শহীদ পরিবারের সাথে এ কেমন প্রহসন?

গেলো বছর গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিম। তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর (উত্তরের) গোয়েন্দা পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার।

তার বাড়ি ঢাকার কাছের জেলা মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শান্ত কাটিগ্রামে। তিনি ছিলেন বিসিএস পুলিশের ৩০তম ব্যাচের সদস্য। মৃত্যুর পর তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম লাভ করে। এছাড়া তার ৮ বছর বয়সের এক ছেলেও রয়েছে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তারই ধারাবাহিকতায় জনসংযোগ বিভাগ থেকে পত্রিকাগুলোতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সারাদেশের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছিলো জাহাঙ্গীরনগর।

রবিউল করিমের স্ত্রী বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের প্রথম শ্রেণির প্রশাসনিক কর্মকর্তা প‌দে অা‌বেদন ক‌রে যথারী‌তি ভাইভাও দিয়ে‌ছেন। কিন্তু তাকে তৃতীয় শ্রেণির পদের জন্য মাস্টাররোল (কাজ করলে দৈনিক ৫৫০টাকা, ৯০দিনের জন্য) নি‌য়োগের চি‌ঠি দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। অার প্রশাস‌নিক কর্মকর্তা প‌দে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের স্ত্রীর সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেটা করলো সেটা শুধু ওই পরিবারের সঙ্গে নয়, বরং এদেশের পুলিশ বাহিনী, দেশপ্রেমিক মানুষ সবার সঙ্গে শঠতা, ভন্ডামি।

এ দে‌শের বিশ্ব‌বিদ্যালয়গু‌লো‌তে নি‌য়োগ মান নিয়ে প্রায় প্রতিটি সচেতন নাগরিকের সন্দেহ আছে। ‌ভিতরে আছে আরও অনিয়মের আখড়া। তাই ব‌লে একজন শহীদ প‌রিবার‌কে, দুই সন্তা‌নের মা‌কে নিয়ে এমন ছেলে খেলা করবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়?

যদিও রবিউল আলমের স্ত্রী উম্মে সালমার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা না। কারণ তিনি মাস্টার্স পাস। মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণি, অনার্সে ২য় শ্রেণি এবং মাধ্য‌মিক ও উচ্চ মাধ‌মিক দু‌টোতেই প্রথম বিভাগ। জাহাঙ্গীরনগর সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের অ‌নেক শিক্ষ‌কদের চে‌য়েও তার ফলাফল কোন অংশে খারাপ নয়।

জাহাঙ্গীরনগর কর্তৃপ‌ক্ষের কা‌ছে অামার খুব জান‌তে ইচ্ছে ক‌রে অাপনা‌দের বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের একজন সা‌বেক ছাত্র একজন শহীদ পু‌লিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে এমন প্রহসন বা মশকরা কেন কর‌লেন?

আমি মনে করি এই বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর মানুষের আবেগ নিয়ে খেলেছে। একজন বি‌সিএস পু‌লিশ কর্মকর্তার সাথেই শুধু এই খেলাটা হয়নি হয়েছে এদে‌শের সমগ্র পু‌লিশ বা‌হিনী এবং শহীদ প‌রিবা‌রের সাথেও।

শহীদ রবিউলের স্ত্রী, সন্তান, তার পরিবার যেনো যোগ্য সম্মানটা পায় সেদিকেই আমাদের নজর দেয়া উচিত। বাংলাদেশ পুলিশ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =