সত্যেনুসন্ধানকারী কিছু মুসলিমের মনের কিছু প্রশ্নোত্তর রয়েছে নিম্নের বিতর্কে

”ইসলাম মানব রচিত ধর্ম । বেশ, যুক্তি, তর্ক পেশ করুন। অাপনাকে স্বাগত জানাবো।
টিকতে পারলে টিকবেন, না হলে চিপাচাপা দিয়ে পালাবেন।”

আমার নীতি সম্পর্কে আপনার ভূল ধারনা প্রথমে অপনোদন করছি। আমি কখনও তর্কে জেতার জন্য তর্ক করি না। আমি বিতর্ক করি সত্যে বের করে আনার জন্য। ।শ্রেষ্ঠতর যুক্তির কাছে মাথা নত করাকে আমি পরাজয় মনে করি না, সেটাকে আমি আমার বিজয় মনে করি, কারন আমি সত্যের গোলাম, মিথ্য ও কুহকের গোলাম নয়। যুক্তিতে যেনতেনভাবে জেতার প্রতিযোগিতা বা কাউকে যুক্তিকে হারানোর জন্য যেন তেন পন্থা অবলম্বন করা হীন মানসিকতার পরিচয়- যা দেখা যায় বহু আস্তিক ও বহু নাস্তিক অবলম্বন করে থাকে।
আপনি আমাকে নিয়ে কিছু পোষ্ট পূর্বেও করেছে যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। আপনার এ পোষ্টটি “ইসলাম মানব রচিত ধর্ম”-” সত্য ও বিবেক” ব্লগারের জ্ঞাতার্থে। দৃষ্টিগোচর হওয়াই আপনার ব্লগে একটু চোখ বুলাতে গিয়ে দেখলাম যে আপনি আমাকে নিয়ে আরো পোষ্ট করেছিলেন। আপনি যদি আপনার প্রশ্ন ও যুক্তিগুলো আমার ব্লগে করতেন তাহলে বুঝতাম যে আপনি সত্যিকার অর্থে আমার জবাব জানতে চান। আপনি আমার দেয়া যুক্তি খন্ডন না করে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন।যেহেতু আপনার অভিযোগ এখন আমার দৃষ্টিগোচর হল, আমি আপনার অভিযোগের জবাব দিচ্ছি।
(১) অন্য ধর্মের কোটি কোটি লোক রয়েছে। তাদের ধর্ম কার রচিত? তাদের সংশোধণ করেন না কেন? শুধূ ইসলামের প্রতি এলার্জি কেন?
দেখুন:আমি মুক্তমনা,কেন শুধু ইসলামের সমালোচনা করি।
কিন্তু কোরঅানের ক্ষেত্রে কি বলবেন? ইহার লেখক কে? যদি কোন গ্রন্থ থেকে নকল করা হয় তবে তার যথাযথ রেফারেন্স দিন।
আমার জবাব: আজকের এ আধুনিক যুগে আমি একটি পুস্তক রচনা করে কিছু সুকৌশলি পন্থার আশ্রয় নিয়ে দাবি করি যে এটা স্রষ্টা অবতীর্ণ করেছেন, আমার উপাস্থাপিত কিতাব আমার নিজ হাতে লেখা নাকি অন্য কাহারও সাহায্য নিয়ে লেখা তা তদন্ত করে সত্য বের করা বড়ই কঠিন।অথচ আধুনিক যুগে তদন্ত করা অনেক সহজ।সেখানে আপনি ১৪০০ বছর পূর্বে রচিত একটি পুস্তকের প্রকৃত রচয়িতা কে তা আপনি আমাকে বের করতে বলছেন।
আপনি অন্যান্য কয়েকটি ধর্মের রচনার উৎস সম্পর্কে বলেছেন। উক্ত ধর্মের রচনার উৎস সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন তা হয়ত আংশিক সত্য/পুরোটাই সত্য/পুরোটাই মিথ্যা।এমনিভাবে কুরআন রচনার ইতিহাস অনুসন্ধান আমি করেছি। অনুসন্ধানীতে যা বেরিয়ে এসেছে তা হতে পারে আংশিক সত্য/পুরোটাই সত্য/পুরোটাই ভূল। এতবছর পর পুরো সত্যে নিশ্চিত করে বের করা সম্ভব নয়।যার সত্যেতা নিশ্চিত করা সম্ভব না, শুধুমাত্র ইতিহাসের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বিতর্ক করা বোকামির কাজ এবং সে বিতর্ক শেষ হবার নয়। তাছাড়া কোন পুস্তক স্রষ্টার দাবী করা হলে তার লেখক তদন্ত করা যাদের কাছে দাবী করা হয়েছে তাদের নয়। সুতরাং কোন অকাট্য বিষয় থাকলে সেটি বলুন।
আপনার দেয়া ৩ থেকে ৬ নং পয়েন্ট এর সবগুলো বক্তব্যই ইতিহাস সংক্রান্ত যার ১০০% সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।তাছাড়া কেউ কোন বিষয়ে ত্যগ তিতিক্ষা করলেই তা স্রষ্টার হয়ে যায় না। হিন্দু নাগা বাবারা ধর্মের জন্য যে ত্যগ তিতিক্ষা করে তার নজির আর কিছু দিয়ে সম্ভব নয়।জে,এম,বির লোকেরাও জীবন দিয়ে দেয় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য, তার মানে এ নয় যে জে,এম,বির ইসলাম সঠিক আর তাবলীগ জামাতের ইসলাম বেঠিক। সুতরং ত্যগ-তিতিক্ষা কোন সত্যের মাপকাঠি নয়।
(৭) একমাত্র কোরঅান ছাড়া অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ মুখস্ত করা সম্ভব হয়নি। কেন? সেটা এক দুইজন নয়, কোটির উপরে । এর লজিকটা কি?
কুরআন স্রষ্টার বাণী হওয়ার পক্ষে কুরআনের কি প্রমান আছে তা কুরআন নিজেও উপাস্থাপন করেছে। কুরআন স্রষ্টার বানী হওয়ার পক্ষে মাত্র দু’টি প্রমান উপাস্থাপন করেছে। কুরআনের নিজ উপাস্থাপিত প্রমানই কুরআন স্রষ্টার হওয়ার পক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমান হওয়ার দাবি রাখে।তা এড়িয়ে আপনি ভিন্ন প্রমান উপাস্থাপন করছেন।কোন পুস্তক মুখস্থ করতে পারা তা স্রষ্টার হওয়ার প্রমান বহন করে না।
ঠিক আছে তারপরও আপনি লজিকটা চেয়েছেন, আমি লজিকটা দিচ্ছি:
১. কুরআন মুখস্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে ধর্মীয় আবেগ। ধর্মীয় আবেগ দ্বার কোন মানুষকে যতবড় ত্যগ ও কষ্ট স্বীকার করাতে রাজি করানো সম্ভব তা অর্থ দ্বারা সম্ভব নয়।সাথে সাথে হাফেজ নামক ডিগ্রি পাওয়ার আকাঙ্খা তো থাকেই।
২. যারা কুরআন মুখস্ত করে তাদের একমাত্র পাঠ্য শুধু মুখস্ত করা। সারাদিন একজন শিক্ষকের কড়া তত্ত্বাবধানে থেকে দিনভর ছাত্ররা কুরআন মুখস্তে সময় ব্যয় করে। এভাবে ৩ থেকে ৭/৮ বছর এ একটি পুস্তক মুখস্তে টানা সময় করে।
৩. কোন কিছু মুখস্তের ক্ষেত্রে ছন্দ বা সুরারোপ বেশ ভাল ভূমিকা পালন করে। কুরআনের এক দশমাংশ ছন্দ।আর পুরো কুরআন তেলাওয়াত বা মুখস্তে বিশেষ রীতির সুরারোপ করা হয় যা মুখস্তকে সহজতর করে।
৪. এত কঠোর পন্থা অবলম্বন করে মুখস্ত করার পরও হাফেজরা বাস্তবার্থে পুরোটাকে ধরে রাখতে পারে না যদি না তারা নিয়মিত রিভিশন দেয়া। রমজান মাস আসলে খতম তারাবি পড়ানোর জন্য রিভিশনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়।খতম তারাবিতে যে দিন যে অংশ তেলাওয়াত করা হবে সে অংশ সে দিন বেশিরভাগ সময় রিভিশন তেলাওয়াত করে সময় কাটাতে হয়। তারপরও তারা নামাজে তেলাওয়াতে ভূল করে।
আবার সে ভূল যিনি নামাজে ধরিয়ে দেন তার সে হাফেজের সাথে মনোমালিন্য ও ঝগড়া হয়।আবার পরস্পর খাতির থাকলে কখনও কখনও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে যতটুকু কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ততটুকু এড়িয়ে যায়।
যে সব হাফিজরা রিভিশন দেয় না তাদেরকে কুরআনের বিভিন্ন অংশ থেকে জিজ্ঞাসা করলে ঠিকমত মুখস্ত তেলাওয়াত করতে পারে না।
উপরোক্ত পন্থা অবলম্বন করলে পৃথিবীর যে কোন পুস্তকই উপরোক্ত পদ্ধতিতে মুখস্ত করা সম্ভব।
(৮) কোরঅান ছাড়া এমন কোন ধর্মগ্রন্থ নেই যা সংশোধন বা পরিমার্জন হয়নি। কিন্তু কোরঅানের শুরু থেকে একটি অক্ষর পর্যন্ত পরিবর্তন হলো না কেন?
আমার জবাব:
কুরআন কতটুকু পরিমার্জন হযেছে কিনা তার সত্যতাও ১০০% তদন্ত করে বের করা সম্ভব নয়।তবে আমার অনুসন্ধানীতে কুরআন সংগ্রহের সময় (মুহাম্মদ স: এর তিরোধানের পর, হযরত ওসমানের সময়) কিছুটা যোজন-বিয়োজন হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়েছে।যেহেতু আমার পাওয়া তথ্য ও তত্ত্ব আর আপনার সাম্ভাব্য উপাস্থাপিত তথ্য ও যুক্তির কোনটার সত্যতা ১০০% যাচাই করা সম্ভব নয়, তাই এ নিয়ে আমি বিতর্ক করতে চাই না বা প্রয়োজনও নেই। কারন কোন পুস্তক অপরিবর্তিত থাকা সে পুস্তক স্রষ্টার হওয়ার অকাট্য প্রমান বহন করে না।
কুরআন স্রষ্টার হওয়ার পক্ষে অকাট্য ও বর্তমানে প্রমানযোগ্য এমন কোন প্রমান যদি আপনার কাছে থাকে তা উপাস্থাপন করুন।
আপনার দ্বিতীয় ভাগে উপাস্থাপিত প্রশ্নের জবাব:
একটু গল্প দ্বারা জবাবটি দেই।কোন এক যুগে একজন লোক চিৎকার করে বলতে শুরু করলো যে বেগুন বাকা কেন? কেউ এর উত্তর দিতে পারছিল না। এ নিয়ে গ্রাম জুড়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেল। হঠাৎ একজন লোক দৌড়ে এসে বললো আমি এর জবাব জানি। সকল উৎসুক লোক তার কাছে জবাব জানতে চাইল।
তিনি বললেন ’নদী বাকানং তো বেগুন বাকানং’ অর্থ্যাৎ নদী যেহেতু বাকা তাই বেগুন বাকা হয়েছে।
এবার লোকেরা বললো আচ্ছা তা তো বুঝলাম, তাহলে নদী বাকা কেন?
জবাবে তিনি বললেন যে ‘চাদ বাকানং তো নদী বাকানং’ অর্থ্যাৎ চাদ বাকা হয়েছে তাই নদী বাক হয়েছে।
এবার গ্রামের লোকেরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেল।কিছু লোক উক্ত লোকের জবাব পেয়ে উক্ত লোকেরা অনুসারী হয়ে গেল।যেহেতু উক্ত লোকের জবাবটা বোগাচ ও আন্দাজহেতু বানোয়াট, আর বানোয়াট উত্তর হাজার রকমেরই হয়ে থাকে (১+১=২- একটি সঠিক উত্তর, আর ভূল উত্তর কতটা হবে তার ইয়ত্তা নেই)।এ কারনেরা উক্ত লোকেরা অনুসারীরা বেগুন বাকা হওয়ার কারনকে বিভিন্ন ভাবে ব্যখ্যা করে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হল।
আর কিছু লোক বেগুন বাকা হওয়ার পক্ষে উপাস্থাপিত ঐ সকল ফালতু, হাস্যকর জবাব প্রত্যখ্যান করল।যারা প্রত্যখ্যান করলো তাদের বিশ্বাস যে এ বিশ্বজগতের তুলনায় আমরা অনুর সমানও নয়, এ মহাজগতের রহস্য সম্পর্কে হাজারও প্রশ্ন রয়েছে যার সবগুলোর জবাব জানা হয়ত কোনদিন সম্ভব হবে না।কোন প্রশ্নের জবাব না জানলে ফালতু একটি জবাব তৈরি করে সন্তুষ্ট হওয়া বেকুফ লোকদের কাজ হতে পারে, বুদ্ধিমানেরা কখনও এরুপ করতে পারে না।
বেগুনের অনুসারী বলতে আমি ধর্মানুসারীদের তুলনা করেছি।পৃথিবীর সকল ধর্মই নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। সকল ধর্মের ক্ষেত্রে সে প্রশ্নগুলো এক ও অভিন্ন।উত্তর গুলো ভিন্ন ভিন্ন হওয়াই ধর্মগুলোও ভিন্ন ভিন্ন।
আপনার উথ্থাপিত প্রশ্নের উত্তরগুলো যদি ধরেও নেই যে আপনার ধর্ম, তারপরও আরো অনেকগুলো প্রশ্ন রয়ে যায় যার কোন উত্তরই আপনি দিতে পারবেন না।লেখা বড় হওয়াই এবং সে প্রশ্নগুলো প্রাসঙ্গিক কিন্তু মৌলিক না হওয়াই সে আলোচনায় আপাতত যাচ্ছি না।
প্রথম ও প্রধান বিষয় হল আপনি যদি দাবি করেন যে স্রষ্টা বিধান দিয়েছে তা হলে তার পক্ষে অকাট্য ও বর্তমানে প্রমানযোগ্য প্রমান উপাস্থাপন করুন।এ বিষয়টি সমাধা হলে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা রইল।
যিনি কোন পুস্তককে স্রষ্টার দাবি করেন তারই প্রথম দায়িত্ব হয়ে থাকে তার দাবির পক্ষে প্রমান উপাস্থাপন করা।যার কাছে দাবি উপাস্থাপন করা হল এটা তার দায়িত্ব নয় যে তা প্রমান করা যে পুস্তকটি স্রষ্টার নয়। তারপরও আমার কাছে বহু প্রমান রয়েছে যে কুরআন মানবরচিত স্রষ্টার নয়। সে প্রমানগুলো থেকে মাত্র কয়েকটি প্রমান আমার ব্লগে দিয়েছি। আরো প্রমান দেয়া হবে।
ভাল থাকবে। ধন্যবাদ।

সেলিম৮৩ বলেছেন: অাপনার যুক্তিগুলো পড়লাম। সত্যিই অাপনার উত্তরদানের পদ্ধতি একেবারে হোমিওপ্যাথি স্টাইল। ডাক্তারের নিকট যাবেন জ্বর নিয়ে: জিজ্ঞেস করবে, অাপনার পরদাদার জীবনে কতবার জ্বর এসেছিলো?
যাহোক, অাপনি যুক্তি পছন্দ করেন। তাই যুক্তি ছাড়া কোন কথা বলবোনা।
আমি কেন শুধু ইসলামের সমালোচনা করি:
এই প্রশ্নের উত্তরে অাপনি বলেছেন, যেহেতু আমি ইসলাম নিয়ে পড়া-শোনা করেছি তাই আমি শুধু ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করতে পারি। অন্য ধর্ম সম্পর্কে আমার জ্ঞান অনেক সীমিত। তাই সেগুলো নিয়ে সমালোচনা করা আমার সামর্থের বাহিরে।
অাপনি নিশ্চিত থাকুন অাপনার বিশ্বাস এবং যুক্তি দিয়ে একজন মুসলমানকেও বিভ্রান্ত করতে পারবেন না।একমিনিটের জন্য মেনে নিলাম, ইসলাম মানব রচিত ধর্ম এবং অামি ইসলামকে অগ্রাহ্য করলাম। এখন অামি যখন বিয়ে করতে যাবো তখন কি উপায় হবে? এই হুজুর/মোল্লা ছাড়া কিভাবে বিয়ে করবো? পথটা কি দেখিয়ে দিন। যেহেতু অামি ইসলামকে অস্বীকার করি, সুতরাং মরনের পর অামার লাশটার কি করা উচিত সেটার একটা পদ্ধতি ঠিক করে রাখা জুরুরী নয় কি?
কোন দেশ সমকামীতাকে বৈধতা দিচ্ছে, উলঙ্গ পার্ক এবং উলঙ্গ হয়ে সৈকতের ঘোরার ব্যবস্থা সংসদে পাশ করে দিচ্ছে, একটি প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে উভয়ের সম্মতিতে যৌনকর্মে লিপ্ত হলে কোন অপরাধ হিসাবে গন্য করা হচ্ছেনা। তো, একেক দেশে একেক অাইন ব্যবস্থার কোনটাকে অাপনি সঠিক মনে করে চলবেন? কোন দেশে মৃত্যৃদন্ড মানবতা বিরোধী কর্ম, অাবার কোন দেশে সেটা সঠিক। কোন দেশে মদ বৈধ অাবার কোন দেশে মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ। অাপনি বৃটেন, অামেরিকায় যে কোন নারী নিয়ে অবাধে রাত কাটাতে পারবেন। বাংলাদেশে/ভারতে কেন সম্ভব নয়? এখন ইসলামী বিধিবিধান বাদ দিলে, অাপনি সঠিক পথ খুঁজে পাবেন না। দিন-রাত সব অাপনার নিকট সমান মনে হবে। মনে রাখতে হবে, ইসলাম একটা পূনাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এটা শুধু কোন ধর্মের নাম নয়।
অাপনি বলেছেন,
ধর্মের রচনার উৎস সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন তা হয়ত আংশিক সত্য/পুরোটাই সত্য/পুরোটাই মিথ্যা।এমনিভাবে কুরআন রচনার ইতিহাস অনুসন্ধান আমি করেছি। অনুসন্ধানীতে যা বেরিয়ে এসেছে তা হতে পারে আংশিক সত্য/পুরোটাই সত্য/পুরোটাই ভূল। এতবছর পর পুরো সত্যে নিশ্চিত করে বের করা সম্ভব নয়।
MCQ পরীক্ষা দেয়ার বিষয় এটা নয়। অাপনার নিকট প্রমাণ চেয়েছি, কোরঅান মানব রচিত অথবা নকলকৃত গ্রন্থ কি-না। আংশিক সত্য/পুরোটাই সত্য/পুরোটাই ভূল। এটা কোন উত্তর হতে পারেনা। অাপনাকে একটি উত্তর দিতে হবে না হলে উত্তর ভুল হিসাবে গন্য হবে। পুরো সত্যটা যেখানে অাপনি বের করতে অক্ষম সেখানে অাপনি ইসলামের বিপক্ষে কলম ধরেছেন কোন সত্য নিয়ে?
এতবড় একখানা গ্রন্থ নকল করে লেখা হলো বলা যায় পুকুর চুরি; অার তার কোন প্রমাণ নেই । বিষয়টি হাস্যকর নয় কি? তখনকার সময়ে মুহম্মাদ(সাঃ) এর বিরোধী পন্ডিতের তো অভাব ছিলোনা। তারা তো দুএকটি তথ্য ফাঁস করে দিতে পারতো। না-কি?
অাপনি বলেছেন,
কুরআন মুখস্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে ধর্মীয় আবেগ।
তাহলে, এই অাবেগটা অন্য কোন ধর্মে নেই কেন? খৃস্টান, হিন্দুরা কি তাদের ধর্ম গ্রন্থের প্রতি কোন অাবেগ নেই? তাদের মধ্যে বিরাট বিরাট ধর্মীয় পন্ডিত, গুরু রয়েছেন। তারা কি ধর্মীয় অাবেগ বহির্ভুতভাবে চলেন? গীতা এবং বাইবেলের অন্তত একজন হাফেজ তো থাকা উচিত ছিলো।
অাপনি বলেছেন, কোরঅান ছন্দ অাকারে লেখা তাই মুখস্ত করা সহজ। তো, এতবড় বিরাট কবি মুহম্মাদ(সাঃ) কি করে হলেন? বুঝিয়ে বলবেন কি?
অামি বলেছি, কোরঅান ছাড়া এমন কোন ধর্মগ্রন্থ নেই যা সংশোধন বা পরিমার্জন হয়নি। কিন্তু কোরঅানের শুরু থেকে একটি অক্ষর পর্যন্ত পরিবর্তন হলো না কেন?
অাপনি বলেছেন, কুরআন কতটুকু পরিমার্জন হযেছে কিনা তার সত্যতাও ১০০% তদন্ত করে বের করা সম্ভব নয়।
বেশ চালাকের সাথেই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর অাপনি পাশ কাটিয়ে যান। অাপনি ১০০% তদন্ত করে বের করতে না পারেন ৮০% কি ৯০% তো পেরেছেন। তো সেই তদন্ত রিপোর্ট উল্লেখ করুন। যা উল্লেখ করেছেন তা ১% হয়নি।
অাপনাদের মত লোকের চরিত্র সম্পর্কে অাল্লাহ ভালো করেই জানেন। অাপনার জন্য নিচের অায়াতগুলো।
“যদি আমি তোমার প্রতি কাগজে লিখিত কোন কিতাব অবতীর্ণ করতাম, অতঃপর তারা তা নিজেদের হাত দ্বারা স্পর্শও করত; তবুও কাফির ও অবিশ্বাসী লোকেরা বলতঃ এটা প্রকাশ্য যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।”
“আর তারা বলে থাকে, তাদের কাছে কোন মালাক/ফেরেশতা কেন পাঠানো হয়না? আমি যদি প্রকৃতই কোন মালাক/ফেরেশতা অবতীর্ণ করতাম তাহলে যাবতীয় বিষয়েরই চূড়ান্ত সমাধান হয়ে যেত, অতঃপর তাদেরকে কিছুমাত্রই অবকাশ দেয়া হতনা।”
“আর যদি কোন মালাককেও/ফেরেশতাকেও রাসূল করে পাঠাতাম তাহলে তাকে মানুষ রূপেই পাঠাতাম; এতেও তারা ঐ সন্দেহই করত, যে সন্দেহ ও প্রশ্ন এখন তারা করছে।”
২৩ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১২:৪২ ০
লেখক বলেছেন: ————–এই হুজুর/মোল্লা ছাড়া কিভাবে বিয়ে করবো? পথটা কি দেখিয়ে দিন। যেহেতু অামি ইসলামকে অস্বীকার করি, সুতরাং মরনের পর অামার লাশটার কি করা উচিত সেটার একটা পদ্ধতি ঠিক করে রাখা জুরুরী নয় কি?পথটা কি দেখিয়ে দিন ——
আমার জবাব:
পথটি আমি অবশ্যই দেখিয়ে দিব। তার আগে আপনার কাছে আমার একটি প্রশ্ন: আপনার দৃঢ় বিশ্বাস ইসলাম স্রষ্টা প্রদত্ত বিধান আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে ইসলাম মানব রচিত বিধান। ধরুন- আমার সাথে বিতর্কের পর প্রমানিত হল এবং আপনি স্বীকার করতে বাধ্য হলেন যে ইসলাম মানব রচিত ধর্ম, তখন আপনি কি করবেন?
