ফ্যাসিবাদের নিয়মে ফ্যাসিবাদ,গনজাগরন মঞ্চের কি দায় এতে?

বাংলাদেশে বাম প্রগতিশীল শক্তির একটি অংশের অভিযোগ , যেসব বামপন্থীরা গণজাগরণ মঞ্চে সমর্থন দিয়েছে এবং এতে অংশগ্রহন করে আজ অবধি আছে সেসব বামপন্থীরা প্রকারান্তরে এই সরকারের দুঃশাসন এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের জন্ম দেয়ার গ্রাউন্ড তৈরি করেছেন। তারা দৃঢ়ভাবে এটা বলেই ক্ষান্ত হন না তারা আরো আগবাড়িয়ে বলেন যে, এসকল বামপন্থীরা মূলত সরকারের সাথে অআঁতাত করে গণজাগরণ মঞ্চকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।

আসলেই কি এই মঞ্চ সরকারের সাথে আতাত করে উদ্ভূত হয়েছে?

বাংলাদেশের আপামর জনগোষ্ঠী,গ্রাম-বাংলা-শহর-নগর , দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশের আবেগ যারা জানেন এবং একাত্তরে দোসর শক্তির বর্বরতা সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে তারা জানেন যে–এরকম একটি গণজাগরণ মঞ্চ খুব স্বাভাবিক বিক্ষুব্ধতা থেকে তৈরি হয়েছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে সরকার-জামাতের আঁতাতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই বরং এর উৎপত্তি। এরকম সত্যকে যারা পাশ কাটায় তারা মূলত ভুল করছে, সত্যকে অস্বীকার করছে।

তবে , একটি বিষয় সত্য। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে গিয়ে সরকার টার্গেট করেছিলো জামাতকে। জামাতের সাথে বিএনপি –এই ভোটের অংক হিসাব করার প্রেক্ষিতেই মূলত জন্ম নিয়েছে আওয়ামী লীগের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার খায়েশ। আওয়ামী লীগ এমন একটি শক্তি যাদের জামাতের সাথে রাজনৈতিক ঘর করার অনেক ইতিহাস দেশের মানুষ জানে। আজ সেই শক্তির হাতেই জামাত বিচারের কাঠগড়ায়। আওয়ামী লিগ যদি জামাতের বিরুদ্ধে তার বর্তমান অবস্থানের জন্য আদর্শের দোহাই দেয়ও সেটি আদতে রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া কিছুই নয়। এতে আদর্শের লেশমাত্র গন্ধ নেই। তার বড় প্রমান কাদের মোল্লার রায়ে আরো পরিষ্কার হয়ে যায় আবার তার অতীতের ইতিহাসেও তার প্রমান পাওয়া যায়। কাদের মোল্লার রায় মূলত ছিলো জামাতের প্রতি বার্তা। বার্তাটির সারাংশ এমন যে, আওয়ামী লীগের সাথে তোমার রাজনৈতিক সমঝোতার রাস্তা এখনো আছে। কিন্তু বিধি বাম হয়ে দাড়ালো গণজাগরণ মঞ্চ। তারা এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক আঁতাতকে চ্যালেঞ্জ জানালো।

এর পর যা ঘটেছিলো তা অনুমেয়। আর তা হলো- উদ্ভূত গণজাগরণ মঞ্চকে সরকারের পক্ষ থেকে পেট্রোনাইজ করা। সরকার পাবলিক পালস হিসাব করছিলো। যখনি দেখলো আওয়ামি-জামাত আঁতাত করার মতো পাবলিক সেন্টিমেন্ট এখন বেশ বিরুদ্ধবাদী তখনি সরকার গণজাগরণকে নিজের আরেকটি ব্যাটেল উইপন হিসাবে চালাতে শুরু করেন ভোটের হিসাবে । তরুণ জনগন এবং বুদ্ধিজীবীদের ভোটের নিশ্চয়তা তাকে তখন ভাবিয়ে তোলে। এই জায়গায় বিএনপিকে ধরাশয়ী করতে এই ধরনের একটি মঞ্চ আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে একচ্ছত্র অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করে। অর্থাৎ আওয়ামী লিগের কাছে গণজাগরণ ভোটের হিসাব আর রাজনৈতিক হিসাব নিকাশে ব্যাপকভাবে চর্চিত হয়েছে।

এসব ঘটনাচক্রের প্রেক্ষিতে বাম-প্রগতিশীল একটি অংশ মনে করে বর্তমান আওয়ামী দুঃশাসন থেকে ক্রমে ফ্যাসিবাদ উত্থানের এই প্রক্রিয়াটির অনেকাংশ জুড়ে গণজাগরণ মঞ্চ সহায়ক গ্রাউন্ড তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছে। এখন এই ধারনার যথার্থতা কি আছে ? এই ধারনা কি সঠিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি? কিংবা যদি এমনটি হয়েই থাকে তবে বাম-প্রগতিশীল শক্তির ভূমিকা রাখার সুযোগ এখানে ছিলো না কেন?- এসকল প্রশ্নেরও উত্তর নির্ণয় করা উচিত।

গণজাগরণ মঞ্চ মধ্যবিত্ত জনগনের সংগ্রাম
গণজাগরণ মঞ্চ মূলত এদেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটি চেতনাগত সংগ্রাম। এক ধরনের পেটিবুর্জোয়া সংগ্রাম বললেও মনে হয় ভুল হবে না। কিন্তু কোন শ্রেনীর সংগ্রাম?- এই প্রশ্নের থেকেও বড় ব্যাপার হচ্ছে এটি জনগনের মধ্যে একটি বিরাট অংশের জড়িয়ে থাকা সংগ্রাম অর্থাৎ জনগনের সংগ্রাম। আবার , এর মধ্যে ছাত্র-শিক্ষকদের বিরাট অংশ জড়িয়ে আছে;নেতৃত্বেও ছাত্ররা। বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি অনেক সাধারন ছাত্ররাও এতে অংশ নিয়েছে। মোটকথা এই আন্দোলনে নেতৃত্বের অংশটির চাইতেও অধিকতরও মূর্ত হয়েছে ফ্লোটিং জনগোষ্ঠী। এই ফ্লোটিং জনগন কোন দলের নয়। ফ্লোটিং ছাত্রসমাজ কোন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নয়। তাহলে এই ব্যাপক ফ্লোটিং জনগন যেখানে বা যে আন্দোলনে অংশগ্রহন করে সে আন্দোলনে কি বামপন্থীরা যাবে না? একটি বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির কাজ হচ্ছে ব্যাপক জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে পরা। জনগনকে বিপ্লবী আন্দোলনে নিয়ে আসা। তাহলে বামপন্থীদের তো প্রথমত সেই আন্দোলনের স্থলে নিজেদের রাজনৈতিক মতবাদ প্রচার করা উচিত। আওয়ামি-জামাত আঁতাতের সম্ভাবনা জনগনের সামনে তুলে ধরা উচিত। এই ব্যপক পরিমান রাজনৈতিক সচেতন মধ্যবিত্ত ছাত্র যুবাকে সঠিক বিপ্লবী আন্দোলনের দিশা দিতে সবার আগে হাজির হওয়া উচিত ছিলো গণজাগরণ মঞ্চে। এরাই হতে পারতো আগামীর বিপ্লবী আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী। বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন সম্প্রসারিত করতে এই শ্রেণীটি বড় ভুমিকা রাখতে পারতো।

যার বলছেন এটা আওয়ামী লীগের মঞ্চ হয়ে গিয়েছিলো তারা কি বলতে পারবেন এখানে যারা এসেছিলো তারা সবাই আওয়ামী লীগ? মোটেই নয়। তাহলে এই ফ্লোটিং জনগনকে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদের সহায়ক শক্তি বলবেন কি? এখন ফ্লোটিং জনগনের কেউ যদি প্রশ্ন করে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমি গিয়েছিলাম কিন্তু আপনাদের কাউকে তো পাই নি যারা কি না সঠিক শ্রেনীচেতনা গড়ে দিয়ে আমাদের কাউকে বিপ্লবী শক্তির অংশ করে নিতে পারতো। তখন কি উত্তর থাকবে?

নিশ্চয়ই নেই কোন উত্তর। ফ্লোটিং জনগন মৌলবাদ-জামাতের বিচার চাইতে সেখানে গিয়েছিলো সেখানে মার্ক্সবাদি শ্রেনীচেতনা নিয়ে যায় নি। বৈশ্বিক পুঁজিবাদের বিচ্ছিন্ন ব্যাক্তিসত্ত্বার প্রসার যেখানে ঘটছে, বিরাজনৈতিক ভাবধারা যেখানে হু হু করে বাড়ছে সেখানে এতো ব্যাপক জনগনের অংশগ্রহন অভাবনীয় । আর আমরা বামপন্থীদের একটি অংশ সেই অপেক্ষাকৃত সক্রিয় অংশটিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি,পরিত্যাগ করছি। অনেকটা ব্রাহ্মণ্যবাদী বৈশ্য,শুদ্র ছেই ছেই এর মতো করে সটকে পড়ছি সেখান থেকে ;আওয়ামী লীগ জাত মেরেছে বলে। কি অদ্ভূত! মার্ক্সবাদি শ্রেনীচেতনা গড়ে তোলা যাদের মধ্যে দরকার সেই তাদেরকেই দূরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে কি অবলীলায়।
তবে বিপ্লব কার জন্য ? বিপ্লব কে করবে?
কেউ কি উত্তর দিবেন…

আওয়ামী লীগ ক্ষমতার খেলা খেলেছে কিন্তু বামপন্থীরা কি করেছে?
আওয়ামী লীগ তার ক্ষমতাকে একচ্ছত্র করতে চারদিকে এক আদর্শিক বাতাবরন তৈরি করেছে। সারাদেশের একটি অংশের কাছে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমেই মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সার্টিফিকেট পেয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পথে থাকবে না এমন ঘোরে দিনানিপাত করে একটি শ্রেনী। সরকারের দুর্নীতি,লুটপাট,অন্যায় অবিচার,ক্রসফায়ার নিয়ে যারাই কথা বলেছে তাদেরকেই জামাত শিবির কিংবা তাদের এজেন্ট বানিয়ে দেবার ঘৃন্য খেলায় মেতে উঠেছে। এই সুযোগে আইনের শাসন ,বিচারকে নির্বাসনে পাঠিয়ে বিরোধীমতকে নির্মুলে কোমরবেধে নেমেছে। আর সরকারের টিকে থাকার সাইনবোর্ড একটাই- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঠিকাদারি যেন তাদেরই শুধু আর কারো নাই। এর নাম পাক্কা ফ্যাসিবাদ!কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদ!

গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে এটি ত্বরাণ্বিত হয়েছে।–এই তো কথা। ব্যাপারটি হচ্ছে এখানেই যে, গণজাগরণ মঞ্চ কে ফ্যাসিবাদের নিয়ামক বানাতে আওয়ামী লীগ পারলো কিন্তু একই গণজাগরণ মঞ্চকে মার্ক্সবাদি শ্রেনীচেতনার না হোক অন্তত দ্বিদলীয় ধারার বাইরে আনার কৃতিত্বটুকুও কেন বামপন্থী সেসকল শক্তি নিতে পারলো না? -এই প্রশ্নের উত্তর দিতে মার্ক্সবাদ লেনিনিবাদ শাস্ত্র খোলার দরকার নাই কমন সেন্স দরকার।

দিবেন কেউ উত্তর টা?
আসলে এর কোন ব্যাখা দিতে গেলে তাদের কেউ কেউ যেসব কথা বলবে তা অনেকেরই জানা। তাদের সকল বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একটি কথাই বলি- শ্রমিকশ্রেনীর পরিপূরক সংগঠন তৈরিতে গণজাগরণ মঞ্চকে কাজে লাগানো উচিত ছিলো। একটি সত্যিকারের প্রলেতারিয়েত পার্টির সংগঠন গড়ে তুলতে এর থেকে বড় সুযোগ কোথায় পাওয়া যাবে বলুন তো? বিপ্লবী সংগঠক তৈরিতে এর থেকে বড় উপলক্ষ আর কোথায় পাওয়া যেত এতো সহজে? আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের মতো করে ব্যাবহার করতে চাইবে সবকিছুকেই তাই বলে লড়াই এর মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া কোন যুক্তিতে টিকে না। আওয়ামী লীগের সাথে রাজনৈতিক পার্থক্য গড়ে দেবার এই তো সুযোগ। যেখানে গন আন্দোলন সেখানে ছড়িয়ে পড়াই তো বিপ্লবী পার্টির ধর্ম। গণজাগরণ মঞ্চে বামপন্থীদের পূর্ণশক্তির অনুপস্থিতি-দ্বিধাদ্বন্দ গণজাগরণকে কি দিয়েছে? কিছু দিয়েছে এই অসক্রিয়তা? দেয় নি কিচ্ছুই। আওয়ামী ফ্যাসিবাদে মাতম করে এখন গনজাগরনে অংশ গ্রহনকারি বামপন্থীদের এক হাত নিয়ে আবারো জনগনেরই ক্ষতি হলো।

