মহাসেন কথন

ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ আতঙ্কে উপকূলীয় এলাকার মানুষজন আশ্রয়ের সন্ধানে দিশেহারা। ভাগ্যবানেরা হয়তো নিরাপদ আশ্রয়ে, দুর্ভাগাদের কথা জানে শুধু সৃষ্টিকর্তা।

আগামি কয়দিন কী খাইবো কিংবা খাইবো না, কই থাকবো নাকি বানের জলের মতো ভাইসা বেরাইবো চিন্তার বিষয়। আর আমরা দালানবাসী এখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে খিচুরি খাওয়ার চেতনায় কষ্টে আছি।

ফেইসবুকে ঝড় তুলি “আহারে কত কষ্ট,মরবে বুঝি আরও হাজার চরেক ধুত্তুরি। এতো লাশ,এতো লাশ -মোরা সবাই প্রকৃতির দাস। বউরে মারে জামাইয়ে, জামাইরে মারে গুন্ডায়ে, আর গরিবেরে মারে খোদায়ে।”
তারপর একটু বিরতিতে মুখটা ঘুরাইয়া চিল্লাইয়া কই মামা/মা স্পেশাল ঝাল গরু ভুনা চাই। অবশ্য এমন বৃষ্টিতে গরু ছাড়া ভুনা খিচুরি জমে নাকি ??

‘মোবাইল ফেইসবুক’, ‘লটপটি ফেইসবুক’, ‘ডেস্কটপ ফেইসবুক’ জানে আমি কী জিনিস গুরু। আর কেউ জানে না। ফেইসবুকের কল্যাণে আমার মাশাল্লাহ অনেকগুলা ফেইস, ‘বন্ধু ফেইস’, ‘গেনি ফেইস’, ‘সামাজিক ফেইস’, ‘বাচাল ফেইস’, ‘রসিক ফেইস’, ‘উদার ফেইস’, ‘আরজ আলি মাতব্বর ফেইস’, ইত্যাদি। হাজার মাইনসের হাজার ফেইস। যদিও বাস্তবিক আমি বহুত ফেইক।

শুনলাম একদল দালানবাসী অবশ্য তাহাদের দালানবাসী বলার চেয়ে সৌখিন বলাটাই ভালো, কাছাকাছি মিতা মহাসেন ভাইয়েরে দেখতে কক্সবাজার গেছেন। সৃষ্টিকর্তা ওনাদের মনোবাসনা পূর্ণ করুক। হয়তো ৫ তারা হোটেল থেকে দেখতে চান ঝড়ে সব ধ্বংস হয় কেম্নে! এটা শিক্ষণীয় ব্যাপার। অথবা তাহাদের মহৎ কোনো উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। আল্লাহ মালুম।

একটা সান্ত্বনার কথা বলা যায়,আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে যাচ্ছে, আমরা কি করতে পারি ভাই? তার জেম্নে ইচ্ছা অম্নে লইবো। বাকিগুলানরে গুণ্ডায় মারবো। সব উপরওয়ালার ইচ্ছা।
অবশ্য উপরওয়ালা বলতে ‘সৃষ্টিকর্তা’ বা ‘গুণ্ডার চাকুরিদাতা/জন্মদাতা’ যে যেইটা বুঝে। তাহারা উভয়েই উপরওয়ালা। সাধারনেরা তাহাদের ধরতেও পারে না ছুইতেও পারে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মহাসেন কথন

  1. শুধু বিরুদ্ধাচার করলেই ভাল
    শুধু বিরুদ্ধাচার করলেই ভাল লিখা হয় না। আমার অতি পরিচিত একজনও গেছে কক্সবাজার, কারনঃ
    ১) সে ৩৬৫ দিনের বোধহয় ১৬৫ দিনের বেশিই ভ্রমনে থাকেন, তিনি আবার ইকো-ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করেন। তিনি এমন পরিস্থিতি দেখতে গেছেন একান্তই অভিজ্ঞতার জন্যে…
    ২) ওই ভাই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে তার প্রতিষ্ঠানের হয়ে ৫-৭ লক্ষ টাকার সাহায্যও করেছেন। আর উদ্ধার কাজে ছিলেন অনেক দিন।
    অন্যদিকে, আমি সন্দ্বীপের মানুষ বলে গত ২-৩ দিন ধরে আমার গ্রামের মানুষের সাথে অসংখ্যবার মুঠোফোনে কথা বলেছি। অফিসে বলে রেখেছি বড় ধরনের বিপর্যয় হলেই আমি যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম।
    আমদের শহরের অনেক যেতে পারবে না অনেকে যাওয়ার সাহসটুকুও রাখে না। তাই বলে তাদের জন্যে সমবেদনাও রাখতে পারবে না। আর আজ বড় ধরনের কোন ভুমিকম্প হলে সন্দ্বীপ-হাতিয়া থেকে তেমন কেউ আসবে না ঢাকা শহরে সাহায্য করতে। হয়ত অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমবেদনা জানাবে যেমনটি রানা প্লাজা বিপর্যয়ে আমার গ্রামের বন্ধুরা জানাইছে…
    misfit কোন কোন যায়গায় ভাল তাই বলে যত্রতত্র সমালোচনা ভাল না!!
    :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 + = 50