স্বর্ণলতা ও সময়

নীলকণ্ঠ পাখির মুখোমুখি গল্প বলতে বসেছিলাম। অথচ বলার মত কোন গল্প আমার কাছে ছিলনা। অবশেষে সেই বিড়ালের গল্প। যে বিড়ালটি স্বাধীনতার আশায় ব্যর্থ হয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। গল্পটি তেমন জমছিল না। তাই শুরু করলাম সেই পরিচিত গল্পটি। স্বর্ণলতা ও সময়ের গল্প। স্বর্ণলতা সময়কে ভালবাসত। কিন্তু স্বর্ণলতা কখনো সময়কে ছুঁতে পারেনি। যখনই সে সময়কে ছুঁতে যেত সে মেঘ ছুঁয়ে বসত। কখনো ছুঁয়ে ফেলত বৃষ্টি। কিন্তু সময় অধরাই থেকেই যেত।
তুমি আঁধারের চেয়েও তীব্র। স্বর্ণলতা বলল
কারণ আমি সময়।
আমি তোমাকে ছুঁতে চাই। কিন্তু পারিনা কেন ?
তুমি কখনো আমাকে ছুঁতে পারবেনা। কারণ তুমি আর আমি আলাদা কিছু নই।
আমি আলাদা হতে চাই। আলাদা করে তোমাকে ছুঁতে চাই। শুধু তোমাকে। যেখানে অন্য কোন সত্বার অস্তিত্ব থাকবে না।
তা সম্ভব নয় স্বর্ণলতা!
তবে তুমি আমায় মুক্তি দাও ।
আমি তোমাকে কখনোই বন্দি করে রাখিনি।
নিয়ত শূন্যতার মাঝে নিমজ্জ্বিত আমি ছাতকের চোখ করে তোমায় পেয়েছিলাম। অথচ আজ আমি পরাধীন।
তুমি কখনই স্বাধীন ছিলেনা স্বর্ণলতা। আমিই তোমাকে স্বাধীনতা দিয়েছিলাম। দিয়েছিলাম পূর্ণতা। কিন্তু তুমি আজ আবার শৃঙ্খলিত হতে চাও।
না আমি মুক্তি চাই।
কিসে স্বাধীনতা আর কিসে পরাধীনতা তা তুমি জাননা স্বর্ণলতা ।
তবে আমায় পরাধীন করে দাও । এই স্বাধীনতা অসহ্য ।
আমি অপারগ স্বর্ণলতা। সময়ের বৃত্ত থেকে কেউ বেরুতে পারে না। এটাই মানুষের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা।
তবে আমায় ধ্বংস করে দাও সময়।
আমায় ক্ষমা করো স্বর্ণলতা। সে আমার হাতে নেই।
তবে কি আমি সময়ের হাতের পুতুল ?
আমি জানি না স্বর্ণলতা । এই বলে সময় বাতাসে মিশে গেল।
আর সেই থেকে স্বর্ণলতা সময়কে ঘিরে আবর্তিত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “স্বর্ণলতা ও সময়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 10 = 17