MCQ পরীক্ষা দেয়ার বিষয় এটা নয়। অাপনার নিকট প্রমাণ চেয়েছি, কোরঅান মানব রচিত অথবা নকলকৃত গ্রন্থ কি-না।[ —-পুরো সত্যটা যেখানে অাপনি বের করতে অক্ষম সেখানে অাপনি ইসলামের বিপক্ষে কলম ধরেছেন কোন সত্য নিয়ে?/sb]
আমি এমসিকিউ এর মত কেন লিখেছে তার কারন প্রথমে ব্যখ্যা করেছে, তা কি আপনার চোখে পড়েনি? পোষ্টে কারনটি এভাবে লেখা আছে,আবার একটু চোখ বুলিয়ে দেখে নিন-
আজকের এ আধুনিক যুগে আমি একটি পুস্তক রচনা করে কিছু সুকৌশলি পন্থার আশ্রয় নিয়ে দাবি করি যে এটা স্রষ্টা অবতীর্ণ করেছেন, আমার উপাস্থাপিত কিতাব আমার নিজ হাতে লেখা নাকি অন্য কাহারও সাহায্য নিয়ে লেখা তা তদন্ত করে সত্য বের করা বড়ই কঠিন।অথচ আধুনিক যুগে তদন্ত করা অনেক সহজ।সেখানে আপনি ১৪০০ বছর পূর্বে রচিত একটি পুস্তকের প্রকৃত রচয়িতা কে তা আপনি আমাকে বের করতে বলছেন।
এবং আরো লিখেছিলাম:
এতবছর পর পুরো সত্যে নিশ্চিত করে বের করা সম্ভব নয়।যার সত্যেতা নিশ্চিত করা সম্ভব না, শুধুমাত্র ইতিহাসের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বিতর্ক করা বোকামির কাজ এবং সে বিতর্ক শেষ হবার নয়। তাছাড়া কোন পুস্তক স্রষ্টার দাবী করা হলে তার লেখক তদন্ত করা যাদের কাছে দাবী করা হয়েছে তাদের নয়। সুতরাং কোন অকাট্য বিষয় থাকলে সেটি বলুন।
কারনটি আরো ব্যখ্যা করছি:
এটা এ পৃথিবীর চরম বাস্তবতা যে বর্তমানে ঘটে যাওয়া ঘটনার মধ্যেও মানুষকে কিছু তথ্যের বিভ্রান্তিতে ফেলে বিভ্রান্ত করা যায়। বোঝার সুবিধার্থে আপনি সিনেমার কিছু দৃশ্যর কথা কল্পনা করুন যেখানে নায়ক বা নায়িকা বা তাদের পিতা-মাতাকে কিছু তথ্য বিভ্রাটের মাধ্যমে চরমভাবে বিভ্রান্তিতে ফেলা হয়। যেখানে নায়ক নিজ চোখে দেখে যে সে শত্রুর কাছ থেকে যা শুনেছে তা সত্য, তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, শত্রুর কথার প্রমানও সে পেয়ে যায়। যতক্ষন না নায়কের কাছে তথ্যের বিভ্রান্তির জট খোলে ততক্ষন সে বিভ্রান্তিতেই থাকে। সিনেমাতে বাস্তবতার সাথে অতিরঞ্জন থাকে, এ কথা সত্য। কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু সত্যেও তুলে ধরা হয় যা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না।
যেখানে বর্তমানের ঘটনাকে তথ্য বিভ্রাটের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায় সেখানে অতীতের ঘটনাকে কি করা যায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বেশিদূর যেতে হবে না, আপনি যদি শেখ মুজিবের/জিয়ার আদর্শের একান্ত অনুগত ও নিবেদিত কোন ব্যক্তির কাছ থেকে উক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে চান সেখানে আপনি কনভিন্সড হবেনই। আপনি যদি উভয় আদর্শের লোকদের আপনার সম্মুখে বিতর্কে বসিয়ে দিন তাহলে সত্যের কাছাকাছি যেতে পারবেন। তবে দেখবেন উভয়ের বিতর্ক শেষ হওয়ার নয়, এমন পরিস্থিতি হয়েছে, এবং কিছু সত্য উভয়েই লুকাচ্ছে এবং পরস্পর একই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন ব্যখ্যা করছে। এটা নিকটবর্তী ইতিহাস হওয়াই সত্যের কাছাকাছি যেতে পারবেন। যেখানে নিকটবর্তী ইতিহাসে ১০০% সত্যে উদ্ধার সম্ভব নয়, সেখানে ১৪০০ বছর পূর্বের ঘটনার সত্যে উদ্ধার কোনভাবেই সম্ভব নয়।

তাহলে, এই অাবেগটা অন্য কোন ধর্মে নেই কেন?
প্রথমে আপনাকে স্বীকার করতে হবে, কুরআন মুখস্ত করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ধর্মীয় আবেগ রয়েছে। হাফেজ হলে পরকালে নুরের টুপি পরানো হবে, জাহান্নামের উপযু্ক্ত এমন দশজনকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিতে পারবে একজন হাফেজ, ইত্যাদি ইত্যাদি বিশ্বাস ছাত্রদের হাফেজ হওয়ার ধর্মীয় আবেগ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এখন এ আবেগ অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে নেই কেন, সেটা আরেকটি প্রশ্ন।
সব ধর্মের বিধান ও আবেগ একই বিষয়ে থাকতে হবে এমন কথা তো নেই। হিন্দু ধর্মের কিছু আবেগ কিছু হিন্দুকে নাগা বাবা বানাই, এখন যদি বলি নাগা বাবাদের মত ত্যগ-তিতিক্ষা দেখানোর আবেগ মুসলমানদের মধ্যে নেই কেন? এক ধর্মের আবেগ আরেক ধর্মের আবেগের সাথে মিলালে চলবে না। যার ধর্ম যাকে যে বিষয়ে শিক্ষা দেয় তার ধর্মের লোকের সে ধরনের শিক্ষানুসারে আচরণ করে থাকে। হিন্দু সন্তানদের জন্য এটা সেখানো হয় না যে বেদ মুখস্ত করলে পরজগতে অমুক অমুক ফায়দা। বেদ মুখস্তের জন্য হিন্দু ধর্মে কোন ব্যবস্থা নেই, তাই তাদের মধ্যে এ ধরনের উদ্যেগ দেখা যায় না। আর এ ধরনের উদ্যেগ না থাকাই সম্পূর্ন বেদে মুখস্তের লোকও পাওয়া যায় না।

বেশ চালাকের সাথেই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর অাপনি পাশ কাটিয়ে যান। অাপনি ১০০% তদন্ত করে বের করতে না পারেন ৮০% কি ৯০% তো পেরেছেন। তো সেই তদন্ত রিপোর্ট উল্লেখ করুন। যা উল্লেখ করেছেন তা ১% হয়নি।

কেন সে তদন্ত রিপোর্ট উল্লেখ করিনি তা আমার পোষ্টে পরিস্কারভাবে এভাবে (নিম্নরুপ) বর্নিত আছে, তা দেখার দৃষ্টি শক্তি কি আপনার নেই?
