ধর্মীয় উপাসনা নাকি স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল! কোনটা মানব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ?

/qlow-220px-Padma_Nadir_Majhi.jpg” width=”500″ />

পদ্মা নদীর মাঝি যেদিন পড়েছিলাম খুব আগ্রহ নিয়েই পড়েছিলাম। কয়েক শ বার পড়েছিলাম এবং কয়েক হাজার বার ভেবেছিলাম। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের লেখার প্রেমে পড়েছিলাম পদ্মা নদীর মাঝি পড়ে। উপন্যাস নয় কেবল পদ্মা নদীর মাঝি এক বৈপ্লবীক ধারায় এগিয়ে চলা তুখোড় লেখনি, ধর্মীয় গোড়ামি দূর করায় এক মারাত্মক প্রতিভাধর মানিক বন্দোপাধ্যায়ের আবর্ভাব। আজও পদ্মা নদীর মাঝি পড়ি, পড়তে ভালো লাগে আজও। প্রেম-প্রনয় সাথে বৈপ্লবীক চেতনা, সাম্যবাদ তৈরির এক নিগূঢ়তা তৈরি হয়েছে পদ্মা নদীর মাঝিতে।
গতকাল সাম্যবাদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হঠাৎ মনে পরে হোসেন মিয়ার ময়না দ্বীপের কথা। সাথে সাথে হোসেন মিয়ার উক্তি (মনে হয় এমনই, আমার হুবহু মনে পরছে না এই মূহুর্তে) –

আমার দ্বীপে মসজিদ করতে দেই নাই। মসজিদের জায়গা দিলে মন্দিরের জায়গা চাইবো।

কত সুন্দর ও সাম্যবাদী কথা। ময়না দ্বীপে হোসেন মিয়া মানুষের আবাস করতে চায়, কোন ধার্মিকের তো নয়! তাই সেখানে বসবাসের গৃহ তোলা যাবে কোন ধর্মীয় উপাসনা নয়। অথচ আমাদের দেশে বা সমাজে! মানুষের মাথা রাখার জায়গা নাই কিন্তু জায়গায় জায়গায় মসজিদ, মন্দির গির্জা ইত্যাদি ধর্মীয় উপাসনা।
ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরিতে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা খরচ হয় কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়! ভেঙে খসে খসে পরে। সরকারের কোন খবর নেই।
আমার এলাকার কথাই বলি। আমার এলাকায় দুটো প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। আর একটি বন্ধ হয়ে গেছে পুরনো বিল্ডিং খসে খসে পরার কারণে। আর স্কুল বন্ধ হওয়ায় প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, নদী পাড়ি দিয়ে কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যেতে হয়। আর অপর স্কুলটি। প্রায় বন্ধের পথে। এছাড়া স্কুল ভবনটি অনিরাপদ, ঝুঁকিপূর্ণ। ক্লাস চলাকালীন যে কোন সময়ে ভেঙে পরে শিশুদের মৃত্যু ঘটাতে পারে। কিন্তু এসবে সরকারের কোন অর্থ সহায়তা নেই। আর যদি থাকেও তবে তা স্কুল কমিটি পর্যন্ত পৌছাতে পৌছাতে স্কুল কমিটির ভাগের টাকায় ঘাটতি পরে। অথচ আমার এলাকায় চারটা মসজিদ। যার চারটাই পাঁকা ভবন। শুধু পাঁকা ভবন-ই নয় ফ্যান, আইপিএস সংবলিত এবং টাইলস বসানো ও দু তলা করার প্রক্রিয়াধীন।
মসজিদ, মন্দির বা গির্জার সহ উপাসনালয় স্থাপনে জনগণ নিজের ভিটেটুকুও ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। অথচ স্কুল স্থাপনে সরকারী খাস জমি নির্ধারন করা হলেও তা দখলে জনগণ কাঁছা দিয়ে নামে। আমার নিজের গ্রামেই, স্কুলের খাস জমি দখলে মামলা, মারামারি। অথচ মসজিদ নির্মানে কাঁঠার পর কাঁঠা জমি দিয়ে দিচ্ছে।

এখন মদ্দা কথা, ধর্মীয় উপাসনালয় কতটা জরুরি মানব জীবনে?
আর কতটা জরুরি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল! তা জনগণকে বুঝতে হবে। একবেলা নামাজ না পড়লে, পুঁজো না করলে এমন কোন মহা ক্ষতি হবে না। কিন্তু সময় থাকতে স্কুলে না পড়লে, সময় মত হাসপাতালে না নিলে মানব জীবন মারাত্মক হুমকিতে পরবে।

অতএব সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্যে ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় পদ্মা নদীর মাঝির হোসেন মিয়ারর পন্থা অবলম্বন করে দেশে মসজিদ, মব্দির, গির্জা স্থাপন না করে বেশি বেশি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল নির্মান অতীব জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ধর্মীয় উপাসনা নাকি স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল! কোনটা মানব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ?

  1. মানুষ আস্তে আস্তে এসব বুঝবে
    মানুষ আস্তে আস্তে এসব বুঝবে

    আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার “বন্ধু” হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
    https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − = 11