আল কুরআনে অবাস্তব যত কল্পকাহিনী

কেউ কোন সংবাদ দিলে বা দাবি করলে তার দাবিটি যতবেশি অবিশ্বাসযোগ্য তার পক্ষে প্রমানও তত বড় শক্তিশালি হওয়ার দাবি রাখে।কিন্তু কুরআন স্রষ্টার পুস্তক হওয়ার পক্ষে মাত্র দু’টি প্রমান উপাস্থাপন করে যা এতই দূর্বল যাকে প্রমান হিসাবে গ্রহণ করা যায় না।অথচ এতে এত বেশি অবিশ্বাস্যকর,অবাস্তব কথা রয়েছে যা কল্পকাহিনী বৈ কিছু নয়।
মুসলমানেরা জবাবে বলবে আল্লাহ চাইলে সবই পারে। আল্লাহ চাইলে সবই পারে কথাটি যৌক্তিক,কিন্তু আপনি যে কাহিনী বললেন তা আসলে আল্লাহ চেয়েছে নাকি আপনার কল্পকাহিনী আল্লাহর নামে চালিয়ে দিয়েছেন সেটা তো আপনাকে তত বেশি শক্তিশালী প্রমান দ্বারা প্রমান করতে হবে,নয় কি? আমি যদি কিছুক্ষন আগে আল্লাহ আমাকে মক্কায় নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি হজ্জ্ব করে এসেছি অথবা যদি বলি কিছুক্ষন আগে দেখলাম আল্লাহ একটি পিপড়াকে হাতি বানিয়ে দিয়েছেন, আপনি কি বিশ্বাস করবেন? আল্লাহ তো সবই পারেন, তাহলে কেন আপনি বিশ্বাস করবেন না?আল্লাহ পারেন কথাটি ঠিকই আছে,তাই বলে আল্লাহর নাম লাগিয়ে দিয়ে কেউ একটা কিছু দাবি করলেই বিশ্বাস করা বোকামি বৈ কিছু নয়।যত বড় অবিশ্ব্যাস্য দাবি হবে তার পক্ষে তত বড় শক্তিশালি প্রমানও আবশ্যক,নয় কি?কুরআনে যেহেতু অনেক বেশি আজগুবি কাহিনী আছে, তাই কুরআন আল্লাহর বানী হওয়ার পক্ষে সাধারণ কোন প্রমান নয় অনেক অনেক বেশি শক্তিশালি প্রমান থাকা আবশ্যক।
কুরআন তার সত্যতার পক্ষে মাত্র দু’ধরনের প্রমানের দাবি করে:
১. কুরআনের অনুরুপ আয়াত বা সুরা কেউ আনতে পারবে না।
২. মানবরচিত পুস্তক হলে এতে অনেক অসঙ্গতি থাকত।
কুরআনের চ্যালেঞ্জ এর দূর্বলতা:
কোন সৎ সাহস নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে সে ব্যক্তি তার চ্যালেঞ্জে এর জবাব দাতাদের সাদরে গ্রহণ করবে এবং সুন্দরভাবে জবাব দেয়ার সুযোগ করে দেবে-এটাই স্বাভাবিক। আর যদি কেউ ভন্ডামিমূলক চ্যালেঞ্জ করে থাকে তাহলে সে ব্যক্তি চাইবে না যে যারা চ্যালেঞ্জ এর জবাব দেয়ার যোগ্যতা রাখে তারা সর্বসম্মূখে তার চ্যালেঞ্জ এর জবাব দিয়ে তার মুখোশ খুলে ফেলুক।
সে তার বোকা ও অন্ধ অনুসারীদের বোঝাবে যে তার চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করতে পারেনি, অথচ সে নিজে যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে বাধা দেয় তা তো আর তার অন্ধ অনুসারীরা জানে না। তার অন্ধ অনুসারীরা তাকে পরম শ্রদ্ধার সাথে বিশ্বাস করে, এটাই তার ভন্ডামি টিকিয়ে রাখার প্রধান পূজি।
কুরআনের অন্ধ বিশ্বাসিরা মনে করে যে কুরআনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে কেউ পারেনি, অথচ বহু লোক কুরআনের চ্যালেঞ্জ এর জবাব দিয়েছে। যারা কুরআনের অন্ধ বিশ্বাসি তারা তো সে জবাবগুলো পড়ে দেখে না। ইসলাম ধর্মে বিশেষঞ্জ বলে যারা পরিচিত তারা কিভাবে ডাহা মিথ্যা কথা বলে যে ১৪00 বছর পার হয়ে গেল অথচ কুরআনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে কেউ পারেনি।
