কোরানের কোন আয়াত গ্রহনীয় এবং কোনটা বাতিল ?

কোরানের কোন আয়াত গ্রহনীয় এবং কোনটা বাতিল ?
সবাই বলে – কোরানকে কেউ চুল পরিমান পরিবর্তন করতে পারবে না । মহান আল্লা পাক যেভাবে নাজিল করেছেন ঠিক সেই ভাবেই আজও আছে । প্রমান হিসাবে নিচের আয়তটাও জুড়ে দেন এবং বুঝিয়ে দেন যে, আল্লা নিজে সেটার দায়িত্ব নিয়েছেন ।

//‘আর এটি নিশ্চয় এক সম্মানিত গ্রন্থ। বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পিছন থেকে। এটি প্রজ্ঞাময়, সপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত’-(সূরা ফুস্সিলাত , ৪১-৪২)।//

(যদিও উক্ত সুরার নাম এখন সুরা মুমিন সুরা নং ৪০ কিন্তু এই সুরার ৪১ ও ৪২ নং এমন কোন আয়াতের খোজ পাই নাই । তাইলে কি এই সুরা পরিবর্তন হলো না ? ) যাক এবারে আসি বাতিল প্রসংগে নিচের আয়াত গুলি লক্ষ্য করুন –

//আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? সূরা বাক্কারা, ২: ১০৬ মদিনায় অবতীর্ণ ///

///আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন এবং মূলগ্রন্থ তাঁর কাছেই রয়েছে। সূরা রাদ, ১৬: ৩৯, মক্কায় অবতীর্ণ।///

//এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। সূরা নাহল, ১৬: ১০১, মক্কায় অবতীর্ণ ।//

(অর্থাৎ একই বিষয়ে আগে যা বলেছেন পরে তাঁর বিপরীত বললে বিপরীতটাই সঠিক আগেরটা বাতিল ।)
এখন একই বিষয়ে নিচের এই আয়াত গুলি দেখে বলুন তো কোনটা আগে আসেছে যা বাতিল আয়াত ?

///দ্বীন নিয়ে কোন বাড়া বাড়ি নাই। সূরা-বাকারা, ০২: ২৫৬ ( মদিনায় অবতীর্ণ)//

///তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। কোরান, কাফিরুন- ১০৯:০৬ ( মক্কায় অবতীর্ণ)//

( অর্থাৎ যার যার ধর্ম সে সে করবে কোন জোড়াজুড়ি চলবে না । বাহ কি সুন্দর তাই না ?) এবার দেখুন তাঁর বিপরীত আয়াত গুলি –

///যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত। সূরা আল ইমরান, ০৩: ৮৫ মদিনায় অবতীর্ণ///

///অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আ ত-তাওবা, ০৯: ০৫মদিনায় অবতীর্ণ//

/// তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। আত তাওবা, ০৯: ২৯মদিনায় অবতীর্ণ//

// তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। সূরা-নিসা. ০৪:৮৯ (মদিনায় অবতীর্ণ)//

// নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। সূরা বাকারা, ০২:৬২ মদিনায় অবতীর্ণ । //

তাইলে উপরে যে -(সূরা ফুস্সিলাত , ৪১-৪২) এ আল্লা বললেন বাতিল আয়াত কোন ভাবেই কোরানে থাকবে না । এখন সমস্যা হলো কোরান যেভাবে সংকলিত হয়েছে তাতে কোনটা আগে কোনটা পরে , কোনটা বাতিল তা বুঝাই কঠীন । কি ভাবছেন ? ভাবছেন বর্তমান কোরান নাজিল কৃত ক্রমানুসারেই অবিকৃত আছে ? নাই । নিচে একটা নমুনা দেখুন । তাইলে এখন বলুন কোনটা বাতিল কোনটা সঠিক কোনটা মানবেন । পাশাপাশি বাতিল আয়াত কোরানে রেখে -(সূরা ফুস্সিলাত , ৪১-৪২) মিথ্যা হয়ে গেল না ? –

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

66 + = 68