বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব নিয়ে কিছু ভ্রান্তি নিরসন

“আমরা কোথা থেকে আসলাম আর কিভাবেই বা আসলাম? “- মনের মধ্যে এই প্রশ্ন উকি দেয় নি এমন মানুষ হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না।মানুষ যুগ যুগ ধরে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে।কখনওবা অতিপ্রাকৃতিক কিছুর সাহায্য নিয়েছে কখনও বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়েছে।এ পর্যন্ত মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে যত তত্ত্ব এসেছে তারমধ্যে বিগ ব্যাঙ তত্ব সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। বিজ্ঞানী জি লেমেটার প্রথম বিগ ব্যাঙ তত্ত্বের কথা বলেন এবং স্টিফেন হকিং বিগ ব্যাঙ তত্ত্বের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেন।

তবে বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের মাঝে অনেক ভ্রান্তি দেখা দেয়।এই পোস্টে আমরা সেগুলো নিয়েই কথা বলব।

বিগ ব্যাঙ হল মহাবিশ্ব সৃষ্টির কারণঃ
অনেকেই মনে করেন বিগ ব্যাঙয়ের কারনেই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে।এটি ভুল ধারনা।মহাবিশ্ব ঠিক কি কারনে সৃষ্টি হল সেই সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।আমরা যদি মহাবিশ্বের সেই আদি পয়েন্টে যাই যেখানে সময়= ০, ঠিক সেই অবস্থায় আমাদের হাতে থাকা মহাবিশ্বের সুত্রগুলো প্রয়োগ করা যায় না।এজন্য আমাদের পক্ষে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কারন বের করা সম্ভব হয় নি।তবে আমরা বিগ ব্যাঙকে নিছক তত্ত্ব বলতে পারি না।বিগ ব্যাঙ হল আমাদের বর্তমান অবস্থায় আসার scenario বা Model.

বিগ ব্যাঙ হল বিস্ফোরণঃ
অনেকেই মনে করে বিগ ব্যাঙ একধরনের বিস্ফারণ। আসলে বিগ ব্যাঙ হল সময় এবং স্থানের সম্প্রসারণ। আমরা সকলেই জানি কোন কিছু বিস্ফোরিত হলে তার উপাদানগুলো বিভিন্নদিকে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে পরে।যেমন বোমা বিস্ফারণ। কিন্তু আমাদের মহাবিশ্ব সুষমভাবে বেলুনেরমত চারদিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে।সুতরাং বিগ ব্যাঙকে আমরা মহাবিস্ফোরণ বলতে পারি না।

আমাদের মহাবিশ্ব একটি ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে তৈরিঃ
আমাদের মহাবিশ্ব যদি বর্তমানে অসীম হয় তবে অতীতেও এটি অসীম অবস্থায় ছিল।তবে আমরা মহাবিশ্বের যে অংশটুকু এখন দেখি সেটিই মুলত সেই অসীম অবস্থার ক্ষুদ্র অংশ থেকে তৈরি।বিজ্ঞানীরা মুলত মহাবিশ্ব বলতে দুইটি অবস্থা বুঝায়।একটি যা আমরা দেখে থাকি আর অপরটি হল আমাদের সম্পুর্ন মহাবিশ্ব।আমাদের সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব অসীম বিন্দু থেকে উৎপত্তি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

34 + = 37