পৃথিবীতে ধর্মহীনদের সংখ্যা কত?

পৃথিবীতে প্রধান ধর্মাবলম্বীদের পরিসংখ্যান নিম্নরুপ (Wikipedia মতে):
Size of Major Religious Groups, 2012
Religion Percent
Christianity   31.5%
Islam   23.2%
Unaffiliated   16.3%
Hinduism   15.0%
Buddhism   7.1%
Folk   5.9%
Other   0.8%
Judaism   0.2%
Pew Research Center, 2012[1]

আরেকটি পরিসংখ্যান:
• খ্রিস্ট ধর্ম – ২১০ কোটি (গোড়াপত্তন ২৭ খ্রিস্টাব্দ)
• ইসলাম ধর্ম – ১৪০ কোটি (গোড়াপত্তন ৬২২ খ্রিস্টাব্দ)
• সুন্নি ইসলাম – ১২৫ কোটি
• শিয়া ইসলাম – ১৭ কোটি
• সুফিবাদ ও অন্যান্য ইসলামি বিশ্বাস – ৮ কোটি
• নাস্তিকতাবাদ, অজ্ঞেয়বাদ (ধর্মহীন ) – ১১০ কোটি
• হিন্দু ধর্ম – ৯০কোটি (গোড়াপত্তন আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫ শতক)
• চীনা লোকধর্ম – ৩৯ কোটি ৪০ লক্ষ
• বৌদ্ধ ধর্ম – ৩৭ কোটি ৬০ লক্ষ (গোড়াপত্তন আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতক)
প্রকৃতার্থে কারা সংখ্যাধিক?
পরিসংখ্যানগুলো হয় ব্যক্তি যে ধর্মে জন্মগ্রহণ করে বা যে ধর্মের অনুসারী বলে রাষ্ট্রের কাছে পরিচিত তার উপর ভিত্তি করে।সত্যিকার অর্থে নাস্তিক বা ধর্মহীণ লোকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ১১০ কোটি ধর্মহীণ হল তারা যারা প্রকাশ্য ঘোষণা করে নিজেদের ধর্মহীণ হিসাবে।প্রকাশ্য ধর্মহীণদের চেয়ে অপ্রকাশ্য ধর্মহীনদের সংখ্যা আরো বেশি। প্রায় সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে ধর্মহীণদের অবস্থান রয়েছে। নিজেদের ধর্মহীণ বলে প্রকাশ করলে নিজ পরিবার ও বংশ থেকে নির্বাসিত হতে হয়, এ কারনে এ সব জটিলতা এড়াতে বহু ধর্মহীন চুপ থাকতেই বেশি পছন্দ করে থাকে।আবার বহু ধর্মহীণ আছে যারা মনের থেকে ধর্মে বিশ্বাস না করলেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সুবিধা পেতে বাহ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট ধর্মের সেবক হিসাবে অভিনয় করে থাকে।এ নিশ্চুপ শ্রেণীর ধর্মহীনদের পরিসংখ্যান বের করা সহজ নয়। পরিসংখ্যানে এদেরকে অন্তর্ভুক্ত করলে ধর্মহীণদের সংখ্যায় পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি
প্রকৃতার্থে কাদের সংখ্যা কত?:
মুসলমানদের সংখ্যা
সংখ্যাধিক্য সত্য-মিথ্যার মাপকাঠি না হলেও এর একটি মূল্য আছে।পৃথিবীর এত বেশি লোক অমুক বিষয়টি গ্রহণ করেছে বা মেনে নিয়েছে কথাটি বললে কমপক্ষে এতটুকু বোঝায় যে যাহা গ্রহণ করা হয়েছে তার একটি গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে,তা ফেলে দেয়ার মত বিষয় নয়। একেবারে অর্থহীণ বিষয় হলে এত লোক অনুসরণ করত না।যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করে তারা কি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে?অতি তিক্ত হলেও চরম সত্য যে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনি।পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব শুনতে ও গাইতে কার না ভাল লাগে? তাই ইসলামের অনুসারী বলে দাবি করে থাকে। এটাকে গ্রহণ বলে না, গ্রহণ করতে হলে যা গ্রহণ করা হয় তা দেখে,শুনে,বুঝে,পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করে নেয়া হয়।স্বজ্ঞানে যাচাই-বাছাই করে কোন কিছু গ্রহণ করলে সেটাকে গ্রহণ বলে।৯৫% মুসলমান জানে না কুরআনে কি আছে, পড়েও দেখে না, শুধু গুনগান শুনতে পছন্দ করে, কোন ভুল পাইলে দোষটি কাফের-মুশরিকের ঘাড়ে দিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে।সন্দেহ হলে, যাচাই করে দেখতে পারেন। এ ৯৫% এর মধ্যে ৫০%-ই হবে এমন শ্রেনী যারা নামায-কালাম কখনও পড়ে না, তবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হিসাবে ঈদ,জানাযা, জুমআর নামায,শবে বরাত ইত্যাদি পালন করে থাকে। আর ইসলাম বলতে কয়েকজন নবীর নাম, তোতা পাখির ন্যয় মুখস্ত কয়েকটি সুরা,দোয়া মুখস্ত আছে। এ ৫০% মুসলমান জানেই না ইসলাম কি? কুরআনে কি আছে? যারা যে বিষয়ে কিছু জানে না তাদের সে বিষয়ে ভাল বা খারাপ কোনটিই বলার নৈতিক অধিকার নেই। তারপরও তাদের মধ্যে ইসলাম ধর্মের প্রতি ভালবাসা,আবেগ ও সেন্টিমেন্ট দেখতে পাবেন। যা ভাল না খারাপ তা না জেনে তাকে কিভাবে ভালবাসা যায়? এটা বোকামি নয় কি? প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাও জানে না কেন তারা এ ধর্মকে ভাল বাসে।সত্যিকার অর্থে তারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী নয়। তাদের আসল ধর্মের নাম ‘পৈত্রিক ধর্মের প্রতি সহজাত দুর্বলতা বা ভালবাসার পূজা’।বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমরা দেখি কেউ হিন্দু,কেউ মুসলমান, কেউ খ্রিষ্টান ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে সবাই একই ধর্ম পালন করছে, যিনি পৈত্রিক সুত্রে যেটি পেয়েছেন বাহ্যিক ভাবে তিনি সে নামে পরিচিত হচ্ছেন।
বাকি ৪৫% মুসলমান যে ইসলামকে ভাল করে জেনে বুঝে গ্রহণ করেছে তা কিন্তু নয়। এ ৪৫% মুসলমানের মধ্যে কেউ অল্প বিস্তর ইসলাম নিয়ে লেখা-পড়া করেছে, কেউ বা আরেকটু বেশি করেছে আর কেউ হয়ত অনেক বেশি করেছে, এদের সবাই ছক বাধা কিছু লেখা-পড়া করেছে। জিজ্ঞাসা যদি করেন পুরো কুরআনে কি কি বিধান বিবৃত হয়েছে তারা বলতে পারবে না। সরাসরি কুরআন থেকে ইসলাম শেখেনি, শিখেছে কিছু মাসয়ালার বই থেকে,কিছু হুজুরদের থেকে, কিছু ইসলামি বই থেকে।
মুসলমানদের প্রকৃত সংখ্যা বলতে সত্যিকার অর্থে কতলোক ইসলামকে অনুসরণীয় হিসাবে গ্রহণ করেছে তার বিশ্লেষণ এখানে করা হবে।
