সুলতানা কামালের বিচার ও বহিষ্কার যারা চায় তারা আসলে কারা?

এই দেশে সত্যকথা বললে সঙ্গে-সঙ্গে একটি পশুশ্রেণীর গায়ে আগুন লেগে যায়। আর এদের কলিজা পুড়ে একেবারে খাক হয়ে যায়। এরা আমাদের দেশের চিহ্নিত একটি পশুগোষ্ঠী। এরা কখনও সত্য শুনতে চায় না। সত্য বুঝতে চায় না। এরা সত্য ভালোবাসে না। আর কখনও সত্য শুনতে এদের ভালোও লাগে না। এরা সবসময় মিথ্যার পূজারী আর শয়তানের চিরদোসর। তাই, এদের সবসময় মিথ্যা ভালো লাগে। আর এরা সবসময় শয়তানী করতে ভালোবাসে।

সুলতানা কামালের বিচার ও বহিষ্কার যারা চায় তারা আসলে কারা?
সাইয়িদ রফিকুল হক

এই দেশে সত্যকথা বললে সঙ্গে-সঙ্গে একটি পশুশ্রেণীর গায়ে আগুন লেগে যায়। আর এদের কলিজা পুড়ে একেবারে খাক হয়ে যায়। এরা আমাদের দেশের চিহ্নিত একটি পশুগোষ্ঠী। এরা কখনও সত্য শুনতে চায় না। সত্য বুঝতে চায় না। এরা সত্য ভালোবাসে না। আর কখনও সত্য শুনতে এদের ভালোও লাগে না। এরা সবসময় মিথ্যার পূজারী আর শয়তানের চিরদোসর। তাই, এদের সবসময় মিথ্যা ভালো লাগে। আর এরা সবসময় শয়তানী করতে ভালোবাসে।

বাংলাদেশে একটি চিহ্নিত-শয়তানগোষ্ঠী রয়েছে। এরা বাইরে নিজেদের মুসলমান বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু আসলে এরা ভণ্ড, জোচ্চোর, অধার্মিক, বেআদব, দেশদ্রোহী আর ধর্মব্যবসায়ী। আর এরা চিরকাল শয়তানের পূজারী। কিন্তু এরা পোশাকেআশাকে সবসময় নিজেদের মুসলমান-পরিচয় দিয়ে ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা-লুটতে চায়। প্রকৃতপক্ষে, এরা মানুষও নয় আর মুসলমানও নয়—এরা আদিমপশু।

এই দেশে সত্য বলার জন্য ড. আহমেদ শরীফের বিরুদ্ধে নাস্তিকতার অভিযোগে মিছিল হয়েছে! তাঁকে গ্রেফতারের ও বিচারের দাবি পর্যন্ত উঠেছে! তিনি সত্য বলেছেন। আর এটিকে ধামাচাপা দিতে তাঁকে নাস্তিক বলে প্রচার ও প্রসার চালানো হয়েছে। একজন মানুষ নাস্তিক হতেই পারে। তাই বলে তাকে লোকসমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য—আর তাঁর বলা সত্যকে মিথ্যাপ্রমাণের জন্য তাঁকে নাস্তিক বলে ঘায়েল করতে হবে? যুক্তিকে যুক্তি দিয়ে ঘায়েল করতে হবে। এখানে, নাস্তিকতার প্রসঙ্গ কেন আসবে?

সত্য বলার অপরাধে স্বাধীনবাংলাদেশে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু ড. হুমায়ুন আজাদ স্যারও সবসময় নিন্দনীয় ছিলেন একটি নরপশুগোষ্ঠীর কাছে। তাঁর বিরুদ্ধেও মিছিল হয়েছে! তাঁকেও গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছে! আর সবশেষে এই সত্য বলার জন্য তাঁকে জীবনই দিতে হয়েছে। তিনি বাংলার সক্রেটিস। তাই, তাঁকে সত্য বলার অপরাধে মিথ্যাবাদীদের বিষের পেয়ালা তুলে নিতে হয়েছে।

মহান সক্রেটিসকে সত্য বলার অপরাধে একদিন জীবন দিতে হয়েছিলো। মিথ্যাবাদীরা তাঁকে ভয়াবহ বিষাক্ত ‘হেমলক’ বিষপানে হত্যা করেছিলো। কিন্তু এই পৃথিবীতে আজও জীবিত রয়েছেন মহান সক্রেটিস। আর যে-সব কুকুর তাঁর সঙ্গে বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও যুক্তিতে এঁটে উঠতে না-পেরে তাঁকে হত্যা করেছিলো—তারা আজ পৃথিবীতে একেবারে মৃত। এই মিথ্যাবাদীকুকুরদের পৃথিবীর মানুষ মনে রাখেনি। মানুষ আজও মনে রেখেছে মহান ও সত্যবাদী সক্রেটিসকে।

এই দেশে সত্য বললেই অপরাধ। হয় তাকে নির্বাসনে যেতে হবে আর নয়তো তাঁকে দেশের বুকে একশ্রেণীর শয়তানের কটুকথা শুনতে হবে। আর দুঃখের বিষয় হলো রাষ্ট্র এই ধর্মান্ধ-শয়তানদের শায়েস্তা করছে না। এখানে, রাষ্ট্রের কোনো স্বার্থ নাই—তবুও রাষ্ট্র কেন এব্যাপারে নীরব ও নির্বিকার? রাষ্ট্র এখনও কেন হেফাজতে শয়তানদের দমন করার জন্য কার্যকরীপদক্ষেপগ্রহণ করছে না? রাষ্ট্রবিরোধী হেফাজতে শয়তানদের দমন করতে রাষ্ট্রের বাধা কোথায়?

সেদিনের ওই টকশোতে মানবাধিকারনেত্রী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল কথার মতো একটি কথা বলেছেন। ‘মূর্তি না থাকলে মসজিদও থাকবে না—মসজিদ থাকলে মূর্তি থাকতে পারবে না কেন?’ আসলে তাই, দেশে যদি ভাস্কর্য না থাকে তবে মসজিদও থাকবে না। দেশে যদি মূর্তি না থাকতে পারে তাহলে মসজিদও থাকবে না। একেবারে সত্যকথা। দেশটা শুধু মোল্লাদের নয়। এই দেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান সবার। তাই, এখানে মূর্তিও থাকতে পারবে। আজ যারা দেশের সর্বত্র মূর্তি ভেঙ্গে সবখানে মসজিদ বানাতে চাইছে—তাদের বিরুদ্ধে সুলতানা কামালের ওই একলাইনের কথাটি জাতির ইতিহাসে অন্যতম সাহসীউচ্চারণ। এজন্য তাঁকে জাতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত—যদিও আমরা দেখেছি, তাঁর এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কিছু-কিছু কুলাঙ্গার দেশের বিভিন্নস্থানে তাঁর বিরুদ্ধে নানাপ্রকার আজেবাজে কথাও বলেছে। আর এই কুলাঙ্গারদের মধ্যে একটা হলো নারায়ণগঞ্জের ভণ্ডরাজনীতিবিদ। এইসব কুলাঙ্গার দেশ ও জাতির চিরশত্রু। আর এরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা বিরোধী নরপশু।

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত-অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সেদিনের ওই টকশোতে সুলতানা কামালসহ আরও উপস্থিত ছিল গণজাগরণমঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, আওয়ামীলীগের সংরক্ষিত-নারীআসনের মহিলা সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট অপু উকিল আর হেফাজতে শয়তানের প্রতিনিধি মুফতি-নামধারী দেশদ্রোহীগাদ্দার সাখাওয়াত হোসাইন।
সেদিনের ওই টকশোতে ইমরান এইচ সরকারের বক্তব্য তেমন জোরালো মনে হয়নি, অপু উকিলকে হেফাজতের বিরুদ্ধে খুব একটা সাহসী হতে দেখা যায়নি আর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রোবায়েত ফেরদৌস তো পারলে হেফাজতের প্রতিনিধি বেআদব সাখাওয়াতের কাছে মুরীদ হয়! অনুষ্ঠানে যা বলার প্রায় একাই বলেছেন সুলতানা কামাল। তিনি এই বেআদব মুফতী-নামধারী মোল্লাকে কোনোপ্রকার পাত্তা দেননি। তাই, সত্য বলার জন্য একজন সুলতানা কামালও আজ নাস্তিক! আজ যে বা যিনি সত্য বলবেন—ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধেই নাস্তিকতার অভিযোগ আনবে। কারণ, এই দেশের গোরুখেকো-মুসলমানদের কাছে ‘নাস্তিক’ সবচেয়ে বড় পাপী। তাই, কে নাস্তিক বা নাস্তিক নয় কিংবা আস্তিক—তার কোনোপ্রকার বিচার না করেই কারও বিরুদ্ধে একবার নাস্তিকতার অভিযোগ এনে দিলে এই গোরুখেকো-মুসলমানরা তার পিছনে ছুটতে থাকে। একটি সত্য বলার কারণে আজ সুলতানা কামালও নাস্তিক!

জাতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ তাঁকে। এজন্য তাঁকে পুরস্কার দেওয়া উচিত। তিনি কঠিন সত্য বলেছেন। এই দেশ সবার। এখানে, মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ বানানো যাবে না। হাইকোর্টে মসজিদ থাকলে মন্দির থাকতে পারবে না কেন? সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্যইতো ১৯৭১ সালে স্বাধীনবাংলাদেশরাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিলো।

আসুন, এবার দেখি সুলতানা কামালের বহিষ্কার ও বিচার দাবি করছে কারা? কী এদের পরিচয়?

সুলতানা কামালকে দেশ থেকে বহিষ্কার ও তাঁর বিচার করতে চাইছে জামায়াত-শিবির, হেফাজতে শয়তান, খেলাফতআন্দোলন, খেলাফতমজলিশ, ইসলামীঐক্যজোট, ইসলামীশাসনতন্ত্রআন্দোলন ইত্যাদি। আর এদের সঙ্গে আরও আছে স্বাধীনতাবিরোধী সকলস্তরের শয়তানচক্র। এরা সবাই ১৯৭১ সালে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো। আর এখনও তা-ই করছে। এদের সবার চরিত্র, কর্ম, আদর্শ, বিবেক-বুদ্ধি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-কর্মসূচি সবই একইরকম। আর তাই, এরা একদলীয় ও একজাতীয় শয়তান।

দেশের প্রধান শত্রু জামায়াত-শিবির। বাংলাদেশের সকল শয়তানীর মূলেও এরা। আর দেশের অন্যতম প্রধান শত্রু আজকের হেফাজতে শয়তান। আর এই হেফাজতে শয়তানের পিছনেও রয়েছে জামায়াত-শিবিরচক্র। এটি তাদেরই বি-টিম। এরা সবাই মিলেমিশে নিজেদের অপরাজনৈতিক স্বার্থহাসিলের জন্য সুপ্রীমকোর্টচত্বরের ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যায়িত করে তা অপসারণের জন্য সাম্প্রদায়িক-সংঘাতের অপচেষ্টা করেছে, আর এখনও করছে। এই পশুগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই প্রচণ্ড সাহসিকতার সঙ্গে সত্যকথা বলেছেন সুলতানা কামাল।

আমাদের আজকের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ থেকে যদি কাউকে নির্বাসন দিতে হয় তাহলে দিতে হবে জামায়াত-শিবির-হেফাজতচক্রকে। ওদের পিতৃভূমি পাকিস্তানে ওদের ফেরত পাঠাতে হবে। ওরা তো এই দেশের কেউ নয়।

আর সুলতানা কামাল বাংলাদেশের। তিনি বাংলাদেশেই থাকবেন। আর মনে রাখবেন: আজ সুলতানা কামালের বক্তব্যের যারা বিরোধিতা করছে—তারা সাম্প্রদায়িক, ভণ্ড, অপরাজনীতির ধারক-বাহক আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। দেশের সিংহভাগ মানুষ এদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত নয়। আর তাই, জাতি একদিন-না-একদিন এই দেশবিরোধী-অপশক্তিকে একাত্তরের চেতনায় চিরতরে পরাজিত ও ধ্বংস করবে।

জয়-বাংলা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৫/০৬/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 + = 89