আমার লাইব্রেরিঃপর্ব-২

এর মধ্যে বই কেনার নেশাও বাড়ছে। মামা বাড়ি গেলে জামা প্যান্ট কিনতে টাকা দিলে বই কিনে ফেলি। মায়ের কাছ থেকে নিই। যদিও সত্যি কথাই বলি মায়ের কাছে। তবে এক্ষেত্রে এক দাদার কথা না বললেই নয়, সে তখন শহরে কলেজে পড়ত। প্রায় যায় কলেজে। ছোট বেলা থেকেই দাদা আমার যে কোন ধরনের বই কিনে এনে দিত।

তবে সে যে বই হোক কোন দিন বলে নি যে এ বই এখন পড়িস না। পরে কিনিস। নিজে বেকার হলেও মাঝে মাঝে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে বই কিনে এনে দিত। অবশ্য পরে মা সেই টাকা দিয়ে দিতেন। দাদার বক্তব্য ছিল,কি বই কিনব তার নাম আর লেখকের নাম বলব শুধু। এই ভাবে অনেক বই কিনে এনে দিয়েছে দাদা।

তারপর একদিন দাদার সাথে গেলাম দাদাদের কলেজে। দেখে আমার চক্ষু চড়কগাছ। কত বইয়ের দোকান। কত ছেলেমেয়ে বই কিনছে। তবে আমি যে ধরনের বই কিনি সে বই বেশি কেউ কেনে না। বইয়ের দোকানগুলোতেও একেবারে বেশি নেই। তবে অর্ডার করে গেলে এনে দেবে এই সান্তনা আছে।কলেজ চত্ত্বর ঘুরে ঘুরে দেখলাম। বিজ্ঞান অনুষদ, কলা বিভাগ, ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল সব দেখে সেদিনের কথা আজও মনে পড়ে। তবে সেদিন এই কলেজ চত্ত্বর ঘোরার সময় হাতে ছিল সদ্য কেনা একটা বই। তাই অন্য এক আনন্দও ভিতরে ভিতরে কাজ করছিল।

এদিকে আমি ওই লাইব্রেরির একজন সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠলাম। কবি দাদা নানা দায়িত্ব দিচ্ছেন। তবে একটি ব্যাপার, লাইব্রেরিতে পাঠক নেই আর থাকলেও তাদের অধিকাংশের আসা সংবাদপত্রের দিকে সামন্য চোখ বুলিয়ে যাওয়া। বসে পড়ার মত ধৈর্য ও সময় খুব কম জনেরই আছে মনে হয়। দুই একজন আবার লাইব্রেরীর দরজা দিয়ে উকি মেরে মুছকি হেসে যান। যদিও ব্যপারটা এই কয়দিনে বেশ গা সওয়া হয়ে গেছে। তবুও পরিচিতদের আসতে বলি।

মাধ্যমিক পরীক্ষার পর অঘাত সময় পেলাম। বরাবরই শিশুদের খুব ভালো লাগে আমার। সিদ্ধান্ত নিলাম তাদের নিয়ে এই সময়টা কাটানোর ব্যবস্থা করব। কবি দাদাকে বললাম, এই কাজের জন্য লাইব্রেরিকে দেবার জন্য। তিনি রাজি হয়ে গেলেন।
বাচ্চাদের নিয়ে তখন কাজ করতে গিয়ে তখন একটি চরমতম শিক্ষা পেয়েছিলাম, আসলে শিক্ষকতা করাটা খুবই কঠিন। ওদের মনস্তত্ত্বের ধারে কাছেও যেতে পেরেছিলাম না ওই কয়দিনে। তবে ওদের দিয়ে নাটক করিয়েছিলাম একবার।
একদিন সকালের দিকে দশ বারো জন বাচ্চা নিয়ে কাজ করছি।

আমার এক দাদার ছেলে, বয়সে আমার থেকে বড়, লাইব্রেরিতে ঢুকেই সব চেয়ে ছোট্ট বাচ্চাটিকে কি বলে যেন মাথায় চড় দিল। সহ্য হল না আমার। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “ওকে মারছিস কেন?” বলল, “মারব না ও পড়তে পারে, পড়তে এসছে?”

এখানে বলে রাখি আমার ঐ দাদার ছেলে এক সময় আমার উচুর ক্লাসে সাথে পড়ত। কিন্তু ওর আর পড়া আর হয়ে ওঠে নি। এখন মাঠে যায়, পাওয়ারট্রিলার চালায়।
আমি বললাম,” তুই দেখছিস এরা পড়ছে। তা তুই ওকে মারলি কেন?”
আরো বললাম, “তুই এখন যা।”
ওর হাবভাবে মনে হচ্ছিল, আরো কাউকে মারবে।
বললাম, “তুই যা নয় বাজার কমিটিতে আমি বলব।”

ও নাছোড়বান্দা। আমি বাধ্যহয়ে বললাম বাজার কমিটিকে। ওকে ডাকা হল। সাথে সাথে ভূল স্বীকার করল। তবে কেন জানি না আমি কেদে ফেলেছিলাম।

কিন্তু ওই বিচার পেয়েছি এই জন্য নয়, যে বাচ্চা ছেলেটিকে ও মেরেছে সেই বাচ্চা ছেলেটির কথা ভেবে।ওর মুখের দিকে তাকিয়ে।

চলবে……………….

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 + = 46