কুরআনের চ্যালেঞ্জ এর জবাব প্রকাশ্য দিতেও কুরআনের বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিতরা বাধা দেয়।কেউ কুরআনের চ্যলেঞ্জ এর জবাব দিতে আসলে তখন তথাকথিত কুরআন বিশেষজ্ঞরা কুরআন অবমাননা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ইত্যাদি বলে চিৎকার শুরু করে।প্রায় প্রত্যেক ধর্মীয় নেতা তার অনুসারীদের ও সাধারণ মানুষদের ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি করে এক অরাজকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায়। এভাবে তারা চায় যে মানব রচিত কুরআনের আসল সত্য যাতে প্রকাশ না পায়, সত্য যেন সাধারণ মানুষের সামনে চলে না আসে, এতে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের ধর্ম ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে না। কুরআনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারিকে হত্যা কর,ফাসি চাই্ ইত্যাদি্ হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদেরকে দূরে রাখে ।এটাই প্রমান করে কুরআনের মিথ্যা চ্যালেঞ্জ।
কুরআনের চ্যালেঞ্জ এর জবাব:
প্রথম চ্যালেঞ্জ: কুরআনের অনুরুপ আয়াত বা সুরা কেউ আনতে পারবে না
১. প্রথম কথা হল কুরআন যদি সকল মানুষের বিধান হয় তাহলে এর পক্ষে যে প্রমান থাকবে তা এত সহজ হবে যে সকল শ্রেনীর মানুষ বুঝতে পারে। উপরোল্লিখিত প্রমানদ্বয়ের একটিও সর্বসাধারনের জন্য নয়,কারন কোন কথাটি কুরআনের অনুরুপ বা অনুরুপ নয় তা একজন সাধারন অশিক্ষিত মানুষ বোঝার কথা নয়, একইভাবে একটি পুস্তকের সামগ্রিক বক্তব্য থেকে সঙ্গতিপূর্ণ কথা ও অসঙ্গতিপূর্ণ কথা পার্থক্য করা ও বুঝতে পারা সর্ব সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়।
বিশ্বজাহানের সৃষ্টিকর্তা কোন পুস্তক দিলে তার প্রমান এত জটিল কিছু দিবেন যা সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য উপযোগি নয়,তা হতে পারে না, তা হতে পারে কোন বেকুফ কর্তৃক। আমার সৃষ্টিকর্তা এমন বেকুফ নন।
২. কুরআনের অনুরুপ আয়াত বলতে কি বুঝানো হয়েছে কুরআন নিজেও তা পরিস্কার করেনি। কোন লেখাকে আপনি শ্রেষ্ঠ বললে আপনাকেই বলতে হবে তা কোন কোন বৈশিষ্টের আলোকে তা অন্য থেকে শ্রেষ্ঠতর।কুরআনের কোথায়ও সে কথা পরিস্কার করে বলা হয়নি।
৩. একই লেখার মূল্যায়ন একেকজনের কাছে একেকরকম হযে থাকে।যে লেখা কোন একজন বিশেষজ্ঞের কাছে অতি উচ্চমানের তা আবার অন্য একজন বিশেষজ্ঞের কাছে তার মান সাধারণ।সুতরাং এমন কিছুকে প্রমান হিসাবে উপাস্থাপন করা উচিত নয় যা নিয়ে সাধারণত সকল মানুষ ঐক্যমতে পৌছতে পারে না।
মনে করুন কবি নজরুল দাবি করল যে তার কাছে স্রষ্টার পক্ষ থেকে বাণী আসে। প্রমান হল তার কাছে যে কবিতা বা প্রবন্ধ আছে তার অনুরুপ আর কেউ রচনা করতে পারবে না।তার কবিতা বা প্রবন্ধের সাহিত্য মান, অলঙ্কার এত উচ্চে যে তার অনুরুপ কারো পক্ষে রচনা সম্ভব নয়।
অপরপক্ষে মনে করুন কবি রবিন্দ্রনাথও একই ধরনের দাবী করল।রবীন্দ্রনাথের অনুসারীরা তার রচনাকে স্রষ্টার বাণী মনে করে আর অপরপক্ষে কাজী নজরুলের অনুসারীরা তার রচনাকে স্রষ্টার বাণী মনে করে। উভয় পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে বিতর্ক হলে উভয় পক্ষের কাছে বিশাল যুক্তির ভান্ডার থাকে।বাস্তব সত্য কথা যেহেতু উভয়ের লেখারই সাহিত্য মান আছে, তাই উভয়ের অনুসারীদের সকল কথা ফেলে দেয়ার মত নয়।সুধী পাঠকদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন যে নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের অনুসারীরা যদি তাদের নিজ নিজ নেতা/কবির সাহিত্য মান নিয়ে বিতর্ক করে সেই বিতর্ক কি শেষ হওয়ার। এ ধরনের বিতর্ক কি বুদ্ধিমত্তার কাজ?
