ধর্ম এবং শব্দদূষণ

বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের সাধারন(মুসলমান) জনতা দেশটাকে একটি ইসলামিক দেশ হিসেবে আখ্যা দিতেই খুব বেশি ভালবাসে।

বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের সাধারন(মুসলমান) জনতা দেশটাকে একটি ইসলামিক দেশ হিসেবে আখ্যা দিতেই খুব বেশি ভালবাসে। ধর্ম ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত। ধর্মের সাথে আপনি যখন সমাজ বা দেশ মেলাবেন সেখানে খুবই বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। আজকে আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে অবস্থান করছেন বলে সমস্যা হয়ত আপনার হচ্ছেনা কিন্তু অনন্যা মানুষের হচ্ছে অবশ্যই।

আজকে চিনের কিছু মুসলমানকে রোজা রাখার কারনে গ্রেফতার করা হয়েছে শুনলাম। তাতে হয়ত অনেক মুসলমানের ধর্মীয় আঁতে ঘা লেগেছে। হয়ত চাইনিজ পণ্য বর্জন করবেন বলেও মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই সময়ে চাইনিজ প্রোডাক্ট ছাড়া বিশ্ব অচল। আমি কিন্তু বলছি না যে চায়না যা করেছে ভাল করেছে। রোজা রাখা ইসলাম ধর্মের একটি আচার বা ইবাদতের অংশ, এই ব্যাক্তিগত ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ অবশ্যই নিন্দার দাবী রাখে। কোন রাস্ত্রেও কাছেই এই ধরনের ব্যাবহার আমাদের কারোই কাম্য নয়। ধর্ম ততক্ষন পর্যন্ত ভাল যতক্ষন তা আপনার ভেতরে আছে। বাইরে বের হলেই বিপদ।

একটু বাংলাদেশের দিকে তাকাই।

আপনি কি একবার ভেবেছেন দেশের সনাতন ধর্মীদের নিয়ে। তাদের রথ যাত্রায় মাইক ব্যাবহার নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। কারন ছিল রথ যাত্রার মাইক একটি শব্দদূষণ জনিত সমস্যার কারন। ব্যাপারটাতে বাক্তিগত ভাবে আমি অন্তত সন্তুষ্ট। যে কোন দূষণই প্রতিকারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কারন হিন্দুধর্মের রথ যাত্রার মাইকের শব্দ রাস্তায় যেহেতু নেমে এসেছে সেহেতু এখানে শুধু হিন্দু না অন্য ধর্মের বা অন্য মানুষের কথাও ভাবতে হবে। ভাবতে হবে যে আপনার ধর্মীয় আচার অন্যের সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়ায় কিনা। একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ ছিল এই মাইকের অপব্যবহার রোধ করা।

কিন্তু যখন এলাকায় এলাকায় মুসুল্লিয়ানে কেরামগন গোটা বিশেক মাইক লাগিয়ে পুরো এলাকা কভার করে ওয়াজ মাহফিল নামক ধর্মীয় চাঁদাবাজি করেন, তখন কোথায় থাকে আপনাদের কান দুখানা? তখন কি তুলো গুঁজে দেন কানে?, নাকি উপভোগ করেন? তখন কোথায় থাকে আপনাদের শব্দ দূষণের তত্ত্ব? দূষণ যদি মাইকে হয় তবে তা সব মাইকেই হবে, এটাই স্বাভাবিক।

এই ওয়াজ তো বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। কই কখনো তো অভিযোগ শুনিনি।

মসজিদের আজান নিয়ে কোন হিন্দু এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেছে শুনিনি। হিন্দু ধর্মের গুণগান আমি করছিনা। আমার কাছে কোন ধর্মেরই মূল্য নেই। কিন্তু ইসলাম কেন এত আক্রমণাত্মক? কেন?

৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে আপনি যদি বলেন এখানে রথ যাত্রা চলবে না, মঙ্গল শোভা যাত্রা হবেনা, তাহলে চীনের গ্রেফতার হবার ঘটনার প্রতিবাদ করার আগে অথবা ফ্রান্সে বোরখা নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ করার আগে নিজেটা একবার ভেবে দেখবেন। জানি আপনি মুসলমান, আপনি ভাববেন না। কারন আপনি বিশ্বাস করেন আপনারটা ছাড়া সব ভুয়া।

আপনাকে একটা সহজ হিসেব দেই। যখন বেশির ভাগ মানুষ কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয় তখন আমরা সেটাকে সঠিক বলে ধরে নেই। আতিপাতি বাদ দিলে পৃথিবীতে চার থেকে পাঁচটি ধর্ম আছে যারা সংখ্যায় বেশি। পৃথিবীতে যদি মোট জনসংখ্যা ছয়শ কোটি হয়ে থাকে তাহলে পরিসংখ্যানে দেখবেন এমন একটা ধর্মও নেই যারা সংখ্যায় একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। সুতরাং কেউ বলতে পারবেন না যে আপনিই সঠিক। সুতিরাং আপনার বিশ্বাস আপনার মাঝেই রাখেন। মাইক দিয়ে তা জানিয়ে শব্দদূষণ করবেন না।

সব শেষে শুধু বলব, ধর্ম পালন করেন, সেটা আপনার ব্যাক্তিগত বিষয়। তার আগে ভাবুন বা বুঝতে চেষ্টা করুন কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত।

ধন্যবাদ।

©অনিক অমনিবাস

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =