নারীদের অধিকার ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিতের ফলে বিশ্বের মহান নেতার তালিকায় উচ্চ যৌন নিপীড়নের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করা, নারীদের জন্য আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নারীদের অধিকতর শিক্ষা প্রদান, নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া ও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদানের কারণে বিশ্বের মহান ৫০জন নেতার তালিকার মধ্যে ১০ নম্বরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফরচুন বিশ্বের মহান ৫০ জন (২৩ জনই নারী) নেতার তালিকা প্রকাশ করেছে যার মধ্যে ১০ নম্বরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছেন অনলাইনে কেনাকাটার জনপ্রিয় মার্কিন ওয়েবসাইট আমাজন ডট কমের প্রধান নির্বাহী (সিইও) জিফ্রে প্রিস্টন বেজস। ২ নম্বরে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল; ৩ নম্বরে আছেন মিয়ানমারের অং সান সু চি।তালিকার প্রথম ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনই নারী। ম্যার্কেল ও সু চি ছাড়া অন্য তিনজন হলেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামো সনদের নির্বাহী সচিব ক্রিস্টিনা ফিগুয়েরেস (৭ নম্বর), মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সহযোগী বিচারক রুথ ব্যাডার গিনসবার্গ (৯ নম্বর) ও (১০) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারীর অধিকার, আইনগত সুরক্ষা, অধিকতর শিক্ষিত ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নাড়ীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ফলেই আজ শেখ হাসিনা বিশ্বের মহান ৫০ জনের মধ্যে দশম।

একটি দেশে নারীদের অধিকার ও আইনগত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা গেলে সে দেশে একটি নারীও নির্যাতীত, লাঞ্চিত ও ধর্ষিত হবার কথা না। আর যদি কোন নারী নির্যাতীত, লাঞ্চিত ও ধর্ষিত হয় তাহলে সে দেশে নারীদের অধিকার ও আইনগত সুরক্ষা প্রদানের বিধান ধাকলেও এর সুনিশ্চিত করার প্রশ্নই উঠে না।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীর অধিকার, আইনগত সুরক্ষা, অধিকতর শিক্ষিত ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কারনেই আজ বিশ্বের মহান ৫০ জন নেতাতের মধ্যে যায়গা করে নিয়েছে। তাহলে আমরা নিশ্চিত আমাদের দেশে কোন নারীকে লাঞ্চনা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের স্বীকার হতে হয় না । আর যদি কোন নারী নির্যাতীত, লাঞ্চিত ও ধর্ষিত হবার মত কোন ঘটনা ঘটত তাহলে নিশ্চয় শেখ হাসিনা বিশ্বের মহান ৫০ জনের ১০ নম্বর হতেন পারতেন না এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফরচুন পৃথিবীর এত নেতা রেখে শেখ হাসিনাকে চোখে পড়ত না।

চলুন দেখা যাক নারীদের অধিকার সুনিশ্চিতের জন্য মহান নেতার তালিকায় স্থান প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দেশে নারী লাঞ্চনা-ধর্ষণের পরিসংখ্যানঃ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে দেশে প্রায় দেড় হাজার ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৫৮টি ধর্ষণ ও ৫৫টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ১৫টি ও ধর্ষণচেষ্টার ৬০টি ঘটনা ঘটেছে। পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের প্রথম চার মাসে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু পাচার, যৌন নিপীড়ন, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ, অপহরণ ছাড়াও বিভিন্নভাবে এক হাজার ৫৬৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিনিয়ত ২ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা মহিলাও এদেশে ধর্ষণ-নির্যাতন হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। প্রতিবছর বালাদেশে যে পরিমাণ নারী লাঞ্চিত-ধর্ষিত হয় তাতে অর্থনৈতিক ভাবে এদেশ নিম্নমধ্য আয়ের দেশ হলেও সামাজিক দিক থেকে উচ্চ যৌন নিপীড়নের দেশ।

আর এই উচ্চ যৌন নিপীড়নের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য পাই বিশ্বের মহান ৫০ জন নেতার তালিকায় স্থান। এর থেকে তামাশার আর কি হতে পারে? এ যেন সারা বিশ্বে অস্ত্র ব্যবসার জন্য যুদ্ধ-বিগ্রোহ ও অশান্তি লাগানো মূল হোতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাবার মতোই।
আল আমিন হোসেন মৃধা (লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 + = 98