প্রার্থনা,শুভেচ্ছা,শুভকামনাঃ একটি বস্তুনিষ্ঠ ভাবনা

প্রার্থনা,শুভেচ্ছা,শুভকামনা:
একটি বস্তুনিষ্ঠ ভাবনা

প্রচলিত নাস্তিক্য চিন্তায় প্রার্থনা মূল্যহীন। আস্তিক্য কিংবা ধর্মতাত্ত্বিক চিন্তায় প্রার্থনা তাৎপর্যপূর্ন বিষয় এবং এর মূল্য স্বীকার করা হয়।

আস্তিক,নাস্তিক,অজ্ঞেয়বাদী,ধার্মিক-অধার্মিক সবাই পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা শুভকামনা তথা মঙ্গল/কল্যাণ কামনা প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু নাস্তিক্য চিন্তায় শুভকামনার মূল্য কিভাবে নির্ধারিত হবে তা স্পষ্ট নয়।

প্রার্থনার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। কোনটি সরাসরি কোন ধর্মীয় ঈশ্বরকে ঘিরে যা ধর্মীয় প্রার্থনা।এটা সক্রিয় প্রার্থনা। শুভকামনা,শুভেচ্ছা, মঙ্গলকামনা ইত্যাদি নিষ্ক্রিয় ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রার্থনা। নিষ্ক্রিয় এই জন্য যে উহা সরাসরি ঈশ্বর কেন্দ্রিক নয়। গান কিংবা কবিতাও প্রার্থনা হতে পারে। জাতীয় সঙ্গীতও এক ধরনের প্রার্থনা। দেশের উদ্দেশ্য যে শপদ বাক্য পাঠ করা হয় উহাও প্রার্থনা। কান্নাও এক ধরনের প্রার্থনা, তবে উহা নেতিবাচক প্রার্থনা। মাতা-পিতা যখন তার সন্তান দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে কান্না-কাটি করবে কিংবা মানসিকভাবে কষ্ট অনুভব করবে উহাও নেতিবাচক প্রার্থনা হিসেবে সন্তানের উপর কার্যকর হিসেব বিবেচ্য।

পরিশ্রম+প্রার্থনা= সফলতা…….(১)
পরিশ্রম =সফলতা……(২)
(২)-(১) হতে=> প্রার্থনা=০…….(৩)

বস্তুবাদী দৃষ্টি কোনে, (২) নং সমীকরনটি সঠিক যেখানে প্রার্থনার কার্যকারিতা শূন্য অর্থাৎ
প্রার্থনা=০……(৩নং)
বস্তুবাদী ও ভাববাদী সম্মিলিত দৃষ্টিকোনে (১) নং সমীকরন সঠিক যেখানে প্রার্থনা = ০ কিংবা >০. অর্থাৎ প্রার্থনার মান শূন্য কিংবা শূন্য অপেক্ষা বৃহত্তর অর্থাৎ প্রার্থনার কার্যকারিতা স্বীকৃত।

আমি তোমার মঙ্গল কামনা করছি। তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তুমি সুখে থেক, শান্তিতে থেক, ভালো থেক। তুমি দীর্ঘজীবী হও। তোমার প্রতি শুভকামনা, শুভেচ্ছা রইলো ইত্যাদি বাক্যগুলো ধনাত্মক প্রার্থনা সূচক যা আস্তিক, নাস্তিক উভয়ই অন্যের উদশ্যে প্রয়োগ করে থাকে। নাস্তিকগন যদি প্রার্থনার কার্যকারিতা ও তার বাস্তবায়নকারী ঈশ্বরকে স্বীকার না করেন তবে তাদের নিকট উপরোক্ত বাক্যগুলো অর্থহীন হওয়া উচিৎ। অন্যথায় তাদেরকে প্রার্থনার কার্যকারীতা স্বীকার করতে হবে এবং বলতে হবে প্রকৃতিই প্রার্থনা বাস্তবায়ন করে। আর এই স্বীকারের মাধ্যমে ধর্মীয় ঈশ্বরকে না হলেও পরোক্ষভাবে দার্শনিক ঈশ্বরকে স্বীকার করতে হয়। আর এই দার্শনিক গড হলো The Great Holy Zero থেকে উদ্ভূত Quantum God.

কোয়ান্টাম তত্ত্বানুসারে, প্রার্থনা=0. সমীকরনটি সঠিক হতে পারেনা। কোয়ান্টামতত্ত্ব অনুসারে, ভৌত বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় দর্শকের আগমন আবশ্যক। অর্থাৎ বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় মনের ভূমিকা স্বীকার্য্য। কারন মানুষের মন কোয়ান্টাম জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রার্থনা হলো মনেরই চিন্তা ক্রিয়া। মানুষের মন কিংবা চিন্তা কোয়ান্টাম জগতে তথ্যের পুনর্বিন্যস্তের মাধ্যমে বস্তুজগতে পরিবর্তন আনয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। অতএব, প্রাকৃতিক নৈতিক বিধিমোতাবেক প্রার্থনার কার্যকারীতা অবশ্যই স্বীকার্য্য।

কান্না একমাত্র নেতিবাচক প্রার্থনা। কারও অনৈতিক আচরন কিংবা কর্মের মাধ্যমে কষ্ট পেয়ে কেউ যদি কান্নাকাটি করে তবে কষ্ট প্রদানকারী ব্যক্তির উপর নৈতিক বিধিমোতাবেক প্রাকৃতিকভাবে অভিষাপ বর্ষিত হতে পারে।

অতএব, প্রার্থনার কার্যকারীতা অবশ্যই স্বীকার্য্য যা প্রাকৃতিক নৈতিক বিধি মোতাবেক ঈশ্বর ও ধর্মনিরেপক্ষভাবে কার্যকর হয়।

Abu Momin
১০ জুন,২০১৭ খ্রি.

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “প্রার্থনা,শুভেচ্ছা,শুভকামনাঃ একটি বস্তুনিষ্ঠ ভাবনা

  1. ফেসবুকে মন্তব্য করেছি।

    ফেসবুকে মন্তব্য করেছি। এখানেও করছি। আসোলে প্রার্থনা আদো প্রভাব ফেলে কিনা। আমার তো মনে হয় প্রার্থনা সৌজন্য মাত্র। দেখুন প্রার্থনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। যদিও কোয়ান্টাম মেথড দাবি বরে আসছে মনের মাধ্যমে অনেক অসাধ্য সাধন করে আসছে তবুও তা অবিশ্বাস্য।

    1. কোয়ান্টাম তত্ত্বানুসারে ভৌত
      কোয়ান্টাম তত্ত্বানুসারে ভৌত বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় দর্শকের আগমন আবশ্যক। অর্থাৎ বাস্তবতা প্রতিষ্ঠায় মনের ভূমিকা আবশ্যক। ুটা বিজ্ঞানের কথা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 9 =