্দার ডিজাইন, বেডশিটের কভার নিয়ে বিতর্ক চলত তুমুল । তিথিকে ডাকতাম আফ্রোদিতি, গ্রিক পুরাণের প্রেম এবং সৌন্দর্যের দেবী । যার স্বামী ছিল হেফাস্টাস, যে কিনা বিকলাঙ্গ ও কুৎসিত এবং শান্তিপ্রিয় । এ সমাজের কাছে আমি বিকলাঙ্গ বৈ অন্য কিছু নই, সব পরিস্থিতিতেই থাকি নিরুদ্যম, ভাবলেশহীন । নিজেকে তাই হেফাস্টাস বলে বর্ণনা দিতাম তিথির কাছে, আমার আফ্রোদিতির কাছে । গ্রিক পুরাণ সম্পর্কে আমার জ্ঞানের পরিধিটুকু ছিল আফ্রোদিতি পর্যন্তই । পৃষ্ঠা উলটে তখনো দেখা হয়নি যুদ্ধ দেবতা এরিসের কথা, যে ছিল আফ্রোদিতির পরকীয় প্রেমিক । তিথি এখন অন্য পুরুষের মাথা কোলে রেখে খুনসুটিতে মেতে থাকে । পেছনে পড়ে থাকি আমি- বিকলাঙ্গ, কুৎসিত, অবহেলিত, শান্তিপ্রিয় একজন হেফাস্টাস ।

*****************************************************

হঠাৎই হোঁচট খেয়ে থামলাম । স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গেছে । সুখী মানুষ হওয়ার জন্য যখন মানবজন্মটাই ছিঁড়ে অপেক্ষায় আছি, সেখানে সামান্য স্যান্ডেল কোন ছাড় ! ছেঁড়া স্যান্ডেল নিয়েই খুঁড়িয়ে হাঁটছি । না হয় কিছুটা দুর্গম হোক চলার পথ । একটা কবিতার লাইন মনে করার চেষ্টা করছি ।

“আকাশটা বড্ড গুমোট, যেন আমার উপর তুমুল অভিমান
তুমি অনিমিখে চেয়ে আছো,
তোমার চোখের মতো কালো আকাশের সমীকরণ যেন এক্ষুণি ধরাশায়ী হবে ।
বললে, ‘এতো গাম্ভীর্য আমার ভালো লাগে না । আমি ওর মাঝের সরলতাটুকু চাই।
কালো মেঘগুলো তুমি সরিয়ে দাও, যেমন চিবুক থেকে সরাও চুল ।’
আমি তার মাঝে এনে দিলাম শ্রাবণ; এক ঝাঁক স্নিগ্ধ শীতল জলকণা
তোমার হৃদয় ভেজানোর ছলে
আমি তবুও বলব আমার ভালোবাসা; অসমাপ্ত…”

বন্ধু আফজালের লেখা কবিতা । কি অসাধারণ মেধাবী ছিল ছেলেটা ! আফজালও কিনা মাদকের নেশায় শেষ পর্যন্ত হারিয়ে গেল । মাদকের সহবাসে কেমন কাটে তার দিন ? আমার চেয়েও কি খুব সুখী এখন ? শরৎবাবু বলেছিলেন, ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে ।’ আমি তেলাপোকা, বাথরুমের অন্ধকার কোণে টিকে আছি । মাঝেমাঝে বের হই উপদ্রবের মত । চমকে দেই, বিরক্ত করি পরিচিতদেরকে । সামনের দিকে তাকাই । আর কতদূর পথ বাকি ?

