জার্নি বাই বাস : রাজশাহী টু ঢাকা

টানা ১০০ দিন উষ্মনগরী রাজশাহীতে বসত করার পর ঢাকা ফিরব। হরতাল আর হরতালের আতিশয্যে সেশনজটের আশঙ্কায় এমনিতেই গ্রীষ্মের ছুটি কমিয়ে এক সপ্তাহ করে দেয়া হল। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আগমন বার্তায় দেশবাসী শঙ্কিত। আসন্ন ৭ ঘণ্টার বাসযাত্রার কথা চিন্তা করে আমিও শঙ্কিত। বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে রিকশাযোগে তালাইমারি এসে পৌছলাম।

সকাল ৭টা, রুয়েটগেট
তালাইমারির বৈশাখী হোটেলে নাস্তা করার পর সকাল ৮টায় ঢাকার বাসে উঠলাম। বাসে উঠেই প্রথম যেটা মনে হল, “ধুর! ট্রেনেই যাওয়া উচিৎ ছিল।” বাসের ৭০% সিটই খালি। এক সুন্দরী তরুণী বাস-কাউন্টারে খুব উসখুস করছিল। আমার বেশভূষায় একটু শক খাইসে মনে হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে মন দিলে কি আমার চলে। আমি একজন সাদাসিধা সন্ন্যাসী মানুষ। একদম পিছনের সিটে গিয়ে ধ্যানে বসলাম। কিন্তু তেলেভাজা পরটা ও কোকাকোলার মিশ্রনে আমার পেটে গুরগুর করছিল। তাই পলিথিন ব্যাগে এই মিশ্রন উদ্গিরন করে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। ততক্ষনে সাধনার মুড শেষ। দৈনিক পথুম আলুতে চোখ বুলাতে লাগলাম। সম্পাদকীয় পাতাটা পড়ে বড্ড বিনুদুন পাইলাম।

সকাল ১০:৪০, সিরাজগঞ্জ
যাত্রীবিরতি। ক্ষুধার তাড়নায় রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। ওয়েটারের টানাটানিতে ফাস্টফুড খাইতে বসলাম। নয়তো শুকনো রুটি আর সিক্ত ডাল ছাড়া আমি কিছু খাইনা। চিকেন স্যান্ডঊইচ নামক একটা বস্তু গলাধঃকরণ শেষে দু পেয়ালা জল খেলুম। আশেপাশে কিছু বালছাল গোত্রের নরনারী আমাকে আগ্রহ সহকারে লক্ষ্য করছিল। সো খুব পার্ট নিয়া টিস্যু দিয়ে নিজের আঙ্গুলের কোনায় কোনায় পরিস্কার অভিযান চালালাম। ওয়েটারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কখন সে টিপ নেয়ার জন্য হাত কচলাকচলি করবে আর আমি ওরে “পরিশ্রম সফলতার চাবিকাঠি, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পরিশ্রমের তাৎপর্য” ইত্যাদি নিয়া কয়েকটা কড়া ডায়লগ দিতে চাইসিলাম। কিন্তু ওয়েটার অয়াজ ভেরি ভেরি স্মার্ট। সে হয়ত আগে থেকেই বুঝতে পারছিল যে, আমি কোন এঙ্গেলেও বখশিশ দেয়ার লোক নাহ। সো সে বিল দিয়া চইলা গেল। মাননীয় স্পীকার, উৎসাহী জনতার ভিড়ে আমি আবার চোদনা হয়ে গেলাম। যাই হোক। আবার বমি হইতে পারে এই ভয়ে সিগারেটের প্যাকেটে লেখা উপদেশবাক্য অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিলাম এবং একজন আবালচোদা ভদ্দরলোকের মত বাসে গিয়ে উঠলাম। তারপর কিছুক্ষণ নবদম্পতির খুনসুটি দেখতে দেখতে ঝিমাইতে লাগলাম।

মধ্যাহ্ন ১২:১৫, টাঙ্গাইল
জানালার দিয়ে গালাগালির তুফান বয়ে যাচ্ছে। চক্ষু খুলে দেখি, বিশালদেহী দুই ট্রাক ড্রাইভার নিজেদের মধ্যে কাইজ্যায় ব্যাস্ত। তাদের কাছ থেকে টাঙ্গাইলের কয়েকটা আঞ্চলিক গালি শেখা গেল। যাই হোক, জানালা দিয়ে মাথা বের করে সামনে তাকিয়ে দেখি, বেশ ভালো সংখ্যক ট্রাক-বাস স্থির ত্বরনে খারাইয়া আছে এবং সরণ, ত্বরণ ও ভ্রমণের দিকে কারো কোন বিকার দেখলাম নাহ। মাননীয় স্পীকার, আমি আবারো ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়লাম।

