গণজাগরণের ১০০তম দিনের সত্যকল্প…

৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ থেকে ১৫ মে ২০১৩!
[গণজাগরণের ১০০তম দিনের সত্যকল্প…]
তারিখঃ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০৬৩
উপলক্ষ্যঃ গণজাগরণের ৫০ বছর পূর্তি
সাক্ষাৎকারঃ ৭৫ ঊর্ধ্ব এক বিপ্লবীর
(৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ আন্দোলনের সময় যার বয়স ২৫ এর সামান্য বেশী)

প্রশ্নকর্তাঃ শ্রদ্ধেয় বিপ্লবী, আপনাকে সংগ্রামী অভিবাদন। কেমন আছেন?
বিপ্লবীঃ আপনাকেও সংগ্রামী অভিবাদন। আমি ভাল, আপনি কেমন আছেন?
প্রশ্নকর্তাঃ প্রথমে দর্শকদের ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ আন্দোলনের পটভূমি আর এর প্রভাব সম্পর্কে যদি একটু বলতেন।
বিপ্লবীঃ ওইদিন ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের ২য় রায় ঘোষণার দিন। প্রথম রায়ে জনগণ শান্ত ছিল কারণ তা ছিল ন্যায্য রায়। যাইহোক, ৫ ফেব্রুয়ারী দুপুরেই পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া শেষ! আগেরটা থেকে গভীর অভিযোগে প্রমাণিত অভিযুক্ত কসাই কাদের খ্যাত কাদের মোল্লার রায় হল যাবজ্জীবন! তারপর আবার সেই কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লা আদালত থেকে জেলখানায় যাওয়ার সময় ভিক্টোরি সিম্বল দেখাল। এই দৃষ্টতা জনগণ সহজে মেনে নেয় নাই। এইদিকে একদল অনলাইন একটিভিস্ট বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন তৎকালীন শাহ্‌বাগ চত্বরে ১৫-১৬ জনের মিলে এক হল, কিছু প্লে-কার্ড আর, ব্যনার-ফেস্টুন নিয়ে। সন্ধ্যা হতে হতে সেই সংখ্যাটা শ-গড়িয়ে হাজারে দাঁড়াল। সবচে মজার ব্যাপার ওই রাতেই তারা শাহ্‌বাগ চত্বরে অবস্থান নিল। ২৫০-৩০০ ছাত্র-ছাত্রী আর অনলাইন একটিভিস্ট সেই রাতে বিক্ষোভের স্লোগান আর দেশাত্ববোধক গান গেয়ে সেখানেই রাত কাটিয়ে দিল। এরপর প্রতিদিন শাহ্‌বাগে মানুষের সংখ্যাটা বাড়তে লাগলো জোয়ারের মতো। ৬, ৭ তারিখ গড়িয়ে ৮ তারিখ শুক্রবার মহাসমাবেশ ডাকল জাগরণ মঞ্চ। এর মধ্যেই মূলধারার ইলেক্ট্রনিক-আর, প্রেস মিডিয়া একে গণজাগরণ মঞ্চ, শাহ্‌বাগ চত্বর, শাহ্‌বাগ প্রতিবাদ, প্রজন্মচত্বর বিভিন্ন আবেগঘন নামে ডাকতে শুরু করেছে। আর এই মহাসমাবেশ দেখে মানুষ অবাক। টানা চলল সেই গণঅবস্থান। ৮ তারিখের প্রথম মহাসমাবেশে যে পরিমাণ মানুষ হয়েছিল, অনেকে বলে, সংখ্যাটা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের পর কোন রাজনৈতিক আন্দোলনে এত মানুষ হয় নি।
(তরুণ প্রশ্নকর্তা মুগ্ধ হয়ে শুনছে নিশ্চুপ )
তারপর, ঘটল আরও কিছু অভূতপূর্ব ঘটনা! ৩ মিনিটের নীরবতার এক অভূতপূর্ব অহিংস কর্মসূচী, সমগ্র বাংলাদেশ যেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে তিন মিনিটের এক গগণবিদারী নিরব চিৎকার দিল, সারাদেশে একযুগে মোমবাতি প্রজ্বলনের মত অভিনব আলোর ঝলকানিতে মধ্যযুগীয় অন্ধকারের হাতছানিকে রুখে দিতে দেখল এই বাংলা! সম্পূর্ণ অহিংস হয়েও যে অনেক বড় আন্দোলন করা সম্ভব অনেকদিন পর সেটাই আবার দেখলো পৃথিবীবাসী। ওপার বাংলা থেকে কবি ও সংগীতশিল্পী কবির সুমন গান লিখল এপার বাংলার এমন আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে। দেশের ৩০ জনেরও সংগীত শিল্পী নতুন গান গাইল। সবার স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থনে এক অভাবনীয় গণজাগরণ দেখল গোটা বিশ্ব। টানা রাত-দিনের এই গণজাগরন বাংলাকে দেখাল নতুন স্বপ্ন!! তারপর, যাদের বিরুদ্ধে এই গণজাগরণ তারা এক ব্লগারকে জবাই করে খুন করল মিরপুরে আর ৭১ এর কায়দায় আর ছড়াতে লাগল গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ধর্ম আর নবীকে বিদ্রূপ আর কটাক্ষ করার অপপ্রচার। দেশ বিভক্ত হল আবার, নাস্তিক-আস্তিক এক অপ্রাসঙ্গিক বিভাজনে! তারপরও তরুণেরা দমেনি, জামাত-শিবির আর রাজাকারদের দোসরেরা নতুন নামে আবির্ভূত হল, নাম নিল হেফাজতে ইসলাম। ভালই কাটতি হল নতুন রূপে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশাল গুণগত পরিবর্তন আনল এই তরুণেরা। তাদের অনলাইনে আর রাজপথের তীব্র আন্দোলনের তুপে একে একে বাংলার অন্ধকার যুগের (১৯৭৫-১৯৯১) সব মিথ্যা আর অপ-প্রচারের বিরদ্ধে গড়ে উঠতে লাগল জনমত। রাজনীতি বিশুদ্ধিকরণ হতে লাগল। ওই তারুণ্যের যুক্তি আর আন্দোলনের অহিংস আর অভিনবত্বে সব অন্যায় আর মিথ্যার পরাজয়ের স্বরূপ কল্পনাও করা যাবে না এখন। ২০০৭-৮ সালের ২ বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যতটা না প্রভাব রেখেছিল বাংলার রাজনীতিতে তার থেকে ঢের বেশী গুণগত পরিবর্তন আনে এই তরুণেরা, তরুণদের এই আহিংস আন্দোলন। আসলে এত অল্প সময়ে এর ব্যপ্তি আর বিশালতা বুঝানো সম্ভব না।
প্রশ্নকর্তাঃ ওই গণজাগরণ এক যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী থেকে কীভাবে পুরা রাজনীতির ভীত শক্ত করল যদি বলতেন?
বিপ্লবীঃ দেখুন এই ব্যাপারটা বুঝতে হলে দেশের- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সব আরও ব্যাপকভাবে দেখতে হবে। আমাদের এই বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে যেই চেতনায় স্বাধীন হয় তার ধারায় দেশ পরিচালিত হতে শুরু করলেও ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সুদূর প্রসারি এক অসাধারণ পরিকল্পনায় এবং বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নেয়া একটা শাসন ব্যবস্থাকে পুঁজি করে কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তা আর বিদেশী দোসররা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে তার সপরিবারে হত্যা করে। ভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানা সে যাত্রায় বেঁচে যান। তারপর ঘটতে থাকে একে একে এত সব বিপরীত ধারার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যে, জিয়া আর এরশাদের সামরিক শাসন মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে আবার সাম্প্রদায়িকতা আর কুপমুন্ডুকতার রাজনীতির আনায়ন করে দেশে। রাজাকারেরা আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল। তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়া হল। আমি একটু আগেই এই ১৯৭৫-১৯৮৯১ এর সামরিক শাসন আমলকে বাংলার রাজনীতির অন্ধকার যুগ বলেছি। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর করা দালাল আইন বাতিল করে ৭১ এর সব দালালকে ছেড়ে দেয়া হল। তারপর শেখ হাসিনার জোট, প্রথম সামরিক শাসক জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়ার জোট মিলে ১৯৯১ তে সামরিক শাসক এরশাদকে নামাল। এই সময় বাংলাদেশে কেউ রাজাকার শব্দটি উচ্চারণ করতে পারেনি তাদের বিরদ্ধে, লেখাতো সুদূরপরাহত ছিল। তৎকালীন অস্বাভাবিক জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ প্রথম তার নাটকে এক টিয়া পাখির মুখ দিয়ে রাজাকার কথাটা বলান এবং প্রায় ভুলতে যাওয়া শব্দটার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের গুরুত্বটা বুঝিয়ে দেন । তারপর একে একে ৪টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক সরকার দেশ চালাল। এর মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সবাইকে অবাক করে দ্রুত এগিয়ে যেতে লাগল। ২০১৩ সালেই বিশ্বের সব বড় অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে রাখল। যদিও মাঝখানে এক সরকারে হতকারিতায় ২০০৭-৮ অরাজনৈতিক তত্ত্ববদায়ক সরকার দেশ চালানোর সুযোগ পেয়েছিল। যাহোক, তারপর বঙ্গবন্ধর মেয়ে শেখ হাসিনা প্রথম বঙ্গবন্ধু হত্যা আর, জাতীয় ৪ নেতার হত্যার বিচার কাজ ১৯৯৬-২০০১ এ প্রায় শেষ করে ২০০৯ এ নির্বাচিত হওয়ার পর রাজাকারের বিচার কাজটাও শুরু করল। এর মধ্যে আবার ২০০১-২০০৭ এর বিএনপি নামের তৎকালীন ২য় বৃহত্তম রাজনৈতিকদল রাজাকারদের নিয়ে জোট করে নির্বাচিত হয়ে তাদের মন্ত্রিত্বও দিয়েছিল।
প্রশ্নকর্তাঃ আমার কাছে অবাক লাগে, কীভাবে ১৯৭১ এর ঘাতকেরা মাত্র ৩০ বছরের মাথায় ২০০১ সালে বাংলাদেশের মন্ত্রী হয়! কীভাবে হল এইসব যদি এই প্রজন্মকে জানাতেন।
বিপ্লবীঃ আপনি হয়তো খেয়াল করেন নি। আমি বলেছিলাম, ১৯৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধু নিহত হয় সপরিবারে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। আমাদের ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। পরে ১৯৭৫ সালে জেনারেল জিয়ার সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের গুরুকে পাকিস্তান থেকে দেশে এনে নাগরিকত্ব দিয়ে ১৯৭৬ সালেই রাজনীতি করার সুযোগ দেয়। তারপর মুক্তিযুদ্ধের শক্তি ক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ সালে। মাঝখানে ২০ বছর!! এর মধ্যেই সর্বনাশটা হয়ে যায়। এইডস এর জীবানুর মতো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তারা তাদের মূল অস্ত্র ধর্ম ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে গরীব মানুষের উন্নয়নের কথা বলে এনজিও এর নামে টাকা আনে সঙ্গবদ্ধ হয়। আর তৎকালীন সময়ে ১৯৭৫ পরবর্তী জেনারেল জিয়ার রাজনৈতিক দলটি এদেরকে সর্বব্যাপী সাহায্য করে।
