প্রেমপত্র-৯৮

প্রিয় বালিকা,
তোমাকে যতবার দেখি-তার চেয়েও বেশি দেখি যখন আমি স্বপ্নে থাকি।যখন তোমায় না দেখি মনের অগোচরে করে তোমায় নিয়ে এককোটি স্বপ্ন সাজাই,অসুস্থ্য অসাড় হয়ে পড়ে থাকি-একাকি শুধু তুমি ছুঁয়ে থাকো আলতো করে,ভুলে যাওয়া আমার আমিকে কত সহজেই মস্তিষ্কের অনুরণে, ক্ষণে ক্ষণে লাগে দোলা,নিশ্চুপতার অনলে পুড়ে যাওয়া কত সহজেই হাতে রেখে হাত, সময় থেমে যায়।শুধু একবার তুমি রাজি হলেই ঐ কালো মেঘের মাতম হতে ধরে আনা আলোর ঝিলিক, ছুঁড়ে ফেলা কত সহজেই।আমি তো নিঃশেষ কবেই শুধু বেঁচে আছে তোমার আমি আমার তুমিকে ভালবাসবে বলে।

আমি চাই আমার মরনের মুহুর্তে তুমি আমার পাশে বসে থেক। সেদিন হয়ত পোলো টি-শার্ট আর সানগ্লাস থাকবে না হয়ত।মাথায় চুল গুলো হয়তো এমনি অগোছালো থাকবে।হাত ,নাক দিয়ে নানা রকমের পাইপ বের হয়ে থাকবে কথা বলতেও হয়তো কষ্ট হবে।

তোমার চেহারায় সেদিন হয়ত কিছু বিষাদ থাকবে হয়ত থাকবেনা।কালো ফ্রেমের চশমা আর হয়তো পরিপাটি করা পোষাক কিন্তু মায়াটা ঠিকি থাকবে।তোমার মায়াময়তা কেও আমি তোমারই মত ভালবেসেছি যে।মায়া সবসময়ই তোমার মত চিরযৌবনা থাকে।

মৃত্যুর আগে শেষ গ্লাস পানিটা আমি তোমার কাঁপা কাঁপা হাতে খাব।আমার মা-বাবা বা সকল নার্সদের বের হয়ে যেতে বলব। ঐ মুহুর্তটা শুধুই তোমার আর আমার হোক। তোমার মায়াভরা মুখের দিকে তাকিয়ে আমি একটানে ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যাব।

সেই প্রথম কথা দুজন অচেনা মানুষের। কোন মায়াভরা মুখের ছবি দেখে কোন এক যুবকের বিট মিস করা।”অমি মনে হয় আপনার লিস্টে ছিলাম ভুল বসত বাদ পড়েছি আবার বন্ধু হতে পারি কি”? ,অতি বিনয়ে এক অসাধারণ জার্নির সূচনা। এক মহাকাব্য।একদিন তুমি আমায় বলেছিলে নীলগিরিতে একসাথে বসে চাঁদ দেখবে আর কক্সবাজারে সমুদ্রস্নান। আমি মুগ্ধ হয়ে তোমার কথা শুনছিলাম। এ এক এমনই ভালোবাসা।তুমি নিজে টেককেয়ার না করলে আমার কষ্টলাগে।

ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যাবো কোন রোজায়। মত কোন এক ছেলের নিজেকে বাজি লাগিয়েছিলতার প্রেমিকার জন্য অপেক্ষায়।যেই শুনেছে বা দেখেছিল টিটটারি ছুড়েছিল, পাগল আর কারে বলে।পাগল কেউ সুখে হয় নারে পাগলী। পাগল মানুষ প্রেমে হয়।তারপর নিজেকে শেষ করছি বলে তোমার কত বকা। আর আমি অবাক হয়ে শুনেছিলাম আর ভেবেছিলাম, কার অসুখে কে রোগে মরে?একটা কথা আছেনা”বাচ্চাদের আধো আধো বোল ও ছন্দময় লাগে,আমি সেদিন হৃদয় দিয়ে তা অনুধাবন করেছিলাম”।