এবার আসি আসল কথায়।পৃথিবীর যত লোক ইসলাম ধর্মের অনুসারী বলে দাবী করে তারা সকলে কি ইসলাম ধর্মকে সকল ধর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে পাওয়ার কারনে গ্রহণ করেছে? যদি সকল ধর্ম থেকে যাচাই-বাছাই করে ইসলামকে শ্রেষ্ঠ হিসাবে পাওয়ার পর গ্রহণ করে থাকে তাহলে এ গ্রহণের একটি মূল্য আছে।কারণ এত লোকের বিচার-বুদ্ধিতে ইসলাম শ্রেষ্ঠ হিসাবে প্রতীয়মান হয়-এত লোকের বিচার বুদ্ধির একটি মূল্য অবশ্যই আছে।বাস্তব সত্য কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমানদের ৯৯% মুসলমানই জন্মগত সুত্রে মুসলমান।এর মধ্যে ৬৯% মুসলমান ইসলাম গ্রহণ করেনি বরং পৈত্রিক সুত্রে পাওয়াই পৈত্রিক ধর্মের প্রতি সহজাত আকর্ষনের কারনে ইসলাম পালন করে।স্ব-জ্ঞানে নিজের বিচার-বুদ্ধি ব্যবহার করে সুচিন্তিতভাবে যাচাই-বাছাই করে কোন কিছু গ্রহণ আর সহজাত প্রবল প্রেম স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে।সুতরাং এ ৬৯% মানুষের এ ধর্মানুসরনের মুল্যায়ন অবুঝ শিশুর কোন কিছুর গ্রহনের মূল্যায়নের সমান।
বাকি ৩১% মুসলমানদের নিম্নরুপ কয়েকটি গ্রুপে ব্যখ্যা করা যায়:
১. ৩১% এর ১% হল ভিন্ন ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত মুসলমান।কেউ ধর্মান্তরিত হওয়া কোন সত্য-মিথ্যার মানদন্ড নয়।কেউ ইসলাম ত্যগ করলে প্রমান করে না যে ইসলাম মিথ্যা একই ভাবে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলেও ইহা প্রমান করে না যে ইসলাম
২. ১০% মুসলমান ইসলামসহ কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না।আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারনে তারা এটা প্রকাশ করে না।তারা তাদের মনের কথা প্রকাশ করলে পরিবার ও মুসলিম দেশের কট্টোর সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।জাতীয় পরিচয়পত্রে ও সামাজিক পরিচয়ে এরা নিজেদের মুসলমান হিসাবে প্রকাশ করে।এ ধর্মহীণদের কেউ কেউ জুমা’র নামাজ সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও যোগদান করে, সেখানে টাকা পয়সা দিয়ে সামাজিক/রাজণৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে।কখনও কখনও ধর্মের পক্ষে বিভিন্ন উপলক্ষে বক্তব্য দিয়ে তথাকথিত ধর্মপ্রাণদের সমর্থণ আদায় করে সামাজিক/রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে থাকে।প্রকৃতার্থে অন্তর থেকে তারা কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না-এমনকি তাদের এ অবিশ্বাস তাদের নিকটস্থদের কাছেও প্রকাশ করে না।তাই এদের সঠিক পরিসংখ্যান বের করা সম্ভব
৩. আলেম-ওলামা ও অন্যান্য ধর্ম প্রচারকদের (যারা আলেম হিসাবে পরিচিত নন,তবে ধর্ম নিয়ে লেখা-পড়া আছে এবং তদানুযায়ী ধর্ম প্রচার করে থাকে)সংখ্যা প্রায় ২০%। এদের মধ্যে থেকে ১০% লোক ধর্মকে ভাল ভাবে বোঝে এবং ধর্ম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা গবেষণা করে থাকে। আর বাকি ১০% লোক তোতা পাখির মত ধর্মীয় পুস্তক মুখস্ত করে এবং তা প্রচার করে থাকে।