কুরআন কতটুকু পরিমার্জন হযেছে কিনা তার সত্যতাও ১০০% তদন্ত করে বের করা সম্ভব নয়।তবে আমার অনুসন্ধানীতে কুরআন সংগ্রহের সময় (মুহাম্মদ স: এর তিরোধানের পর, হযরত ওসমানের সময়) কিছুটা যোজন-বিয়োজন হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়েছে।যেহেতু আমার পাওয়া তথ্য ও তত্ত্ব আর আপনার সাম্ভাব্য উপাস্থাপিত তথ্য ও যুক্তির কোনটার সত্যতা ১০০% যাচাই করা সম্ভব নয়, তাই এ নিয়ে আমি বিতর্ক করতে চাই না বা প্রয়োজনও নেই। কারন কোন পুস্তক অপরিবর্তিত থাকা সে পুস্তক স্রষ্টার হওয়ার অকাট্য প্রমান বহন করে না।
কুরআন স্রষ্টার হওয়ার পক্ষে অকাট্য ও বর্তমানে প্রমানযোগ্য এমন কোন প্রমান যদি আপনার কাছে থাকে তা উপাস্থাপন করুন

আপনি যদি অকাট্য ও বর্তমানে প্রমানযোগ্য কোন প্রমান উপাস্থাপন করতে ব্যর্থ হন এবং স্বীকার করেন যে কুরআন মানব রচিত তখন আমি মুহাম্মদা স: কিভাবে কুরআন রচনা করলেন আর কুরআন আদৌ পরিবর্তন হয়েছে কিনা, হলে কতটুকু, ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর আমার অনুসন্ধানীতে যা বেরিয়ে এসেছে তা উপাস্থাপন করবো। কুরআন মানবরচিত প্রমানিত হওয়ার পরও পাঠকের মনে ঐ সকল বিষয়ে কিছু কৌতুহল থেকে যায়, সে কৌতুহলের জবাব হিসাবে আমি আমার অনুসন্ধানীর তথ্য উপাস্থাপন করবো।
আমি দাবি করছি না যে আমার অনুসন্ধানীতে বের হওয়া তথ্য ১০০% সঠিক, আর আপনাকেও স্বীকার করতে হবে আপনি যে ইতিহাস শিখেছেন তাও ১০০% প্রমান যোগ্য না হওয়াই ১০০% সঠিক হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
লেখকের জবাব:
আপনার প্রশ্ন:
ক। প্রমাণ করুন যে জুমার নামাজ, তাফসির, তাবলিগের ওয়াজ, ওয়াজ মাহফিল, শত শত ইসলামি বই ইত্যাদি অমুসলিমদের মুসলিম বানানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আমার উত্তর:
আপনি আমার কথার ভূল অর্থ গ্রহণ করেছেন। ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে যত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার শত ভাগের একভাগও অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে না।প্রচার ও প্রসার এর কর্মসূচী শুধু মাত্র ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে করাকে বোঝায় না।
ধরুন আওয়ামিলিগ যদি তাদের দলীয় আদর্শের ব্যপক প্রচার,প্রসার ও প্রতিষ্ঠা লাভ করাতে চায়, তাহলে যে সকল কর্মসূচী গ্রহণ করবে তার সকল কর্মসূচীকেই দলীয় আদর্শের প্রচার-প্রসারের কর্মসূচী বলা হবে।তাদের এ ধরনের কর্মসূচী যথার্থ তখনই হবে যখন তারা নিজ দলের কর্মীদের মধ্যে সর্বপ্রথম সবচেয়ে ভাল করে প্রচার করবে এবং শিখন-প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবে। তারা নিজ দলের কর্মীদের ভাল করে প্রশিক্ষন না দিয়ে আগেই তার বিরোধী দল তথা জামাত-বি, এন,পি ইত্যাদির অনুসারীদের মাঝে আগেই প্রচারে লেগে যাবে না।
সুতরাং ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যেমন মুসলমান নিজেদের মধ্যে লক্ষ কোটি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা রয়েছে ঠিক তেমনি ভিন্ন ধর্মের লোকদেরকে কনভার্ট করাতেও আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আপনার প্রশ্ন:
খ। ধরেই নিলাম এসব ইসলাম প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা আপনার সমালোচনার বিষয়বস্তু হবে কেন? তারা যা সত্য মনে করছে তা অন্যদের মাঝে প্রচার করছে। আপনার কথা অনুযায়ী “যার যে ধর্ম বা আদর্শ ভাল লাগবে সে তা গ্রহণ করবে”। তারা কি মানুষকে জোর করছে?
আপনিও কি ব্লগে একই কাজ করছেন না?
আমার জবাব:
আপনি আমার লেখার কোন অংশে পেলেন যে আমি এ প্রচারকে সমালোচনা করেছি? আমার লেখার যে অংশে এ প্রচার সংক্রান্ত কথাটি বলেছি তা আবার এখানে তুলে ধরছি, আপনি আবার পড়ে দেখুন কথাটির সারাংশ কি দাড়ায়।
[ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য যত হাজার হাজার বই, পুস্তক, সাময়িকি প্রকাশ করা হয়, হাজার হাজার ওয়াজ নসিহত প্রচার করা হয়, শত শত প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা শত শত কোটি টাকা ইসলাম প্রচারে ব্যয় করছে, আবার ধর্মের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে (বিভিন্ন ধরনের মাদ্রাসা)- তার অর্ধেকও যদি অন্য আদর্শ ও ধর্মাবলম্বীরা করত তাতেই যতজন মানুষ অন্য আদর্শ থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে থাকে তার চেয়ে বেশি ভিন্ন আদর্শ গ্রহণ করতো। তাছাড়া কেউ ইসলাম ছেড়ে অন্য আদর্শ গ্রহণ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয় এবং এমনকি হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।]
আপনার প্রশ্ন:
২। আমার মন্তব্যের এ অংশটুকু আপনার জন্য ছোট একটা পরীক্ষা।
আপনি লিখেছেন-
“শুধু ধর্ম শিক্ষার জন্য মুসলমানদের মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, অন্য কোন ধর্মে শুধু ধর্মের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।”
আপনি যেহেতু পুরোপুরি অস্বীকার করলেন। তাই আমি মনে করছি আপনার দাবী খণ্ডনে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করাই যথেষ্ট হবে।
জনাব কি কখনো “রামকৃষ্ণ মিশনে”র নাম শুনেছেন?
আপনার প্রশ্নঃ
এবার আপনার “বিবেক ও সত্য” নাম এবং এতদিনের সত্যের ব্রতকে সার্থক প্রমাণ করতে কষ্ট করে একটু স্বীকার করবেন কি যে আপনার উপরোক্ত দাবীটি মিথ্যা?
আমার জবাব:
আপনি এখানেও আমার কথার ভূল অর্থ গ্রহণ করেছেন।”রামকৃষ্ণ মিশনে” কোন স্কুল-কলেজ বা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের নাম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে সাধারণত বিদ্যালয় বোঝায়। আপনি হয়ত বলবেন “রামকৃষ্ণ মিশনেও শিক্ষা-দীক্ষা দেয়া হয়।”রামকৃষ্ণ মিশনে”র মত হাজার হাজার ইসলামীক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে যারা ইসলামেরও বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে থাকেন, তাই বলে সেগুলোকে বিদ্যালয় বলা হয় না। আমার দাবী ছিল যে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের শিক্ষা প্রচার-প্রসারের নিমিত্তে মুসলমানদের মাঝেই আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যা অন্য কোন ধর্মের মাঝে নেই।
আপনার প্রশ্নঃ
৩। মুসলিমরা তাদের বিশ্বাসে নিজেদের ধর্মকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে। তারা এও বিশ্বাস করে যে শয়তান মানুষের চিরস্থায়ী শত্রু। সে মানুষকে ধোকা দিয়ে অন্যায় পথে পরিচালিত করে। অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিও যেখানে মুহূর্তের দুর্বলতায় শয়তানের ফাঁদে পড়ে যায়। সেখানে একজন মুসলিম পিতা কেন তার সন্তানকে ছোটবেলায়ই সতর্ক করবে না?
আপনিও নিশ্চয়ই আপনার সন্তানকে ছোটবেলায় একবারের জন্য হলেও একথা পুশ করতে ভুলবেন না যে সব ধর্মই মানুষের বানানো
আমার জবাব:
আমার লেখার কোথায়ও কোন আদর্শের প্রচার করা খারাপ কাজ বা অনুচীত তা বলিনি। প্রশ্নের আগে বক্তব্য ভাল করে বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু তুলনা করতে চেয়েছি যে ইসলাম প্রচার-প্রসারের জন্য যত অর্থ ব্যয় করা হয়, যত পদক্ষেপ ও কর্মসূচী গ্রহণ করা হয় তা অন্য ধর্মের প্রচারনার তুলনায় ৯৯ গুন বেশি।এতটুকু কেন এর চেয়ে অর্ধেকও যদি অন্য যে কোন ধর্ম বা আদর্শের ক্ষেত্রে করা হয় তাহলে সে ধর্ম বা আদর্শের প্রসারও হবে অনেক বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি।
আপনার প্রশ্ন:
[আপনার এ প্রশ্নটি অনেক বড়, যার সার কথা হল ভিন্ন ধর্মের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামের আদর্শে মুগ্ধ হয়ে আর মুসলমানেরা অমুসলিম হয় আত্মস্বার্থে]
আমার জবাব:
আজ যদি শিয়া ও সুন্নি বা জামায়াতে ইসলামী ও তাবলীগের মধ্যে বিতর্কো করতে দেয়া হয় এ বিষেয়ে যে কার দলে লোক বেশি আসে বা কম আসে, তা কেন? তাহলে দেখবেন প্রত্যেকেই তার নিজ পক্ষে বহু পয়েন্ট সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে- আর এমন বিতর্ক শেষ হবার নয়।সুতরাং কার দলে কত লোক গেল বা বের হল সেটা বিতর্কের কোন মৌলিক বিষয় নয়, এমন বিষয়ে বহু কথা বলা যায়। বুদ্ধিমান লোকেরা মৌলিক ও দ্ব্যর্থহীণ বিষয় নিয়ে কথা বলে থাকে। আর আমার যে পোষ্টের সমালোচনা আপনি করেছেন সে পোষ্টের বিষয়বস্তু এক কথায় বললে নিম্নরুপ হয়-
’মুসলমানেরা মিথ্যা দাবী করে যে কেউ ইসলাম ত্যগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করে না, অথচ বাস্তবে অন্য ধর্ম ত্যগ করে যেমন কিছু মানুষ মুসলমান হয় তেমনি মুসলমানেরাও অন্য ধর্ম গ্রহণ করে থাকে।’
অপনার যুক্তি সম্পর্কে শুধু এতটুকু বলবো যে ধর্ম ত্যগ করলে পরিবার কখনও গ্রহণ করে না সে যে ধর্মেরই হোক না কেন। তবে মুসলমান থেকে কেউ অমুসলিম হলে শুধু মাত্র উক্ত মুসলিমের পরিবারই তাকে ত্যগ করে না বরং তাকে পুরো মুসলিম জাতি ’মুরতাদকে হত্যা করে’ ফতোয়া দিয়ে হত্যা করতে চায়।
আপনার প্রশ্ন ও আমার জবাব:
আপনার পঞ্চম প্রশ্নটি চরিত্র হনন নিয়ে।চরিত্র হনন বলতে বুঝিয়েছি যে কারো ইমেজকে খাটো করা। আর কারো ইমেজকে খাটো করতে গেলে মানুষ সত্য ও মিথ্য উভয়টি মিলিয়েই বলে থাকে।মনে করুন বি, এন, পি যখন আওয়ামিলিগের সমালোচনা করে থাকে তখন নিশ্চয়ই বি, এন, পি যা বলে তার ১০০% মিথ্যা নয়, একইভাবে আওয়ামিলিগের সমালোচনা বি, এন, পি সম্পর্কে যা হয় তার ১০০% মিথ্যা নয়। এখানে সত্য-মিথ্যার মিশ্রন থাকে।
এরপর আপনি কিছু বক্তব্যে বোঝাতে চেয়েছেন যে খ্রিষ্টান ধর্ম আগে আসায় তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলে মুসলমানেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হত। তবে এতদিনে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে ব্যর্থ হলেও এবার 2070 সালের মধ্যে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে।
এ কথা বলার পর যখন দেখলেন কথাটিই হয়ত পুরোপুরি খাপ খায় না, তাই পরিশেষে নিজের কথার বিপরীতে গিয়ে সত্য স্বীকার করলেন এভাবে ‘এত কিছুর পরও সর্বশেষ বলতে চাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ধর্মত্যাগ কোনটাই ধর্মের সত্যতার মানদণ্ড নয়।’
(এ উত্তরটি আরেকটি পোষ্ট আকারে দেয়া হয়েছিল)

১. ২১ শে অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:২৩ ০
বাবুরাম সাপুড়ে১ বলেছেন: সমস্ত ধর্ম এবং ধর্ম গ্রন্থ মানব রচিত।
আমার আগের কোন একটি পোস্টে আমি এগুলি লিখেছিলাম :
ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান উপকরণ ধর্মীয় কিতাব গুলো। আমাদের পরিচিত ধর্মগ্রন্থ গুলোর (যেমন কোরান অথবা রামায়ণ /মহাভারত /গীতা ) বেশিরভাগ অংশই ব্যক্তিবিশেষ বা তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বর্ণনা , কতজন স্ত্রী বা সঙ্গিনী অথবা বিভিন্ন যুদ্ধ , হত্যা , গোত্রে গোত্রে লড়াই , ব্যক্তি বিশেষের হামবড়াই , আমিই শ্রেষ্ঠ , আমিই ঈশ্বরের প্রতিনিধি ইত্যাদি নিয়ে। ধর্মগ্রন্থ গুলোর কাহিনী গুলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেমন রামায়ণ /মহাভারত /গীতার প্রেক্ষাপট ভারতের কিছু অংশে ঠিক যেমন কোরানের ঘটনাগুলো বর্তমান সৌদি আরবের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার থেকে হিংসার বর্ণনা এবং নিজ নিজ গোত্রের /ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করা ধর্ম গ্রন্থগুলোর প্রধান উপজীব্য। সাইড ডিশ হিসাবে কিছু ফিলোসফিক্যাল কথাবার্তা এবং হ্যান করলে স্বর্গ /জান্নাত এবং ত্যান করলে নরক /দোজখ ইত্যাদির লোভ এবং ভয়/ভীতি প্রদর্শন।এগুলো কোন ভাবেই কোন ঈশ্বরের সৃষ্টি হতে পারে না।
“ধার্মিকরা” এসব কথা মেনে নেবেন না, কারণ তা হলে এত সব ঐশী কিতাব গুলোর কি হবে ? এত এত মহাপুরুষ /নবী/গডম্যান এবং তাদের চেলা চামুন্ডা যাঁরা সাধারণ মানুষকে ঠুঁসে ঠুঁসে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত তোতা পাখী বানিয়েছেন সেই তোতারা আতা গাছে বেল ঠোকরাবে ??

ব্লগার সেলিম৮৩ রাজীব আহসানএর এক পোস্টে এই কমেন্ট করেছিলেন। এগুলো একদম জোকার নায়েক টাইপের যুক্তি। জোকার নায়েক তার ছাগুলে দাড়ি দুলিয়ে এই ধরণের অনেক যুক্তি দেয়।
সেলিম৮৩ বলেছেন: একটা অাই ফোন অাপনার হাতে অাছে। এই অাই ফোন নির্মাতা ফোনটি তৈরী করার পর একটা ম্যানুয়াল সাথে দিয়ে দিয়েছেন।
এখন এই ম্যানুয়ালটা উপেক্ষা করে যদি বলেন, এই ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যতক্ষণ পর্যন্ত অামার বেডরুমে এসে অামাকে এটার ম্যনুয়াল না বুঝাবে ততক্ষণ পর্যন্ত অামি এই ফোনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিবোনা এবং এটা যে তাদের তৈরী সেটাও মানবোনা। বলেনতো, অাপনার এই ইললিজক্যাল অাবদার কি ঐ অাই ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কানে তুলবে? বা এতে তার কোন ক্ষতি হবে?
মি. হাতুড়ে লেখক, অাল্লাহ ঘুমান না । এটা মানুষের জন্য প্রযোজ্য। তিনি ঘুমালে অাপনি যে গ্রহে বাস করেন এটা মহাশূণ্যে অাপনাকে নিয়ে ব্রেক ফেল করে কোথাও অাছড়ে পড়তো।
মানুষ যখন চিরনিদ্রায় শায়িত হবে ঠিক তখনই জাগানো তার কাজ। জীবিত মানুষ যদি ঘুমের ভান ধরে; তাকে জাগানোর দায়িত্ব ঈশ্বরের না।
এটা অাপনার জ্ঞান-বিবেক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

তো ব্লগার সেলিম ৮৩ কে আমি নিচের যুক্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এর কোন জবাব দেন নি।

@সেলিম৮৩ :আই ফোন নির্মাতা একই মডেলের সমস্ত গ্রাহক কে একই ম্যানুয়াল দেয় , বিভিন্ন গ্রাহক কে বিভিন্ন মডেল দেয় না। সৃস্টি কর্তা বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ দেয় কেন , এবং এই ধর্মের অনুসারীরা তাদের ম্যানুয়ালকেই শ্রেষ্ট মনে করে কেন? একজন হিন্দু কে কেন মাথা ঠুকে প্রণাম করার ম্যানুয়াল দেওয়া হয় আর মুসলমানকে পেছন তুলে নামাজ পড়ার ম্যানুয়াল ??

আই ফোন নির্মাতা কোন ত্রুটিপূর্ণ আই ফোন গ্রাহককে বিক্রী করলে ফোনটি বদলে দেয় অথবা পার্টস রিপ্লেস করে দেয়। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর /আল্লাহ কোটি কোটি বিকলাংগ মানুষ পয়দা করে, জন্ম থেকেই কারুর হাত /পা নেই , কারও হৃৎপিণ্ড ডিফেক্টিভ , কারো ফুসফুস /লিভার অথবা শরীরের অন্যান্য অংশ ত্রুটি পূর্ণ। তা আপনার আল্লাহ নিরীহ মানুষের ত্রুটি পূর্ণ অঙ্গ বদলে দেয় না কেন ?? এই প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার কাছে না থাকে তাহলে আই ফোন নির্মাতার ম্যানুয়ালের উপমা দেয়া আপনার সাজে না । যখন আপনার /আপনাদের যুক্তি শেষ তখন আপনার /আপনাদের উত্তর , “ঈশ্বরকে বুঝতে হলে আরো মাথা খাটাতে হবে” —আপনার সগোত্রীয় একজন (ফরিদ আহমেদ চৌধুরি ) ১ নং কমেন্টেই এটা লিখেছেন। সুতরাং এইসব আইফোনে -টাইফোন বাদ দেন –এসব ইহুদী -নাসারা দের জিনিস , আপনি শুধু এবং শুধু মাত্র ইবাদত করেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 37 = 43