আওয়ামী লীগ সরকার যে কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদী ভাবধারা সম্প্রসারন করেছে সেটা তো বুর্জোয়াদের অবক্ষয়ী ইতিহাসের নিরন্তরতা …
আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের মডেল বা প্রচারণা এই কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদের মূল উৎস। তারা মনে করে বর্তমান সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। আর সে কারনে সমগ্র দেশের সকলের কাছে অন্ধ বশ্যতা তারা প্রত্যাশা করছে। আবার আদর্শিক ভাবে ভ্রষ্ট দেয়াল তৈরি করেছে চারিপাশে যে ,জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেক্ষিতে তারাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হবার একক দাবিদার। ফ্যাসিস্ট শক্তি হিসাবে অগ্রগমনের পথে এই উভয় প্রেক্ষিত সমভাবে কাজে লাগাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এর বাইরে যারাই অবস্থান নিচ্ছে তাদেরকে কখনো বিএনপি-জামাতের দোসর আবার কখনো উন্নয়নবিরোধী বলে তকমা সেটে দিচ্ছে। এসব যেকোন প্রতিবাদ দমনে এক ব্যাপক অস্ত্র হিসাবে ইতোমধ্যে কাজে লেগেছে। কিন্তু এর সাথে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন কে সমর্থন দিলো না দিলো সেই যুক্তিকে টেনে এনে কি লাভ? বাংলাদেশ বিগত সময়ের ধারাবাহিক দ্বিদলীয় বুর্জোয়া শাসন, বিশ্ব মুক্ত অর্থনীতির মধ্যে চলাচল,দেশীয় পুজির ধারাবাহিক দৌরাত্ন এবং সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশনে সেবাখাত-শিক্ষা-স্বাস্থখাত সাজানো একটি পুজিতান্ত্রিক সমাজের চিহ্নগুলোকে স্পষ্ট করে। এর গতিপথ যেকোন কর্তৃতবাদী জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটাবে-এটা কি কেউ অস্বীকার করতে পারে। পুজির বিকাশে ডামাডোলে পরেই এখন সরকার রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করে মেকি উন্নয়নের গান শোনায়, বাশখালিতে লাশের উপর বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মান করতে উঠেপড়ে লাগে,সাগরে গ্যাস ব্লক ইজারা দেয়ার দলিল সাজায়, গ্যাস-বিদ্যুতের দফায় দফায় দাম বাড়ায়। আর এসব টিকে রাখতে ফ্যাসিবাদী পন্থা ছাড়া আর পথ কি?

ব্যাপারটি হচ্ছে এখানেই -এইসকল প্রেক্ষিতে গণজাগরনের মৌল চেতনা নিশ্চয় এটা বিচার করবে না যে কার ক্ষমতা প্রলম্বিত হবে আর কার ক্ষমতায় টান পরবে। জামাত শিবিরের বিচারের ফলে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের গ্রাউন্ড তৈরি করবে- এই আশঙ্কা কি কোন রাজনৈতিক শক্তি পূর্বে বিচার করে মঞ্চ থেকে দূরে থাকবে? যদি থাকে তবে এটা কেমন রাজনৈতিক বোধ? জনযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করার মাধ্যমে যারা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মান করবে –এই মর্মে ঝাপিয়ে পড়েছিলো সেই যুদ্ধের প্রতিবিপ্লবী শ্রেনীর বিরুদ্ধে যদি কেউ বা কোন রাজনৈতিক দল তার শক্ত অবস্থান নেয় সেটা কোন যুক্তিতে ভুল বলে প্রতীয়মান হয় না। আবার মনে রাখা উচিত ,এটা একই সাথে মৌলবাদের বিরুদ্ধেও এক যুগান্তকারী লড়াই। যেসকল বামপন্থী দল ও ছাত্র সংগঠন মঞ্চের আন্দোলনে এখন পর্যন্ত আছে তারা এই অবস্থান থেকেই গিয়েছে এবং তারা বলেছে প্রলেতারিয়েত বিপ্লবে সংগঠনের শক্তি গোছাতে তারা গণআন্দোলনে আদর্শ প্রচার করছে। তারা কি ফ্যাসিবাদের অনুগামী হয়েছে? না, তা তো হয় নি। বরং তারা সচেতন ভাবে আওয়ামী ফ্যাসিজমের লক্ষন যেমন ধরতে পেরেছে আবার সেই ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এই মঞ্চের শক্তি-নিজেদের শক্তির সমণ্বয় ঘটিয়েই। বুর্জোয়াদের গতিপথ ফ্যাসিবাদের দিকে যেতেই পারে এতে আতঙ্কিত বা হাট গুটানোর কিছু তো নাই ,এটা স্বাভাবিক। এই অজুহাতে নিজেদের বিকাশের রাস্তা বন্ধ করা বড্ড সেকেলে। এমন নাক ছিটকানো অস্পৃশ্যের মতো দেখায়। গণজাগরণকে যারা নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির উপলক্ষ হিসাবে নিতে পারেন নি তারা রাজনৈতিকভাবে ভুল,দেউলিয়া।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =