আমার কী মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা উচিত…?

একজন সাধারণ মুসলিমের কথা :- ভাই আপনে নাস্তিক তাতে আমার কোন সমস্যা নাই,কিন্তু চীনে রোজা রাখার জন্য একশ মুসলিমকে আটক করো হলো, এটা ঠিক হয় নি। রোজা রাখা মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার। আপনে চিনের পক্ষে কথা বলছেন, এতটা খারাপ নাস্তিক আপনে হতে পারেন না। গণতন্ত্রের দিক থেকে দেখলেও রোজা রাখা মুসলিমদের গণতান্ত্রীক অধিকার…!
——-

ভাল বলছেন আর গালি দিয়ে শুরু না করার জন্য ধন্যবাদ। মুসলিসদের ধর্মীয় অধিকার গুলো যদি রোজা রাখার মত সাধারন হতো যা মানুষের আহামরি সমস্যা সৃষ্টি করছে না, তবে আমি মোটেও রোজা না রাখার জন্য বাধা দেয়ার মত জঘন্য কাজের পক্ষে কথা বলতাম না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আপনি যদি বলেন ধর্মীয় অধিকারের দিক দিয়ে মুসলিমদের ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। তাহলে আপনাকে জানতে হবে মুসলিমদের ধর্মীয় আধিকার গুলো কেমন..?? বা কি কি..??
.
মুসলিমদের অধিকার বলতে বুঝায় কোরান, হাদিস। এখানে যা যা বলা আছে তা তাদের পালন করতে দেয়াই তাদের অধিকার।
.
এখন আপনি যদি আমাকে বলেন, রোজা রাখা মুসলিমদের অধিকার সুতরাং আমাকে তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে। যেহেতু আমি দাবি করি একজনের ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করার অধিকার অন্যজনের নেই।
.
তবে আমি আপনাকে বলবো এই যুক্তি দিয়ে যদি মুসলিমদের পক্ষে থাকতে হয় তবে মানুষ হত্যা করাও মুসলিমদের ব্যক্তিগত অধিকার। আমাকে তো মুসলিমদের মানুষ হত্যার অধিকারের পক্ষেও থাকতে হয়। কি বিশ্বাস হচ্ছে না..??
.
আসেন কোরানের ৯:৫ বলা অাছে – অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাটিতে তাদের সন্ধানে ওৎপেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।
.
এখানে খুব স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে বিধর্মীদের হত্যার কথা বলা আছে, এবং এটাও বলা আছে, যদি তারা ইসলাম মানে তবে তাদের ছেড়ে দিতে। এই হলো তাদের অধিকার। এখন কি আমার উচিত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে কথা বলা…???
.
এরপর যাই কোরানের ৯:২৯ – তোমরা যুদ্ধ কর ‘আহলে-কিতাব’ এর ঐ লোকদের (ইহুদী এবং খৃষ্টান) সাথে যাহারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তার রসুল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহন করেনা সত্য ধর্ম ইসলাম, যতক্ষণ-না করজোড়ে তারা জিযিয়া কর প্রদান করতে বাধ্য থাকে।
.
এখানেও খুব স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে, যারা ইসলাম মানে না তাদের বাধ্য করার কথা বলছেন জনাব আল্লা সাহেব…! এই হলো তাদের অধিকার। এখন কি আমার উচিত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে কথা বলা…???
.
এরবার আসেন কোরানের ৪৮:১৬ – তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ-না তারা মুসলমান হয়ে যায়।
.
খুবই সহজ ভাষায় অমুসলিমদের মুসলিম হওয়ার জন্য বাধ্য করার কথা বলা হল। এই হলো তাদের অধিকার। এখন কি আমার উচিত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে কথা বলা…???
.
এবার আসেন কোরানের ৮:১২ – আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব, কাজেই তাদের গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাটো জোড়ায় জোড়ায়।
.
এখানেও জনাব শয়তান যার অপর নাম আল্লা, তিনি বলছেন মানুষ হত্যা করার জন্য।এই হলো তাদের অধিকার। এখন কি আমার উচিত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে কথা বলা…???
.
এবার আসেন সহি বুখারী ৪/৫২/৪৮ এ

আবু আন্নাস বর্ণনা করেন, “নবী (সাঃ) বলেছেন-মাত্র একবার আল্লাহর নামে সকাল বা বিকালে জিহাদে অংশগ্রহন করার সওয়াব পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার চেয়েও অনেক মূল্যবান হবে। বেহেস্তের একটুকরা অংশ সারা পৃথিবীর চেয়েও শ্র্রেষ্ঠ হবে। আর যদি বেহেস্ত থেকে একজন হুরী পৃথিবীতে নেমে আসে তাহলে তার শরীরের সুগন্ধিতে সমস্ত পৃথিবী ভরে যাবে এবং হুরীর হিজাবের মূল্য এ নশ্বর পৃথিবীর সবকিছু থেকে বেশী মূল্যবান হবে।”
.
এখানেও নবী মহাম্মদ খুব সুন্দর ভাবে জিহাদ করার জন্য উৎসাহ দিলেন। এই হলো তাদের অধিকার। এখন কি আমার উচিত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে কথা বলা…???
.
এইবার আসেন বুখারী ৯/১১৫১ (পৃ ৫৩৬)

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ-বিন-আবি আওফা (রাঃ) বর্ণনা করেন, ‘‘যে তলোয়ারের চমকের নিচেই আছে বেহেস্ত।’’
.
এখানেও খুবই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে তলোয়ার দ্বারা বিধর্মীদের হত্যার কথা বল হচ্ছে। এই হলো তাদের অধিকার। এখন কি আমার উচিত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে কথা বলা…???

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 − 78 =