এভাবেই শিখেছি-প্রেম

-কিস ক্যামনে করে রে?
-ঐযে লাইক দা মুভিস। দেখিস নাই ক্যামনে একজনের লিপ আরেকজন সাক করতে থাকে? হিহিহিহি।
-হুম দেখছি। “এক্স” কেও দেখছিলাম একদিন “ওয়াই” আপুরে কিস করতে।
-ছিঃ। তোর ঘৃণা লাগে না? লজ্জা লাগে না? ক্যামনে একজনের মুখে আরকজন মুখ দেয়! ইয়াক ইয়াক।
-এত ইয়াক ইয়াক করিশ কেন? বড় হইলে তুইও করবি! তোর জামাইরে করবি।
-ইস ইস ইস! আর তুই তো সারাদিন তোর বউরে কিস করবি! হিহিহি।

*হাশির শব্দ থামার পর কিছুক্ষণ কেমন নীরবতা*

-চল কিস করি!
-কি-ই-ই-হ?
-আয় না একবার দেখি কেমন লাগে। আয় না প্লিস।
*আবার কিছুক্ষণ নীরবতা*

-আমার কেমন জানি লাগে।
-আয়, প্লিস আয়। একবার। একটু। প্লিস।

দুজনই কেপে কেপে উঠলো, মুখের সুধা পান করল। কিছুক্ষণ পর মাথা ঝাকিয়ে সরিয়ে নিল সে। মাথা নিচু করে চুল দিয়ে মুখ ঢাকতে চেষ্টা করল। তা দেখে ছেলের হাশি। আরেকবার কিসের জন্য টেনে নিতে গেল কাছে। মেয়ে তো দৌড়।

খুব ঝগড়া হয়। ঝগড়া শেষে একে অপরকে জরিয়ে ধরে। পাগলের মতো কিস করতে থাকে। তারা কেউ পারত না কিভাবে করতে হয়। একে অপরের ঠোটেই আবিষ্কার করে চুম্বনের পদ্ধতি।

একদিন ঠিক এমনি সময় ছেলের ঠোঁটের ভেতরে হালকা কেটে যায়। তবু তারা থামে না। একে অপরকে দিশেহারা হয়ে চুম্বন করেই চলছে। তারা দুজনই বোঝে যে তাদের মুখে রক্ত। নোনতা স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। এই স্বাদে জেনো তারা আরও মাদকাসক্ত হয়ে পরে। মেয়ে রক্তের প্রতি সেদিন প্রবল আকর্ষণ অনুভব করে। রক্তেই জেনো সুখ। তারা কিস থামায় না। নিশ্বাস না নিলেই না তখন একে অপরকে হালকা ছাড় দেয় সেদিন। মুখ সরিয়ে মেয়ে দেখে ছেলেটার ঠোঁট রক্তে লাল হয়ে আছে। কেমন গা গুলিয়ে আসল। ঠিক তখনই ছেলেটা আবার কাছে টেনে নিল।
এরপর থেকে এখনো মেয়ের রক্তের আশক্তি যায়নি।

অন্য কাওকে চুম্বন করতে গেলে কিছুক্ষণ পর মুখ সরিয়ে নিয়েছে। বা নিজে মুখ নারায়নি বা কিছু করেনি। সব ছিল ওই রক্তের আশক্তির জন্য।।

কতবার রক্ত নিয়ে খেলা করেছি। সুখের জন্য রক্ত ঝরিয়েছি। সেই সুখ পাইনি।

চোখ খোজে রক্ত, ঠোঁটও খোঁজে রক্ত।

মনে প্রবল বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস রেখেও ফোক(folk), (মিথ)myth এসবের ভিত্তিতে অনেক কিছু করেছি। রক্ত নিয়ে। নিজেকে নিয়ে। সবচেয়ে ভাল লাগত ইনকিদের ভাবধারা।

পরবর্তীতে ওষুধ খেতে হয়েছিল অনেক। শুধরে গেছিলাম প্রায়। না শুধরাই নি, এখনো ইচ্ছে করে। প্রবল ইচ্ছে।

