কুইক নাটক রিভিউ: ফরহাদ মজহারের খোঁজে

নামঃ ফরহাদ মজহারের খোঁজে
রেটিংঃ ৬/১০
এবারে ঈদে/ইদে নাটক দেখা হয়নি একটাও। বাড়ি আসতে পেরেছি এতো হাঙ্গামা ঠেলে, যে, বাড়ি ফেরার আনন্দে কয়েকদিন ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। কিন্তু ঈদে নাটক না দেখলে কেন যেন ঈদকে ঈদ মনে হয়না। তাই দেখতে বসলাম, “ফরহাদ মজহারের খোঁজে”। বস্তাপচা প্রেমের গুলুগুলু নাটক দেখবো না বলেই এমন ভজকট নাটক দেখতে বসা।
নাটকের শুরুটা বেশ ড্রামাটিক। হঠাৎ করে শোনা গেল, দেশের বিখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড-শীল, ফরহাদ মজহার নিখোঁজ। তিনি আবার বিশাল ব্যক্তিত্ব। তার নিখোঁজের খবর বেশ ঘটা করে প্রকাশিত হলো পত্রিকায়, অনলাইন নিউজপোর্টালে। সোসাল মিডিয়ায় উঠল ঝড়। আর অন্যদিকে অপারেশন লুঙ্গিহান্টিং এ নেমে পড়ল র্যাব।
এই হলো, নাটকের কাহিনী। বেশি কিছু নেই। তবে অভিনেতারা অসাধারণ অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে,বিশিষ্ট অনলাইন এক্টিভিস্টের ভূমিকায় মিস্টার ভট্টাচার্য। তিনি যেভাবে হম্বিতম্বি করেছেন, তাতে একবারও মনে হয়নি, তিনি অভিনয় করছেন। একেবারে প্রাণবন্ত অভিনয় যাকে বলে। আমার মতে, এই নাটকে তিনি ১0 এ ১০ পাবেন। বাকিরা সবাই ভালো অভিনয় করেছেন।
তবে পরিচালকের কিছু গাফিলতি দেখা গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি গল্পটা শেষ করার একটা প্রবণতা তার মাঝে দেখা গিয়েছে। স্ক্রিপ্টও দূর্বল। কীভাবে নাটকটা শেষ হলো বুঝতেই পারলুম না! র্যাব একটা বাস থামালো, আর ধরে ফেললো? শেষ? অপহরণকারীরা কৈ? ওদের একটা সিনে দেখালে বাজেটে কি খুব টান পড়তো? বিশেষ করে, র্যানসাম হিসেবে ৩৫ লাখ টাকা চাওয়ার ব্যাপারটা ভালো লাগেনি। ২-৩ লাখ চাইলে, ব্যাপারটা অথেনটিক হতো। সামান্য একটা আন্ডারগ্রাউন্ড শীলের জন্য এতো টাকা কোন অপহরণকারী চাইবে? যার একটা প্যাণ্টও কেনার মুরোদ নেই, তার কাছে এতোটাকা দাবি করাটা কেমন ওড লাগে না? আশা করি, পরিচালক আগামী নাটকগুলোয় এমন ভুল করবেন না।
নাটকটি নিয়ে আসলে বেশি কিছু বলার নেই। জাস্ট দেখুন। মজা নিন। যারা ঈদ নাটকগুলো দেখেছে, তাদের কাছে যদ্দুর শুনেছি, তাতে মনে হচ্ছে, নাটক না দেখে সময় নষ্ট না করে খারাপ করিনি। তবে এটা ভালই ছিল।
আর হ্যাঁ, একটা টিপস দেই। নাটকটা দেখার সময় এর ভুলচুকের দিকে নজর দিবেন না। তাহলেই মজা মাটি।
আপনার সময় নষ্ট হবে না আশা করি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “কুইক নাটক রিভিউ: ফরহাদ মজহারের খোঁজে

  1. নাটক হালকা বিরক্তকর ছিল।
    নাটক হালকা বিরক্তকর ছিল। বিকেলে যখন খবর পড়ে জানতে পারলাম উনার মোবাইল এইখানে ট্র্যাক হইছে, ওইখানে ট্র্যাক হইছে তখন ভাবতেছিলাম উনি যদি নিজের ইচ্ছায় নাটকে জড়ান, তাইলে কি উনি নিজে এত গাব? নাকি যারা উঠাইছে ওরা এত গাব যে ট্র্যাক করার জন্য মোবাইল সুইচড অন রাখবে? একটা ছিচকা চোরও জানে মোবাইল চুরি করলে আগে বন্ধ করে সিম ফালাইয়া দিতে হয় যাতে ট্র্যাক না হয়। যারা বলতেছে নাটক, তারাও নিজেরা কিছু ডাউভার্ট করতে ইচ্ছাকৃত দুর্বল প্লট রেখে দিতে পারে যাতে বলা যায় আসলেই নাটক করছে। তবে পরিচালক যে কে এখনও বুঝতেছিনা। দুই পক্ষের কাউরেই বিশ্বাস নাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

40 − = 31