জনৈক নাস্তিক

আপনি একজন নাস্তিক। ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন।

আপনি যখন মুক্ত-চিন্তা বা আমি যাকে বলি কাপের বাইরে বেরিয়ে চিন্তা করতে যাবেন, যুক্তি দেখাবেন, তখনই হাজারো আজগুবি প্রশ্নের সম্মুখিন আপনি হবেন। যার উত্তর দিতে দিতে আপনি ক্লান্ত হয়ে গেলেও প্রশ্ন কর্তার অমূলক প্রশ্ন শেষ হবেনা। কিন্তু প্রশ্ন যেমন,

*কোন যুক্তি দ্ধারা আপনি নিজেকে নাস্তিক মনে করেন?
*আমি বুঝতে পারছি আপনার জ্ঞানের গভীরতা অত্যন্ত কম।
*আপনাকে আরো অনেক পড়াশুনা করা লাগবে?
*নিজেকে মহাজ্ঞানী না ভেবে পড়ুন জানুন।
*এমন অনেক জ্ঞান আছে যা আমাদের সৃষ্টি কর্তা জানায়নি, শেষ বিচারের দিন প্রকাশ করবেন। কেননা আমরা ক্ষুদ্র জ্ঞানের মানুষ।

আপনার ধর্ম নিয়ে করা প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেউ দিবেনা। বলবে, “আপনি সঠিকটা জানেনা। জানলে এমন বলতেন না”। কিন্তু সঠিকটা কেউ আপনাকে জানাবে না। কারন সঠিকটা সে নিজেও জানেনা এবং বিশ্বাস নিয়ে সে যুক্তির সাথে তর্ক করতে আসবেনা।

মুলত সমস্যাটা এখানেই। যে বিশ্বাসী সে তো বিশ্বাসীই, সে যুক্তি প্রমান ছাড়া অন্ধের মত বিশ্বাস করেছে তার পারিবারিক ধর্মকে। সে যুক্তি মানবেনা। মানতে চাইবে না। তাকে যুক্তি দেওয়াটাও বোকামি মনে হয় মাঝে মাঝে।
ঈশ্বরে বিশ্বাস যুক্তিহীন ভেবেই কিন্তু একজন নাস্তিক ধর্ম ত্যাগ করেছেন। এখন সেই নাস্তিক যদি তার ধর্ম থেকে বের হয়ে আসার কারন ব্যাখ্যা করেন, কি কি পয়েন্ট ভিত্তিহীন থাকার কারনে সে ধর্মত্যাগী হয়েছেন, সেক্ষেত্রে ধার্মিকদের উচিত সুন্দর, সুস্থ এবং যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে তার উত্তর বা সমাধান দেয়া। সব ধর্মই তো বলে তাদের ধর্ম সেরা। তো সেরাই যদি হয়, আপনাদের দ্বারা অবশ্যই সেরা সমাধানটা দেয়া সম্ভম।

সুতরাং গলাবাজি না করে, চাপাতি না বের করে, একজন নাস্তিককে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন না করে সভ্য মানুষের মত তার প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দিতে শিখুন। কারন, সবাই নাস্তিক হতে পারেনা, স্রোতের বিপরীতে সবাই ভাবতে পারেনা।

“Whenever you find yourself on the side of the majority, It is time to pause and reflect.”
– Mark Twain

©অনিক অমনিবাস

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 4 =