অপরাহ্ণ ৩:০০, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা
এ বাড়া কই নামাই দিল। যাওয়ার কথা কল্যানপুর, আর নামাই দিল বিশ্বরোড। মেজাজটা পুরা গরম কইরা দিল। টঙে গেলাম। ধমাধম দুইটা বিড়ি টাইনা মুড ঠিক করলাম। ইলিয়াছ নামের এক ট্রাফিক পুলিশের সাথে পরিচয় হল। তার লগে কিছুক্ষন খোশগল্প করে সিএনজিযোগে মোহাম্মদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

অপরাহ্ণ ৪:১০, তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর
দেট ড্রাইভার অয়াজ ড্রাইভিং ভেরি ফাস্ট। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাসার কাছাকাছি চলে আসছি। এমন সময় শিয়া মসজিদের মোড়ে পুলিশ সিএনজি দাড়া করালো। ড্রাইভার জলদি কাগজপত্র নিয়া বাইরে বের অইল। মিটার নষ্ট থাকার কারণে বেশ ভালো ধরনের প্যাদানি খাইল। ভদ্দরগোছের একজন কনস্টেবল আমাকে ডাক দিল এবং তার সঙ্গে আমার কনভারসেশন নিম্নরূপ।
– সিএনজি কই পর্যন্ত ঠিক করসেন?
– হাউজিং লিমিটেড।
– কোথা থেকে উঠসেন?
– কুড়িল ফ্লাইওভার।
– ভাড়া কত ঠিক করসেন?
– ২৫০।
– মিটার যে নষ্ট ছিল এটা দেখেন নাই?
– জ্বি না।
– নেক্সট টাইম সিএনজিতে উঠলে মিটারে ভাড়া ঠিক করবেন। এরা যেই ভাড়া চায়, আপনি সেটাই দিয়ে দিবেন। দেশটাকে কি এরা মগের মুল্লুক পাইছে নাকি।

অপরাহ্ণ ৪:৩০, নিজ আস্তানা
সিঁড়ি বেয়ে বাসায় প্রবেশ। অনিচ্ছা স্বত্বেও হাত মুখ ক্লিনআপ। চিকেন বিরিয়ানির উপর ঝাঁপাইয়া পড়া।

শেষকথা
এই ছিল আমার কাটানো ১৫ই মে। একটা সাদামাটা ফালতু ভ্রমণ কিচ্ছা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “জার্নি বাই বাস : রাজশাহী টু ঢাকা

  1. সন্যাসী বাবাদের সবকিছু
    সন্যাসী বাবাদের সবকিছু সাদামাটা হওয়াটাই প্রথাগত। রঙিলা সন্যাসী হইবার চাইলে তাহা অন্য কথা। তবে ভালো লিখেছেন। 🙂

  2. সকাল ১০:৪০,

    সকাল ১০:৪০, সিরাজগঞ্জ
    যাত্রীবিরতি। ক্ষুধার তাড়নায় রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। ওয়েটারের টানাটানিতে ফাস্টফুড খাইতে বসলাম। নয়তো শুকনো রুটি আর সিক্ত ডাল ছাড়া আমি কিছু খাইনা।

    ভায়া হুদাই কয়া দিলি পরে তো আর হবিনানি। না ইডা তো আমি মাইনবার পাইরলাম না। দেশে থাকাকালীন মেলাবার ঐ রোডে যাতায়াত করিছি। কুনুদিনও দেখি নাই ওয়েটার টানাটানি করিচ্ছে। দুই তলা হোডেলটার নিচ তলায় খাড়াইয়া একজন চিল্লায় খাওন-দাওন, হাত-মুখ ধোওন সব উপরে। আপনের ইচ্ছা হলি যাবেন নালি পরে পাশের টঙ্গে খাড়ায়ে রুটি-ডাল খাইয়ে নিতি পারেন।

    1. জনাব, আফনে ইদানিংকালে শ্যামলী
      জনাব, আফনে ইদানিংকালে শ্যামলী কোম্পানির রেস্টুরেন্টে নিশ্চয়ই ঢুকেন নাই। এদের ওয়াশরুম নিচতলায় আর রেস্টুরেন্টের ভিতরেই। বের হওয়ার সাথে সাথেই ৩-৪ জন ওয়েটার ঘিরা ধরে। :মাথাঠুকি:
      আর যেই কারণে ওয়েটার আমার কাসে টিপ চায় না, হয়তো একি কারণে আপনাকে নিয়া টানাহেঁচড়া করে না। লুল। :জলদস্যু:

  3. খুবই সাধারন একটা বিষয় খুব
    খুবই সাধারন একটা বিষয় খুব সাবলীল ভাবে এবং চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন । ভাল লাগল :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =