কাঠ-খোট্টা অনেক মানুষের হৃদয়ে ভালবাসা টাইপের কিছু অনুভূতি সঞ্চারণের জন্যে দায়ী এই মানুষটি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিগুরু রবীঠাকুরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। কাঠ-খোট্টা অনেক মানুষের হৃদয়ে ভালবাসা টাইপের কিছু অনুভূতি সঞ্চারণের জন্যে দায়ী এই মানুষটি। তার অসাধারণ সব সৃষ্টি এখনো সবাইকে নাড়া দিয়ে যায়, দিতেই থাকবে সবসময়েই।

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম
নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম॥
মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন
তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম॥

কবিগুরু রবীঠাকুরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। কাঠ-খোট্টা অনেক মানুষের হৃদয়ে ভালবাসা টাইপের কিছু অনুভূতি সঞ্চারণের জন্যে দায়ী এই মানুষটি। তার অসাধারণ সব সৃষ্টি এখনো সবাইকে নাড়া দিয়ে যায়, দিতেই থাকবে সবসময়েই।

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম
নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম॥
মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন
তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম॥

জাগিবে একাকী তব করুণ আঁখি,
তব অঞ্চলছায়া মোরে রহিবে ঢাকি।
মম দুঃখবেদন মম সফল স্বপন
তুমি ভরিবে সৌরভে নিশীথিনী-সম॥
https://www.youtube.com/watch?v=UOMbbDXiA0s&list=RD024eZRtlBT6KE

ওগো বিদেশিনী
রবীন্দ্র সঙ্গীত
রাগ: খাম্বাজ
তাল: একতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৫ আশ্বিন, ১৩০২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1895
রচনাস্থান: শিলাইদহ

আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী।

তুমি থাক সিন্ধুপারে ওগো বিদেশিনী॥

তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে, তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে,

তোমায় দেখেছি হৃদি-মাঝারে ওগো বিদেশিনী।

আমি আকাশে পাতিয়া কান শুনেছি শুনেছি তোমারি গান,

আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ ওগো বিদেশিনী।

ভুবন ভ্রমিয়া শেষে আমি এসেছি নূতন দেশে,

আমি অতিথি তোমারি দ্বারে ওগো বিদেশিনী॥

সখী, ভাবনা কাহারে বলে
রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

সখী, ভাবনা কাহারে বলে। সখী, যাতনা কাহারে বলে ।
তোমরা যে বলো দিবস-রজনী ‘ভালোবাসা’ ‘ভালোবাসা’—
সখী, ভালোবাসা কারে কয় ! সে কি কেবলই যাতনাময় ।
সে কি কেবলই চোখের জল ? সে কি কেবলই দুখের শ্বাস ?
লোকে তবে করে কী সুখেরই তরে এমন দুখের আশ ।
আমার চোখে তো সকলই শোভন,
সকলই নবীন, সকলই বিমল, সুনীল আকাশ, শ্যামল কানন,
বিশদ জোছনা, কুসুম কোমল— সকলই আমার মতো ।
তারা কেবলই হাসে, কেবলই গায়, হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়—
না জানে বেদন, না জানে রোদন, না জানে সাধের যাতনা যত ।
ফুল সে হাসিতে হাসিতে ঝরে, জোছনা হাসিয়া মিলায়ে যায়,
হাসিতে হাসিতে আলোকসাগরে আকাশের তারা তেয়াগে কায় ।
আমার মতন সুখী কে আছে। আয় সখী, আয় আমার কাছে—
সুখী হৃদয়ের সুখের গান শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ ।
প্রতিদিন যদি কাঁদিবি কেবল একদিন নয় হাসিবি তোরা—
একিদন নয় বিষাদ ভুলিয়া সকলে মিলিয়া গাহিব মোরা ।।

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?
কেন মেঘ আসে হৃদয়-আকাশে, তোমারে দেখিতে দেয় না?।
ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে
হারাই-হারাই সদা হয় ভয়, হারাইয়া ফেলি চকিতে ॥
কী করিলে বলো পাইব তোমারে, রাখিব আঁখিতে আঁখিতে।
এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ, তোমারে হৃদয়ে রাখিতে?
আর কারো পানে চাহিব না আর, করিব হে আমি প্রাণপণ–
তুমি যদি বল এখনি করিব বিষয়বাসনা বিসর্জন ॥

https://www.youtube.com/watch?v=Wb_oPD-t4VY

একটুকু ছোয়া লাগে
রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি
তাই দিয়ে মনে মনে, রচি মম ফাল্গুনি ।।

কিছু পলাশের নেশা, কিছু বা চাঁপায় মেশা।।
তাই দিয়ে সুরে সুরে, রঙে রসে জাল বুনি।।

যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে
চকিত মনের কোণে স্বপনের ছবি আঁকে ।।

যেটুকু যায়রে দূরে, ভাবনা কাঁপায় সুরে।।
তাই নিয়ে যায় বেলা, নূপুরের তাল গুনি ।।

https://www.youtube.com/watch?v=QhX5zQnF7Do

পুরানো সেই দিনের কথা
রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।
আয় আর-একটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়।
মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়–
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়।
হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়–
আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়।।

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।
আমার আপন হারা প্রান
আমার বাধন ছেঁড়া প্রান
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।

তোমার অসুখে কিংশুকে,
অলক্ষ রঙ লাগলো আমার অকারণের সুখে,(২)
তোমার ঝাউয়ের দোলে
মর্মরিয়া ওঠে আমার দুঃখরাতের গান।(২)
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।

পুর্নিমা সন্ধ্যায়, তোমার রজনীগন্ধায়
রুপসাগরের পাড়ের পানে উদাসী মন ধায়।(২)
তোমার প্রজাপতির পাখা
আমার আকাশ চাওয়া মুগ্ধচোখে
রঙ্গীন স্বপন মাখা, (২)
তোমার চাঁদের আলো
মিলায় আমার দুঃখ সুখের
সকল অবসান। (২)

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।
আমার আপন হারা প্রান
আমার বাধন ছেঁড়া প্রান
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান। (২)

https://www.youtube.com/watch?v=4eZRtlBT6KE

ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি
রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি
নিয়ে যাবি কে আমারে (ও বন্ধু আমার)!
না পেয়ে তোমার দেখা, একা একা
দিন যে আমার কাটে না রে ।।
বুঝি গো রাত পোহালো, বুঝি ঐ রবির আলো
আভাসে দেখা দিলো গগন-পারে-
সমুখে ঐ হেরি পথ তোমার কি রথ
পৌঁছবে না মোর দূয়ারে ।।
আকাশের যত তারা চেয়ে হয় নিমেষহারা,
বসে রয় রাত-প্রভাতের পথের ধারে ।
তোমারি দেখা পেলে সকল ফেলে
ডুববে আলোক-পারাবারে ।।
প্রভাতের পথিক সবে এল কি কলরবে-
গেল কি গান গেয়ে ওই সারে সারে !
বুঝি-বা ফুল ফুটেছে, সুর উঠেছে
অরুণবীণার তারে তারে ।।

https://www.youtube.com/watch?list=RD024eZRtlBT6KE&v=zo-HAadr6CQ&NR=1&feature=endscreen

আমি কান পেতে রই
রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

আমি কান পেতে রই
ও আমার আপন হৃদয়গহন দ্বারে বারে বারে
কোন্‌ গোপনবাসীর কান্নাহাসির
গোপন কথা শুনিবারে বারে বারে

ভ্রমর সেথা হয় বিবাগি
নিভৃত নীল পদ্ম লাগি রে।

কোন্‌ রাতের পাখি গায় একাকী
সঙ্গীবিহীন অন্ধকারে বারে বারে।।

কে সে মোর কেই বা জানে
কিছু তার দেখি আভা
কিছু পাই অনুমানে
কিছু তার বুঝি না বা।

মাঝে মাঝে তার বারতা
আমার ভাষায় পায় কি কথা রে
ও সে আমায় জানি পাঠায় বাণী
গানের তানে লুকিয়ে তারে বারে বারে।।

https://www.youtube.com/watch?v=KgaUWYA2HUs&list=RD024eZRtlBT6KE

“আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা”
কথা ও সুর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা
এসো হে… গোপনে… আমার স্বপনলোকের দিশা হারা
আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা ।

ওগো অন্ধকারের অন্তরধন
দাও ঢেকে মোর পরাণ মন..
আমি চাইনে তপন চাইনে তারা
আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা ।।

তখন সবাই মগন ঘুমেরো ঘোরে
নিও গো আমার মন নিও গো হরণ করে।

একলা ঘরে চুপে চুপে
এস কেবল সুরের রূপে
দিও গো আমার চোখের জলে দিও সারা
আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা ।।

https://www.youtube.com/watch?v=vDCAuuoXVZc&list=RD024eZRtlBT6KE

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ( না চাহিলে যারে পাওয়া যায় )

না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
তেয়াগিলে আসে হাতে
দিবসে সে ধন হারায়েছি
আমি পেয়েছি আঁধারও রাতে
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়

না দেখিবে তারে
পরশিবে না গো
না দেখিবে তারে
পরশিবে না গো
তারি পানে প্রাণ মেলে দিয়ে জাগো
জাগো জাগো
তারায় তারায় রবে তারি বাণী
কুসুমে ফুটিবে প্রাতে
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়

তারি লাগি যত ফেলেছি অশ্রুজল
বীণা বাদিনীর শতদল দলে
করিছে সে টলোমল
তারি লাগি যত ফেলেছি অশ্রুজল
বীণা বাদিনীর শতদল দলে
করিছে সে টলোমল

মোর গানে গানে
পলকে পলকে ঝলসি উঠিছে
ঝলকে ছলকে শান্ত হাসির
অরুণও আলোকে ভাতিছে নয়ন পাতে

না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
তেয়াগিলে আসে হাতে
দিবসে সে ধন হারায়েছি
আমি পেয়েছি আঁধারও রাতে
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়

https://www.youtube.com/watch?v=z3VHMzpXMLo

ভালোবাসি
শ্রী রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

ভালো বাসি বালবাসি,
এই সুরে কাছে দূরে
জলে স্থলে বাজায় বাঁশি।।

আকাশে কার বুকের মাঝে ব্যাথা বাজে
দিগন্তে কার কালো আঁখি
আঁখির জলে যায় ভাসি।।

সেই সুরে সাগর কূলে বাধন খুলে
অতল রোদন উঠে দুলে,
সেই সুরে বাজে মনে অকারণে
ভূলে যাওয়া গানের বাণী
ভোলা দিনের কাদন হাসি।।

https://www.youtube.com/watch?v=-fBEgx8fIRk

এসো নীপবনে ছায়াবিথী তলে
— শ্রী রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

এসো নীপবনে ছায়াবিথী তলে
এসো করো স্নান নবধারা জলে

দাও আকুলিয়া ঘন কালো কেশ
পরো দেহ ঘেরি মেঘ নীল বেশ
কাজল নয়নে যূঁথী মালা গলে
এসো নীপবনে ছায়াবিথী তলে
এসো করো স্নান নবধারা জলে

আজি ক্ষণে ক্ষণে হাসিখানি সখী
আঁধারে নয়নে উঠুক চমকিয়া
আজি ক্ষণে ক্ষণে

মল্লারো গানে তব মধু স্বরে
দিক বাণী আনি বন মর্মরে
ঘন বরিষণে জল কলকলে

এসো নীপবনে ছায়াবিথী তলে
এসো করো স্নান নবধারা জলে

বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল
— শ্রী রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,
আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান ।
মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে
এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান ।।
আজ এনে দিলে, হয়তো দিবে না কাল-
রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল ।
এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে তব বিস্মৃতিস্রোতের প্লাবনে
ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে তরণী বাহি তব সম্মান ।।

মাঝখানে ১ টা নজরুল গীতি শুনলে বোধকরি পাপ হবে না

মেঘমেদুর বরষায়
-কাজী নজরুল ইসলাম
রাগঃ মেঘ মল্লার

মেঘ মেদুর বরষায় কোথায় তুমি,
ফুল ছড়ায়ে কাঁদে বনভূমি।।

ঝুরে বারি ধারা ফিরে এস পথহারা
কাঁদে নদী তট চুমি।।

https://www.youtube.com/watch?v=5r1-osfGCUA

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক।
মেঘলাদিনে দেখেছিলেম মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
ঘোমটা মাথায় ছিলনা তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের’পরে লোটে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

ঘন মেঘে আঁধার হল দেখে ডাকতেছিল শ্যামল দুটি গাই,
শ্যামা মেয়ে ব্যস্ত ব্যাকুল পদে কুটির হতে ত্রস্ত এল তাই।
আকাশ-পানে হানি যুগল ভুরু শুনলে বারেক মেঘের গুরুগুরু।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

পূবে বাতাস এল হঠাত্‍‌ ধেয়ে, ধানের ক্ষেতে খেলিয়ে গেল ঢেউ।
আলের ধারে দাঁড়িয়েছিলেম একা, মাঠের মাঝে আর ছিল না কেউ।
আমার পানে দেখলে কিনা চেয়ে, আমি জানি আর জানে সেই মেয়ে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

এমনি করে কাজল কালো মেঘ জ্যৈষ্ঠমাসে আসে ঈশান কোণে।
এমনি করে কালো কোমল ছায়া আষাঢ়মাসে নামে তমাল-বনে।
এমনি করে শ্রাবণ-রজনীতে হঠাত্‍‌ খুশি ঘনিয়ে আসে চিতে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, আর যা বলে বলুক অন্য লোক।
দেখেছিলেম ময়নাপাড়ার মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
মাথার পরে দেয়নি তুলে বাস, লজ্জা পাবার পায়নি অবকাশ।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

https://www.youtube.com/watch?v=6opQCvBdiIw

কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
তোমার চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া।

চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি
গোপনে তোমারে, সখা, কত ভালোবাসি।
ভেবেছিনু কোথা তুমি স্বর্গের দেবতা,
কেমনে তোমারে কব প্রণয়ের কথা।

ভেবেছিনু মনে মনে দূরে দূরে থাকি
চিরজন্ম সঙ্গোপনে পূজিব একাকি–
কেহ জানিবে না মোর গভীর প্রণয়,
কেহ দেখিবে না মোর অশ্রুবারিচয়।

আপনি আজিকে যবে শুধাইছ আসি,
কেমনে প্রকাশি কব কত ভালোবাসি।

https://www.youtube.com/watch?v=pKwzz9YAvuQ

ওগো নদী, আপন বেগে পাগল-পারা
–রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

ওগো নদী, আপন বেগে পাগল-পারা,
আমি স্তব্ধ চাঁপার তরু গন্ধভরে তন্দ্রাহারা
আমি সদা অচল থাকি, গভীর চলা গোপন রাখি,
আমার চলা নবীন পাতায়, আমার চলা ফুলের ধারা॥
ওগো নদী, চলার বেগে পাগল-পারা,
পথে পথে বাহির হয়ে আপন-হারা–
আমার চলা যায় না বলা– আলোর পানে প্রাণের চলা–
আকাশ বোঝে আনন্দ তার, বোঝে নিশার নীরব তারা॥

https://www.youtube.com/watch?v=R69qXwhkL6E

আকাশভরা সূর্য-তারা
– রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান॥

অসীম কালের যে হিল্লোলে জোয়ার-ভাঁটার ভুবন দোলে
নাড়ীতে মোর রক্তধারায় লেগেছে তার টান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান॥

ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে,
ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে,
ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।

কান পেতেছি, চোখ মেলেছি, ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান॥

https://www.youtube.com/watch?v=ZGzqklIeaGw

মেঘ বলেছে ‘যাব যাব’
– রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

মেঘ বলেছে ‘যাব যাব’, রাত বলেছে ‘যাই’,
সাগর বলে ‘কূল মিলেছে– আমি তো আর নাই’ ॥
দুঃখ বলে ‘রইনু চুপে তাঁহার পায়ের চিহ্নরূপে’,
আমি বলে ‘মিলাই আমি আর কিছু না চাই’ ॥

ভুবন বলে ‘তোমার তরে আছে বরণমালা’
গগন বলে ‘তোমার তরে লক্ষ প্রদীপ জ্বালা’।
প্রেম বলে যে ‘যুগে যুগে তোমার লাগি আছি জেগে’,
মরণ বলে ‘আমি তোমার জীবনতরী বাই’ ॥

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
– রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাই নি।
তোমায় দেখতে আমি পাই নি।
বাহির-পানে চোখ মেলেছি, আমার হৃদয়-পানে চাই নি ॥
আমার সকল ভালোবাসায় সকল আঘাত সকল আশায়
তুমি ছিলে আমার কাছে, তোমার কাছে যাই নি ॥
তুমি মোর আনন্দ হয়ে ছিলে আমার খেলায়–
আনন্দে তাই ভুলেছিলেম, কেটেছে দিন হেলায়।
গোপন রহি গভীর প্রাণে আমার দুঃখসুখের গানে
সুর দিয়েছ তুমি, আমি তোমার গান তো গাই নি ॥

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “কাঠ-খোট্টা অনেক মানুষের হৃদয়ে ভালবাসা টাইপের কিছু অনুভূতি সঞ্চারণের জন্যে দায়ী এই মানুষটি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  1. ধুর মিয়া। আপনি আসলেই পুরান

    ধুর মিয়া। আপনি আসলেই পুরান পাপী। এতো রাইতে পিনিক উঠায় দিছেন।

    সহমত, সাত সকালে পিনিক উঠায় দিছেন…

  2. কাঠ-খোট্টা অনেক মানুষের হৃদয়ে

    কাঠ-খোট্টা অনেক মানুষের হৃদয়ে ভালবাসা টাইপের কিছু অনুভূতি সঞ্চারণের জন্যে দায়ী এই মানুষটি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =