প্রেমপত্র-৯২

প্রিয়তমা ,
ধরো আমি আর তুমি কাল রাতের ট্রেনেই বাড়ি যাচ্ছি,ভাবছ কিভাবে? কাল রাতে কিভাবে বাড়ি যাব? তাও আবার ট্রেনে করে ?তোমার চিন্তার কোন কারণ নেই, আমি তোমাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখছি।এমনকি করের টাকা দিয়েই ট্রেনে, বাস বা উড়োজাহাজেও যেতে পারি।নিশ্চই তোমার আমার উপর অগাধ আস্থা আছে?

সকালে ভোরের আলোর সাথে সাথে একটা ট্রেন তোমার বাড়ির সামনে অপেক্ষা করবে।আমি ট্রেনের বুক চিড়ে এগিয়ে এসে তোমায় কোলে করে ট্রেনে তুলে নিব। তারপর ঝমঝম শব্দ করে ট্রেন চলবে তোমায় আমায় নিয়ে। তোমাকে সাথে করে নিয়ে বিশেষ স্লিপিং কামড়ায় হয়েছে আমাদের ব্যাবস্থা।তোমাকে সামনে বসিয়ে আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবো একজন্ম।

বাচ্চা আমার,
নিশ্চয়ই নিশ্চই আমার তাকিয়ে থাকার দিকে চোখ গিয়েছে তোমার,বলবে তোমার মতলবটা কি?আমি বলবা তেমন কিছু না তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে চাই। বুকের বাম পাশে যে তোমার চলাচল বা তোমার জন্য একটা আমি নামক মানুষ বরাদ্দ ছিল তা তোমাকে জানাতে চাই। এটাও জানো নিশ্চয়ই,তুমি ছাড়া আমার অবস্থা সবথেকে শোচনীয় হবে। তোমার কপাল বেশ খারাপ, তোমার প্রেমিক একজন উচ্চ পর্যায়ের পাগল।তুমি ছাড়া তার হৃদয়ে কিছুই চলেনা।

পাগলী আমার,
সামনের বছর আমাদের বিয়ে হবে,কোন একদিন তুমি চাকুরী করবে তখন আমরা দুজনেই ব্যাস্ত হবো তবে তোমার কাছে অনুরোধ আমাকে পর্যাপ্ত সময় দিও, আমি তোমার সামনে চোখে চোখ রেখে তোমার কাছে এই আবেদন পেশ করব। তোমার মনকে বুঝিয়ে বল “আমার তুমি ছাড়া একজন্ম চলতে কি দূর্দশা”। তোমার তো না বললেও বুঝে নেয়ার কথা।আমি আজন্ম তোমায় ভালবেসেছি।

প্রিয়তমা আমার,
তোমার ঠোটের লিপস্টিক লেপটে যেতে আমি প্রচন্ড আগ্রহী বা বলতে পারো আমার এত অপেক্ষা,কিন্তু বিশ্বাস করো তোমার চোখের কাজল নষ্ঠ করতে আমি কখনই রাজি নই।লিপস্টিক, চুড়ি, আলতা এসব সবই থাকবে অজস্র কিন্তু লিপষ্টিক বাদে কিছুই নষ্ঠ করতে আমি রাজি নই।তোমাকে আমি চাকরি করতে পাঠিয়ে আমি কতটা মিস করবো সেটা তুমি জানো কিনা জানিনা।তবে আমার মনে হবে আমি তোমার চারপাশে বসে থাকি ঘুরি ফিরি যেন তোমাকে দেখতে পাই।আচ্ছা মুঠোফোনের এই যুগে তুমি নিশ্চই আমাকে কল করতে পারবে মিনিটে না হোক ঘন্টায় একটা।

পিচ্চি পরী,
আমি তো ট্রেনেই ফিরে আসি,শীত কামড়ায় আমি তুমি।আমরা আর আমি তুমি না হয়ে মিশে থাকতে চাই।তুমি একটা কথা বলো তুমি আমায় ছেড়ে যাবেনা।তারপর কোন ব্যাংকের ভল্টে নয়, তোমার হৃদয় পিঞ্জরে লুকিয়ে রাখব আমার ঘাম, কষ্ট ব্যাথা। তোমাকে চুমু খেয়ে কর দিতে আমার কোন আপত্তি নেই।

