জেলা ও মহানগরে স্বশাসিত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার চিন্তা

জেলা ও মহানগরে স্বশাসিত পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এই ক্ষেএে কর্তৃপক্ষের কাছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ভাগ করে দিয়ে তাদের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা হবে। এজন্য এবার মহানগর ও জেলায় বাজেটের বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়াও হয়েছে। তৃণমূলে উন্নয়নযজ্ঞ পরিচালনায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বাড়ানো হবে। কেননা কেন্দ্র থেকে এখন তৃণমূলে শাসন প্রায় অসম্ভব। তাই তৃণমূলে স্বশাসিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এখন আর একটি কেন্দ্র ঢাকা মহানগর থেকে ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে যে মহাযজ্ঞের প্রয়োজন তা কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করা মোটেও সহজ নয়। এ জন্য জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ- এইসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। এতে মহানগর, জেলা, পৌরসভা ও উপজেলায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। একটি জেলার গড় জনবসতি কমবেশি ২৫ লাখ এবং আয়তন গড়ে কমবেশি ২ হাজার ৩০০ বর্গ কিলোমিটার। সে জন্য এখন এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে তা তারা সম্পন্ন করতে পারবে। এছাড়া জবাবদিহিতাও প্রতিষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে জনগণের অংশগ্রহণও বাড়বে। জেলা ও মহানগর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে জেলা-মহানগরের জন্য পৃথক আমলাতন্ত্র, আন্তঃজেলা সমন্বয়, কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি পর্যবেক্ষণ, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন দরকার। এই বাজেট থেকেই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। বর্তমান সরকারও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কথা বলে আসছে। এর অংশ হিসাবে উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগে হলেও তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব স্বশাসিত নয়। এখন সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদকে স্বশাসিত সরকারে রূপ দেওয়া হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কার্যক্রম অনেকটাই এগোবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “জেলা ও মহানগরে স্বশাসিত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার চিন্তা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 + = 92