সুতরাং প্রমান হিসাবে এমন কিছুকে উপাস্থাপন করা বোকাদের দ্বারাই সম্ভব। আমার সৃষ্টিকর্তা এত বোকা নন, তাই আমি কুরআনকে স্রষ্টার বলে অন্ধভাবে মানতে পারি না।
৪. উপরোল্লিখত যুক্তিই বলে যে কুরআনের সত্যতার প্রমান হিসাবে কুরআনের অনুরুপ সুরা আনতে বলার দাবিটাই প্রমান করে যে হাজার বছর আগে রচিত কোন স্বল্প বুদ্ধির লোক কর্তৃক এমন দাবি। আজকে কেউ যদি কোন বই এনে স্রষ্টার হিসাবে মিথ্যা দাবি করে, সে প্রমান স্বরুপ কোন কিছু উপাস্থাপন করলেও কমপক্ষে এমন বোকামিমূলক দাবি না করে বরং এরচেয়েও চাতুর্যপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করতে পারবে।সুতরাং কুরআনের অনুরুপ সূরা আনার কোন প্রয়োজন নেই। তথাপিও মানসিক স্বান্তনার জন্য নিম্নে কুরআনের অনুরুপ আয়াতের দৃষ্টান্ত দিচ্ছি।
যারা নিরপেক্ষ মনে বিবেচনার ক্ষমতা রাখে এবং সত্য গ্রহণে আপোষহীণ তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন যে নিম্নোক্ত দৃষ্টান্ত কুরআনের অনুরুপ হয় কিনা তা বিবেচনা করা:
কুরআনের সূরা আসর:
সময়ের/যুগের কসম। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা ব্যতিত যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, এবং সৎ কাজ করেছে, পরস্পর পরস্পরকে সত্যের ও ধৈয্যের উপদেশ দিয়েছে।
অনুরুপ সুরার উদাহরণ:
জ্ঞানের কসম।নিশ্চয়ই রবিন্দ্রনাথের অনুসারীর বোকার স্বর্গে আছে।তবে তাদের মধ্যে থেকে তারা বাদে যারা অনুতপ্ত হয়ে নজরুলের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করল, এবং ভাল কাজ করল,পরস্পর পরস্পরকে ভাল কাজের ও রবীন্দ্রনাথের অনুসারীদের সকল সমালোচনার মোকাবেলায় এবং নজরুলের আদর্শ বাস্তবায়নের পথে ধৈর্য ধারনের উপদেশ দিল।
উপরোক্ত দৃষ্টান্তটি দিয়েছি যারা নিরপেক্ষ মনে চিন্তা করে তাদের বিবেচনার সুবিধার্থে। কেউ যদি আমার দেয়া অনুরুপ সূরার দৃষ্টান্ত নিয়ে যে কেউ বিতর্ক উথ্থাপন করলে আমি সে অর্থহীন বিতর্কে জড়াবো না। কারন আমি আগেই বলেছি যে এমন প্রমানের দাবিটিই বোকামিমূলক আর এ নিয়ে বিতর্ক করলে এক অসীম বিতর্ক হবে।
৫. আমি একটি কিছু রচনা করে দাবি করলাম যে আমার রচনার সমতুল্য আর কারো রচনা নয়, এরপর বিতর্ক ও ঝগড়া শেষে বললাম যে যারা আমার রচনাকে শ্রেষ্ঠতম মানল না তাদের কথা ঠিক নয়,তাদের যুক্তি ঠিক নয় আমার যুক্তিই ঠিক আর আমার রচনাই শ্রেষ্ঠ।এরপর প্রচার করে বেড়ালাম যে আমার রচনার শ্রেষ্ঠত্ব কেউ খন্ডন করতে পারেনি, আমার এমন দাবি দেখে বুদ্ধিমান লোকেরা দূর থেকে হাসা ছাড়া আর কি করবে বলূন?