মনে আছে আমার নদীর কথা।
ছুটে যেত সেখানে প্রতি ক্লাসের পর। নদী না আসলে ছোট পানি ভরাট এক জায়গা। পুকুরের মতো। তবে অত বড় না। গভীরতা বা সৌন্দর্যে তবু কম যেত না। আসে পাসে গাছ। ছোট বড় গাছ।
ঢাকায় এমন জায়গা পাওয়া যায় না। তবু কিভাবে পেয়েছে কে জানে। হিমুর যেমন ময়ূরাক্ষী আছে আমার তেমনি আমার নদী আছে। আমার নদী।
ছুটে যেতাম দুজন। গাছের পাশে দৌড়াতাম। নদীতে পা ডুবাতাম। খেলতাম। নদীর পাশে বসে একে অপরের দিকে চেয়ে থাকতাম।
তবে সেদিন পা ডুবালাম না শুধু নদীতে। শরীর ডুবিয়ে দিলাম। বস্ত্রহীন নগ্ন শরীর। দুটো নতুন গড়া নগ্ন সুন্দর শরীরে জেনো নদীও লজ্জা পেয়ে গেল।
কয়দিন আগে গেছিলাম আমার নদীতে। তার সাথে। তবে সাথে তৃতীয় আর চতুর্থ মানুষও ছিল। ঘুরে এসেছি। ভালই লেগেছে।
কতবার ফাকা বাসায় ছিল সে আর তুমি। বৃষ্টির সময় বিছানায় কতো উল্লাশে হারিয়ে গিয়েছিল।
এমনই একদিন। জানালা খোলা ছিল। খুব বেশী বৃষ্টি। জানালা দিয়ে হালকা বৃষ্টির ফোঁটা পরছিল তাদের শরীরে। বহুগুনে জেনো আনন্দ বারিয়ে দিয়েছিল।
বৃষ্টিতে ছাদে কেউ নেই। গিয়েছিলাম দুজন। পরেরদিন দুজনেরই খুব জ্বর। ৬ দিনের মতো অবস্থা খারাপ ছিল। আসলেই কষ্ট হয়েছে। তবু জানতাম এর থেকে হাজার গুন কষ্ট হলেও ওই রাত কখনই ওই রাত নিয়ে কোন দ্বিতীয় চিন্তা বা second thoughts হবে না।
হালকা রঙের পোশাকই পরতাম সব সময়। কিন্তু না। সে পারলে আমাকে রংধনুটাই খুলে এনে পরায় দেয়। এমনই একদিন। কাছের বন্ধুর রেসাল্ট দিয়েছে। বড়সড় পার্টি দিবে। আমি এগুলা একদমই পছন্দ করতাম না। কিন্তু সে টেনেটুনে নিয়েই যাবে। কিছু একটা কোনমতে পড়ে হাটা দিলাম দরজার দিকে। সে তো শুরু করে দিল, মাত্র হওয়া বাচ্চাও তোর থেকে ভাল ড্রেস আপ সেন্স নিয়ে জন্মাইছে। কিসের সাথে কি পরছিস। এটা তো বাসার ড্রেস। জুতা কই! চুল তো আঁচড়ায় নিবি। আরও কতো কথা তার।
রাগ হয়েছিলাম। অনেক। আমি এখনো বুঝিনা কি কারনে সেজে গুজে বা ভাল জামাকাপড় পড়ে বাইরে যেতে হবে। বাইরে কি আমাকে বিয়ের জন্য মানুষ দেখতে আসবে নাকি?
খুলে ফেলেছিলাম সব। বলেছিলাম সাজা। যেমনে পারিস সাজা। সেভাবেই যাবো।
অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ। তারপরে আমার অবাক হওয়ার পালা ছিল। আসলেই সে আমাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে একের পর এক কাপড় সামনে ধরে দেখতে লাগল কেমন লাগে।
হাসতে হাসতে বলল, তোকে নেকেড বেশী সুন্দর লাগে। আমিও হেসে দিলাম। একটু লজ্জাও লাগল।
বিছানায় বসিয়ে দিল। হাতে নেল-পলিশ দিয়ে দিল। পাঁচ আঙ্গুলে পাঁচ রঙের নেল পলিশ। তাও আবার নখের চারপাশে ছড়িয়ে যাওয়া। পায়ে নেল পলিশ দিল। বলল সবসময় দিয়ে রাখতে।
আমি এখনো চেষ্টা করি পায়ে সবসময় নেল পলিশ রাখতে। যদিও হাতের অবস্থা অনেক করুন থাকে। চুল নিয়ে যে কতো কি করেছিল পড়ে ২ ঘণ্টা ধরে আমার চুলের জট ছাড়াতে হয়েছে।
সেদিন আর বাইরে যাওয়া হয়নি।
পান্তাভাতের পানি আর তার থেকে উন্নত পানিসমূহ অনেকবার মুখে ঢেলেছি। মুখে ঢেলেছি আবার গায়েও ঢেলেছি। সবচেয়ে বেশী অপচয় করেছি টাকিলা(tequila)। বেশিরভাগ সময় তার সামনেই অপচয় করেছি, এর সাথে আরও কিছু অপচয় করেছি।
বিয়ে কর আমাকে। বিয়ে করে ফেল। এখন দুইজন বিয়ে করি, বড় হলে অনুষ্ঠান করব।
বিয়ে কর।
-না।
বিয়ে কর।
-জি না।
কেন করলে কি হয়?
-আমার জামাই রাগ করবে তাই। হিহি।
আমি তোর জামাই। অন্য কেউ এই কথা ভাবলেও মেরে ফেলব। দেখিস সত্যি মেরে ফেলব।
-মারিস।
কতো মাথা রেখে ঘুমিয়েছি, চেস্টে। চেস্টে মাথা রাখলেই সাথে সাথে আমার ঘুম আসে। এখনো আসে।
হায়রে ঘুম। ঘুম যে কি জিনিস তা আমি ভুলেই গেছি। ঘুম আসে না। ভোরের আযান দিলে মনে হয় ঘুমাতে হবে। তখন একটু চোখ জমাট বেঁধে আসে। আর সেই চেস্টের কি জাদু। আসলেই মহুর্তে ঘুম চলে আসে।
কথায় আছে “if you love something, let it go”।
মাঝে মাঝে এই বক্ষে মাথা রেখেই ঘুমাই। সেদিন আর ঘুমে কোন সমস্যা হয় না। ঘুম থেকে উঠেই বাঁধে ঝামেলা। নড়তে পারি না। আমি ওঠার এট লিস্ট এক ঘণ্টা পড়ে তার ঘুম ভাঙ্গে। প্রথম আধা ঘন্টা চেষ্টা করি তার হাত পা সড়াতে। আর বাকি আধা ঘণ্টা চুপ চাপ শুয়ে থেকে তাকে গালিগালায করি। ঘুম ভাঙলে তারপর জিজ্ঞেস করে, কি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় আছিস কেন? দেই কোন গালিপূর্ণ তিক্ত জবাব। তখন আরও জোরে জড়িয়ে ধরে।
তবে সকালের এ পুরনো অভ্যাসের পড়ে সারাদিন কেউ কারো মুখ না দেখারই চেষ্টা করি।
দরজা বন্ধ ছিল। খুব চিল্লিয়েছিল। প্লিস প্লিস প্লিস। ভাবলেশহীন চেহারায় বলেছিলাম, সরি। সরি। এত দম আটকে জাওয়া পরিবেশ। আবারো অনেকক্ষন অনেক কথা। তবু বলেছিলাম সরি সরি। জেনো আকাশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল “সরি। সরি”। হালকা কান্নার শব্দ শুনলাম। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখলাম যা সেদিনই বুঝেছিলাম আর কখনো দেখব না। তার কান্না। তার মতো কেউ কাদে তা আসলেই আমি বুঝিনি। অবশ হয়ে এসেছিল শরীর। কিছুক্ষণের জন্য সময় শুন্য হয়ে গিয়েছিল। তবে ভাবলেশহীন চেহারার পরিবরতন ঘটেনি।
পরশুদিনে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। সাথে বাতাস। বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম। একজন, যে আসলেই মনে আছে তার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল সেখানে। বাসা থেকে বেশি দূরে না। হাঁটছিলাম। জায়গাটা পুরই অন্যরকম হয়ে গেছে।
সে এসেছিল। পাশে হাঁটছিল। আমি চলে যেতে বলেছিলাম। ও বলে “দূরত্ব রেখে হাটব”। মোবাইলে গান দিল
“যদি মন কাদে, তুমি চলে এস, এক বরসায়
এসো ঝর ঝর বৃষ্টিতে
জলভরা দৃষ্টিতে…”
চলে এসেছিলাম। ওখান থেকে চলে এসেছিলাম।
মন কেদেছিল।
অন্য কারো জন্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২১ thoughts on “এভাবেই শিখেছি-প্রেম

  1. চরম পিনিকে আছি ।

    চরম পিনিকে আছি ।
    :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

    ===============================================================

  2. আপনার লেখার স্টাইল ভালো লাগল।
    আপনার লেখার স্টাইল ভালো লাগল। :ভালাপাইছি: কিন্তু বানানে একটু সমস্যা আছে। আমি আবার বানান নিয়ে খুঁতখুঁতে স্বভাবের। কবে যে যাত্রীরা গণপিটুনি দেয়। :ভেংচি:

    1. হ ভাই, অভ্র যেই বানান ঠিক
      হ ভাই, অভ্র যেই বানান ঠিক করছে সেতা ঠিক আর বাকিগুলা ভুল হইছে আসলে। বেক্তিগতভাবে আমি বানানে আবাল।

  3. এটা কি হইলো… আপনি আমার আর
    এটা কি হইলো… আপনি আমার আর ওর কথা জানলেন কিভাবে? :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:
    উপস্থাপনা, বর্ণনা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। :নিষ্পাপ: :গোলাপ: :ফুল: :salute:

  4. লেখা ভাল লাগছে । তবে
    লেখা ভাল লাগছে । তবে বাক্যগুলো একটু ছাড়া ছাড়া লাগলো কিছু জায়গায় ।

    ভালো লেগেছে । শুভ কামনা ।
    😀

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 + = 68