উচ্ছেদ!!


মালাউন চাড়ালগুলা সমস্বরে কয় “ কাগু, কি কইরাম কন দেহি। হারা রাইত আমরা ঘুমাইতে হারি না। কেডা আমাগো আখখেতের আখ নষ্ট করতে আহে, আবার কেডা যেন আমাগের খড়ের চিনু আগুন ধরাইতে আহে, কেডা ঘরের টিনের চালে ঢিল মারে, এভাবে হারা রাইত যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা। কাঁহাতক সহ্য করবো। আমরাতো ওগোরে পাহারা দিচ্ছিনা, মনে অয় ওরাই আমাগো উপরে নজর রাখতাছে”।

উচ্ছেদ!!

সারারাত জাইগা থাকার ধকলটা শেষ করে মালাউন চাড়াল গুলা তাদের প্রতিবেশী কালাবুড়ার চাচার কাছে খুব সকালে গিয়া হাজির হয়। চাচা তখনো ঘুমুচ্ছেন। ঘুম থেকে ডেকে তোলার জন্য চাড়ালগুলা হাক ডাক দেয় – “কাকু, ও কাকু”।

বু্ড়ার কাঁচা ভাইঙ্গা যায়। ঘুম থেইক্কা হুটহাট করে উইঠা কয় – “কি বাবুরা, এত্ত সহালে কি মনে কইরা, আবার কি অইছে অইছে তুমাগো?”


মালাউন চাড়ালগুলা সমস্বরে কয় “ কাগু, কি কইরাম কন দেহি। হারা রাইত আমরা ঘুমাইতে হারি না। কেডা আমাগো আখখেতের আখ নষ্ট করতে আহে, আবার কেডা যেন আমাগের খড়ের চিনু আগুন ধরাইতে আহে, কেডা ঘরের টিনের চালে ঢিল মারে, এভাবে হারা রাইত যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা। কাঁহাতক সহ্য করবো। আমরাতো ওগোরে পাহারা দিচ্ছিনা, মনে অয় ওরাই আমাগো উপরে নজর রাখতাছে”।

কালাবুড়া গভীর মনোযোগ সহকারে কথা গুলা হুইন্না জবাব দেন – “বাজানরে তগো সুখ তাগোর চোখক্ষে সয় না, মনে অয় এর লাইগা অরা এইরাম করতাছে”।

কালাবুড়া কথা থামলে চাড়াল গুলা জিগায় – কাগু! আমরা কিরাম সুখে আছি কন দেহি। হারা বছর দু’বেলা দুমুটো মোডা ভাত ঠিক মত জুডে না। দুইডা ডাল-ভাতের লাইগা হারা দিন জমির মধ্যি হইরা থাহি, তারপরও এইরাম জ্বালাতন। কাঁহাতক সহ্য অয়?

কালাবুড়া আবার কয় – “বাজানগো, এইযে কইলি জমিত পইরা থাহস! মনে লয় – এসুখই কারুর পছন্দ না। মনে লয় – তগোরে আর রক্ষা করতে পারুম না, দ্যাশের যা অবস্হা, এইহান কি মানুষ থাহে?”

মালাউন চাড়ালগুলান এবার জিগায় – কাগু! আমাগোরে একখান পিরামশ্য দেন, আমরা কি কইরাম?

চাড়ালগুলোর মুখে তার পিরামিষ্যের কতা হুইন্না কালাবুড়া গম্ভীর হয়, কিছু্কক্ষ দু’চোখে বন্ধ রাইখা লম্বা দম চাইরা কালাবুড়া এবার কয় – “বাজানগো, তুমাগোরে কই – আমারও বয়েস অইছে, আমি আর কত্তো দিন টিকমু। কদ্দিনই তগোর খেয়াল রাখুম। তগো লাইগা আমার বড্ড কষ্ট অয় রে। তয় তগোরে কই তোর এই খারাপ এলাকা চাইরাভালা কুনু জায়গায় চইলা যা, যেহানে তগো জাতিরা আছে। তোরা অ্যামার কতায় অন্য কিছু মনে করিস না বা’জানরা, তগোর ভালার কতা চিন্তা কইরাই কতাডা কইতাছি”।

….. উপরের অংশটা সম্পূর্ণটাই রুপক, তবে অবাস্তব নয়। সেই ১৯৪৭ সাল থেকে মালাউন চাড়ালগুলোর প্রতিবেশী রুপে কালাবুড়ার মতো শুভাকাঙ্ভির চরিত্রগুলো দেখা মেলে অহরহ, যাদের সুপরামর্শে মালাউল চাড়ালগুলা তাদের তিনপূরুষের ভিটি ছাড়ে, শূণ্য করে এবং সেই শুণ্য ভিটিতে কয়েকযুগ পর সুরম্য অট্টালিকার দেখা মেলে, যেগুলো কালাবুড়ার আউলাদদের । কিন্তু একটি বিষয় চাড়াল মালাউণগুলা এবং অনেকের কাছে অজানা থেকে যায়, আর তাহলো পূর্বপূরুষের ভিটি ছেড়ে ভিটান্তরি ও দেশান্তরি হবার রহস্য। রাতের নিকষ কালো অন্ধকারে তাদের গতিবিধি যারা লক্ষ্য রাখতো মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর, নাটকের কাহিনী রচনা করেছে এবং শুকুনের মতো অপেক্ষা করেছে – ওরা চাড়ালদের অপরিচিত কেহ ছিল না, বরং অতি নিকট পরিচিত শুভাকাঙ্খিদের মধ্যে কেহ কেহ – যাদের কাছে চাড়ালগুলা দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়েছিলে একটুখানি নিরাপত্তা ও স্বত্বির প্রত্যাশায়। ….(চিত্রগুপ্ত)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 89 = 97