একদিন তুমি খুব রাগ করেছিলে”অবহেলা করো এমন অভিযোগ করে আমি প্রচন্ড বঁকা খেয়েছিলাম”।মাথা খারাপ আমার।কেমনে তোমার রাগ ভাঙ্গাই। পাগলিটা কে শান্ত করতে হবে না? কি এক অস্থিরতা কার মরনে ,কে আগে মরে?
মৃত্যু শয্যায় এক বুক সুখ নিয়ে আমি ফ্ল্যাশব্যাকে যেতেই থাকব।ইবিতে চলে যাবো এক ছুটে। লাল পাড়ে শাড়ি তোমার দেখে আমার বড্ড গরম লাগা। সারা পৃথিবীকে অবাক করে তোমার পায়ে পায়েল পড়িয়ে দিয়ে আলতা রাঙ্গা পায়ে চুমু দিতে চাওয়া।স্বপ্নে তোমার পায়েলের শব্দে খুন হয়ে যাচ্ছিল আমার হৃদয়টা।তা দেখে তুমি নক্ষত্র ঝড়িয়ে হেসেছিলে। সেদিন সে মুহুর্তটাতে তোমাকে পৃথিবীর সবচাইতে সুখী নারী মনে হয়েছিল। আমি অবাক হয়েছিলাম। এই চুড়ি ,টিপ আর পায়েল সামান্যতে কে এত সুখী হয়!

তুমি জেনে নিও আমাদের প্রেম দেখে মৃত্যুও থমকে যাবে। আমরা ফ্ল্যাশব্যাকে যেতেই থাকব। কার ভাল না থাকায় ,কার মন জ্বলে?কার ঠোটের হাসিতে ,কার রাগ গলে?
কার ক্ষুধাতে ,কে না খেয়ে রয়?কাকে আড়াল করে ,কে আঘাত সয়?কার পায়ের ছাপে,কে পা ফেলে?কার হার্টে ,কার বিট চলে?
সেদিন আমি সুখে শেষ বিদায় নিব।শেষ নিশ্বাস ফেলার আগে বিড় বিড় করে বলে যাবো হায় আল্লাহ্ এমন মেয়েকে ভালোবাসা যায়,এমন মেয়েকে মরনেও ভালোবাসা যায়।
পড়ন্ত বিকেলে আমার অপেক্ষায় পরনের লাল শাড়িটির ভাজে ভাজে শিউলি বকুল লুকিয়ে রেখো । আসব যখন তখন তুমি ঝট করে দাড়াতেই শাড়ি থেকে ঝরে ঝরে পড়ে যেন শত শত ফুল । তোমার পানে আমার অবাক দৃষ্টি ঢেলে মুখ টিপে হাসব তখন একটু,এটুকু করবে কি?শুধু তোমাকে এভাবে দেখার জন্যে আমি জগতের সকল ফুলেদের সমাহার ঘটাবো তোমারই আঁচলে ।তুমি শুধু তাকিয়ে একটু হেসো কেমন ?

চোখের ভাষা আছে । এ বাক্য যুগে যুগে কেবল বইয়ের পাতাতেই পড়ে এসেছে যে , সেই আমি তোমার দৃষ্টিতে সামান্যটুকু মুগ্ধতার দেখা পেতে পৃথিবীর শতসহস্র স্নিগ্ধ বাক্যমালা গেঁথে গেঁথে রচিত এক গান গাইবো শুধুই তোমার তরে । মুগ্ধতারা ছুঁইবে কি তখন তোমার ওই যুগল নয়নে ?
জেনে রেখো ,আমার শত জন্মের সাধ পুরোবে তবে!

