চোরেরা চুরি করলে প্রত্যারিত আমরা

আমরা স্বভাবে নিজেকে নিজে খুব বেশি চালাক মনে করি।কথায় আছে অতি চালাকের গলায় দড়ি।আমরা প্রায় সবাই এই থিউরির ভুক্তভোগী।
আমরা নিজেরা নিজেকে যতই চালাক ভাবি সত্যিকার অর্থে ঠিক ততই আমরা বড় বোকা।
সর্বদা ভাবি নিজে কিভাবে লাভ করে অন্যর ক্ষতি করি।আবার ধরুন যার ক্ষতি করবেন ভাবছেন ঠিক সেই মানুষটিও আপনাকে কিভাবে ক্ষতি করা যায় ভাবতেই পারে।
কাজেই দুই পক্ষ্যের সমান উদ্দেশ্য।
ধরুন আপনি একটা প্যান্ট-সার্ট কিনতে মার্কেটে গেলেন।দোকানদার কে বললেন ভাই কয়েকটা ভাল প্যান্ট অথবা সার্ট দেখান।ঠিক দোকানদার লোকটি বলেবে ভাই বেশি দামের না অল্প দামের। যখনি আপনি একটু টাকার গরম দেখিয়ে বেশি দামেরটা চাইবেন তখনি দোকানদার আপনাক কম দামের কিছু চকচকে জিনিস দেখাবে।
নানান রংয়ের ঝলকে আপনার চোখকে ধান্দার ভিতর ফেলে দিবে।আপনি ক্ষনিকের সুন্দর দেখে নিয়ে জিনিস গুলো কিনে নিবেন।আপনার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিবে মোটা অঙ্কের টাকা।
অথচ জিনিস গুলো দিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট।আর আপনি ভাবলেন এটাই সর্বশেষ্ঠ।
কিন্তু আপনি এখান ভুলে গেলেন যে চকচক করলেই সোনা হয় না।
এরপর সেই দোকানি গেল মাছের বাজারে মাছ কিনতে।
গিয়ে দেখে হরেক রকম মাছ।কনফিউজ হয়ে যাচ্ছে কোন গুলো নিবে।
এক মাছওলা ডাকছে।ভাই তাজা মাছ,ভালো মাছ,ফরমালিন মুক্ত মাছ এক্কেবারে সস্তায় বেচছি।
আসেন ভাই নেন।ও ভাই আসেন ।
দোকানি তার কাছে গেল।দেখলো সব জায়গার চেয়ে তার মাছে দাম কম।সবার মাছের চেয়ে তার মাছ গুলো সাইজে বড়।
দোকানি ভাবলো এই ভাবে সস্তায় আর মাছ পাবো না তাই সব গুলো কিনে নিল।মনের আনন্দে বাসায় চলে গেল।
সত্যিকার অর্থে ওই মাছ গুলো মরে পঁচে ফুলে উঠছে।তাই বড় বড় লাগছে।
আবার সেই মাছওয়ালা গেল তার মহাজনের কাছে। মহাজন ধমক দিয়ে তার সব টাকা রেখে দিল।
এভাবেই মহাজন আবার কারো কাছে প্রতারনার স্বীকার হবে।
এভাবে আমরা সবাই একে অন্যর ক্ষতি করার জন্য বসে থাকি।
অথচ এতটুকু ভাবি না যে যাকে ক্ষতি করছি অন্যও আমাকে ক্ষতি করতে পারে।
কাজেই যারা নিজেদের কে ঠকাবে বলে সারাক্ষন ভাবে তারা বোকা ছাড়া কিছু না।
আমরা ভাবি অন্যকে ঠকিয়েছি। কিন্তু আমরা নিজেরা যে ঠকছি প্রতি নিয়ত সেটা ভাবছি না।
তাই তো অতি চালাকের গলায় দড়ি দিয়েই আমরা চলছি।তো এই জাতি কিভাবে সামনে এগুবে।
যে জাতিতে চোর বেশি সে জাতি উন্নয়নের কথা প্রশ্নই উঠে না।
কারন চোরেরা শুধু চুরি করতে জানে,ভাল কাজ তাদের দ্বারা সম্ভব না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 76 = 79