প্রিয়তমা আমার,
খুব ছোট বেলায় যখন মা-কে বলতাম, “মা, আমি বিয়ে করব”। মা কেবল একটা প্রশ্নই করত, “বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কি ?”আজ এতদিন পরে প্রতি লোকমা ভাত গলা দিয়ে নামার সময় ক্ষণে ক্ষণে টের পাই,“ এই এক লোকমা ভাত যদি তুমি আমায় তুলে খাইয়ে দিতে আমার এক জনমের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতাম?” আমি যে তুমিহীনা দরিদ্র সেটা জানতাম কিন্তু কতটা বড় দরিদ্র যখন দেখলাম বা ভয় ঢুকলো বেশি সময় তুমি দিতে পারবে কিনা? সেটা তোমাকে বোঝানো সম্ভব নয়। তবু একটা কথা বলি বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বলছি ব্যাস্ততা যতই থাকুক ভালবাসা কমবে নাতো?আমি যে তোমাকে বড্ড ভালবাসি।বল্টুর মা আর কত জ্বালাবা,রাজি হয়ে যাও না আমি যে মরে যাচ্ছি।

তোমার কাছে একটা পুরো জীবন চাইনা আমি, অল্প ক’টা দিন চাই অল্প কিছু আবদার, অল্প কিছু সময় নিয়ে যেতে চাই, দিয়ে যেতে চাই।পৃথিবীর সবচে সুন্দর সকালটা তোমার চোখে দেখতে চাই।সবচেয়ে সুন্দর রাতটা তোমার ছাদে তোমার সাথে বসে কাটাতে চাই।সবচেয়ে সুন্দর ঝুম বৃষ্টিটায় চায়ের কাপ হাতে তোমার পাশাপাশি হাঁটতে চাই।তোমাকে জাপটে ধরে সবচে ভয়ঙ্কর হরর মুভিটা দেখতে চাই।যখন খেয়ালীপনায় চুপচাপ আড়াল হতে চাইবে,শক্ত করে আগলে রাখতে চাই।তোমার একটুখানি খুনশুটি, একটু ন্যাকামি, একটু আহ্লাদ দ্যাখায়ে বিরক্ত হতে চাই।তোমার সাথে সবচেয়ে বড় পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘের ভেতর লুকাতে চাই।সাগরের নিচে রঙিন মাছেদের ভিড়ে তোমার সাথে হারাতে চাই।

সিনেমায় দেখি কতভাবেই বালক বালিকার দেখা হয়ে যায়, এরপর প্রেম হয়, প্রেম হলে গান হয় গানের মাঝে আরও কত কি হয় ।কোন এক কাকমরা রোদের দুপুরে
চেহারায় রাজ্যের দুশ্চিন্তার ছাপ ভরেকেন তুমি হেঠে আসোনা?মানুষের ঢল নামা এই আজব শহরে।

একটা কথা বলি,
তুমি আমি মিলে আমরা হয়ে উঠতে চাই কোনকালে।তারপরেও ঘুমঘোরে মুঠোফোন হাতড়ে নিয়ে অতৃপ্ত তৃষ্ণা নিয়ে কল দিয়ে যাই..তোমার ভালবাসি সেই চেনা কথায় চোখ ভেজাব বলে।জ্বরের তাপদাহে পুড়ে যায় তুইহীন নির্ঘুম রাত তারপর মায়াজাল ঝাপসা হয়ে এলে পরে তুমি একটা আস্ত কোল বালিশ হয়ে যাও প্লিজ।

বুঝলে,
“পোড়ামুখি দুচোখের বিষ,হাড়জ্বালানী,হৃদয়খেঁকো,নয়নের বন্দুকে হত্যাকারিনী,পাজি,হৃদয় পুড়িয়ে ফেলছো তুমি তবুও বারংবার আমি তোমার প্রেমেই পড়েছি”।
তোমার
পাগল

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 3 =