******************************************************

সুখী মানুষ হব ভেবে বড় হলেও ভেতরে ভেতরে প্রবল অসুখী মনটাই কুঁড়ে খেত আমাকে । আনমনা হয়ে হাঁটতাম সোডিয়াম আলোয় মোড়ানো এই শহরটার বুকের উপর । আমার চেয়ে বেশী অসুখী মানুষ খুঁজে নিজেকে সুখী প্রমাণ করতে চাইতাম । সাহিত্যের প্রতি একসময় প্রচণ্ড অনুরক্ত ছিলাম । তিথি চলে যাবার পর সেই সাহিত্যানুরাগ আবার ফিরে এসেছিল প্রবলভাবে ।

আচ্ছা নির্মলেন্দু, হেলাল হাফিজ, রুদ্র, জীবনানন্দ এরা জীবনে কতবার ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল ? হেলাল হাফিজ বলেছিলেন, “ভালোবাসা মিলনে হয় মলিন, বিরহে উজ্জ্বল ।” আমি এই কথা ভেবে মনের সুখে বাড়ি ফিরি । ভেজা ভেজা ভাতের উপর লবণ ছিটিয়ে বাসী ডাল দিয়ে মেখে গোগ্রাসে গিলতে থাকি । আমাকে উদ্দেশ্য করে বাবার হাজারটা গালি-গালাজ আমার মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে না । সৃষ্টিকর্তার কাছে মৃত্যু-প্রার্থনা করে মা’র আহাজারিও আমাকে ছুঁতে পারে না । এতো হতাশার কি আছে ?

আমি ভাতের নলা তুলে খাইয়ে দিতে চাই, ছোটভাইটার মুখে । আমার ভাইটি বেশ বোকাসোকা । সে আমাকে জিজ্ঞেস করল, “দাদাভাই, তুমি কি পাগল হয়ে গেছ ?” আমি মাথা নিচু করে ভাবতে লাগলাম, কি উত্তর দেয়া যায় । প্রত্যেক স্বাভাবিক মানুষের মাঝেই কোন না কোন অস্বাভাবিকতা আছে, সেই অস্বাভাবিকতাটা এতোটাই সাধারণ মনে হয় নিজের কাছে, যে, আশেপাশের মানুষ কখনো সে আচরণে অবাক হচ্ছে কিনা, তার দিকেও খেয়াল থাকে না । এসব অবশ্য উচ্চমার্গীয় কথাবার্তা । ছোটভাইটি এতোসব কঠিন ভাষা হয়তো বুঝবে না । আমি বলি, “এখনো হতে পারিনি । তবে পাগল হওয়ার চেষ্টায় আছি । একদিন সত্যি সত্যি পাগল হয়ে পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাবো । তোরা গরমের ছুটিতে, ঈদের ছুটিতে হরলিক্স,আঙ্গুর কিনে আমাকে দেখতে যাবি ।” ছোটভাইটি বড় বড় চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,”তুমি আর আসবে না বাসায়, তাই না দাদাভাই ?” অতি সাধারণ একটা প্রশ্ন । কিন্তু কেন জানি আমার বুক ধক করে উঠলো, যা একেবারেই আমার স্বভাববিরুদ্ধ । কান্নার শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি ছোট বোনটা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে কাঁদছে, দরজার পর্দা ধরে । নারীজাতির এ-ই এক অব্যর্থ অস্ত্র । যখন কাঁদার দরকার তখন তো কাঁদেই, যখন দরকার নেই তখনও কেঁদে-কেটে আশেপাশের মানুষের মন দুর্বল করে দেয় একদম ।

আমি খেয়েদেয়ে হাত-মুখ ধুয়ে সটান হয়ে শুয়ে পড়ি বিছানায় । বাবার শাপশাপান্ত, মা’র আহাজারি, বোনের কান্নাকাটি, ভাইটির কৌতূহল কমে তাতে । কিছুদিন পারিবারিক অসুখে আক্রান্ত থাকবো ভেবে থেকে গেলাম বেশ অনেকদিন । এরমাঝে আবার একটা চাকরীও জুটিয়ে ফেললাম বা বলা ভালো, জুটে গেল । সাপ্তাহিক একটা পত্রিকার সাহিত্য পাতার সরাসরি সম্পাদক পদে । যে লোক আমাকে চাকরী দিলেন, তাঁকে আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ে না । শুধু পত্রিকা অফিসে গেলাম আর চাকরী নিয়ে বাড়ি ফিরলাম- এরকম অবস্থা । ভিনি ভিডি ভিসি ।

কবিতা লেখার প্রতি বরাবরই বেশ দুর্বল ছিলাম । এবারে পূর্ণোদ্যমে কাব্যরচনার চেষ্টা চালাই । কিন্তু রাতের পর রাত জেগে কবিতা লেখার মিথ্যা চর্চাই করে গিয়েছি শুধু । একটা লাইনও লিখতে পারিনি শেষপর্যন্ত । প্রবল হতাশায় ডুবে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করি এক অদ্ভুত পর্যায়ে । আমার মাঝে হতাশা-বোধ কাজ করছে কিভাবে ! এমনটা তো হওয়ার কথা না ! সেদিন রাতে এক ধরণের ঘোরের মধ্যেই লিখে ফেলি আমার প্রথম গল্পটা । কিন্তু ছিঁড়ে কুটিকুটি করে ফেলে দেই সেটা । পুরো খাতা জুড়ে একটা শব্দই শুধু আমি দেখছিলাম । তিথি । নাহ, আমার আর গল্প লেখাও হল না ।

চাকরিটা বেশ পছন্দ হয়ে গিয়েছিল আমার । নিয়মিত গল্প,কবিতা দেখা । যাচাই,বাছাই করা । যেসব লেখা আমার মনোমত হবে না, সেসব লেখা পত্রিকায় যাবে না- এরকম একটা ক্ষমতাও আমার ছিল । প্রায়ই দেখতাম আমার সাথে আমার অধীনস্থদের চিন্তা-ভাবনার বিস্তর ফারাক । সুতরাং অল্পদিনেই চক্ষুশূল হয়ে উঠি তাদের । তবে আমি সেসব হেসে উড়িয়ে দিতাম । ”ক’দিন আর থাকব এখানে, ক’দিনই বা ওদের বিরক্ত করবো । আমি তো আছি পালানোর চিন্তায় ।”—এরকমটাই ভাবতাম সবসময় । কিন্তু এমনি এমনি করেই নিজের অজান্তে বেঁধে যেতে থাকলাম অদৃশ্য শৃঙ্খলে । হাসফাঁস করে, কখনো নিজেকেই অস্বীকার করে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে হয় খুব । পারিনা…কীসের যেন এক বাঁধা ।

মা’র বারমাসি রোগ-ভোগ,বাবার চোখরাঙানি, ছোট ভাই-বোন দুটির আবদার সহ্য করতে করতে যেন ফিরে যাচ্ছি নিজের শৈশবে, যেখানে আমি আশ্রয় খুঁজে বেড়াবো, শিশুদের মত । আমার আর সুখী মানুষ হয়ে ওঠা হচ্ছে না । জীবনের মেনিফেস্টো থেকে প্রেমিকার অধ্যায়টা প্রায় বাদ দিতে পেরে যখন আনন্দে উদ্ভাসিত হবো হবো করছি, সেই ইন্টারভালের মধ্যেই আসলো জীবনের গল্পের আরেকটি চরিত্র । এটিও নারী । রঙ্গমঞ্চের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল পার্শ্বচরিত্র হিসেবে । হঠাৎই যেন তার মনে হল, মূল নারী চরিত্রে তারই আসা দরকার… পত্রিকা অফিসে লেখক-কবিদের ভক্তরা আসবে খোঁজ নিতে, সেটাই স্বাভাবিক । এই মেয়েটিও তেমনই একজন । নাম রিয়া ।

অদ্ভুত ব্যাপার হল, এই মেয়েটি শুধু আমার সাথেই দেখা করতে আসে । আমি লেখক,কবি কিছুই নই, তবুও । ওর সাথে কোন গল্প,কবিতাও থাকে না । থাকে শুধু হাতজোড় করা অনুরোধ, বিশ থেকে পঁচিশটি মিনিট যাতে তার সাথে একটু কথা বলি । ভদ্রতার খাতিরে মুখের উপর হাসি ঝুলিয়ে আমি পার করি সেই সময়গুলো । খুব ভালোমতোই টের পাই, অফিসের আর কেউ ব্যাপারটা ঠিকভাবে নিচ্ছে না । কার কী তাতে, আমার জেদ চেপে যায় । নিয়মতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে থাকার মত স্বভাব আমার নেই । আমি দিনগুলোকে চলতে দেই, তাদের মত করে । নিজেকে ভাসিয়ে দেই বিধাতার স্বরচিত স্ক্রিপ্টের কুশীলব হয়ে । হঠাৎ খেয়াল হয়, আমার উদ্দেশ্যে রিয়ার সম্বোধনটা আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছে । আমাদের সেই বিশ-পঁচিশ মিনিট সময়ও আজ দুই-তিন ঘণ্টায় পরিণত হয়ে গেছে । স্থানের ব্যাপ্তিও ঘটেছে ব্যাপক । ঘুরছি পার্কে, খাচ্ছি রেস্তোরাঁয় । আড্ডার বিষয়গুলোও আজ আর কেবল রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, চার্বাক,শেলীতে নেই… পৌঁছে গেছে আমার ছোট ভাইটির বোকামির গল্পে, রিয়ার ভার্সিটির বন্ধুদের সাথে আড্ডার আনন্দ ভাগাভাগির গল্পে । আমি টের পাই সমূহ বিপদ, তবুও ছাড়াতে পারি না । বারবার নিজের সাথেই ঝগড়া করি,বুঝাই, “কাজটা ঠিক হচ্ছে না । একদম না ।”

দিন যেতে থাকে । রিয়া হঠাৎ একদিন বলে বসে যে ওর বিয়ের কথাবার্তা চলছে । তা শুনে প্রায় বলেই ফেলেছিলাম “তাতে আমার কি!।” নিজেকে একটু সংযত করে অভিনন্দন জানাই ওকে । আমরা হাঁটছিলাম । রিয়া হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়ায় । ওর মাথার চারপাশে পেঁচিয়ে রাখা শুভ্র ওড়নার মধ্যে থাকা, ছোট মুখটার তুলনায় অপেক্ষাকৃত বড় চোখগুলো থেকে ঠিকরে বের হচ্ছিল উষ্ণ অবিশ্বাস । জিজ্ঞেস করি, কি হল ওর । রিয়া কোন উত্তর দেয় না । আমি অস্বস্তিবোধ করি । হাঁটতে হাঁটতে বাসস্ট্যাণ্ডে এসে দাঁড়াই । রিয়া চলে যাবে এখন । এখনো মাথা নিচু চুপ করে আছে । আমি আকাশের দিকে তাকাই । আকাশ না দেখা গেলেও ইলেকট্রিক তারের জটলা দেখা গেল বেশ । তারের উপর দাঁড়িয়ে দুটো কাক ঝগড়া করছে । কা-কা করে বেশ কিছু জ্ঞানগর্ভ তর্ক করে ফেলছে হয়তো । গুগল ট্রান্সলেটরে কাক-ভাষার অন্তর্ভুক্তির দরকার ছিল । কতকিছু মিস করে ফেলছি কে জানে !

রিয়ার বাস এসে গেছে । অন্যান্য দিনের মত আজ আর আমার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো না । বিদায়হীন প্রস্থান । বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি পড়া শুরু হয়েছে । চোখ বন্ধ করে, আকাশের দিকে মুখ করে ভিজতে থাকলাম আমি । কতদিন বৃষ্টি-বিলাস হয় না ! রিয়া কি আমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখেছে ? কে জানে ! আজ আর পত্রিকা অফিসে গেলাম না । এর বাইরে অনেক কাজ বাকি… ছোটবোনটার একটা দামী ডায়েরীর খুব শখ । ভালো একটা স্কুলব্যাগ । ছোটভাইটার দরকার ৩ নং সাইজের একটা ফুটবল আর একটা CA ক্রিকেট ব্যাট, টেপ টেনিস বল । কিনে নিলাম সবগুলোই । মায়ের ঔষধটাও আজ বেশী করে কিনলাম । সাথে একটা তাঁতের শাড়ি । বাবার জন্য পাঞ্জাবী । বাসায় গিয়ে সোফার নিচ থেকে বের করে আনলাম আমার লেখার খাতাটা । বহুদিন পর । কিন্তু কি আশ্চর্য ! এটার অনেক পৃষ্ঠাই ছেঁড়া ! কে করলো এই কাজ ? …থাক সেটা নিয়ে আপাতত মাথা না ঘামালেও চলবে । আর অল্প কিছু সময়ই তো আছে ।

আমি কি ভীতু নাকি কাপুরুষ নাকি আত্মশ্লাঘা বা প্রাক্তন প্রেমিকার প্রতি অতিরিক্ত প্রেমাসক্তির কারণে এরকম করছি সেটা নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয়নি । শুরুতেই বুঝে গেছি, আমি এর কোনটিই নই । বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ফিরে গিয়েছিলাম আমার সাবেক আমি’র কাছে, দূর অতীতের সেই বালক-সত্ত্বাটার কাছে । যে বালকটি ছিল কেবল আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপরতায় নিমজ্জিত; কিন্তু নিজেকে ভাবতে পারতো একটা সুখী মানুষ হিসেবে । বহুদিন পর আমার আজ সুখী মানুষ হতে ইচ্ছে করছে । খুব বেশী ইচ্ছে করছে…

পরদিন শেষবারের মত পত্রিকা অফিসে গেলাম । পদত্যাগপত্রটা জমা দিয়ে আসতে হবে ।

*****************************************************

“জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুঁড়ি কুঁড়ি, বছরের পাড়- তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার-আমার!” পৃথিবীটা গোল । সে কারণেই হয়ত আবার কোনোদিন দেখা হয়ে যেতে পারে রিয়ার সাথে । রিয়া কি তখন চিনতে পারবে আমাকে ? কি বলবে তখন ? আমার ছোট ভাইটির কি মনে থাকবে এই একটা ‘দাদাভাই’ ছিল তার ? ভালো ব্যাপার এটাই যে, এই প্রশ্নগুলো শুধু করারই জন্যে, উত্তর দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই । আমি আজ মুক্ত, স্বাধীন । পিতৃপ্রদত্ত দু’কামরার ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আজ আমি মালিক হয়েছি এই পুরো পৃথিবীর !
‘মনে ভাবিলাম, মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে,
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু’বিঘার পরিবর্তে ।’

দু বিঘার জায়গায় দুই কামরা হবে ।

আমার খুব চিৎকার করতে ইচ্ছে হচ্ছে । চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে “আমি সুখী মানুষ ! আমি একজন সুখী মানুষ !” আমার পথের সমাপ্তি হয়েছে অবশেষে…

