ভারতবর্ষের আগামী রাজা কেমন চাই ?

এক অদ্ভূত রাজা দেশে । ভারতবাসী গর্বিত, “মেরা ভারত মহান” ! জ্ঞানে,বিজ্ঞানে এ দেশের ধারে কাছে মহাবিশ্বে(মহাবিশ্বের চেয়ে বড় কিছু থেকে থাকলে সেটাই হবে) কোনো দেশ নেই ।

মহারাজ গোমাতার সন্তান । যোগ্য সন্তান । মাতৃভক্তি তাঁর অটুট । কিন্তু মহারাজ ঠিক জানেননা যে, উনার মা ঠিক কোন জন । ফলে, সব গরুকেই তিনি মায়ের মর্যাদা দিয়ে থাকেন ।

মা যখন আছেন, বাবাও থাকবেন – এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু মহারাজের পিতৃভক্তি অপেক্ষাকৃত কম । নেই এর সমান প্রায়, অবশ্য শূণ্যই অসীম ।

গোপন সূত্রে মিলেছে খবর, দেশের একদল বৃদ্ধ মানুষ মায়েরা নাকি খুবই দুঃখিত – জীবন তাঁদের গরুর চেয়ে মন্দ যাপিত হচ্ছে । কেউ কেউ আবার দুঃখ করে বলেন, আহা আমার ছেলেটিও যদি রাজার মত হত !

হওয়ার কথা নয়, সব কিছু তো পূর্বজন্মের কর্মফল ! আবারো বুকটা কয়েক ইঞ্চি ফুলে ওঠে, এই এতো বড় বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব এই ভারতবর্ষেরই আবিষ্কার । কিছু কিছু দেশদ্রোহী মনের লোকজন অবশ্য এই মহৎ বিজ্ঞানকে অস্বীকার করেন, ওঁদের কথা থাক ।

ওহ! না না, ওদের কথা রাখা তো যাবেনা, কারণ আমি যে ওদেরই একজন !

তবে হ্যাঁ, আজ ওসব কথা ভুলেও বলবোনা । আজ সবাইকে জানাবো আমার মনের এক গভীর আকাঙ্খার কথা, দু:খের কথা, আশার কথা ।

জন্ম তো আমার গ্রামে, সবুজ ঘেরা গ্রাম । আকাশ ভরা পাখি, রাত জাগা শেয়াল, গাছে গাছে বানর । জন্মের আগে হরিণও ছিল । আগে ছিল, এখন নেই ? গেল কোথায় সব ? সব গেছে বর্বর মানুষের উদর গহ্বরে ।

এখন আর আকাশ ভরা পাখি নেই । অবশ্য একেবারে অদৃশ্যও হয়ে যায়নি, কিন্তু আজীবন দেখতে পারবো এই আশা কেড়ে নিয়েছে আমার কাছ থেকে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, বর্বর সব শ্রেণীর মানুষই ।

শেয়াল লুপ্ত । হরিণও নেই । ছোট যখন ছিলাম, মাঝে মাঝে শুনতাম হরিণ শিকার হয়েছে । এখন আর ওমনটা শুনিনা, আর বাকি নেই । স্কুলে পড়াকালীন সময়ে পাহাড়ী এলাকার বন্ধুদের কাছে শুনতাম, হরিণ শিকারের কথা । বোঝাতে চাইতাম, পারিনি ।

বানর আছে, কিন্তু বানর এর মাংস যে পরিমাণ সুস্বাদু – ত্রিপুরার আদিবাসীরা খুব বেশী দিন রাখবে, এ সম্ভাবনা নেই ।

কেন ওরা শিকার করে ? খাদ্যের অভাব ? অভাব আছে বটে, বুনো মানুষকে civilized করার প্রয়াসটাই অনুচিত । ওদেরকে ওদের নিজের পরিবেশে ছেড়ে দিলে, ওদের বন, ওদের জুম, ওদের পাহাড় ওদেরকে ওদের মত করে ফিরিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয় । আদিবাসীরাও বোধহয় এটাই চায়, “আমাকে আমার মত বাঁচতে দাও” ।

কিন্তু সবাই যে খাদ্যের অভাবি এমন মোটেও নয়, অনেকেই শিক্ষিত, বড় চাকুরে, ওদের কাছে সংস্কৃতিলব্ধ সখ হল এই পাখি, বানর(আর কিছু বাকি নেই) শিকার ।

বড় কষ্ট হয় । একদিন হয়তো পৃথিবীতে শুধুই স্বার্থপর মানুষ থেকে যাবে, আর কিছুই নয় । আমার মনের একটা ইচ্ছা, আগামী বার যেন এমন কেউ একজন “মাতৃ-পিতৃ-ভক্ত” রাজা হন, যিনি জানেননা যে উনার মা পাখি না বানর, গরু না ছাগল…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 1