নারী তুমি মৃত্যু দূত !

আমাদের এই সমাজে কেউ নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না । পুরুষতন্ত্র ক্রমশ একটি মানুষকে নারী করে তোলে । এই সমাজ তৈরি করেছে ঘৃণ্য সব বিধি-ব্যবস্থা ,নারীকে বন্দী করে রেখেছে অন্দরমহলে। আমাদের সমাজে নারীর স্বাধীনতাকে দেখা হয় সন্দেহের চোখে।

পৃথিবীতে যত প্রকার রাজনীতি , তার মধ্যে সবথেকে নিন্দনীয় রাজনীতি হল- লিঙ্গ রাজনীতি ,যার মাধ্যমে ভোগের বস্তু , সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রতে রূপান্তরিত করা হয়েছে নারীকে ।
বিখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী আগস্ট বেবেল বলেছেন- ” মানব জাতীর মধ্যে নারীই প্রথম দাসত্বের শৃঙ্খল পরেছে । নারীর দাসত্ব শুরু হয়েছে ইতিহাসের দাস প্রথার ও পূর্বে ।”
নারী তার জীবন অতিবাহিত করে পরাধীনতায় আবদ্ধ হয়ে। কুমারী বয়সে নারীকে রক্ষা করবেন পিতা, যৌবন কালে স্বামী আর বার্ধক্যে রক্ষার দায়িত্ব পুত্রের হাতে ।

নারীকে পদতলে দমিয়ে রাখতে পুরুষেরা সবথেকে বেশি ব্যবহার করেছে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থকে। একটু খেয়াল করলে দেখতে পাই , পৃথিবীর সকল ধর্মের গ্রন্থ রচিত হয়েছে পুরুষের হাতে । আর এই সব গ্রন্থে নারীকে হেয় করা হয়েছে , হীন চোখে দেখা হয়েছে , দমীত করে রাখা হয়েছে ; কোথাও আত্নসম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দেওয়া হয়নি।

পৃথিবীর সবথেকে প্রাচীন প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দু ধর্মে নারীকে সর্বচ্চো সংকুচিত করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ গুলোতে নারীর প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে, ” শত দোষ থাকা সত্ত্বেও স্বামীকে ভগবান রূপে পূজা করতে হবে।” যে সব গ্রন্থে শত দোষ থাকার পরেও স্বামীকে শুধু সেবা নয় , ভগবান রূপে পূজা করতে বলা হয়ে থাকে -সেই সব গ্রন্থকে সম্মানিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ করা হয়েছে যুগের পর যুগ। যদি কোন নারী স্বামীর পূজা না করে -হিন্দু ধর্মমতে পরজন্মে সেই নারী জন্ম নিবে শিয়াল রূপে। এছাড়াও বলা হয় সেই নারী ধার্মিক, যে তার স্বামীকে পূজা করা । ভাবতেই অবাক লাগে নারীর ধার্মিকতা -অধার্মিকতা নির্ভর করে একমাত্র স্বামীসেবার উপর । যেসব গ্রন্থ দোষী ব্যক্তিদের পূজা করতে বলে ,অশ্রদ্ধার পাত্রকে শ্রদ্ধা করতে বলে – সেইসব গ্রন্থ কিভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ হয় ?

সুপ্রাচীন ইহুদী ধর্মে নারীকে সর্বচ্চো হীন ও তুচ্ছ করে দেখা হয়েছে । যে নারী থেকে আমাদের জন্ম , সেই নারীকে সম্মান না করে ঘৃণা করতে শিখিয়েছে ইহুদী ধর্ম । জুডাইজমে বলা হয়েছে, নারী থেকে পাপের জন্ম । যে নারী ছাড়া পুরুষের জীবন অর্থহীন তাকে বলা হয়েছে – ” নারী হচ্ছে মৃত্যু দূত।”

বিশেষ এক ধর্মগ্রন্থে , নারীকে শস্যক্ষেত্র রূপে প্রকাশ করা হয়েছে আর পুরুষকে লাঙ্গল রূপে । যে লাঙ্গল দিয়ে যখন খুশি হাল চাষ করেতে বলা হয়েছে ।

পরিশেষে একটি কথা বলতে হয় , প্রাচীন ও মধ্যযুগের ওইসব নিকৃষ্ট ও অন্ধকার দিকগুলো আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে চাচ্ছে আমাদের এই সোনার বাংলায় ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 53 = 54