*****************************************************

এক নিমিষে লেখাটা পড়া শেষ করে জয় টের পেল ওর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে । টেবিলের উপরে থাকা কাঁচের গ্লাসটা থেকে ঢক ঢক করে পানি গিলেও সে তেষ্টা পুরোপুরি মিটল না । গলাটায় যেন একটা ব্যাঙ আটকে আছে । ব্যাঙটা ক্রমাগত ঘোঁত ঘোঁত করে চলেছে । “গল্পে বেশ কিছু…ভুল আছে ।” জয়ের সামনে বসে থাকা প্রৌঢ়টি কৌতুকের ভঙ্গিতে জয়ের দিকে তাকালেন । কোন মন্তব্য করলেন না । জয় নিজেকে সামলানোর চেষ্টা চালিয়ে কোনোমতে বলল, “আপনার লেখাটা শুরু হয়েছে কিছু দোষের প্রায়শ্চিত্ত দিয়ে । কিন্তু সেই বিষয়েই থাকতে পারেন নি । প্রেম-ভালোবাসা ঢুকিয়েছেন, পরিবারের বর্ণনা ঢুকিয়েছেন । আর তার সাথে…তার সাথে সুখী মানুষের থিমটা দিয়ে প্রায় পুরো গল্পটাই গুবলেট করে ফেলেছেন ।”

ভদ্রলোক এখনো কিছু বললেন না । মুখে দাগকাটা মাপা একটা হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছেন জয়ের দিকে । জয়, গলা খাঁকারি দিয়ে পরিবেশটা একটু হালকা করতে চাইলো । ভদ্রলোক এবারে পরিষ্কার গমগমে কণ্ঠে বললেন, “কিন্তু এরকমটাই তো লেখা ছিল…” জয় চমকে গেলেও সেটা গোপন রেখে বলল, “লেখা ছিল…মানে ?” সরাসরি জয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, “জয়, আপনি নিশ্চয়ই জানেন আমি কী বলতে চাইছি…”

হ্যাঁ । জয় জানে । খুব ভালো করেই জানে । এই গল্পটা পুরোটাই জয়ের জীবন নিয়ে লেখা । সে কিছুক্ষণ আগেই অফিসে এসেছে শুধুমাত্র পদত্যাগপত্রটা জমা দেয়ার জন্য । কিন্তু বাইরের একটা লোক এসব কথা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কীভাবে জানবে ! সকাল থী ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে অবিরাম । বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ চলছে । এমন ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও জয় ঘামছে । ওর তীব্রভাবে মনে হচ্ছে লোকটা কিছু একটা বলার জন্য বসে আছে । জয় নিজেও উশখুশ করছে লোকটার পরিচয় জানার জন্য । একসময় জিজ্ঞেস করেই ফেলল, “আপনার পরিচয়টা জানতে পারি ?”
-“আমি তো আপনার পূর্ব-পরিচিত ।”
-“তাই ? কিন্তু আমি তো আপনাকে আজকের আগে কখনো দেখেছি বলেই মনে মনে পড়ে না !”
-“কোন মানুষ কি কেবল ছায়া দেখে নিজেকে আলাদা করতে পারে ?”

জয় আরও ঘামে । গলার ভেতরে থাকা ব্যাঙটার ডাকও বেড়ে যায় । রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে সে জিজ্ঞেস করে, “আপনি কি আমার সম্পর্কে সবকিছু জানেন ?”

ভদ্রলোক মাপা হাসিতে তাকিয়ে থাকেন এবারও, তবে কোন উত্তর দিলেন না । জয় একটু থেমে আস্তে আস্তে উচ্চারণ করল, “আপনি কি আমার আসল মা-বাবা’র খোঁজ দিতে পারবেন ?”
“আপনি যা জানেন, আমি ঠিক তা-ই জানি । তাই এই প্রশ্নের উত্তর আমারও জানা নেই ।”
“আমি আপনাকে ঠিক কোন পরিচয়ে চিনি, সেটা বলুন তো…”
“তা তো ঠিক বলতে পারি না । আপনিই ভালো জানবেন । তবে চাইলে আপনি আমাকে ‘গল্পের ফেরিওয়ালা’ নামে ডাকতে পারেন ।”
জয়ের মুখ দেখে মনে হয় সে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল । অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে সে । ‘গল্পের ফেরিওয়ালা’ লোকটি হাসিমুখে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, “আজ তবে আসি ।”
জয় চকিতেই শুধায় আবার, “আপনি কি আর আসবেন না ?”
গল্পের ফেরিওয়ালা মাথা নাড়েন । না, তিনি আর আসবেন না । জয় ভারমুক্ত হয় ।

*****************************************************

জয় চাকরি ছেড়েছে । হঠাৎ করেই সেই পত্রিকা অফিসটির সামনে লোকজন ভিড় করে আছে । পত্রিকাটির সর্বশেষ সংখ্যায় লেখা হয়েছে ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ ছদ্মনামে যে লেখকটি এতদিন লিখে এসেছেন, তিনি আর লিখবেন না । পত্রিকাটির নিয়মিত পাঠকেরা এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না । জয়ের মা আজ বিছানা ছেড়ে উঠে নামাজে বসেছেন । ছেলে না ফেরা পর্যন্ত তিনি নামাজ পড়তেই থাকবেন, এরকম মানত করে নিয়েছেন । যেন স্রষ্টার প্রতি অগ্রিম হুঁশিয়ারি । জয়ের ছোট ভাই, দাদাভাইকে খুঁজে বেড়াচ্ছে এখান থেকে ওখানে । দরজায় একটু শব্দ হলেই দৌড়ে যাচ্ছে, দাদাভাই এলো কি না দেখতে । জয়ের ছোটবোন, ডায়েরীতে বড় বড় করে লিখছে “আমার দাদাভাই, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দাদাভাই । তবে দাদাভাইটা খুব অভিমানী । অল্পতেই অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় । আমি যখন বড় হবো, তখন দাদাভাইকে আর কোথাও পালিয়ে যেতে দিবো না । দাদাভাইকে ছাড়া থাকতে আমাদের বুঝি কষ্ট হয় না ? দাদাভাই কেন সেটা বোঝে না ?” এটুকু লিখেই ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠে ছোটবোনটি । ওদের বাবা তখন ধমকে উঠেন, “চোপ…একদম চোপ । এতো কান্নাকাটি কিসের, হ্যাঁ ? ভালো হইসে গেছে গা বাড়ি ছাইড়া । আপদ বিদায় হইছে । আর একবার কান্নার শব্দ শুনলে সবগুলারে কাইটটা নদীতে ভাসায় দিমু । চোপ কইতেছি । চোখ মোছ…” এদিকে রিয়ার বিয়ের পান-চিনিও হয়ে গেছে । আসছে আষাঢ় মাসেই ওর বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হয়ে আছে । রিয়া সকাল থেকেই বাথরুমের দরজা আটকে কাঁদছে । ওর হাতে থাকা সাপ্তাহিক পত্রিকাটির “সুখী মানুষ” শীর্ষক গল্পটা পড়ে সে একনাগাড়ে কেঁদেই চলেছে । আর কেউ না জানুক, সে জানে । এই গল্পের যে লেখক, যে ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ ছদ্মনামে লিখে, সে আর কেউ নয় । জয় স্বয়ং । জয় হারিয়ে যেতে চাচ্ছে । অনেক দূরে থেকে সুখী মানুষ হতে চাচ্ছে । এসব, কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না রিয়া । অভিমানী কিশোরীর মত ফুলে ফুলে কেঁদে উঠছে একটু পরপরই । ওর অশ্রুতে ভিজে লেপটে যায় চোখের কাজল, পত্রিকার পাতা । ভেজা মেঝে আরও ভিজে উঠে । প্রকৃতিও শামিল হয় রিয়ার সাথে, যেন কান্নার এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা । আর জয় ? জয় কোথায় ?

*****************************************************

ওভারব্রিজটার পাশে তারের জটলার উপরে তিন-চারটা কাক একসাথে বসে কা-কা করছে । কাকগুলোর মধ্যে একটা বেশ দুর্বল স্বরে ডাকছে , ওটার চোখ দুটোও লাল । এতো দূর থেকেও বেশ বোঝা যাচ্ছে । পেছন থেকে তাড়াহুড়ো করে একজন পথচারী জয়কে সরে দাঁড়াতে বললেন । জয় সরে দাঁড়ায় । ভদ্রলোকটি পানের পিক ফেলেন ওভারব্রিজের সিঁড়িতে । জয় সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে । কি চমৎকার লাল নকশা ! আবার সে দৃষ্টি ফেরায় নিচের দিকে । কর্মব্যস্ত শহরটার কোন অসংগতি খুঁজে পাওয়া যায় কিনা, দেখতে হবে । কারণ, আজ একটা বিশেষ দিন । আজ জয়ের সুখী মানুষ হবার দিন ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “বৃত্তাল্পনা

  1. ভাই রে, এত বড় পোস্ট শেষ করতে
    ভাই রে, এত বড় পোস্ট শেষ করতে গিয়েই তো বুড়ো হয়ে যাব।

    যাই হোক, মাঝে মাঝে খানিকটা অগোছালো লাগলেই পুরো গল্পটা ভাল লেগেছে।

    পরের গল্পের অপেক্ষায় থাকলাম…

    1. মাত্র দুই হাজার আটশ তিরাশি
      মাত্র দুই হাজার আটশ তিরাশি শব্দ । মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ক্লান্ত কালবৈশাখি

  2. আপনি চমৎকার ফিকশন লিখতে
    আপনি চমৎকার ফিকশন লিখতে জানেন। নাহ ভুল বললাম। আপনি খুবই চমৎকার ফিকশন লিখতে জানেন। খবরদার লেখা ছাড়বেন না। মুগ্ধতা নিয়ে শেষ করলাম। ভালো কোন লেখা, ভালো কোন খাবার, ভালো সিনেমা কিংবা ভালো লাগার কোন মুহুর্ত যখন কাটাই, তখন একটা আশংকা বারবার আমাকে ঘিরে ধরে- এই বুঝি শেষ হয়ে গেলো। এই জন্যই জয়ের মতন নির্মোহ সুখী মানুষ আমার কখনই হয়ে ওঠা হবে না।

  3. অনেক ক্ষণ ধরে লেখা টা পড়লাম
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: অনেক ক্ষণ ধরে লেখা টা পড়লাম সত্যিই অনেক ভাল লেখেন আপনি । গো অ্যাহেড । :ফুল:

  4. “আমার পথের সমাপ্তি হয়েছে

    “আমার পথের সমাপ্তি হয়েছে অবশেষে…”

    এটুকু পর্যন্ত খুবই ভালো লেগেছে। এক নিঃশ্বাসে পড়েছি।
    কিন্তু এর পরে এক প্রৌঢ়কে আনলেন, গল্প পুরোই মাঠে মারা গেলো। এই অংশটি বাদ দিয়ে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতেন তবে এই গল্পটি অসাধারণ হতে পারতো।

    1. হা হা হা । তাই ? আর আমি
      হা হা হা । তাই ? আর আমি ভাবলাম কিনা মূল গল্পের ধোঁয়াশা পরিষ্কার করতেই শেষাংশটার দরকার ছিল । প্রৌঢ় লোকটি আসলে গল্প লেখকের অর্থাত্‍ জয়ের কল্পনা । বাস্তব কেউ নন । গল্পের ক্যাটাগরী সিলেকশনের সময় ‘অতিপ্রাকৃত’ সিলেক্ট করা উচিত ছিল । ভুল হয়ে গেছে এবার, ক্ষমাপ্রার্থী । কষ্ট করে পুরো গল্পটা পড়ায় ধন্যবাদ অবাস্তব স্বপ্নচারী ।

        1. যতটুকু জানি এখানে আলাদাভাবে
          যতটুকু জানি এখানে আলাদাভাবে লিখেও ক্যাটাগরী সিলেক্ট করা যায় । আমার জানায় ভুলও থাকতে পারে অবশ্য ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 + = 84