অটোফেজি ও রোজা

গত কিছুদিন থেকেই দেখছি পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে অটোফেজি মানে রোজা। মূলত অটোফেজি মানে হচ্ছে “নিজে নিজেকে খাওয়া”।

গত কিছুদিন থেকেই দেখছি পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে অটোফেজি মানে রোজা। মূলত অটোফেজি মানে হচ্ছে “নিজে নিজেকে খাওয়া”। সবল কোষগুলো তুলনামূলক দুর্বল কোষদের খেয়ে ফেলে বা তারা নষ্ট হয়ে যায়।

যারা রোজার সাথে অটোফেজিকে মিলাচ্ছেন তারা কি আসলেই জানেন এই অটোফেজি জিনিসটা কি বা এই সম্পর্কে কতটুকু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে?

বিজ্ঞান কখনই ডিহাইড্রেশন সমর্থন করে না। আটোফেজিতে যেহেতু বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হচ্ছে না সেহেতু পানির প্রয়োজনীয়তা কিন্তু বিলুপ্ত হচ্ছে না। অপর দিকে আপনি রোজা থাকছেন মানে কিছুই খাওয়া যাচ্ছেনা। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনাকে এই উপবাসে থাকতে হচ্ছে। এদিকে অটোফেজিতে সুনির্দিষ্ট কোন সময়ের কথাও বলা নেই। বলার কথাও না কারন,২০১৬ সালে বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি চিহ্নিত করেন সেই জীন যার কারনে অটোফেজি হয়ে থাকে। তাছাড়া এই অটোফেজির সময় নির্ভর করে অবস্থানের তাপমাত্রা এবং বাতাসের আদ্রতার উপর, পরিবেশের উপর।

প্রচলিত প্রায় প্রতিটি ধর্মেই না খেয়ে থাকার একটা আচার বা নির্দেশনা আছে। প্রতিটি ধর্মই সেক্ষেত্রে দাবি করছে এটা তাদের ধর্মের বৈজ্ঞানিক প্রমান হিসেবে। ব্যাপারটা কিছুটা হাস্যকর সেই সাথে সাথে বিব্রতকরও বটে। অটোফেজি যদি রোজা হয়, তাহলে সনাতন ধর্মের উপবাস কি? সনাতন ধর্মে উপবাস প্রথা আরো অনেক বেশি প্রাচীন। এখানে কিন্তু আপনি রোজা আর উপবাসকে মিলাতে পারবেন না। দুটোর ধরন আবার দুই রকম।

ধর্মীয় প্রথাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন বা বিশ্বাস নির্ভর হিসেবেই দেখতে হবে। ধর্মের ভেতর বিজ্ঞানের তত্ত্ব দিয়ে ধর্মের ভিত প্রতিষ্ঠা বা গুরুত্ব বাড়াতে যাওয়াটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, আবার বিজ্ঞান দিয়ে ধর্ম সত্যতা প্রমান করাও অহেতুক। কারন ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্ব বিজ্ঞানের নয়। যে কাজটা ধার্মিকেরা খুব দায়িত্ব নিয়েই করে থাকেন, যেন নিজের ধর্মের একটা বৈজ্ঞানিক কাঠামো দাড় করানো যায়।

ধর্ম ধর্মের মতই থাকুক, মানুষের মনেই তার অবস্থান থাকুক, কিন্তু যখন ধর্ম বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে ঢুকে যাবে তখন সৃষ্টি হবে বিভ্রান্তি।

©অনিক অমনিবাস

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

53 − = 50