প্রেমপত্র-১

প্রিয়তমা,
আমাদের নীরবতার অসহায়ত্বটুকু মুছে ফেলতে,শোনাব তোমায়? সদ্য পরিনত এক প্রেমিকের অনুকথন?ডুবন্ত সূর্যের ম্লান আলোতে বিধ্বস্ত, দৃশ্যত হত-এক যুবক, প্রথম চুম্বনের স্বাদ লাগবে তার ঠোটে!গল্পটা মূলত আলো আর ছায়ার, প্রিয়তমা!
অথবা, সাত আসমানের রুপকথা?যেখানে শুধুই নীলাভ আলেয়া।চেনাবো তোমায় এক কঠিন সত্যকে,প্রিয়তমা?যে তুমি রুপকথার বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে-তীব্রভাবে অবিশ্বাস করেছ- এই অবিশ্বাসী আমাকেই!
সুরগুলো যে সব তোমার মুঠোবন্দী!নোখের ভেতর আর কতো মিথ্যে ময়লা জমাবে ?
হাতটি ছোঁবে নেলপালিশওয়ালা হাতে ।বাহানা নাকি আমিই শুধু জানি
তুমি কি মোটেও নও ?নোখ তো আর কাটো না কট কট শব্দে অন্তরে ঢালো প্রেম ।
জিইয়ে রাখছো মুহূর্তগুলো ।পর্দার ন্যায় কেশ দিয়ে আড়ালে ঢাকা তোমার চোখের মনোযোগকে দেখতে ইচ্ছে হয়।আমার অমনোযোগী মণি দিয়ে নাড়া দিতে ইচ্ছে হয় গোছানো কেশে কিংবা ফুঁ ।তোমার ওই গভীর মনোযোগ কে পুঁজি করে আমার অমনোযোগী মণি ছুঁয়ে যায়।তোমার সর্বস্বে, অস্থিতে,নির্দিষ্ট দূরত্বের বাটনে কিংবা পয়েন্টে পয়েন্টে ।শুধু ছুঁয়ে যেতে পারে না তোমার লৌহবাক্সে রাখা সুরক্ষিত প্রকোষ্ঠকে ।ওখানে গিয়েই কপাল টাকাই আমি তৎক্ষণাৎ আমার মনোবিজ্ঞানী হতে মন চায় দেখতে ইচ্ছে হয় তোমার প্রকোষ্ঠকে ।সেটি কি স্বাভাবিকভাবেই ওঠা নামা করছে ?নাকি আমার মতো অতি দ্রুত ?পরের সাক্ষাতে আমি মনোবিজ্ঞানী হবো
আঙ্গুলে থাকবে ময়লাসমৃদ্ধ বড় বড় নোখ।
শোনো মেয়ে!প্রতি ভোরে চা খাওয়ার জন্যে তোমাকে চাই।অফিসে যাবার সময় টাই ঠিক করে দেবার জন্যে জন্যে হলেও তোমাকে চাই।দুপুরের অবসরে কারোর খোঁজ নেবার জন্যে তোমাকে চাই।বিকেলের ব্যস্ত বাসে তোমায় আগলে রাখতে তোমাকে চাই। সন্ধ্যার সূর্যাস্তে ব্যালকনিতে হাত ধরে দাঁড়াতে তোমাকে চাই।আর রাতে?
দিনভর ক্লান্তিতে হারিয়ে যাওয়া আমাকে খুঁজে দিতে তোমাকে চাই।
তুমি কি কালবোশেখি হবে?আম কুড়োনোর ছুতোয় ঝড়ো হাওয়ায় পালাবো।বর্ষার গান হবে?মেঘের বাঁশির সুরে জোড় নুপূরের তাল দিবে। শরতের আকাশ হবে?কাশফুলের শুভ্রতায় লাল টিপের প্রখরতায় ধরা দিবে।হেমন্তের বাতাস হবে?নবান্নের গান হয়ে ভাঙা কুটিরে ভেসে আসবে। শীতের চাদর হবে?কুয়াশার বিন্দুতে তিল তিল করে দুজনে ভালবাসায় ভিজবো।বসন্তের পলাশ হবে?লাল শাড়ির জমিনে আমার গলার সীতাহার বানাবে ভালবাসি… ভালবাসবে।
মেয়ে আমার শার্টের কলারে মুখ মুছতে পারো,বুকে মাথা রেখে পাঁজরের উঠানামার গুণতি রাখতে পারো। রাত বিরাতে ইনবক্সে স্মৃতিচারণ করতে পারো।কপালের মধ্যেখানে আমার ছোট্ট পৃথিবী নিয়ে হাটতে পারো। শাড়ির আঁচলে আমার দৃষ্টিসীমা বাধতে পারো।যেন শেষ পর্যন্ত রাত্রিযাপনের প্রতিটা মুহূর্ত সকালের রোদে জানাতে পারো।যেন শেষ পর্যন্ত তোর শক্ত আলিঙ্গনে বুকের সব কষ্ট ভাঙতে পারো।যেন শেষ পর্যন্ত আমাকে ভালবাসতে পারো…শেষ পর্যন্ত!আমি এটাই চাই ।
বলেছিলাম লাল শাড়ি জড়িয়ে গড়িয়ে পড়া আবেগ লুকিয়ে ঝুপ করে ডুববে জলে।কোনো এক বৃষ্টিবিন্দুকে কেন্দ্র করে তপস্যায় মগ্ন হয়ে ডুবে যাবো তোমার অতলে
সিদ্ধিলাভের তীব্র লোভে? নাকি এতদিন পরে আসার ক্ষোভে?কে জানে কিন্তু লাল শাড়ির ভেজা রূপোলী পাড়ের সুতোর কাজ বোধ হয় আমার নিশুতি নিদ্রা কেড়ে নিয়েছে!আমার দৃষ্টিদানে করুণ আর্তি ভেসে আসছে।মায়াবতি! বৃষ্টিবিন্দু আর সূর্যকিরণ মিলে তো কবেই রামধনু জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে.আজ এসো তবে সেই রঙের তপস্যায় মরি! মরবে? আমার সাথে??’
এই মেয়ে,তোমার তো বাদলা বাতাসে চুল ওড়ে।বর্ষায় কাকভেজা তোমার দেহে তো কোন কাব্যিকতা থাকে।বাদলা মেঘের কাজলা মায়া তো তোর চোখের কোণায় লুকায়।তোমার রুক্ষমূর্তি ও আমায় বৃষ্টির বর্ষণে দুহাত মেলে ডাকে।বলতে পারোআমার কেন বাদলা রাতে তোর ভাবনা এসে জ্বালাবে?
পরিশেষে বলি,যদি পারতাম তবে নিকোটিন হয়ে ধোঁয়ার সাথে মিশে তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুরে বেড়াতাম,প্রতি টানে তোমার ভিতর প্রেমের উত্তাপে তুলতাম ভালোবোসোর তুমুল ঝড়,তোমায় লন্ডভন্ড করে তবেই শ্রান্ত হতাম।বুঝলে মায়াবতী তোমাকে পোড়াবো বলেই তো আমার এই নিত্য জ্বলে ওঠা।
ইতি
বদ্ধ পাগল

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

99 − 91 =