পর্ব-2
আপনি মুসলিম বংশে জন্মগ্রহণ করার কুরআনে যত আজগুবি কথায় বলা থাকুক না কেন তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে থাকেন, কিন্তু একজন সত্যান্বেষী মানুষ যিনি মুসলিম বংশে জন্মগ্রহণ করেনি তাকে আপনি যতবড় আজগুবি কথা বলবেন সে তার পক্ষে ততবড় শক্তিশালি প্রমান আশা করবে, এটায় স্বাভাবিক।
এবার লক্ষ্য করুন কুরআনে কতসব আজগুবি কাহিনী বিবৃত হয়েছে যা আপনি অন্ধভাবে বিশ্বাস করে থাকেন:
১. হারুত-মারুত নামক দু’জন ফেরেশতা মানুষের মাঝে এসেছিল (সুরা বাক্বারা ১০১-১০২):
২. পাখি ও পাহাড় দাউদের অনুগত ছিল: (সুরা আম্বিয়া-৮০)
আরো এমন কিছু কল্প কাহিনী দেখুন (সুরা নামল ১৫-২১)
৩. বাতাস ও শয়তান সুলাইমান এর অধীনে ছিল:(সুরা আম্বিয়া-৮০,৮১)
আরো দেখুন (সুরা সাবা ১২-১৪):
৪. দৈত্য-দানব সুলায়মান এর আদেশ মানত এমন রুপ কথার গল্প (সুরা নামল ৩২-৪৪)
৫. ইউনুস আ: ছিল মাছের পেটে: (সুরা সফাত ১৩৯-১৪৮)
আরেকটি আয়াত:(সুরা আম্বিয়া-৮৭)
৬. ঈসা (আ:)পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেছেন।
৭. ইয়াজুজ মাজুজ নামক কোন জাতীকে নাকি আটকিয়ে রাখা আছে।(সুরা আম্বিয়া:৯৬)
৮. গরুর গোস্তের খন্ড দিয়ে ঠোকা দিয়ে মৃতু মানুষ জীবিত করার কাহিনী (সুরা বাক্বার-৭২-৭৩):
৯. আল্লাহ নাকি তুর পাহাড় মাথার উপর উচু করে ধরে বনী ঈসরাইল থেকে জোর করে আনুগত্যর ওয়াদা নিয়েছিলেন (সুরা বাক্বার-৯৩):
১০. ১০০ বছর পূর্বের মৃত্যূ মানুষকে জীবিত করার কাহিনী (সুরা বাক্বার-২৫৯)
১১. ইব্রাহীম (আ:) পাখি কেটে টুকরা টুকরা করে তারপর আবার জীবিত করেন (সুরা বাক্বার-২৬০)
১২. সাগর এর মাঝ দিয়ে পথ তৈরি হওয়ার কাহিনী (সুরা বাক্বার-৪৯-৫০):
আল্লাহকে দেখতে চাওয়া বিদ্যুৎ চমকানী এবং তাতে মারা যাওয়া আর জীবিত হওয়ার কাহিনী (সুরা বাক্বারা ৫৫-৫৬)
১৩. আকাশ থেকে নাকি মান্না-সালওয়া নামক বিশেষ খাবার আসত (সুরা বাক্বারা-৫৭):
১৪. লাঠির আঘাত দ্বারা পাথর থেকে ১২ টি ঝর্ণা তৈরি (সুরা বাক্বারা-৬০)
১৫. কিছু মানুষকে বানরে পরিণত করার কাহিনী (সুরা বাক্বারা-৬৫)
১৬. আগুন নাকি দগ্ধ স্থগিত করেছিল সাময়িক সময়ের জন্য (সুরা আম্বিয়া-৬৮-৬৯):
১৭. এবার পড়ুন কিছু আজব গল্প (সুরা হিজর ৫১-৮৪):
১৮. মানুষ যবেহ করার নির্দেশ এবং তদস্থলে অদৃশ্য থেকে প্রাণী প্রতিস্থাপনের গল্প (সুরা সফাত ১০০-১০৮)
১৯. সারা পৃথিবী বন্যায় ডুবে যায়,সকল প্রাণী একই নৌকায় আশ্রয় নিয়ে বেচে যাওয়ার আজগুবি কাহিনী(সুরা হুদ ৩৬-৪০)
২০.কোন মানুষের চেহারা দেখে নাকি নিজের হাত কেটে ফেলে
২১.স্বপ্ন নাকি কখনও সত্য হয়!!
সুরা ইউসুফ-৪৬,
২২.কিছু পাখি এক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করেছে (দেখুন সুরা ফিল)
২৩. গুহার মধ্যে শত শত বছর ঘুমিয়ে থাকার আজগুবি গল্প (সুরা কাহাফ ৯-২০):
২৪. এ গুহায় তারা তিন শতাধিক বছর ছিল (সুরা কাহাফ-২৫-২৬):
২৫. আরো আজগুবি গল্প:শিশু ভবিষ্যতে পাপ করবে তাই তাকে আগেই হত্যা করা হল!!(সুরা কাহাফ ৬৫-৮২)
যারা কুরআনের উক্ত আয়াতগুলো পড়তে চান তাদের সুবিধার্থে রেফারেন্সে উল্লেখিত আয়াতগুলোর অনুবাদ নিম্নে দেয়া হল:
১. হারুত-মারুত নামক দু’জন ফেরেশতা মানুষের মাঝে এসেছিল (সুরা বাক্বারা ১০১-১০২):
101
যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না। And when there came to them a messenger from Allah, confirming what was with them, a party of the people of the Book threw away the Book of Allah behind their backs, as if (it had been something) they did not know!
102
তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত। They followed what the evil ones gave out (falsely) against the power of Solomon: the blasphemers Were, not Solomon, but the evil ones, teaching men Magic, and such things as came down at babylon to the angels Harut and Marut. But neither of these taught anyone (Such things) without saying: “We are only for trial; so do not blaspheme.” They learned from them the means to sow discord between man and wife. But they could not thus harm anyone except by Allah’s permission. And they learned what harmed them, not what profited them. And they knew that the buyers of (magic) would have no share in the happiness of the Hereafter. And vile was the price for which they did sell their souls, if they but knew!
২. পাখি ও পাহাড় দাউদের অনুগত ছিল: (সুরা আম্বিয়া-৮০)

অতঃপর আমি সুলায়মানকে সে ফায়সালা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি উভয়কে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দিয়েছিলাম। আমি পর্বত ও পক্ষীসমূহকে দাউদের অনুগত করে দিয়েছিলাম; তারা আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। এই সমস্ত আমিই করেছিলাম। To Solomon We inspired the (right) understanding of the matter: to each (of them) We gave Judgment and Knowledge; it was Our power that made the hills and the birds celebrate Our praises, with David: it was We Who did (all these things).

আরো এমন কিছু কল্প কাহিনী দেখুন (সুরা নামল ১৫-২১)
15 আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।16 সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব। ’17 সুলায়মানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন-মানুষ ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল।18 যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে।19 তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ?2470;াও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।20 সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, কি হল, হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?21 আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ।
৩. বাতাস ও শয়তান সুলাইমান এর অধীনে ছিল:(সুরা আম্বিয়া-৮০,৮১)
এবং সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; তা তাঁর আদেশে প্রবাহিত হত ঐ দেশের দিকে, যেখানে আমি কল্যাণ দান করেছি। আমি সব বিষয়েই সম্যক অবগত রয়েছি। (It was Our power that made) the violent (unruly) wind flow (tamely) for Solomon, to his order, to the land which We had blessed: for We do know all things.
এবং অধীন করেছি শয়তানদের কতককে, যারা তার জন্যে ডুবুরীর কাজ করত এবং এ ছাড়া অন্য আরও অনেক কাজ করত। আমি তাদেরকে নিয়ন্ত্রন করে রাখতাম। And of the evil ones, were some who dived for him, and did other work besides; and it was We Who guarded them.
আরো দেখুন (সুরা সাবা ১২-১৪):
12 আর আমি সোলায়মানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্যে গলিত তামার এক ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জিন তার সামনে কাজ করত তার পালনকর্তার আদেশে। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করবে, আমি জ্বলন্ত অগ্নির-শাস্তি আস্বাদন করাব।13 তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।14 যখন আমি সোলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন ঘুণ পোকাই জিনদেরকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল। সোলায়মানের লাঠি খেয়ে যাচ্ছিল। যখন তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান থাকলে তারা এই লাঞ্ছনাপূর্ণ শাস্তিতে আবদ্ধ থাকতো না।
৪. দৈত্য-দানব সুলায়মান এর আদেশ মানত এমন রুপ কথার গল্প (সুরা নামল ৩২-৪৪)
32 বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।33 তারা বলল, আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধা। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই। অতএব আপনি ভেবে দেখুন, আমাদেরকে কি আদেশ করবেন।34 সে বলল, রাজা বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গকে অপদস্থ করে। তারাও এরূপই করবে।35 আমি তাঁর কাছে কিছু উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি প্রেরিত লোকেরা কি জওয়াব আনে।36 অতঃপর যখন দূত সুলায়মানের কাছে আগমন করল, তখন সুলায়মান বললেন, তোমরা কি ধনসম্পদ দ্বারা আমাকে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে প্রদত্ত বস্তু থেকে উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে সুখে থাক।37 ফিরে যাও তাদের কাছে। এখন অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আমি অবশ্যই তাদেরকে অপদস্থ করে সেখান থেকে বহিষ্কৃত করব এবং তারা হবে লাঞ্ছিত।38 সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?39 জনৈক দৈত্য-জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত।40 কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল।41 সুলায়মান বললেন, বিলকীসের সামনে তার সিংহাসনের আকার-আকৃতি বদলিয়ে দাও, দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই ?
