সিলেটের রাকেশ রায় ও নও মুসলিম আব্দুল আজিজ। এক রাজার দুই নীতি – বাদীই হলো মূল আসামী!!

ধর্মানুভুতিতে মুসুলমানরা যেমন এগিয়ে, ঠিক তেমনি নিজ ধর্ম অবমাননা করার ক্ষেত্রেও ওরা এগিয়ে!! সেই ধর্মানুভূতির আগুনে হিন্দুরা পুড়ে ছাই হয়, কিন্তু বাংলাদেশে কোন মুসুলমান তার নিজ ধর্ম অবমাননার জন্য ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে বলে জানা নেই।



সিলেটের রাকেশ রায় ও নও মুসলিম আব্দুল আজিজ!! – এক রাজার দুই নীতি।

ধর্মানুভুতিতে মুসুলমানরা যেমন এগিয়ে আছে, ঠিক তেমনি নিজ ধর্ম অবমাননা করার ক্ষেত্রেও ওরা এগিয়ে!! সেই ধর্মানুভূতির আগুনে হিন্দুরা পুড়ে ছাই হয়, কিন্তু বাংলাদেশে কোন মুসুলমান তার নিজ ধর্ম অবমাননার জন্য ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে বলে জানা নেই।


ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে ফেসবুকে পোষ্ট করার অভিযোগে পুলিশ সিলেটের রাকেশ রায় নামে একহিন্দু যুবককে গতকাল (০৭/০৬/২০১৭ইং) গ্রেফতার করা হয়েছে। রাকেশ রায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন কৃষকলীগ কর্মী। এর আগে তিনি সিলেটের নব্য মুসলিম আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে থানায় হিন্দু ধর্ম অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নব্য মুসলিম আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায় যে বিগত কয়েক মাস যাবৎ নও মুসলিম আব্দুল আজিজের ফেসবুক পোষ্টগুলি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। আব্দুল আজিজের পোষ্টে দেখা গেছে তিনি কখনো মন্দিরের প্রতিমা বা বিগ্রহকে নিয়ে ঠাট্টা করছেন, কখনো আশিতীপর বৃদ্ধার কপালের তিলক নিয়ে আঙ্গুল ঠেঁকিয়ে ঠাট্টা করছেন, কখনোবা তাবলিগ জামাতের সদস্য হয়ে দলবদ্ধভাবে হিন্দু যুবককে ইসলামে দাওয়াত দিচ্ছেন – ইত্যাদি নানা অপকর্ম। এসব অপকর্মের জন্য তার প্রতিটি ফেসবুক পোষ্টে হাজার হাজার লাইক ও অতিউৎসাহ মূলক মন্তব্য পড়েছে। নও মুসলিম আব্দুল আজিজ তার পিতৃধর্মকে তিরস্কার ও হেয় করে ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নিয়েও আপত্তিমূলক পোস্ট দিয়েছিল বলে জানা যায়। এতসব ঘটনার পরও বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক স্বপ্রনোদিত হয়ে আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করেনি। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাবার পর সিলেটের কৃষকলীগ নেতা রাকেশ রায় কর্তৃক আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাকেশ রায় পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে তিনি অনেক গুলি প্রান নাশের হুমকী পেয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছিল, কিন্তু কোন ব্যবস্হা গ্রহন করা হয়নি। বিষয়গুলি নিয়ে রাকেশ রায় তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করেছিল। পরিশেষে গত ০১/০৬/২০১৭ইং তারিখ পুলিশ নও মুসলিম আব্দুল আজিজকে ৫৭ ধারার অধীনে পুলিশ গ্রেফতার করে। কিন্তু আব্দুল আজিজের গ্রেফতারের পরপর ঘটনা পাল্টে যেতে থাকে। যে রাকেশ রায় আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে হিন্দুধর্ম অবমাননা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোষ্ট নিয়ে পুলিমের নিকট মামলা করেছিল এবং আব্দুল আজিজের গ্রেফতারের পরপর তিনি প্রাণনাশের হুমকী পেতে থাকেন, সেই ব্যক্তির ফেসবুক হ্যাক হবার পর তার ছবি সম্বলিত ফেসবুকে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার পোষ্ট দেখা যায়। শেষে চরম নিরাপত্তাহীনতা থাকা অবস্হায় রাকেশ রায়কে একই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল ০৭/০৬/২০১৭ইং তারিখ ৫৭ ধারায প্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার পরবর্তী কোর্টে প্রেরণ এবং রিমান্ডে নেয়া হয়।

এখানে একটা বিরাট প্রশ্ন থাকে – যে রাকেশ রায় একব্যক্তির উপর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ দায়ের করতে পারেন, তিনি কি নিজে একই ধরনের অপরাধ করতে পারেন? অবশ্য রাকেশ রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার আগেই তিনি জানিয়েছেন যে, আব্দুল আজিজকে গ্রেফতারের পর পর তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয় এবং সেই অ্যাকাউন্ট হতে আপত্তিকর পোষ্ট করা হয়েছিল।

বিগত কিছুদিন যাবৎ ইসলাম ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে অনেকগুলি বড় বড় তান্ডব হয়েছে। এছাড়াও জানা অজানা কত হিন্দু ছেলে সারা দেশে একই অপরাধে হয়রানী ও গ্রেফতার করা হয়েছে সে হিসেব পাওয়া ভার। তবে এটুকু জোর করে বলা যায় – বাংলাদেশের হিন্দুদের ঘাড়ে একাধিক মাথা নেই যে ওরা জেনে ও বুঝে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করতে পারে। যদিও এসব হিন্দু ছেলেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের নিজধর্ম অবমাননা মূলক বক্তব্য শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওয়াম মাহফিলেও লাউড স্পীকারে শুনে বছরের পর বছর হজম করতে হয়।

নিচে কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা উল্লেখ্য করবো দেখা যায় যে – যেগুলোতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেহ না কেহ নিজধর্ম অবমাননা করে প্রতিবেশী হিন্দুদের ফাঁসানো ও উচ্ছেদের জন্য কোন হিন্দু নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষনিক তান্ডব চালিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করেছে। যেমন-

০১) কক্সবাজারের রামুর উত্তম কুমার বড়ুয়াঃ
২০১২ সালের সেপ্টেম্ব মাসে কক্সবাজারের রামু উপজেলা সদরে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় একদল লোক বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ২৫০ বছরের পুরোনো বিহার সহ ১২টি বৌদ্ধবিহারে আগুন লাগিয়েছে। দুটি বিহারসহ বড়ুয়াপাড়ায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে জানা যায় যে “ইনসালট আল্লাহ” নামের একটা পেজ কুরান অবমাননার ছবি উত্তম কুমার নামের একজনকে ট্যাগ করে। এতে, কারো কারো ধারনা হয়েছে যে, উত্তম কুমার বড়ুয়া নামের ওই ব্যক্তি কুরান অবমাননার ছবি শেয়ার করেছে। তাদের চোখে উত্তম কুমার দোষী। আর যেহেতু উত্তম কুমার একজন বড়ুয়া- তাই- বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও দোষী। যদিও উত্তম বড়ুয়া দায়ী নয় এবং তান্ডব পরিবর্তী দেখা গেল বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য মূলক ভাবে করা হয়েছিল। http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-09-30/news/293973

০২) ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগরের রসরাজঃ
ব্রাহ্মনবাড়ীয়া পবিত্র কাবা শরীফের উপর হিন্দুদের দেবতা মহাদেবের ছবি বসিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট করার অজুহাতে নিরীহ জেলে সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘু রসরাজকে আসামী বানিয়েছে আরেক দুস্কৃতিকারী – তিনি নিজেই মুসলিম। বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্টির ভাবাবেগকে উস্কে দিয়ে শত শত হিন্দু বাড়ী উচ্ছেদ করা হলা, হিন্দু নির্যাতন করা হল। কিন্তু পুলিশি তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয় যে – ঘটনার জন্য দায়ী কোন এক মুসলিম। তান্ডব পরবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িতে হামলার ঘটনায় চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাময়িক বহিষ্কৃত সভাপতি মো. সুরুজ আলীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/first-page/2016/11/06/154406.html; http://bangla.samakal.net/2017/01/08/261455

০১) দাউদকান্দিতে ১৬টি কোরানের উপর মলমূত্রঃ
বাংলাদেশের দাউদকান্দির হিন্দুপাড়া সংলগ্ন একমাদ্রাসায় রাতের অন্ধকারে প্রায় ১৬টি কোরান হাদিসের উপর বসে বসে মল ত্যাগ করার খরব প্রকাশিত হয়েছিল । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃস্টি হয়েছিল এবং হিন্দুবাড়ী গুলিতে আক্রমনের অবস্হা সৃষ্টি হয়েছিল। সন্দেহ করা হয়েছিল মাদ্রাসা সংলগ্ন হিন্দুদের কেহ ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশের ত্বরিত ব্যবস্হা গ্রহনের ফলে আসল মূল আসামী হাবিবুর রহমান ও তার দুই মুসলিম বন্ধু । উদ্দেশ্যে ছিল এটাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার সংলগ্ন হিন্দুপাড়ায় আক্রমনের জন্য মানুষকে উস্কে দেয়া। ঘটনা পরবর্তী পুলিশ দ্রততার সাথে প্রকৃত দুস্কৃতিকারী সেই মহামানব হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। পুলিশের ত্বড়িৎ ব্যবস্হা গ্রহনের ফলে আরেকটি ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর হতে রক্ষা পায়। http://www.jugantor.com/news/2017/03/16/109401/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AB-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A6%BE
http://ashrafpur24.blogspot.com/2017/03/blog-post_16.html

০২) পুরান ঢাকার দোল উৎসবঃ
২০১৬ সালের দোল পূর্ণিমাতে হিন্দুদের দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার শাখারী বাজার ও সংলগ্ল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চলে কয়েক ঘন্টা ব্যাপি। নানান রংয়ের আবির নিয়ে হিন্দু সেজে যত মহিলা পেয়েছে প্রায় সবার গায়ে মুখে আবির ছড়িয়েছে, গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতা হানি করেছে। উদ্দেশ্য ছিল – হিন্দুদের পবিত্র ও নির্মল আনন্দ দোল উৎসবকে কলুসিত করা। একই সাথে হিন্দুরা হেজাবী মুসলিম নারীদের শ্লীলতা হানি করেছে – অজুহাতে শাখারী বাজার এলাকা হিন্দুদের আক্রমন করা। ব্যাপারটা যে পরিকল্পিত এবং পুলিশ যথাসময়ে কয়েকজন মুসলিম যুবককে গ্রেফতার করলে এধরনের জঘন্য ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

কোন হিন্দু কোরান ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা করেছে এটা শোনার পরপর ঘটনার সত্যাসত্য যাচাই না করে হাজার হাজার মানুষ হিন্দু বাড়ী ও স্হাপনা আক্রমন করার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এযাবত অবধি একটাও ঘটনার নজীর নেই যে – মুসুলমান হয়ে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করেছে এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তির বাড়ী ও তার প্রতিবেশী মুসলিমবাড়ীবাড়ীগুলিতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তখনই বিরাট একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায় – আসলে বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম জনগোষ্টির যে অংশটা ধর্ম অবমানার খবর পেয়ে অস্হির হয়ে পড়ে – বাস্তবে কি ওদের ধর্মানুভূতি আছে এবং ওরা কি ধার্মিক? যদি ধর্মানুভুতিই থাকবে – তবে একই বাজারে দুই নীতি কেন? যেমন-

(১) ব্রাহ্মনবাড়ীয়ায় রসরাজ পবিত্র মক্কাশরীফের উপর মহাদেবের ছবিট বসিয়ে পোস্ট করেছে – যানার পর রসরাজের বাড়ী সহ নাসির নগরের প্রায় ৩০০ অধিক বিভিন্ন হিন্দু বাড়ী জ্বলেছিল, কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ফাঁস হবার ইসলাম ধর্ম অবমাননাকারী ইসলাম ধর্মাবলম্বী আসল অপরাধী গ্রেফতার হবার পর কোন ঐ একই মানুষ গুলোর কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। যদি রসরাজের কারণে নাসির নগরের ৩০০ হিন্দু বাড়ী জ্বলে যেতে পারে, তবে আসল অপরাধী ধরা পড়ার পর অন্ততঃ মূল আসামীর বাড়ীটি জ্বলা উচিত ছিল, কিন্তু তা ঘটেনি।

(২) দাউদকান্দিতে যে মাদ্রাসায় এতোগুলো কোরানের উপর পায়খানা করল – তা শুনে সন্দেহের তীর যখন পাশের হিন্দুবাড়ী গুলোর দিকে ছিল, ঠিক তেমন মোহাম্মদের উম্মত মহামানব হাবিবুর রহমান পুলিশি অভিযানে ধৃত ও স্বীকারোক্তি দিয়ে এধরনের জঘন্য কাজের দায় নিজে নেয়ার পরও কোন মুসলিম ধার্মিক গোষ্টি হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মারমূখী এ্যাকশনতো দূরের কথা তার ফাসীর দাবীতে ঢাকায় মিছিল হয়েছে এমন কথা শোনা যায়নি।

(৩) হিন্দুদের দোল উৎসবের আবির নিয়ে হিন্দু মেয়েদের শ্লীলতা হানি করেছে সেটা না হয় বাদ দেয়া যায়। কিন্তু মুসলিম হয়ে হিন্দু সেজে মুসলিম হিজাবী মেয়ের গায়ে মুখে আবির দেয়া, শ্লীলতাহানি করা – এজন্য ধরা পড়া মুসলিম ও যুবকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্হার দাবী জানিয়ে কোন পক্ষ জাতীয় প্রেসক্লাবে প্লেকার্ড দেখায়নি।

সুতরাং এসব কারণে ধারনা করা যায় এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের ধার্মিকতা ও ধর্মানুভুতি সম্ভবত বিশেষ ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য। মুসলিম হয়ে ইসলামধর্মের অমর্যাদা করলে মুসলিম ধর্মানুভূতি আঘাত লাগে না। হিন্দুদের প্রতি শুধু সন্দেহ সৃষ্টি হলেও সেটা চূড়ান্ত অনুভূতিতে রুপ নেয় এবং সে অনুভূতি বারুদ্ধের মতো বিস্ফোরিত হয়। যদি সত্যিকারের ধর্মানুভূতি থাকতো তাহলে ব্রাহ্মানবাড়ীয়ার রসরাজের বাড়ীর মতোই দাউদকান্ডিতে হাবিবুর ও তাদের বাড়ীর আসপাশে অনেক মুসলিম বাড়ী পুড়ে ছাই হয়ে যেত অনুভুতিতে আঘাত পাওয়া মুসলিম গোষ্টির হাতে। একইভাবে পুরান ঢাকায় মুসলিম হওয়া সত্বেও হিন্দুদের মতো আবির নিয়ে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ির কারণে তার শাস্তির দাবীতে বায়তুল মোকাররমে মিছিল হত। কিন্তু কিছু হয়নি… সবই নিরুত্তাপ।

সিলেটের একজন ধর্ম অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে রাকেশ রায় অভিযোগ করেছেন। কোন ব্যাক্তি যদি একটা অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ঠভাবে অবস্হান নেন, সাধারণ তার দ্বারা একই রকম অপরাধ করা সম্ভব হয় না। সুতরাং রাকেশ রায়কে শুধু ফাঁসানোর জন্য কৌশল অবলম্ব করা হয়েছে – এটা যে বোকা মানুষটিও বুঝতে সক্ষম হবেন ধারনা করা যায়।
========

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সিলেটের রাকেশ রায় ও নও মুসলিম আব্দুল আজিজ। এক রাজার দুই নীতি – বাদীই হলো মূল আসামী!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

79 + = 87