এদের মধ্যে আলেমদের ১০% এবং ধর্মান্তরিত ১% = ১১% মুসলমানকে প্রকৃত মুসলমানদের সংখ্যা হিসাবে গণনা করা যায়। এর মধ্যেও কথা থাকে। যে ১০% মুসলমান আলেম ধর্ম নিয়ে অনেক গবেষণা করে তারা সকলেই যে অন্তর থেকে মুসলমান সেটা কিন্তু নয়। তাদের বেশিরভাগের আত্মস্বার্থের সাথে তাদের ধর্ম জড়িত। ধর্ম তাদের সুনাম-সুখ্যাতি ও বিভিন্ন হাদিয়া তোহফা পাওয়ার প্রধাণ উপায়। তাদের এ সুনাম সুখ্যাতি বজায় রাখতে হলে আর হাদিয়া তোহফা পেতে হলে ধর্মকে বাচিয়ে রাখা অতীবও জরুরী। তাই ধর্ম সত্য না মিথ্যা-তা তাদের কাছে মুখ্য নয়, ধর্মকে টিকেও রাখা তাদের অস্তিত্বের সাথে জড়িত।
প্রকৃতার্থে মুসলিম বললে বলা যায় মুসলিম জনগোষ্ঠির সর্বোচ্চ ১১% অর্থ্যাৎ (১৪০ কোটির ১১%=১৫ কোটি ৪০ লাখ)
খ্রিষ্টানদের প্রকৃত সংখ্যা: খ্রিষ্টানদের প্রায় ৫০% ধর্মহীনদের অন্তর্ভুক্ত আর ৪৮% পৈত্রিক ধর্মের অন্ধানুসারী। এদের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ২% কে খাটি খ্রিষ্টান বলা যায়।
প্রকৃত খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ২১০ কোটি এর ২% = ৪ কোটি বিশ লাখ
হিন্দুদের প্রকৃত সংখ্যা: হিন্দুদের ৮৯% অন্ধ ধর্ম বিশ্বাসী। ১০% ধর্মহীনদের অন্তর্ভুক্ত। সর্বোচ্চ ১% হিন্দুকে খাটি হিন্দু বলা যায়।প্রকৃত হিন্দুদের সংখ্যা দাড়ায় ৯০ কোটির ১% = ৯০ লাখ
ধর্মহীনদের প্রকৃত সংখ্যা (নাস্তিক,অজ্ঞেয়বাদ ইত্যাদি): যারা ধর্মহীন তারা সকলেই বুঝে-শুনে ধর্মহীন। এদের বেশিরভাগ কোন না কোন ধর্ম থেকে আগত।১১০ কোটি ধর্মহীন হল তারা যারা সমাজের সকল বাধা-বিপত্তি সত্বেও বিবেকের তাড়নায় প্রকাশ্য নিজেদেরকে ধর্মহীন বলে ঘোষনা দেয়। এর চেয়েও বেশি ধর্মহীন রয়েছে যারা বিভিন্ন ধর্মের নামে পরিচিত রয়েছে, তারা তাদের ধর্মহীনতা প্রকাশ করে তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায়নি।
মুসলিমদের মধ্যে ধর্মহীন রয়েছে প্রায় ১৪০ কোটির মুসলিমদের ১০%=১৪ কোটি
খ্রিষ্টানদের মধ্যে ধর্মহীন রয়েছে প্রায় ২১০ কোটি খ্রিষ্টানদের ৫০%=১০৫ কোটি
হিন্দুদের মধ্যে ধর্মহীন রয়েছে প্রায় ৯০ কোটি এর ১০% = ৯ কোটি
এছাড়া অন্যান্য ছোট ছোট শতাধিক ধর্মের মধ্যে বহু ধর্মহীন রয়েছে যাদের সংখ্যা উল্লেখ নাই-ই করলাম।
ধর্মহীনদের প্রকৃত সংখ্যা দাড়ায়: ১১০ কোটি+ ১৪ কোটি+১০৫ কোটি+৯ কোটি = ২৩৮ কোটি
এক নজরে:
১. ধর্মহীনদের সংখ্যা: ২৩৮ কোটি
২. প্রকৃত খ্রিষ্টানদের সংখ্যা: ৪ কোটি বিশ লাখ
৩. প্রকৃত মুসলিমদের সংখ্যা: ১৫ কোটি ৪০ লাখ
৪. প্রকৃত হিন্দুদের সংখ্যা: ৯০ লাখ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

27 + = 29