প্রশ্নকর্তাঃ আমাদের হাতে আর বেশী সময় নেই, আমাকে এখন ২০১৩ এর গণজাগরণের আন্দোলনে আপনাদের কি ধরনের বিরুদ্ধাচরণ বা বৈরিতার মুখোমুখি হতে হয় আর পরবর্তীতে কীভাবে আপনারা সফল হন?
বিপ্লবীঃ দেখুন, প্রীতিলতা-সূর্যসেন থেকে ২০১৩ এর গণজাগরণ বা আজ পর্যন্ত কোন আন্দোলনই আপোষে হয়নি। এমনকি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধও ১০০% মানুষের সমর্থনে হয়নি। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে কি, কিছু মানুষ সব সময় বিভ্রান্ত থাকে, কিছু শঙ্কিত থাকে; আসলেই বিপ্লব সফল হবে, নাকি অযথায় একটা ঝামেলা পাকাচ্ছে তরুণেরা? যারা জরাগ্রস্থ তারা আসলে নতুনকে পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। ২০১৩ সালে এমনি কিছু সমস্যার মুখোমুখি হই আমরা যা ছিল গুণগত দিক থেকে ৫২-৭১ এর মত হলেও ব্যাপকতায় ছিল আরও বেশি ধ্বংসাত্মক। আমাদের গণজাগরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রথমে আমাদের এক ব্লগারকে নাস্তিকতা আর ধর্মবিদ্বেষের অভিযোগে অভিযুক্ত করে জবাই করে হত্যা করা হল। তারপর যে আন্দোলন সিংহভাগ মানুষের সমর্থনে শুরু হল তার জবাবে ধর্মব্যবসায়ীরা হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আরেকটা আন্দোলন করতে লাগল। আমাদের নেতারাও ধর্মব্যবসায়ীদের সাথে কোন প্রকার আপোষে না গিয়ে এমন বর্বরতার বিরুদ্ধে দাঁড়াল আর শহীদ রাজীবের পরিবারের পাশে দাঁড়াল। এটাই ছিল আমাদের আন্দোলনের অভিনবত্ব আর উদারতা। আমরা মানবিক কারণে আন্দোলনের ক্ষতি হবে জেনেও স্বার্থপরের মত ব্যপারটা এড়িয়ে না গিয়ে রাজীবের দায়িত্ব নিলাম। এরপর সরকার হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে প্রশমিত করতে আমাদের আরও ৪ ব্লগারকে গ্রেপ্তার করল, শেষ পর্যন্ত ওই ধর্মব্যবসায়ীরা রাষ্ট্র ও দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ শুরু করল একে একে। মানুষের সম্পদে অগ্নি সংযোগ হতে শুরু করে পুলিশ খুনসহ ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করল। সরকার আর দেশীয় সকল বুদ্ধিজীবীদের সঠিক সময়ের সঠিক পদক্ষেপ একসময় হেফাজতে ইসলামের মুখোশ খুলে দিল। আমাদের আন্দোলনের যে অভিনবত্বের আরেকটা দিক হচ্ছে মাসের পর মাস কোন ধরনের সহিংসতা আর রাষ্ট্রবিরোধী কাজে এই মঞ্চ যুক্ত ছিল না। বরঞ্চ আমাদের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সব ধরনের অগণতান্ত্রিক সহিংস আন্দোলনকে প্রতিহত করা হয়। দিনে দিনে জনমনের বিভ্রান্তি দূর হতে থাকে। এভাবেই আমাদের আন্দোলন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে সফল করে সকল স্বীকৃত আর প্রমাণিত দায়ী যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে জনমত সৃষ্টি করে আর সরকারকে বাধ্য করে। আপনি হয়ত ২০১৩ এর সেই ভিন্ন মাত্রার অসহযোগ আর অহিংস আন্দোলনের অনেক ছবি, গান আর চলচ্চিত্র দেখতে পেয়েছেন। আমাদের সংগঠকদের আত্মবিশ্বাস ছিল- এমন উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন একদিন সকল বিভ্রান্তির উপযুক্ত জবাব দিয়ে সকলের মন জয় করতে পারবে। অবশেষে সত্যের জয় হল। ট্রাইব্যুনাল সব বিচারাধীন রাজাকারের সর্বোচ্চ শাস্তি দিল, যার সবকটা কার্যকরও হল।
আপনি হয়ত লক্ষ্য করবেন গণজাগরণ কিন্তু শুধু ২০১৩ এর যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্যে আন্দোলন করে নি, একে একে আমরা দেশের মুখ্য আর মৌলিক সকল সমস্যার সমাধানে সরকারকে বাধ্য করি। এবং পরবর্তীতে এর হাত ধরেই ২০২১ সালের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির পূর্বেই বাংলাদেশ বিশ্বে হয়ে উঠে একটি দৃষ্টান্ত। বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর এই জনপদকে ক্ষুধা আর দারিদ্রমুক্ত করাই যেখানে চ্যালেঞ্জ ছিল সেখানে মধ্যম আয়ের দেশ হয়েও অতি দ্রুতই আমরা আজকের এমন শক্তিশালি আর আত্মনির্ভরশীল দেশ হতে পেরেছি।
আমি আমাদের সেই সোনালী দিনের সংগ্রামী বিপ্লবীদের স্মরণ করে আজকে পাঠকের কাছে বিদায় নিতে চাই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় গণজাগরণ!
সংগ্রাম আর বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক!!

প্রশ্নকর্তাঃ জয় বাংলা, সংগ্রাম আর বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক!!
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের কষ্ট করে সময় দেয়ার জন্যে।
বিপ্লবিঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “গণজাগরণের ১০০তম দিনের সত্যকল্প…

  1. ভাই সততই , অসাধারন একটা পোস্ট
    ভাই সততই , অসাধারন একটা পোস্ট । নিপুন কারিগরি দক্ষতা আর যুক্তির কাঠামোগত প্রয়োগ ঘটিয়েছেন এই সংলাপ ধর্মী অসাধারন পোস্ট এ । খুব ভাল লাগল ।

    জয় বাংলা, সংগ্রাম আর বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক!!

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  2. ছোট্ট একটা পোস্টে পুরা ইতিহাস
    ছোট্ট একটা পোস্টে পুরা ইতিহাস তুলে আনছেন। চমৎকার। :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  3. সুশীল-কুশীল সব মহলের
    সুশীল-কুশীল সব মহলের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সকল যুদ্ধাপরাদীর সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষিত হোক, রায় কার্য়কর হোক, যুদ্ধাপরাদীদের দল জামায়াত-শিবির নিশ্চিহ্ন হোক, আজকের গণজাগরণ মঞ্চ হোক সকল সময়ে শুভবোধের বাতিঘর…ধন্যবাদ ভিন্নধর্মী উপস্থাপনায় গণজাগরণ মঞ্চের সৃস্টি, অর্জন আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই এর পুরো পটভূমি তুলে ধরার জন্য।

    1. সুশীল-কুশীল সব মহলের

      সুশীল-কুশীল সব মহলের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সকল যুদ্ধাপরাদীর সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষিত হোক, রায় কার্য়কর হোক, যুদ্ধাপরাদীদের দল জামায়াত-শিবির নিশ্চিহ্ন হোক, আজকের গণজাগরণ মঞ্চ হোক সকল সময়ে শুভবোধের বাতিঘর…

      সেই আশায় বুক বাঁধালাম… সত্যের জয় প্রত্যাসন্ন ও অনিবার্য…

  4. এক কথায় অনন্য সাধারণ…
    এক কথায় অনন্য সাধারণ… স্যালুট কমরেড…

    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − = 65