প্রেমপত্র-২

শোন,
তোমার না শুনতে চাওয়ার আগে বলে দি “ভালবাসি” ।বার বার বলি,প্রতিদিন বলি ভালবাসি।যদি তুমি রেগেও থাক!তবু বলব ভালবাসি।শুধু বলব ভালবাসি।মন খারাপ থাকলে কোন প্রশ্ন করার আগে,একবার বলব ভালবাসি।রেগে গিয়েও বলব,মানুষটা আমার,আমি আমার মানুষটাকে সেভাবেই ভালবাসি।মনের গহীন থেকে বলব ভালবাসি।তোমাকে ভালবাসতে গিয়ে, তোমার শূন্যতাকে ভালবেসে ফেলি।ভালবেসে ফেলি তোমার একমঠো স্পর্শ।ভালবেসে ফেলি, চোখের কোণে তোমার জন্য জমে থাকা অপেক্ষার অশ্রু।ভালবেসে ফেলি তোমার চলে আসা পথের প্রতিটি চিহ্নকে।
ভালবেসে ফেলি বাতাসে মিশে থাকা তোমার প্রতিটি কথাকে,ভালবেসে ফেলি তোমার জন্য নির্ঘুম রাতের আঁধারকে।ভালবেসে ফেলি তোমাকে কাছে পাবার ইচ্ছের মৃত্যুকে,
তোমাকে ভালবাসতে গিয়ে, তুমিহীনতাকে ভালবেসে ফেলি।
আমি প্রমিজ করে বলছি,আজ থেকে ৩০ বছর পর ও,হঠাৎ ইনবক্সে তোমার মুটিয়ে যাওয়া একটা ছবি প্রোফাইল থেকে নামিয়ে পাঠিয়ে বলব- “এত সুন্দর কেন তুমি? প্রেমে পড়ে যাই তো”
তুমি কি জানো মেয়ে তোমার অনলাইনে আসার অপেক্ষায় বসে থাকা হয় কত শত সময়,দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর উপমাগুলো খুঁজে আনা হয়, সামান্য ছুতো পেলেও সেটা মিস করা যায় না কথা বলার সুযোগ পেলে আমি মিস করিনা। একটা ঘোরে থাকি সেই ঘোরে থাকা সময়টা বড় মধুর,আমার তোমার সব কিছুই বড় মিষ্টি লাগে। নানা ফন্দি ফিকির করে তোমাকে মুগ্ধ করার চেষ্টা করতে থাকি।
খুব ইচ্ছে দুজন দুজনাকে চিনে নেওয়ার সময়টুকুর মধুর উন্মাদনা, মুগ্ধতা, বুকের ভেতর অকারণে রক্ত ছলকে উঠতে থাকা চলতে থাকুক।শুধু এই পাগলামিটুকুই যথেষ্ট আরেকজনকে আজীবনকে মুগ্ধ করে রাখার জন্য।আমি তো পাগল আছিই তুমি কি একটু পাগলী হবে?
ধরো যদি কোন জ্যোৎস্না রাতে হাওয়ায় ভেসে আসে এক মুঠো মেঘ তোমার ও আঙ্গিনায়।তবে জেনে নিও তবে এ হৃদয় বিষাদময় তোমায় ভেবে বাতাসের সাথে ভেসে আসা দূরের কোন গানের সুরে তোমায় ভেবে অশ্রু ঝরে এ দু’চোখে নীরব নিশীথ রজনীতে ধোঁয়াশা কাচের অন্তরালে মোমের আলো জ্বেলে চলে তোমার আসার প্রতিক্ষা।দুরু দুরু কাপে মোমের আলো আমি কান পেতে রই তোমার নূপুরের শব্দে।
মাঝে মাঝেই গভীর রাতে পুরোনো প্রেমিকার জন্য ডুকরে ওঠে,যেমন দশকের পর দশক যেমন না পাওয়ার বেদনায় নীল হয়ে থাকে, যেমন করে স্মৃতি তাঁকে খুঁচিয়ে বেড়ায়, মাথার গলি ঘুপচিতে ক্যান্ডি ফ্লজের মত আঠালো দ্রবণ হয়ে লেগে থাকে গভীর বেদনার স্মৃতি,ঠিক তেমনই ভয়াবহ হয় তুমিহীনতার রাতগুলি।তুমি আসোনা বাবু।
কথা দিলান আমি তোমার ডিগনিটি ,সিকিউরিটি নিয়ে এতটাই যত্নবান থাকব যতটা আমি মায়ের ডিগনিটি নিয়ে থাকি।আমার জীবনে দুইজনই তো মাত্র নারী ।এক মা দুই তুমি।আমি জানি আমি মিঃপার্ফেক্ট নই তবে নিজের ক্ষমতা আর অক্ষমতা নিয়ে যে পরিস্কার একটা স্বপ্ন দেখাতে পারি তোমাকে সব প্রতিকূলতা থেকে আগলে রাখতে পারি।যতটুকু আমার সামর্থ্য আছে সবটুকু দিয়ে, আর যেটা পারিনা সেটা হয়ত হবে একদিন । তবে তুমি যদি পাশে থাকলে ইনশাল্লাহ হবেই।
আমি এতটুকু বলতে পারি তুমি আমার মাঝে নিজের দায়িত্ববান পিতার ছায়া খুঁজে পাবে।তেমনি এতটুকু চাইবো পিতাকে মেয়ে যেমন স্মেহের আদরে আগলে রাখে শেষ বয়সে তেমনি তুমি আমায় আগলে রেখ তোমার মায়ায়।
এতটুকু বলি,তুমি আমার নীহারিকা আদি অনন্ত যার প্রকাশ-তুমি নারী, আমার তিলোত্তমা।আমার কাছে তুমি গ্রীষ্মের জ্বলন্ত দুপুরের এক মুঠো ঠাণ্ডা হাওয়া-
বর্ষার কালো মেঘের বুক চিরে নেমে আসা এক পশলা বৃষ্টি।শরতের শিউলি বিছানো পথেসাদা পেজা তুলোর মত তুমি।হেমন্তের হিমেল পরশ -আর শীতের কাঁপুনিতে
এক কাপ গরম কফির কাপে তৃপ্ত চুমুক।তুমি বসন্তের নেশা,রঙ মিলান্তির রঙ্গিন ছোঁয়া। তুমি আমার এ কথা কোন দিন বলিনি তোমায়-যে আমার ভয়াবহ অসুস্থ্য রাতে আমা দেখি আমি তোমার কোলে শুয়ে আছি।তুমি রাগ করলে মনে হয় হুৎপিন্ডটা বের হয়ে আসে।তুমি আমি মারামারি চুলোচুলিও যদি করি তবে একটা অনুরোধ তার জন্যেও আমাকেই তুমি বেছে নিও।আমি চাই তোমর আমার ভালবাসা এই মহাকাশের সীমারেখা সমান হোক।।
ইতি
তোমার বেচারা প্রেমিক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − = 37