তোমার কন্ঠ শুনতে আমি শতবার হবো একরোখা। তোমায় হাসিমুখে কপট দরজাল ভূমিকায় অবতীর্ন করার লোভে আমি হাজার বার করে যাবো পাগলামী । সেই তোমাকেই পেতে আমার চাওয়া শুধুই একজন তোমায় ,কেন ? কারন বুঝোই তো , এ বহুল মিথ্যের ছড়াছড়ির যুগে তোমার থেকে আমি সত্য ভালোবাসা চাই যে! সত্য ভালোবাসা চিরস্থায়ী । পৃথিবীর সেরা একশ একটা রঙিন জিনিসও মনের টানের কাছে হার মেনে দুরে যেতে বাধ্য হয় । কারন তাতে যে কোনো মোহের ছোঁয়া থাকে না , থাকে শুধুই বিশ্বাসের ছোঁয়া । নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে দুটি মন মিশে যাওয়ার নেশা । চেয়ে দেখো , বুড়িয়ে যাওয়া যুগলদের চামড়ার ভাজে ভাজেও একে অপরের জন্যে থাকে কেমন স্বস্তিময় ভালোবাসার ছোঁয়া ।

একটা কথা বলি পাগলী,বিশ্বাস করবা কিনা জানিনা,এমন একটা মূহুর্ত নাই যখন তোমাকে মনে করি না,তোমার আনেক ছবি আমার ভালো লাগে সবচেয়ে ভালো লাগে,সবুজ ঘাসে বসে থাকা গোলাপী শাড়ির ছবিটি,কতো নেচারাল লাগে পাগলীটা কে,আমি আমার দুচোখ এ গেথে রেখেছি তোমাকে,এতো কিছুনা শুধু এতটুকু বলতে চাই গরমের ছায়া,শীতের কাথা,বর্ষা ছাতা,গরমের সূতীর জামা,শীতের সোয়েটার,আর গরমে গাল থেকে বেয়ে পরা ঘাম হতে চাই,না থাক কি যে বলছি মাথা খারাপ হয়ে গেছে,এতটুকু বলি,বাকি টা জীবন তোমার সাথে কাটাতে চাই,তোমারই ছিলাম আছি থাকবো,এটা জেনে নিও,তুমিহীনা আর কেউ আসবে না,আমি আসতে দিব না।

বর্ষার প্রথম দিন আমি লাল শাড়ি পরে, হাত-ভর্তি কাচের চুড়ি এবং কপালে ছোট্ট একটা লাল টিপ দিয়ে অপেক্ষায় থেকো আমি কিন্তু একগুচ্ছ কদম হাতে নিয়ে এসে আমাদের ভালোবাসার গল্প বলব।
বুঝলে পাগলী,আমার সব রোমান্টিক স্ট্যাটাসই তোমাকে নিয়ে দেয়া,যদি বিশ্বাস না হয়,তাহলে প্রতিটা স্ট্যাটাস পড়ার পড়ো।আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে এক পলকে দেখবা তাহলে বুঝতে পারবা আমি কতটা সত্যিআমি শুধু তোমার পানে চেয়ে থাকি।

তোমার কাছে আমি বুঝতে শিখেছি ভালবাসার মানে।এত প্রতিকূলতার মাঝে এগিয়ে যেতে হয় কিভাবে তা তোমার সরল চোখদুটি শিখিয়েছে।আমি তাই বুঝতে পারি,কিভাবে তোমাকে চাইতে হয়।তোমাকে অর্জন করে নিতে হয় কিভাবে,যুদ্ধ করতে হয়।ভালবাসার পবিত্র সম্পর্ককে রক্ষা করতে হয় কিভাবে আমি শিখেছি মাথা নত না করেও কোন কিছু জয় করা যায়।আমি একটা যুদ্ধ করছি প্রতিনিয়ত,তোমাকে আমার নাম দেয়ার লড়াই।যুদধ নয় এ লড়াই শুধু অপেক্ষার,তোমার জন্য,আমাদের জন্য।সত্যি যদি ঈশ্বর বলে কেউ থাকেন, তবে আমি শুধু চাইবো,লড়াই করে তোমাকে পাবার আধিকার।বেঁচে থাকলে কোন একদিন সুন্দর সময়ে তোমার কাছে আমি ঠিকই পৌঁছব তোমার জন্য,তোমার সাথে থাকার জন্য।তোমার সন্তানের বাবা হবার জন্যে।

ইতি
বদ্ধ পাগল(শুধু তোমার জন্যেই)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 7