42 অতঃপর যখন বিলকীস এসে গেল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তোমার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।43 আল্লাহর পরিবর্তে সে যার এবাদত করত, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।44 তাকে বলা হল, এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়। সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ। বিলকীস বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম।
৫. ইউনুস আ: ছিল মাছের পেটে: (সুরা সফাত ১৩৯-১৪৮)
139আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন।140যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।141অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।142অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।143যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন,144তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।145অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ-বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন।146আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম।147এবং তাঁকে, লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করলাম।148তারা বিশ্বাস স্থাপন করল অতঃপর আমি তাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
আরেকটি আয়াত:(সুরা আম্বিয়া-৮৭)
এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধৃত করতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার। And remember Zun-nun, when he departed in wrath: He imagined that We had no power over him! But he cried through the deptHs of darkness, “There is no god but thou: glory to thee: I was indeed wrong!”

অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি। So We listened to him: and delivered him from distress: and thus do We deliver those who have faith.

৬. ঈসা (আ:)পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেছেন। তাছাড়া আয়াতটি সম্ভবত ইঞ্জিল তথা বাইবেল থেকে নেয়া হয়েছে।কারন খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করে আল্লাহ নাকি ঈসা এর মধ্যে মানুষরুপে অবস্থান করে থাকেন। আয়াতটিও এরুপ বলছে: (সুরা আম্বিয়া:৯১)
এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম। And (remember) her who guarded her chastity: We breathed into her of Our spirit, and We made her and her son a sign for all peoples.
৭. ইয়াজুজ মাজুজ নামক কোন জাতীকে নাকি আটকিয়ে রাখা আছে।(সুরা আম্বিয়া:৯৬)
যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। Until the Gog and Magog (people) are let through (their barrier), and they swiftly swarm from every hill.
সুরা কাহাফ (৯২-৯৯):
92আবার তিনি এক পথ ধরলেন।93অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না।94তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন।95তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ?2470;িয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।96তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই।97অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।98যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।99আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।
৮. গরুর গোস্তের খন্ড দিয়ে ঠোকা দিয়ে মৃতু মানুষ জীবিত করার কাহিনী (সুরা বাক্বার-৭২-৭৩):
72যখন তোমরা একজনকে হত্যা করে পরে সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলে। যা তোমরা গোপন করছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিল আল্লাহর অভিপ্রায়।73অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন-যাতে তোমরা চিন্তা কর।
৯. আল্লাহ নাকি তুর পাহাড় মাথার উপর উচু করে ধরে বনী ঈসরাইল থেকে জোর করে আনুগত্যর ওয়াদা নিয়েছিলেন (সুরা বাক্বার-৯৩):
আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল। বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়।
১০. ১০০ বছর পূর্বের মৃত্যূ মানুষকে জীবিত করার কাহিনী (সুরা বাক্বার-২৫৯)
তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
১১. ইব্রাহীম (আ:) পাখি কেটে টুকরা টুকরা করে তারপর আবার জীবিত করেন (সুরা বাক্বার-২৬০)
আর স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা আমাকে দেখাও, কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করবে। বললেন; তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু দেখতে এজন্যে চাইছি যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি। বললেন, তাহলে চারটি পাখী ধরে নাও। পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও, অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও। তারপর সেগুলোকে ডাক; তোমার নিকট দৌড়ে চলে আসবে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি জ্ঞান সম্পন্ন।
সাগর এর মাঝ দিয়ে পথ তৈরি হওয়ার কাহিনী (সুরা বাক্বার-৪৯-৫০):
আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদিগকে অব্যাহতি দিত। বস্তুতঃ তাতে পরীক্ষা ছিল তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা।আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে অথচ তোমরা দেখছিলে।
আল্লাহকে দেখতে চাওয়া বিদ্যুৎ চমকানী এবং তাতে মারা যাওয়া আর জীবিত হওয়ার কাহিনী (সুরা বাক্বারা ৫৫-৫৬):
55আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব। বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।56তারপর, মরে যাবার পর তোমাদিগকে আমি তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।
১২. আকাশ থেকে নাকি মান্না-সালওয়া নামক বিশেষ খাবার আসত (সুরা বাক্বারা-৫৭):
57আর আমি তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি মেঘমালার দ্বারা এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র বস্তু তোমরা ভক্ষন কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।
১৩. লাঠির আঘাত দ্বারা পাথর থেকে ১২ টি ঝর্ণা তৈরি (সুরা বাক্বারা-৬০):
আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না
কিছু মানুষকে বানরে পরিণত করার কাহিনী (সুরা বাক্বারা-৬৫)
তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
১৪. আগুন নাকি দগ্ধ স্থগিত করেছিল সাময়িক সময়ের জন্য (সুরা আম্বিয়া-৬৮-৬৯):
ইব্রাহীম (আ:)কে নাকি আগুনে নিক্ষেপ করলে তা নাকি ফুলের বাগান হয়েছিল। এটা জানা যায় হাদিস থেকে। কুরআনে শুধুমাত্র আগুনের দগ্ধ স্থগিতের কথা আছে। সেটা নিম্নরুপ:
’তারা বললঃ একে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।আমি বললামঃ হে অগ্নি, তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’
এবার পড়ুন কিছু আজব গল্প (সুরা হিজর ৫১-৮৪):
51আপনি তাদেরকে ইব্রাহীমের মেহমানদের অবস্থা শুনিয়ে দিন।52যখন তারা তাঁর গৃহে আগমন করল এবং বললঃ সালাম। তিনি বললেনঃ আমরা তোমাদের ব্যাপারে ভীত।53তারা বললঃ ভয় করবেন না। আমরা আপনাকে একজন জ্ঞানবান ছেলে-সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি।54তিনি বললেনঃ তোমরা কি আমাকে এমতাবস্থায় সুসংবাদ দিচ্ছ, যখন আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি ?55তারা বললঃ আমরা আপনাকে সত্য সু-সংবাদ দিচ্ছি! অতএব আপনি নিরাশ হবেন না।56তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?57তিনি বললেনঃ অতঃপর তোমাদের প্রধান উদ্দেশ্য কি হে আল্লাহর প্রেরিতগণ ?58তারা বললঃ আমরা একটি অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।59কিন্তু লূতের পরিবার-পরিজন। আমরা অবশ্যই তাদের সবাইকে বাঁচিয়ে নেব।60তবে তার স্ত্রী। আমরা স্থির করেছি যে, সে থেকে যাওয়াদের দলভূক্ত হবে।61অতঃপর যখন প্রেরিতরা লূতের গৃহে পৌছল।62তিনি বললেনঃ তোমরা তো অপরিচিত লোক।63তারা বললঃ না বরং আমরা আপনার কাছে ঐ বস্তু নিয়ে এসেছি, যে সম্পর্কে তারা বিবাদ করত।64এবং আমরা আপনার কাছে সত্য বিষয় নিয়ে এসেছি এবং আমরা সত্যবাদী।65অতএব আপনি শেষরাত্রে পরিবারের সকলকে নিয়ে চলে যান এবং আপনি তাদের পশ্চাদনুসরণ করবেন না এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেন পিছন ফিরে না দেখে। আপনারা যেখানে আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছেন সেখানে যান।66আমি লূতকে এ বিষয় পরিজ্ঞাত করে দেই যে, সকাল হলেই তাদেরকে সমুলে বিনাশ করে দেয়া হবে।67শহরবাসীরা আনন্দ-উল্লাস করতে করতে পৌছল।68লূত বললেনঃ তারা আমার মেহমান। অতএব আমাকে লাঞ্ছিত করো না।69তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার ইযযত নষ্ট করো না।70তার বললঃ আমরা কি আপনাকে জগৎদ্বাসীর সমর্থন করতে নিষেধ করিনি।71তিনি বললেনঃ যদি তোমরা একান্ত কিছু করতেই চাও, তবে আমার কন্যারা উপস্থিত আছে।72আপনার প্রাণের কসম, তারা আপন নেশায় প্রমত্ত ছিল।73অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তাদেরকে প্রচন্ড একটি শব্দ এসে পাকড়াও করল।74অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের প্রস্থর বর্ষণ করলাম।75নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।76জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত রয়েছে।77নিশ্চয় এতে ঈমানদারদের জন্যে নিদর্শণ আছে।78নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা পাপী ছিল।79অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বস্তি প্রকাশ্য রাস্তার উপর অবস্থিত।80নিশ্চয় হিজরের বাসিন্দারা পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে।81আমি তাদেরকে নিজের নিদর্শনাবলী দিয়েছি। অতঃপর তারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।82তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে ঘর খোদাই করত।83অতঃপর এক প্রত্যুষে তাদের উপর একটা শব্দ এসে আঘাত করল।84তখন কোন উপকারে আসল না যা তারা উপার্জন করেছিল।
১৫. মানুষ যবেহ করার নির্দেশ এবং তদস্থলে অদৃশ্য থেকে প্রাণী প্রতিস্থাপনের গল্প (সুরা সফাত ১০০-১০৮):
হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর।101সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।102অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।103যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল।104তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম,105তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।106নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।107আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু।108আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে,
১৬. সারা পৃথিবী বন্যায় ডুবে যায়,সকল প্রাণী একই নৌকায় আশ্রয় নিয়ে বেচে যাওয়ার আজগুবি কাহিনী(সুরা হুদ ৩৬-৪০):
36আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না।37আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে।38তিনি নৌকা তৈরী করতে লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন, তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস করছি।39অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে-লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর অবতরণ করে।40অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বহেߦ#2439; হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।41আর তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান।42আর নৌকাখানি তাদের বহন করে চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে, আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন, প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফেরদের সাথে থেকো না।43সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল।44আর নির্দেশ দেয়া হল-হে পৃথিবী! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও। আর পানি হ্রাস করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং ঘোষনা করা হল, দুরাত্না কাফেররা নিপাত যাক।
১৭. কোন মানুষের চেহারা দেখে নাকি নিজের হাত কেটে ফেলে (সুরা ইউসুফ-31-32):
নগরে মহিলারা বলাবলি করতে লাগল যে, আযীযের স্ত্রী স্বীয় গোলামকে কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য ফুসলায়। সে তার প্রেমে উম্মত্ত হয়ে গেছে। আমরা তো তাকে প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি।31যখন সে তাদের চক্রান্ত শুনল, তখন তাদেরকে ডেকে পাঠাল এবং তাদের জন্যে একটি ভোজ সভার আয়োজন করল। সে তাদের প্রত্যেককে একটি ছুরি দিয়ে বললঃ ইউসুফ এদের সামনে চলে এস। যখন তারা তাকে দেখল, হতভম্ব হয়ে গেল এবং আপন হাত কেটে ফেলল। তারা বললঃ কখনই নয় এ ব্যক্তি মানব নয়। এ তো কোন মহান ফেরেশতা।32মহিলা বললঃ এ ঐ ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই সে কারাগারে প্রেরিত হবে এবং লাঞ্চিত হবে।
১৮. স্বপ্ন নাকি কখনও সত্য হয়!!সুরা ইউসুফ-৪৬,
১৯. কিছু পাখি এক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করেছে (দেখুন সুরা ফিল)
২০. গুহার মধ্যে শত শত বছর ঘুমিয়ে থাকার আজগুবি গল্প (সুরা কাহাফ ৯-২০):
9আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল ?10যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোআ করেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।11তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায় তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে দেই।12অতঃপর আমি তাদেরকে পুনরত্থিত করি, একথা জানার জন্যে যে, দুই দলের মধ্যে কোন দল তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে অধিক নির্ণয় করতে পারে।13আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।14আমি তাদের মন দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতঃপর তারা বললঃ আমাদের পালনকর্তা আসমান ও যমীনের পালনকর্তা আমরা কখনও তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করব না। যদি করি, তবে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে।15এরা আমাদেরই স্ব-জাতি, এরা তাঁর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা এদের সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তার চাইতে অধিক গোনাহগার আর কে?16তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন।17তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বামদিকে চলে যায়, অথচ তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত। এটা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম। আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না।18তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।19আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়।20তারা যদি তোমাদের খবর জানতে পারে, তবে পাথর মেরে তোমাদেরকে হত্যা করবে, অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। তাহলে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না।
এ গুহায় তারা তিন শতাধিক বছর ছিল (সুরা কাহাফ-২৫-২৬):
25তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে।26বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না
২১. আরো আজগুবি গল্প:শিশু ভবিষ্যতে পাপ করবে তাই তাকে আগেই হত্যা করা হল!!(সুরা কাহাফ ৬৫-৮২)
65অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।66মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?67তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন না।68যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে?69মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না।70তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি।71অতঃপর তারা চলতে লাগলঃ অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন।72তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধরতে পারবেন না ?73মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করবেন না।74অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন? আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।75তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারবেন না।76মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে অভিযোগ মুক্ত হয়ে গেছেন।77অতঃপর তারা চলতে লাগল, অবশেষে যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌছে তাদের কাছে খাবার চাইল, তখন তারা তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন।78তিনি বললেনঃ এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।79নৌকাটির ব্যাপারে-সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে নিত।80বালকটির ব্যাপার তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে।81অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক।82প্রাচীরের ব্যাপার-সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 1