প্রতিমা ভাঙার প্রতিবাদ করতে কি কোরানের সাহায্য লাগে?

প্রতিমা কেউ কেন ভাঙে? কারা সেই দুর্বৃত্ত যারা প্রতিমা ভাঙে? তাঁদের উৎসাহের অনুপ্রেরণা কি?

একটি মাত্র শব্দ দিয়ে এর উত্তর দেওয়া যায়। মুসলমান। কিন্তু আজকের তথাকথিত বাঙালি সভ্য সমাজে বা মুসলিম সমাজে এই সমস্যায় এই শব্দের উচ্চারণ বর্ণবাদের সমান! বরং একটু অন্য কথা বলি।

লক্ষ্য করেছি আমাদের রাজনৈতিক প্রগতিশীল, স্বঘোষিত মুক্তমনা, দলীয়(রাজনৈতিক)হিন্দু, মডারেট মুসলিম, এমনকি নাস্তিকদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ বাংলাদেশে হেফাজতের ভাস্কর্য সরানোর দাবীর বিপরীতে তাদের বিভিন্ন লেখায় প্রমাণ করা চেষ্টা করেছেন যে প্রতিমা/মূর্তি/ভাস্কর্য হচ্ছে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এই আলাদা বিষয়গুলি বুঝানোর জন্য তাঁদের অধ্যবসায় ছিল চোখে পড়ার মত।

?oh=519a4a96f4102eaec9358bfc62b9fb4f&oe=59D2A8DA” width=”500″ />

তাদের ঐ সময়ের লেখাগুলোর সাথে পূজার প্রতিমা বা মূর্তি ভাঙা সমস্যার বিন্দুমাত্র মিল নেই। হেফাজতি দাবীতে তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন মূর্তি আর ভাস্কর্য ভিন্ন জিনিষ। ঐ সময় তাঁদের লেখার মূল বিষয়বস্তু ছিল ভাস্কর্য যেহেতু পূজার সামগ্রী নয় তাই হেফাজতের দাবী সঠিক নয়! এমনকি এটা বুঝাতে গিয়ে অনেকে সুরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করে দেখিয়েছেন যেহেতু কোরানেও ভাস্কর্যের কথা আছে তাই হেফাজতের দাবী সঠিক নয়। ভাস্কর্য যেহেতু পূজার সামগ্রী নয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে বিভিন্ন ভাষ্কর্য আছে তাই ইসলামের সাথে ভাস্কর্যের কোন বিরোধ নেই। যদি এটি প্রতিমা হত তবে তা উচ্ছেদের দাবী যুক্তিযুক্ত হত এই ছিল তাঁদের মূলকথা!

চিন্তা করেন বিষয়টি? সামান্য বিরোধীতার জন্য তাঁরা কিভাবে প্রতিমা ভাঙা বা উচ্ছেদের পক্ষে কথা বলেছিলেন। এইসব লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছিল এবং মোল্লারা তাঁর বিরোধীতা করে এও দেখিয়েছেন যে প্রতিমা তো দূরের কথা এমনকি ভাস্কর্য পর্যন্ত ইসলামে নিষেধ।

ভেবে পাই না কেউ প্রতিমা বানিয়ে পূজা করতে চাইলে বা সেটি প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে চাইলে অন্য কারো ধর্মে আঘাত লাগবে কেন? কারণ তাঁর ধর্মের প্রবর্তক বলে গেছেন যে সত্য ধর্ম উনি এনেছেন তাই মূর্তি ভেঙে ফেলতে হবে? তিনি তাঁর ধর্মগ্রন্থে মূর্তিপূজা নিষেধ করেছেন বলে সেটা অন্য কারো ধর্ম হলেও সে করতে পারবে না? বলতে বাধ্য হচ্ছি তিনি একজন প্রচণ্ড হিংসুক, হিংস্র, বর্ণবাদী, মিথ্যেবাদী, কাপুরুষ লোক ছিলেন নিঃসন্দেহে।

এমন যারা চিন্তা করেন তাঁরা সঠিক? যারা মূর্তি, প্রতিমা এবং ভাস্কর্যের অমিল দেখিয়ে হেফাজতের বিরোধীতা করেছেন তাঁদের উচিত নিজেকে জিজ্ঞেস করা যে তিনি মূর্তিপূজার বিরোধী শুধু হেফাজতের জন্য নাকি তাঁর চিন্তার কোথাও বিকৃতি আছে? ধর্মের বিরোধীতা করা যেতে পারে। আমরা এটাই করি কিন্তু মুসলমানের কোরানের আয়াত দেখিয়ে হিন্দুদের মূর্তিপূজার বিরোধীতাকারীরা নিজের অজ্ঞতায় হোক বা লুকানো চিন্তা থেকেই হোক ভুল বকছেন। প্রেক্ষাপট এইখানে বিবেচনাহীন, একটি বিশেষ ধর্মের কারণে মূর্তি উচ্ছেদের দাবীই অন্যায়।

প্রতিমা/ভাস্কর্য/মূর্তি যাই হোক না কেন কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের দাবীর জন্য তা অপসারণ, ভাঙা চলবে না। তাঁদের বিশেষ হিংসাত্নক কিতাবে তা যতই নিষেধ থাকুক না কেন তাঁদেরকে অন্যদের ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাতে শিখতে হবে। প্রতিটা মানুষের দাবী আছে তাঁর পছন্দমত ধর্মচর্চা করার যদি তাতে অন্য কারো ক্ষতি না হয়। বলতে দ্বিধা নেই যে মূর্তিপুজার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আজকের বাংলাদেশে এমনটি আমি শুনিনি, তবে বলতে বাধ্য যে এর বিরোধীতাকারীদের কারণে প্রায় সারা দুনিয়ার নিরীহ মানুষজন আতংকে দিন কাটান এমনটা প্রায়দিনই শুনতে পাই। এই বুঝি কোন মুসলমান আল্লাহু আকবার বলে বোম মারলেন এই ভয় আমার মাঝেও কাজ করে নিয়মিত!
অনেক মুসলমান কোরানের আয়াতের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিমা ভাঙার বিরোধীতা করেন অনলাইনে। তাঁদের মনের খবর আমার জানা নাই তবে মন থেকে যদি করে থাকেন তবে তাঁরা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তবে আমার পরিচিত কোন মুসলমান আমার জীবনে দেখিনি যিনি কোরানের বিপরীতে যেতে পারেন বা এমন চিন্তা করতে পারেন। যেদিন মুসলমান সম্প্রদায় কোরানের হিংসাত্নক আয়াত এবং হিংসাত্নক হাদিসের বাইরে গিয়ে ধর্ম চর্চা করতে পারবেন সেদিন হয়ত আমরা একটা সভ্য পৃথিবী পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি। অন্তত একটা সভ্য বাংলাদেশ হয়ত! সময় এসেছে মুসলিম সম্প্রদায় নিজেদের সভ্য মানুষ করার প্রচেষ্টা নিবেন। সবাইকে বাতিল করে দিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবা বন্ধ করবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

52 + = 59